****
Thursday, March 29, 2018
পিহু আর ঠগি
Sunday, March 25, 2018
কড়াই ও মুগুর
Friday, March 23, 2018
মুকাবলা
- গুরুদেব!
- আবার কী হল বাবা অর্জুন।
- এই দেখুন না গুরুদেব, একলব্যটা ফের বাড়াবাড়ি শুরু করেছে।
- ওই ব্যাটাচ্ছেলে লোয়ার ক্লাস ছেলেটা?
- আজ্ঞে। আমায় কী ইনসাল্টটাই না করলে।
- তোমার মত এলিটকে ইনসাল্ট করেছে?
- রীতিমত।
- কী'ভাবে? সমস্ত রিসোর্স তো আমি তোমার দিকেই ডাইভার্টেড রেখেছি। সে ব্যাটা ইনসাল্ট করার সুযোগ পায় কী করে?
- হস্তিনাপুর আপনাকে যে সিটিসি অফার করেছে, সে টাকা দিয়ে আমায় খান কুড়ি গেমিং কনসোল কিনে দিলে ল্যাঠা চুকে যেত।
- আহ চটছ কেন বাবু। খুলে বলই না! একলব্য তোমায় কীভাবে কাঠি করেছে?
- কাঠি? গদার গুঁতো মেরেছে পিছনে।
- আহ্। অর্জুন। ল্যাঙ্গুয়েজ সামলে। আমি গুরুজন।
- ধ্যাত্তেরি। গুরুজনে নিকুচি করেছি। একলব্যর বদমায়েসির চোটে আমার রয়্যাল এলিট শরীর ঘিনঘিন করছে।
- করেছেটা কী?
- চাকরবাকর মানুষ, লোহালক্কড় অস্ত্রটস্ত্র আমার চেয়ে না হয় একটু ভালো চালায়। তাই বলে আমার টিপ সামান্য এ'দিক ও'দিক হয়েছে বলে আমায় মিডল ফিঙ্গার দেখাবে?
- সর্বনাশ! বলো কী!
- কী অপমান। ছি ছি। আদিবাসীর পো কিনা রাজপুত্রকে মিডল ফিঙ্গার দেখায়?
- বেশ। ওকে শায়েস্তা আমি করব। অড নাম্বারের মিডল হয়, ইভেন নাম্বারে মিডল পাবে কোথায়? বাপের জন্মে আর কাউকে মিডল ফিঙ্গার দেখাতে যাতে সে না পারে, সে ব্যবস্থা আমি করে দেব।
- যাক। সে কথাই রইল। আর ইয়ে, রিপোর্টারদের বলে দেবেন আমার টিপ মিস করার গল্পটা একটু অন্যভাবে প্রেজেন্ট করতে। বিশেষত ওই বুড়ো রিপোর্টারটা একটু ঢ্যাঁটা, কী যেন নাম? ওই ব্যাস না কী যেন, ওর জার্নালে যেন আমার ব্যাপারে আজেবাজে কিছু না লেখা থাকে, কেমন? দেখে নেবেন, এখন আমি আসি। ডিডি মেট্রোতে সুপারহিট মুকাবলা শুরু হল বলে।
Wednesday, March 21, 2018
সোমালিয়া আর ঘটিদা
Monday, March 19, 2018
হেস্
রুডল্ফ হেস্ নাজি পার্টির ডেপুটি ফুয়েরার পদে থাকাকালীন হিটলারের নজর এড়িয়ে একটা যুদ্ধবিমান নিয়ে জার্মানি থেকে স্কটল্যান্ড উড়ে গেছিলেন; একা। তখন যুদ্ধ তুঙ্গে, হিটলার লন্ডনে বোমাটোমা ফেলতে শুরু করেছেন। ফ্রান্স নাজিদের পকেটে। সোভিয়েত আক্রমণের প্রস্তুতি চলছে। হেস্ বুঝেছিলেন যে জার্মানির পক্ষে দু'দিক সামাল দিয়ে বেশিদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া মুশকিল। ল্যান্ডিংয়ের সময়ে আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় জীবনে প্রথম প্যারাশুটে ঝাঁপ দিতে হয় তাঁকে। হেস্ ভেবেছিলেন চার্চিলের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বোঝাবেন জার্মানির সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য; ব্রিটেন নিজের এলাকা আর নিজের উপনিবেশগুলো নিয়ে সুখে থাকুক। জার্মানি নিজের এলাকাটুকু বুঝে নেবে। চার্চিল নরম হলে জার্মানির আখেরে মঙ্গল, হেস্ তেমনটাই আঁচ করেছিলেন।
পরের দিন হেস্-য়ের পাগলামোর খবর পেয়ে হিটলার রাগের চোটে আশাপাশের মানুষজনকে চিবিয়ে খাওয়ার উপক্রম করেছিলেন। গোয়েবল দেশময় রটিয়ে দিয়েছিলেন "ও পাগল! আপদ বিদেয় হয়েছে, ভালো হয়েছে"। এ'দিকে ব্রিটেনও ব্যাপারটাকে স্রেফ ফিচলেমো মনে করে উড়িয়ে দিল। হেস্ বন্দী হলেন। তাঁর চার্চিলের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে উবে যেতে বেশিদিন লাগল না।
এক চাষি হেস্-কে প্যারাশুটে নামতে দেখেছিলেন। পরমশত্রু নাজি পার্টির ডেপুটি ফুয়েরারকে চিনতেও পেরেছিলেন।
এবং সবচেয়ে বড় কথা ব্রিটিশ সৈন্য হেস্-কে পাকড়াও করার আগে তাঁকে এক কাপ চা অফার করেছিলেন সেই চাষি।
এত পাঁয়তারার পিছনে মূল বক্তব্য একটাই;
কোথাও অতিথি হয়ে গেছেন আর তারপর প্রবল চায়ের তেষ্টা পেয়েছে?
গৃহকর্তা/গৃহকর্ত্রী চা বাদে যাবতীয় ভুজুংভাজুং গছিয়ে চলেছেন অথচ চায়ের প্রসঙ্গই উঠছে না?
তাঁদের রুডল্ফ হেস্ আর বিলিতি চাষির গল্প শোনান।
Saturday, March 10, 2018
বিউলির বিশ্বাস
বিউলির চোখে ঘুম নেই। আজ তিন দিন ধরে দু'চোখের পাতা এক হয়নি। বালিশে মাথা ঠেকালে মাথার ভিতর চিড়বিড় করে উঠছে। অথচ শরীর মন অবশ করা ক্লান্তি তাকে গিলে খাচ্ছে যেন। শাশুড়ি মা অবশ্য মাঝেমধ্যেই গায়ে মাথায় হায় বুলিয়ে তাকে শান্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন। কিন্তু সে বেচারির নিজের দুঃখই বা কম কীসে? যে মায়ের জোয়ান ছেলে মাত্র তিন দিনের জ্বরে মরতে বসেছে, তাঁর বুকের ভিতরে কি রক্তগঙ্গা বয়ে চলছে না? বুড়ি বিউলিকে চোখে হারায়।
ক'মাসের মাত্র বিয়ে, তবু এরই মধ্যে নিজের স্বামীকে বেশ মায়া মায়া সুরে ভালোবেসেছে ফেলেছে বিউলি। জানালা বেয়ে চুইয়ে নামা জ্যোৎস্নায় হারুর চিবুক ভেসে যেতে দেখে বিউলি। মায়া হয়। বড় মায়া। বুক ধড়ফড়ানো মায়া।
এই মানুষটাকে এখন দিব্যি ছোঁয়া যায়। চাইলেই চুলে বিলি কেটে দেওয়া যায়। 'বুকে কষ্ট হচ্চে গো" বলে বুকে মাথা রাখা যায়। সে থাকবে না? বর না থাকলে বুক মুচড়ে মুচড়ে ওঠে; বাপের বাড়ির পাড়ার শিউলিপিসি অন্তত তাই বলতেন। হারু থাকবে না? সন্ধেবেলা মেলা থেকে ফেরার পথে অসভ্য সুরে 'অ্যাই বৌ, ইদিকে ঘেঁষে আয়' বলে চিমটি কাটবে না আর সে? বিউলির গলায় রামপ্রসাদী শুনে হারুর চোখ ছলছল হয়ে আসে, তখন বিউলির মনে হয় শীতের রাতে কেউ যেন তার গায়ে ভালোবাসাবাসির লেপ চাপিয়ে দিয়েছে।
এমন স্বামীটা আর থাকবে না? কবিরাজ মশাই অমন থাপ্পড়ের মত কথাগুলো বলতে পারলেন?
কবিরাজমশাই অবশ্য বলেছেন শহরে থেকে বড় ডাক্তার ডেকে নিয়ে আসতে পারলে কিছু একটা হলেও হতে পারে। কিন্তু সে ডাক্তারের খরচ কম নয়। বিউলিদের টাকা নেই।
একটু ভুল হল। বিউলির কাছে একটা গিনি আছে, জমিদার বাড়ির সই এলোকেশীর তাকে বিয়ের সময় দিয়েছিল। আর বিউলি গিনিটা লুকিয়ে রেখেছিল নিজের পুঁটুলির গোপন কোণে। হারুও জানতে পারেনি সে গিনির কথা। সে গিনি ভাঙিয়ে কবিরাজমশাইয়ের কথামত শহুরে ডাক্তারের ব্যবস্থা করাই যায়। কিন্তু গতকাল থেকে বিউলির মনের ভিতর হ্যাঁচোড়প্যাঁচোড় করেই চলেছে। বাপের বাড়ির গাঁয়ের বুড়োশিবঠাকুরের কথা মনে করে সে যখনই কোনও পয়সা মানত করে জলে ভাসিয়েছে, তখনই তার মনোবাসনা পূর্ণ হয়েছে। বিউলির দাদা নিমকি সে'বার দিন দুয়েকের জন্য জঙ্গলে হারিয়ে গেছিল, মায়ের লক্ষ্মীর ঝাঁপি থেকে এক পয়সা চুরি করে দাদার নামে মানত দিয়ে সে পয়সা নদীতে ছুঁড়ে ফেলেছিল বিউলি; পরের দিনই ফেরত এসেছিল দাদা। কিছুতেই মেজদির বিয়ে ঠিক হচ্ছিল না, বাবার পুরনো দেরাজ থেকে একটা গোটা টাকা চুরি করে নদীতে ভাসাতেই কাটোয়ার পাত্রপক্ষ মত দিয়েছিল। এমনও আরো বেশ কয়েকবার এইভাবে টাকাপয়সা বুড়োশিবের নাম মানত করায় কাজ হয়েছিল। এই মানতগুলোর কথা অবশ্য কাউকে সে কখনও বলেনি।
কাজেই গোটা একটা গিনি জলে ভাসালে কি বুড়োশিব তার স্বামীকে বাঁচিয়ে দেবে না? অচেনা ডাক্তারের জন্য অন্ধের মত খরচ না করে বুড়োশিবের ভরসা করাই কি উচিৎ হবে না? এক বুক আকুতি নিয়ে ঘাটের দিকে ছুটল বিউলি।
***
"আপনি আমার থেরাপিস্ট যখন আপনাকে খুলে বলতেই পারি। মাঝেমাঝে মেয়েটাকে স্বপ্নে দেখি। সে বড় অদ্ভুত স্বপ্ন। এক নদী কালচে নীল জলে মেয়েটা ডুবে যাচ্ছে। বড় মায়া মেয়েটার চোখে।
মেয়েটার ঠোঁটে অল্প কাঁপুনি।
মুখ ফ্যাকাসে কিন্তু তাতে ভালোবাসা জমাট বেঁধে আছে। মেয়েটা আমার নাম ধরে হাতছানি দিয়ে ডাকে
'আমায় ডুবতে দিওনি শঙ্করবাবু, তোমায় পয়সা দেব'।
এক বুক জলে নেমে মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরি আমি। স্বপ্নেই।
আহ, বড় মায়া।
গতকালও স্বপ্নে সে'ভাবেই এসেছিল সে;
'আমায় ডুবতে দিওনি শঙ্করবাবু, তোমায় একটা গিনি দেব'। কিন্তু আমি জলে নামার আগেই অ্যালার্ম ঘড়িটা বিশ্রী ভাবে বেজে উঠল। ভোরের স্বপ্ন আর কী। কিন্তু সেই থেকে নাকে শুধু শ্মশানের গন্ধ আসছে ডাক্তার। আমি কি পাগল হয়ে গেলাম ডাক্তার"?
Tuesday, March 6, 2018
মূর্তিভাঙার গল্প
Sunday, March 4, 2018
বালিশবাবুর অফিসে - ৬
এ'বারের পুরী
খোকা ও বই
Saturday, March 3, 2018
চিঠি ও পদ্য
গত তিনদিনে এই নিয়ে বাহাত্তর নম্বর চিঠি এলো। উড়ো। এ'তেও বক্তব্য মোটামুটি একই রকম।
অবশ্য বক্তব্য না বলে হুমকি বলা ভালো।
বিয়ে না করলে সে মেয়ে নাকি আত্মহত্যা করবে। কিন্তু কী মুশকিল। সে যে নিজের নাম ঠিকানা কিছুই লেখেনি। অবশ্য তাঁর পরিচয় কিছুটা হলেও আঁচ করেছেন মনোহর। নিজে থেকে তাঁর একটা নাম দেওয়া হয়ে গেছে ভাবতে একটু লজ্জাই লাগে মনোহরের; সুলিয়া। খামে অল্প গন্ধরাজের সুবাস। আর চিঠির ভাষায় এই যে সামান্য অনুযোগ মেশানো হুমকি, তা'তে মায়া আরও তরতর করে বেড়ে চলে।
পরিচয় পেলে বিয়েটা সেরে ফেলতে খুব আপত্তি করতেন না মনোহর। সুলিয়াকে নিয়ে সে'সবই সাতপাঁচ ভাবছিলেন তিনি। ভেবে ভেবে উপায়ন্তর না দেখে নীল ডায়েরীটা টেনে নিয়ে বাহাত্তর নম্বর পদ্যটা লিখে ফেললেন মনোহর।
আর তখনই চড়ুইপাখির ডানঝাপটানো সুরে জানালা বেয়ে তিয়াত্তর নম্বর চিঠিটা এলো।
***
- চিঠি?
- তাই তো বলে ডাক্তারবাবু।
- আপনি দেখেছেন সে চিঠি?
- চিঠি না হাতি।
- আরে! কী মুশকিল। এই যে বললেন আপনার দাদার চিঠি পাওয়া বাতিক হয়েছে?
- বাতিক না। ব্যামো। আর আদতে কিস্যু আসে না। সে জন্যেই তো আপনার কাছে আসা ডাক্তারবাবু।
- নার্ভটার্ভ ফেল করেছে নাকি?
- আশ্চর্য নয়, নতুন কবিদের অমন একটু হতেই পারে। এ'বার দু'দাগ ওষুধ দিন দেখি।
***
দুপুরবেলা গন্ধরাজ গাছটায় হেলান দিয়ে একটু ঝিমটি না দিলে টুসুর চলে না। দিন তিনেক হল; সে'খানে শুয়ে সে রোজ ঝিমঝিমে স্বপ্ন দেখছে। সে'সব স্বপ্নে বাবার পছন্দের ব্যাঙ্ক চাকুরে পাত্রটি তার পিছনে ঘুরঘুর করে না। বরং তার চোখের সামনে নতুন নতুন পদ্যরা নেচে বেড়ায়। সব পদ্যর একই বিদঘুটে শিরোনাম; "অ্যাই সুলিয়া"!





