গোয়ার পোন্ডা অঞ্চলে রয়েছে মহেশ রেস্টুরেন্ট ও বার (বম্বের মহেশ লাঞ্চ হোমের সঙ্গে এদের কোন সম্পর্ক নেই)। ছোট্ট দোকান, এসি-টেসির বালাই নেই। 'অ্যাম্বিয়েন্স' নিয়ে সমস্ত প্রশ্ন গোড়াতেই উড়িয়ে দেওয়া ভালো; ভিতরটা ঘিঞ্জি, পুরনো দেওয়াল, জীর্ণ চেয়ার-টেবিল, খানিকটা গুমোটও বটে।
সে'দিন আমাদের ইচ্ছে ছিল স্রেফ রকমারি মাছ ভাজা খাওয়ার। রাভাফ্রাই ব্যাপারটার প্রতি আমাদের সবার প্রবল আগ্রহ। একটা সোয়া-দু'জনের বসবার টেবিলে পাঁচজনে ঠাসাঠাসি বসে অর্ডার করলাম; সুরমাই, ভেটকি (এখানে ভেটকি চাইলে পাবেন না, চোনাক বলতে হবে), চিংড়ি। মাছের সাইজ যেমন জবরদস্ত, তেমনই ফ্রেশ; আর রাভা ও মশলার কোটিংটা এ-ক্লাস লেভেলে ছিল। প্রথম কামড়েই একটা স্যালুট ঠোকা আইব্বাস বেরোতে বাধ্য। গোয়ায় বেশ কিছু জায়গায় মাছ-টাছ খেলাম তো, এই জায়গার খাওয়াদাওয়া আলাদা করে মনে ধরবেই।
তাছাড়া এক ধরণের লোকাল চিলি চিকেন নিয়েছিলাম (যে'টা প্রায় এদের সিগনেচার পদ, এখানে হট কেকের মত বিকোয়)। আমাদের মনে যে চাইনিজ চিলি চিকেনের ফরম্যাট ফ্রেম করা আছে তার সঙ্গে এটির কোন মিল নেই। খাওয়াদাওয়াতে এতটাই ব্যস্ত ছিলাম যে এই আইটেমের ছবি তোলা হয়নি। তবে স্বাদেগুণে যাকে সাধুভাষায় বলে সুপারফ্যান্টাসটিক। ও জিনিস পাও (পাউরুটি) দিয়ে খাওয়াটাই রীতি। আমি অবশ্য অভ্যাসের দাস, এক থালা ভাত নিয়েছিলাম। ভাতের সঙ্গে একবাটি ঝোল দেয়, ভারী উপাদেয়; তা দিয়ে ভাত মেখে চিংড়িতে কামড় দিয়ে মনে হয়েছিল। বেঁচে থাক বাবা মহেশ গোয়া আলো করে।
গলা ভেজানোর জন্য সামান্য উড়ক নিয়েছিলাম। নুন-লেবু-লঙ্কা-সোডা-ও-কোল্ডড্রিঙ্কস সহযোগে সে এক মায়াবী ব্যাপার। ভাজা মাছ আর উড়ক এক কথায় রাজযোটক। কয়েক চুমুকেই মে মাসের ভরদুপুরের বিটকেল গরমকে ঘায়েল করে ফেলা যায়।
No comments:
Post a Comment