Wednesday, September 9, 2026

ক্যাপিটাল


- চাকরিটা চলেই গেলো বুঝলি।
- দ্যাখ দাদা, এ’টাকে একটা অপরচুনিটি হিসেবে দেখতে হবে...।
- তুইও লিঙ্কডইন গছাবি বুড়ি?
- না, তা না..।
- শোন। জাস্ট মাসখানেক টেনে দে। তদ্দিনে একটা কিছু ঠিক দাঁড় করিয়ে দেব। তা’ছাড়া মায়ের ওষুধটষুধগুলোও আছে। সে’টাও তোকে দেখতে হবে।
- হো যায়েগা।
- আর শোন, বাবা মাকে খবরটা আপাতত দিস না। এ সময় ওদের বাড়তি ঘ্যানঘ্যানানিটা অন্তত সহ্য হবে না।
- তুই বড্ড বেশি ভাবছিস। আরে আমি তো ঘরে বসে নেই।
- ভারি তো বদলি নার্সের একটা চাকরি..। তার আবার রোয়াব দ্যাখো।
- ডক্টর সেন আমার কাজে খুব খুশি কিন্তু। বলেছে বছরখানেকের মধ্যে পার্মানেন্ট হওয়ার চান্স আছে একটা।
- নাকের ডগায় সে গাজর ঝুলিয়ে তোকে কী বিশ্রীভাবে যে খাটিয়ে নিচ্ছে..। দিন নেই, রাত নেই..।
- চা খাবি দাদা?
- বোস না পাশে। চা পরে হবে’খন। কদ্দিন পর অবেলায় এমন গা এলিয়ে বসলাম বল দেখি।
- দাদা, আবার তো সেই চাকরি খুঁজে হন্যে হওয়া।
- ভাবছি একটা ব্যবসা করব। কী বলিস। পারব না বুড়ি?
- ব্যবসা!
- অমন আকাশ থেকে পড়লি যে।
- কীসের ব্যবসা। ক্যাপিটাল পাবি কই। বাবার পিএফ?
- স্পেয়ার দ্য ওল্ড চ্যাপ। ক্যাপিটাল আমার গতর। আমার এন্থু! আমার অধ্যবসায়। আমার জেদ।
- এইবারে কে কাকে লিঙ্কডইন গছাচ্ছে?
- হে হে। শোন না। খুব ইচ্ছে ছিল ফুল বিক্রি করার। ভোরবেলা হাওড়া থেকে..।
- দাদা। তোর ফুলের দোকান দাঁড়িয়ে গেলে আমায় সে’খানে চাকরি দিবি? হিসেবটিসেব রাখার কাজ?
- স্বজনপোষণ করতে বলছিস?
- জানিস। ডাক্তার সেনকে আমার ভালো লাগে না রে দাদা। একদম ভালো লাগে না।
- বুড়ি!
- তুই বোস। আমি চা বানিয়ে আনি। মাকে কিছু বলতে যাস না। কেমন? তুই কিছু একটা পেলে না হয়..।

No comments: