Wednesday, September 9, 2026

নিখুঁত লুচির মত


ভালো থাকার বেশিরভাগ ডেফিনিশনই মনভোলানো। আমরা কেউই ভালো নেই, আবার কারুর খারাপ থাকাটাই শেষ কথা নয়। হইহুল্লোড় ফুর্তি হুজুগ; এ'গুলোর মাঝেমধ্যে দরকার যে নেই তা নয়। তবে সে'গুলোকে ভালো থাকার মার্কার হিসেবে মেনে নিতে ইচ্ছে করে না। অনবরত হুল্লোড়ে মার্কেটের উপকার, তা'তে লেনদেন বাড়ে। ভালো থাকার সঙ্গে মার্কেটের সম্পর্ক থাকা উচিৎ নয়। তবে এদ্দিন উচিৎ-অনুচিতকে যে'ভাবে চিনে এসেছি; তা সবই ভুল অথবা গুলের গোত্রে পড়ে গেছে।

ভালো থাকা ব্ল্যাকবোর্ডে এঁকে লিখে বোঝানো সম্ভব নয়, তবে চিনে নেওয়া যায়। ভালোথাকার চিহ্নগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লুচি। অস্বীকার করছি না যে এর মধ্যেও মার্কেট আছে, ধান্দা আছে, 'ফ্লেক্স' আছে। কিন্তু স্রেফ বিত্তবানের হুঙ্কার দিয়ে মানুষের প্লেটের নিখুঁত লুচিকে মাপা অসম্ভব। লুচি এমন একটা অদ্ভুত জিনিস যে ময়দা মাখা থেকে তরকারিসহ মুখে পোরা পর্যন্ত ফোকাস দরকার, দরাজ ও দাপুটে মন দরকার।

যে কোনো ফুর্তির আখড়ায় লুচিকে ফেলে দেখুন, যেমন জন্মদিন, বিয়েবাড়ি, পিকনিক; কপালে জুটবে চ্যাপ্টা ঠাণ্ডা মিনি ফ্রিসবি। আসলে লার্জ স্কেল ইকোনোমি লুচির আত্মাকে ধারণ করতে অক্ষম। লুচিকে কদর করতে হলে তাকে ভিড়ের বাইরে টেনে আনতেই হবে। একটা ছোট্ট ভালোবাসার পরিসর দরকার, যে পরিসরে কড়াই আর পাতের মধ্যে বড় জোর দশ সেকেন্ডের তফাৎ। যে পরিসরে লুচি নিজের ফুলকো লুচিত্ব হারনোর আগে মুখে সেঁধিয়ে যেতে পারে, সে'খানকার বাতাসে নির্ঘাৎ ভালো থাকার অজস্র মলিকিউল ভেসে বেড়াচ্ছে।

গোড়াতেই বলেছিলাম; ভালো থাকার সমস্ত ডেফিনিশন মানুষ-ভোলানো। সিম্পটমগুলো দেখে নিজের ভালো থাকা চিনে নেওয়াটাই মানুষের দায়িত্ব। আর নিখুঁত লুচির মত স্পষ্ট 'ভালো থাকা'র সিম্পটম এ জগৎ-সংসারে খুব বেশি নেই।

No comments: