- না!
- অমন তিরিক্ষি 'না' বলার কী দরকার। এগরোল ব্যাপারটা খুব ভালোজিনিস কিন্তু...।
- রাগে আমার গা রিরি করছে জাস্ট।
- আমাদের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে জানি। কিন্তু তা'বলে সে রাগ এগরোলের ওপর আবার ঝাড়া কেন।
- এ'রকম একটা বেআক্কেলে মানুষের পাল্লায় পড়ে আমার জীবনটা জাস্ট...।
- আক্কেলের ব্যাপারটা ডিনাই করছি না। তবে এগরোলে শুনেছি নানা রকমের বিষ ডায়লুট হয়ে যায়।
- তবে আর কী। দু'জনে মিলে এগরোল গিলি আর তাতেই সমস্ত সমস্যা উবে যাক!
- না তা হবে না জানি। তবে আজ ঝগড়ায় এত ব্যস্ত থেকেছি দু'জনে যে লাঞ্চটাও ঠিক মত...।
- গিলতে হয় তুমি গেলো না! এগরোল চাউমিন মোগলাই চপ কাটলেট যা পারো গেলো।
- না না। এই অবেলায় অত কিছু খেলে আবার গোলমাল হয়ে যাবে। আমি বরং এগরোলই বলি দু'টো। সে'টা খাওয়া হয়ে গেলে না হয় আবার ঝগড়ায় ফেরা যাবে। কেমন? পেটে কিছু পড়লেই দেখবে ঝগড়ার মধ্যেও একটা অপটিমিজম খুঁজে পাওয়া যাবে।
- আমার জাস্ট তোমার কোনো কথা সহ্য হচ্ছে না।
- তাই তো বলছি। রোল বরং সইবে। তা, রোলদাদা, আপনি দু'টো এগরোল বানান। হ্যাঁ, দুটোই ডবল। একটা যেমন-তেমন হলেই হলো। কিন্তু অন্যটা একটু স্পেশ্যাল বানাবন, কেমন? মিতুলের ঝাল সহ্য হয় না, সো নো কাঁচালঙ্কা প্লীজ। তবে সামান্য একটু গোলমরিচ ছড়িয়ে দেবেন। শসাও দেবেন ওর রোলে, কেমন? তবে ওয়ান ইজ টু থ্রি রেশিওতে শসা-পেঁয়াজ। ও হ্যাঁ, কোনো সস নয়। বিটনুন এক দাগ বেশি। প্লাস লেবুর রস একটু; তবে প্লীজ - ফ্রেশ কাটা লেবু। বেচারির মারাত্মক ভোগান্তি গেছে গোটাদিন, মরা লেবু কচলে দেবেন না ওর রোলে। প্লীজ। আমারটা যেমন-তেমন হোক, আমি তো ঘাসও সস দিয়ে চিবিয়ে খেতে পারি। কিন্তু ওর রোলের ডিমটা যদি কাইন্ডলি একটু নরম আঁচে ভাজেন। কেমন? বাহ্। রোলদাদা, আপনার আশ্বাসে আমি একটু নিশ্চিন্ত বোধ করছি।
- বলছি..।
- কিছু বলছ মিতুল?
- তোমার তো আবার রক্তারক্তি ঝাল না হলে চলে না। ওঁকে বলো আমার শেয়ারের কাঁচালঙ্কা কুচিটুকু যেন তোমার রোলে এক্সট্রা ছড়িয়ে দেয়। আর সস যেন তোমারটাতেও না দেয়, ওই একটা জিনিসে ভেজাল মিশেলের চান্স খুব হাই।
- অফ কৌর্স অফ কৌর্স। তা রোলদাদা, শুনলেনই তো। মিতুল যেমনটা বলেছে, তেমনটাই আইডিয়াল। কেমন? ঠিক হ্যায়? ব্যাস, এই যে আপনি ঘাড় নেড়ে সম্মতি দিলেন; আর আমার কোনো চিন্তা রইল না।
No comments:
Post a Comment