সূর্য লামার ভার্সোভার 'দোকান'টার রমরমা মূলত ওদের চমৎকার কোয়ালিটির রকমারি মোমোর জন্য। কিন্তু ওদের এই তৈলাক্ত মশলায় ভরপুর এগ-চিকেন চাউমিনটার প্রতি যে আমার কী টান। খুব অদ্ভুত ভাবে ওদের এই চাউমিনে দার্জিলিংয়ের রাস্তার ধারের দোকানের ফ্লেভারের সঙ্গে দিল্লীর ঠেলায় বিক্রি করা চাউমিনের স্বাদ এসে মেশে। এর একটা কারণ বোধহয় দিল্লীর অনেক চাউমিনের স্টল চালান দার্জিলিং থেকে আসা মানুষজন।
এমনিতে আমার সাদামাটা চাউমিনই বেশি পছন্দ। কিন্তু এই মশলাদার লালচে চাউমিনের প্রতি আলাদা একটা ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল ছাত্র-বয়সে মুনিরকায় দু'বছর থাকাকালীন। ও জিনিস খেতে হয় কাগজের প্লেটে (নিদেন পক্ষে রঙচঙে সস্তা প্লাস্টিকের প্লেটে), প্লাস্টিকের ইউজ অ্যান্ড থ্রো কাঁটাচামচ দিয়ে। সত্যি বলতে কি কলকাতার সুস্থ চাউমিন খাওয়া মানুষজন রুচিতে খাপ নাও খেতে পারে এ জিনিস। কিন্তু অ্যাকোয়্যারড টেস্টে খেললে এই লালসেলাম চাউমিন বেশ রিওয়ার্ডিং হয়ে উঠতে পারবে। টানটান ঝাল, টানটান নুন, ডিম মুর্গি মেশানো, ওপরে সামান্য কাঁচাপেঁয়াজ-লঙ্কাকুচি ছড়িয়ে দেওয়া; ডেলিশাস! দিল্লীর সে'সব মনোরম সন্ধে ভোলার নয়। দিল্লীতেই কোনো রেস্টুরেন্টে ঢুকলে কিন্তু সেই স্বাদ পাওয়া যাবে না। দার্জিলিংয়েও ঘুরতে গিয়ে শহরের এ'দিক ও'দিকে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে যে সব চাউমিন খেয়েছিলাম, তা'তেও মশলার সেই নির্দিষ্ট দমকটা ছিলো বটে। অবশ্য দার্জিলিংয়ের হাওয়ার গুণেই হয়তো সে জিনিস স্বাদের দিক থেকে আরো দু'কদম এগিয়ে।
বম্বের সূর্য লামার চাউমিনে সত্যিই সে অর্থে দিল্লীর ফুটপাথ আর দার্জিলিঙের রাস্তা এসে মিশেছে। এইত্তো আগের দিন ভাবলাম দু'জনে মিলে একপ্লেট ভাগ করে খেলেই হয়ে যাবে; কারণ পাশাপাশি যথেষ্ট মোমোও অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যাপারটা এতটাই সরেস যে বাধ্য হয়েছিলাম শেষপাতে আর এক প্লেট অর্ডার করতে।
No comments:
Post a Comment