Wednesday, September 9, 2026

হেস্টিটেস্টি


মুনিরকায় বছর দুই কেটেছে। সে দু'বছরের গুরুত্ব কুড়ির সমান। সে সময়ে জরুরী ইয়ারদোস্ত জুটেছে, রকমারি পাখনা গজিয়েছে এবং যথাযথ ভাবে ছাঁটা হয়েছে।

যা হোক, তখন ছাত্র। অতএব বারফট্টাই হতো হিসেব কষে। মাসে বারদুয়েক; বাড়তি দু'পয়সা জমলে আমরা যেতাম মুনিরকার ক্যাপিটল কোর্টের চাউমিন স্টল হেস্টিটেস্টিতে। আমাদের স্ট্যান্ডার্ড অর্ডার ছিল হাফপ্লেট মিক্সড সিঙ্গাপুরি চাউমিন। সঙ্গে দিত অঢেল চিলি সস, টমেটো সস, ভিনিগার আর সোয়্যা সস। চাউমিনটা অবশ্য বেশ মশলাদার হত, দিল্লীর রাস্তার জমজমাট চাইনিজ ঠেলাগুলোয় যেমনটা পাওয়া যায় আর কী; তবে হেস্টিটেস্টির কোয়ালিটি তার এক দাগ ওপরেই থাকতো।

বছর কুড়ি পর মুনিরকা ফেরত গিয়ে সোজা গেছিলাম হেস্টিটেস্টিতে। আইন মেনে অর্ডার দিলাম হাফপ্লেট মিক্সড সিঙ্গাপুরি চাউমিন। চাকুরে বয়সের রোয়াব দেখিয়ে একটা কোকাকোলাও বলা হলো। কী অবাক কাণ্ড; এদ্দিনে গোটা দুনিয়া এস্পারওস্পার হয়ে যাওয়ার জোগাড় অথচ হেস্টিটেস্টির সিঙ্গাপুরি চাউয়ের স্বাদ সেই একই রয়ে গেছে, তার আদি জৌলুস এক ফোঁটাও কমেনি।

ইন্টারেস্টিং


- আপনি তেমন ইন্টারেস্টিং নন।
- দু'দিনের আলাপ। একটু ধৈর্য ধরুন ম্যাডাম। বলা যায় না, হঠাৎ জানতে পারলেন যে আমি আদতে ইন্টারগ্যালাকটিক স্পাই।
- ধুস। আপনার সেন্স অফ হিউমরও কেমন জানো।
- প্রথম আলাপেই আমার সেন্স অফ হিউমার ঠিক খোলতাই হয় না। ইনিশিয়াল ইনার্শিয়াটা একটু কাটতে দিন..।
- ইন্টারেস্টিং হতে আপনার সময় লাগবে। রসিক হতে আপনার সময় লাগবে। এত অপেক্ষা নিয়ে প্রেমের প্ল্যান করা যায় না।
- তা'হলে তো ভারি সমস্যায় পড়া গেলো। আড়াই মাস এই ডেটিং অ্যাপে হত্যে দিয়ে পড়ে থেকে তবে এই ডেটের ব্যবস্থা করা গেছে। আপনি অমন উড়িয়ে দেবেন না প্লীজ।
- আপনি প্রেমিকসুলভ ঠিক কী কী করতে পারেন? কবিতা? গান? ফ্লার্ট?
- ফ্যান্টাস্টিক ডিম ভাজতে পারি জানেন। নেহাত আজ পর্যন্ত দুই পেরিয়ে তিন নম্বর ডেটে পৌঁছতে পারিনি। কাজেই বাড়ি ডেকে ডিমভাজাটা অফার করা হয়নি। ও জিনিস একবার চেখে দেখলে আপনি বুঝতেন কবিতা গান কতটা অদরকারি।

অমৃতের অফার


- বলছিলাম জ্যেঠু, আজ উঠি।
- উঠবি?
- হ্যাঁ, সোয়া বারোটা বাজে। এখনই না বেরোলে বাড়ি পৌঁছতে পৌঁছতে সেই..।
- এই অবেলায় বেরোবিই বা কেন। বস না। দু'টো ভাত খেয়ে না হয়...।
- তোমার বিধুর হাতের ওই লপসি আমার রুচবে না জ্যেঠু। জাস্ট আড্ডা দিতেই এসেছিলাম। আর তোমার এই ওষুধগুলো পৌঁছে দিতে। আজ আবার বাড়িতে মা ফ্যান্টাস্টিক মেটে চচ্চড়ি রেঁধেছে, বুঝলে।
- গুপি, আমার লপসি তোকে খাওয়ালে তোর জ্যাঠাইমা স্বর্গ থেকে ঝ্যাঁটা হাতে নেমে এসে আমায় বেধড়ক পিটিয়ে স্ট্রেট নরকে যাবে। আমি তোকে অমৃত অফার করছি।
- মেটে চচ্চড়িকে টপকে?
- বিধুর হাতে মাখা আলুসেদ্ধ আর মাখনে চুপচুপ ফ্যানাভাত তোর মেটেচচ্চড়িককে কান ধরে ওঠবস করাবে।
বিকেলবেলা বেরোনোর আগে গুপি বিধুর পায়ের ধুলো নিয়ে বলেছিল, "গুরু, আমি ধন্য"।

সাত্ত্বিক


ওটস দিয়ে যে এত ভালো সোয়্যা বিরিয়ানি হয় তা এর আগে জানতাম না৷
আর রেওয়াজি সোয়্যা চাঙ্কসগুলোর ব্যাপারে কী বলি; স্বাদে টইটম্বুর এক্কেবারে।

একবার ভেবেছিলাম ডিম দেব। ভাগ্যিস তারপর মনে হলো যে তার চেয়ে ঢের বেশি জমবে কয়েক টুকরো জমাটি টোফু মিশিয়ে দিলে। যেমন ভাবা, তেমনি কাজ।

উফ, যা হয়েছিল খেতে।
আজকের ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, টিফিন আর ডিনার সব বিরিয়ানি দিয়েই সেরে ফেললাম।

হাফ ডেকচি রেখে দিয়েছি, রোব্বারের লাঞ্চে কাজে লাগবে।
বাসি সোয়্যা বিরিয়ানি যে অমৃতসমান, এ কথা তো সবারই জানা।

বইমানুষ


কত মানুষ কত ভালো বই রেকমেন্ড করেছেন, ক্ষেত্রবিশেষে ঘাড় ধরে পড়িয়েছেন। কত ভালো বই অন্য ভালো বইয়ে নিয়ে গেছে। ভালো বইয়ের গল্পের মাধ্যমে নতুন আলাপ জমেছে; জুটেছে নতুন বন্ধু আর আরও নতুন বইয়ের গল্প। আর অল্পস্বল্প যতটা যা শেখা (এবং যতটুকু বখে যাওয়া) তার বেশিরভাগটুকুই গল্পের বইয়ে ভর দিয়ে।

যারা বই পড়িয়েছেন, বই উপহার দিয়েছেন, বইয়ের গল্প জুড়েছেন, এবং অমুক বই পড়িনি শুনে আঁতকে উঠে ধমক দিয়েছেন; তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সাজেশন/উপহার/আলোচনার মধ্যে দিয়ে কত সহৃদয় মানুষের মুখ কত প্রিয় বইয়ের মধ্যে চিরকালের জন্য মিশে গেছে। সে অর্থে, বুকশেল্ফ একটা মানুষের সংগ্রহও বটে।

বই-চেনানো মানুষজনকে তাই "হ্যাপি টীচার্স ডে" না বললেই নয়।
~~
ছবি: কলেজ স্ট্রিট অঞ্চল, ২০১০।