চমৎকার ভাবে রাতটা জেগে কাটালেন মধুময়। রাত জাগার একটা মস্ত সুবিধে হলো ভোরের দিক থেকেই একটা টিপটিপ মাথা ব্যথা থাকে, তা'তে হয় কী শরীর নেতিয়ে পড়লেও মনের মধ্যে একটা মৃদু চনমন থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমানুপাতিক ভাবে মাথা ব্যথাটা চড়চড়িয়ে বাড়বে; টিপটিপ থেকে ঢিপঢিপ হতে দমাসদমাস শুরু হবে। ঠিক তখন দরকার হবে একটা কড়া কফি আর আড়াই মিনিটের পায়চারীর। এ'সব টোটকা সব মধুময়ের নখদর্পণে। আর কেউ না জানুক, মধুময় বিলক্ষণ জানেন যে দমাসদমাস মাথাব্যথাকে ডিঙিয়ে একের পর এক ফাইল ক্লীয়ার করার মধ্যে একটা মারাত্মক থ্রিল রয়েছে। আলেকজান্ডাররা সিন্ধুনদ দেখে 'ওরেব্বাবা, এ পেরোনোর উপায় নেই তার চে' চলো দেশে ফিরে যাই' বলে ফেরত যান না। সিন্ধু সমান মাথাব্যথা পেরিয়ে রেরে শব্দে ফাইলসাফ করাটা মধুময়বাবুর কাছে এক আলেকজান্ডারিও খেল।
এখন ভোর (প্রায়) ছ'টা। মধুবাবুর চোখ লাল, ভোরের সূর্যের সঙ্গে মানানসই। ঘণ্টাদুয়েক আগে পর্যন্ত চোখদুটো ঘুমের ভারে পর্যুদস্ত ছিল। এখন তারা চাঙ্গা। চট করে এক কামরার ঘরে ফিরে গিয়ে সিকিউরিটি গার্ডের নীল-কালো পোশাক ছেড়ে একটা জবরদস্ত স্নান, মার্গো সাবান আর প্যারাশুট নারকোল তেলসহ। তারপর দু'টো হাতরুটি বানিয়ে বাসি আলুভাজার সঙ্গে সাবড়ে দেওয়া। আর সবশেষে সেঁধিয়ে যাওয়া সাদ হাফ শার্টের কেরানী-কবচে।
সানশাইন কন্সট্রাকশন প্রোজেক্ট জানে না যে মন্ডল অ্যান্ড ডেভিডের পারচেজ ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র ক্লার্কের নাম মধুময় সাহা। জানলে সাদা কলারের চাকুরেকে এ কাজ তারা দিত না। তেমনি, মন্ডল অ্যান্ড ডেভিডের কোনো শর্মাও কোনোদিনও জানবে না যে সানশাইন কন্সেন্ট্রেশনের সিকিউরিটির টীমের নাইট শিফটে যে নতুন বদলি গার্ড জয়েন করেছে তাঁর নামও মধুময় সাহা। জানলে মধুময়কে এই সাতবছরের ফাইলঠেলা চাকরিটা খোয়াতে হত। ও'দিকে ছ'শো মাইল দূরের বাড়ির লোকজন জানে যে আচমকা কোনো এক মন্ত্রবলে মধুময়বাবু মাসশেষে কিছু টাকা বাড়তি ট্রান্সফার করতে শুরু করেছেন। কোনো মাসে সাত হলে কোনো মাসে দশ হাজার।
সুপারম্যান না সুপারভিলেন?
ঠিক ঠাহর করতে পারেন না গোপন মুনলাইটার মধুময়।
No comments:
Post a Comment