যুক্তি দিয়ে বোঝানো আমার কম্ম নয়। কিন্তু বইপড়া মানে আমি এ বয়সেও গল্পের বই পড়া বুঝি। আর যা কিছু, তা সবই স্রেফ 'পড়া'।
কেউ ভালোবেসে গল্পের বই পড়ছে, এ'টা কল্পনা করতে চাইলে সে মানুষকে কিছুতেই টেবিলে বসে থাকা অবস্থায় কল্পনা করতে পারি না। গল্পের বই পড়াটা আগোছালো অবস্থায় হওয়াটাই যেন নিয়ম। সোফায় ছড়িয়ে, বিছানায় আধশোয়া অবস্থায়, মেঝতে থেবড়ে বসে, ভাতের পাতের পাশে বই রেখে, ট্রেনের দুলুনির সঙ্গে তাল রেখে - তবে হবে গল্পেরবই পড়া। গল্পের বইয়ের গালগপ্পগুলো নয়তো মনের মধ্যে খোলতাই হয়ে ছড়িয়ে পড়বে কী করে?
আর কিলো-কিলো পড়ে গেলেই হল না, গল্পের বইয়ের গল্পেরবইয়ত্ব বজায় রাখতে হলে হেলেদুলে এগোনোটাই বুদ্ধিমানের কাজ। দরকারে ভালো লাগা পাতায় বার বার ফিরে যাওয়া। জাবর কাটা। এ তো আর সিলেবাস নয় যে ঘড়ি ধরে শেষ হবে। ভোরেসাস হতেই হবে সে দিব্যিও কেউ দেয়নি। গল্পের বইয়ের খেজুরেমোকে যথাযথ ভাবে পাকড়াও করতে হবে। নীড-ফর-স্পীড নয়, ট্যুয়েন্টি নাইনের মেজাজে খেলা ধরতে হবে।
গল্পের বইতে মলাট চলে না। কালি বা পেন্সিল দিয়ে দাগানো চলে না। গল্পের বইয়ের অলংকার হলো আঙুলের পেজমার্ক। পুরনো টিকিট, ওষুধের বিল, খুলে রাখা হাতঘড়ি; এ সমস্ত জিনিসের জেল্লা বেড়ে যায় গল্পের বইয়ের ভাঁজে রাখলে।
No comments:
Post a Comment