Showing posts with label খাবারদাবার. Show all posts
Showing posts with label খাবারদাবার. Show all posts

Friday, March 13, 2026

শুগার-ফ্রি



- আপনাদের এ'খানে শুগারফ্রি মিষ্টি কিছু আছে কি?

- গাঁয়ের মিষ্টির দোকান স্যার। ও'সব জিনিস এখানে বিক্রি হয় না। 

- আই সী।

- আর বলেন কেন। সে'দিন মন্টু হালদার দোকানের ওপর সে কী বিশ্রি তম্বি করে গেল। কী? না দানাদারটা নাকি যথেষ্ট মিঠে হয় নি, ভাবুন দেখি অবস্থাটা। কাজেই শুগারফ্রি মিষ্টি চাইলে আপনাকে টোটো বা সতেরো নম্বর বাসে উঠে পড়ে সোজা যেতে হবে টাউনে। সে'খানে রয়েছে অরবিন্দ সুইটস। সে'খানে আপনি ও'সব ফ্যাশনে মিষ্টি পেলেও পেতে পারেন।

- ভারি সমস্যায় পড়া গেল। এনিওয়ে, আপনাদের এ'খানে কম মিষ্টি দেওয়া আইটেম কিছু আছে কি?

- শিঙাড়া আছে। নিমকি আছে। তারপর গিয়ে ধরুন এই সন্ধে নামলে আলুরচপ ভাজা হবে।

- মিষ্টির কথা বলছি যে। শুগারফ্রি।

- আমাদের এ'খানে সব মিষ্টিই এক্কেবারে চাবুক মিষ্টি বুঝলেন কি না। তা, আপনি বোধ হয় এ'দিকে ঘুরতে এসেছেন?

- আমি যাচ্ছি বর্ধমান। ওই সামনের ওই গাড়িটা আমার। লাঞ্চ সঙ্গেই এনেছিলাম। শুধু খাওয়ার পরে একটা মিষ্টি না হলে আমার চলে না। কিন্তু আমি আবার প্রি-ডায়বেটিক কিনা, শুগারফ্রি মিষ্টি না হলে...।

- নাহ্‌। ও জিনিস এ'খানে পাবেন বলে মনে হয় না। একটা রসগোল্লা বরং খেয়েই নিন।

- খেয়ে নেব?

- নিন না। গাঁয়ের রসগোল্লা, শহরের ওই ঘেসো স্পঞ্জ মাল নয়। জিভে লেগে থাকবে। আজ খাবেন, সামনের মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সে স্বাদ জিভে লেগে থাকবে।

- না, থাক। 

- এই যে কড়াকড়ি, ডাক্তারের নির্দেশ না গিন্নির? কী মশাই? হে হে হে হে...।

- আমার গিন্নিই যে ডাক্তার।

- ও। না স্যার। আমার দোকানের মিষ্টি আপনি খেতে যাবেন না। এ হচ্ছে মন্টু হালদারের গাঁয়ের দোকান, এ মিষ্টির ওজন আপনার রক্ত বইতে পারবে না।

- ইয়ে, ডায়েট কোক আছে?

- ডায়েট? কোক?

- নেই, না?

- লেবু সরবত খাবেন?

- লাইম সোডা? সল্টেড প্লীজ। নো শুগার। পেপার স্ট্র না থাকলে এমনিই দেবেন। প্লাস্টিকের স্ট্র ব্যাপারটা অ্যাভয়েড করছি আজকাল।

- দাদা, আপনি এ'দিকে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না। এ গাঁয়ের জলবাতাসে আপনার শুগারকে চাগিয়ে দেবে। তবে ইয়ে, লেবুজলটা আমিই বানাবো। স্পেশ্যাল। আপনার জন্যে। পাতিলেবু, কুঁজোর জল, ফ্রিজের বরফ, আর সামান্য বিটনুন। স্টিলের গেলাসে। পত্রপাঠ সে জিনিস ঢকঢক করে খেয়ে ফেলে গাড়িতে গিয়ে বসুন। নয়তো এই ট্রেতে সাজিয়ে রাখা মিষ্টি থেকে অতি-মিষ্টি রশ্মি বেরিয়ে আপনার বডিতে মিশে যাবে। সে এক কেলেঙ্কারি!

Sunday, March 8, 2026

অবশেষে



অবশেষে
অন্ধকার কেটেছে, ঝড় থেমেছে।

ঝগড়াবিবাদ মিটিয়ে নিয়ে সাদাসিধে মানুষের দল যে যার বাড়ি ফিরেছে।
পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফর্মার সারাই হওয়ায় তিনদিনের লোডশেডিং পর্বে ইতি টানা গেছে।

বৃষ্টি থামায় পিচ থেকে কভার সরিয়ে ডাকওয়ার্থ ল্যুইসের অঙ্কে মন দেওয়া গেছে।

সাতটা পোস্টকার্ডের খোঁচা দিয়ে একটা পেল্লায় ইনল্যান্ড লেটারি উত্তর আদায় করা গেছে।

অবশেষে
বম্বের পাড়ায় পাতে দেওয়ার মত ডিমতড়কার সন্ধান পাওয়া গেছে।

Saturday, January 3, 2026

সিধুবাবুর শালা ও ফিসফ্রাই


সিধুবাবুর সাদা মনে কাদা নেই। তাই মেজশালা পিন্টু যখন না বলেকয়ে ভরসন্ধেবেলা তাঁর ফ্ল্যাটে এসে উপস্থিত হলে, পত্রপাঠ তিনি মোহনের চপের দোকানে ফোন করে জোড়া ফিশফ্রাইয়ের অর্ডার দিলেন। পিন্টু ছেলেটা এমনিতে ফক্কর। কাজকর্মের বালাই নেই, এমএলের তাঁবেদারি করে আর ফোঁপরদালালি করে দিন গুজরান করে। যা হোক, শ্বশুরবাড়ির লোক যখন তার খাতির করাটা সিধুবাবুর কর্তব্য। সুমি বেঁচে থাকলে অবশ্য মাছভাজা খাওয়ানোর আগে পিন্টুর জামার তিনটে খোলা বোতাম দেখে খানকয়েক গাঁট্টা বসাতো। যা হোক,গাঁট্টা দেওয়ার অধিকার দিদিদের থাকে, কেঠো হাসি দেওয়া ছাড়া অসহায় জামাইবাবুদের কোনো গতি নেই।
তা এসেছিস ভালো কথা, দুটো ভালোমন্দ গল্প কর, ফিশফ্রাই খা, বিদেয় নে। তা না। ফিশফ্রাইয়ের প্লেটটার দিকে সে এমন ভাবে তাকালে যেন রিচি বেনোকে গোপালগঞ্জ বালক সঙ্ঘের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পিচ পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
"জামাইবাবু, ফিশফ্রাই আনানোর কী দরকার ছিল। আমি এলাম আপনার হালহকিকতের খবর নিতে.."
"তা বললে কি হয় ব্রাদার। না খেলে ছাড়ছি না। হে হে হে"।
"পাড়ার দোকান"?
"এই তো, বাড়ি থেকে বেরিয়ে দশ পা এগোতেই মোহনের দোকান। ভারি চমৎকার ফ্রাই করে বুঝলে হে"।
"মোহন? কোনো রিলেটিলে দেখেছি বলে তো মনে পড়ছে না। তা এ'টা কি রোডসাইড স্টল না রেস্টুরেন্ট"?
"তা ওই, ইয়ে, গুমটি চপের দোকান বলতে পারো"।
"আসলে রেস্টুরেন্ট হলে হাইজিন ব্যাপারটা একটু বেটার থাকে। তবে আই ডোন্ট মাইন্ড"।
"মোহনের চপের দোকানটা বেশি পরিষ্কার। আর হাইকোয়ালিটি। গ্যারেন্টি"।
"এ যুগে গ্যারেন্টির কোনো দাম নেই। সেই তো পাম অয়েল রিসাইকেল করে করে ডিজেল করে দেওয়া। পয়জন। পয়জন"।
"ও। তা'হলে ফিশফ্রাইটা থাক। আমি বরং দইচিড়ে মেখে আনি। কেমন? ঘরে পাতা দই বুঝলে.."।
"ইয়ে। না না। ব্যস্ত হবেন না। আমরা ইয়াং চ্যাপ। লোহাকে বিটুমেনের ব্যাটারে ভেজে দিলেও ডাইজেস্ট করে নেবো। দিন দেখি.."।
"এই যে ভায়া। সঙ্গে কাসুন্দি"।
"জামাইবাবু। এ'টা কি ভেটকি না বাসা"?
"ভেটকিই তো বলে মোহন। আমারও তাই বিশ্বাস"।
"বিশ্বাস করবেন না। আজকাল ফাইভস্টারেও ভেটকির বদলে বাসা দিচ্ছে আর এ'দিকে আপনি পাড়ার চপওলাকে বিশ্বাস করছেন। অবশ্য গড়িয়াহাটের সমরদার থেকে ভোর ছ'টায় গিয়ে যদি মাছ কিনতে পারেন আর আমার রেফারেন্স দিতে না ভোলেন, হাইক্লাস ভেটকি পাবেন। লিখে দিচ্ছি। এমএলএর মেয়ের বিয়েতে আমিই তো তিরিশ কিলো ভেটকি আনিয়ে দিলাম"।
"অ। বেশ। আমি মোহনকে বলে দেব। তা, ফ্রাইটা কি খাবে"?
"ভালো করে দেখুন জামাইবাবু"।
"কী দেখবো বলো দেখি ভাই পিন্টু"?
"ফ্রাইটার টেক্সচার দেখুন। পরতটা জাস্ট বেশি মোটা করে ফেলেছে। আপনারা হয়তো ধরতে পারবেন না। কিন্তু এ'সব ব্যাপারে আমার নজর একটু উঁচু বুঝলেন জামাইবাবু। আর ডোন্ট মাইন্ড। আমি একটু ব্রুটালি অনেস্ট এইসব কোয়ালিটির ব্যাপারে।
-"হুম"।
- "তা'ছাড়া এই যে দেখুন কাসুন্দি। গন্ধটা ভালো কিন্তু নির্ঘাৎ জল মিশিয়েছে। কনসেন্ট্রেশন এলোঝেলো হয়ে গেছে। এই এ কী..."।
- "ঢের হয়েছে"।
- "ও কী জামাইবাবু! ফিশফ্রাই কেড়ে নিলেন কেন? সবে কামড় বসাতে যাচ্ছিলাম"!
- "পিন্টু। তুমি এ ফিশফ্রাইয়ে কামড় বসানোর আগে আমি তোমার ঘাড়ে কামড় বসাবো"।
চারটে মোক্ষম গাঁট্টাসহ পিন্টুকে বিদেয় করতে পেরে সিধুবাবু বড় আনন্দলাভ করলেন। তা'ছাড়া শালাকে চিল্লিয়ে শালা বলে ডাকার মধ্যে যে এত তৃপ্তি আছে সে'কথা তিনি এর আগে টের পাননি। এরপর জোড়া ফিশফ্রাই নিয়ে যখন ভদ্রলোক ডাইনিংটেবিলে বসলেন, সন্ধেটা ঝলমল করে উঠলো।

Wednesday, December 31, 2025

যা কিছু আগুন

এ কফি ভালোই, তবে এর ৮০% দাম যায় দ্যাখনদারিতে।

শীতের বিয়েবাড়ির মেশিন থেকে জগঝম্প আওয়াজ তুলে যে কফি বেরিয়ে 'নেসকাপে' লেখা লাল-সাদা কাপে এসে পড়ে; সে'টাই হলো আসল আগুন। তার মধ্যে যে মেজাজ - সে'টা অতুলনীয়। মহাভারতের মহারথীরা সে'ধরণের কিছুতে চুমুক দিয়েই বোধ হয় মারকাটারি যুদ্ধে যেতেন।

মুখোমুখি বসিবার



পকেটে শ'দেড়েক টাকা। অথচ ডেটে ঘ্যামের ঘাটতি হলে চলবে না।  নিশ্চিন্তে মুখোমুখি বসার টেবিল থাকতে হবে। গল্প জমে আড্ডা হবে, চল্লিশ মিনিট কেটে যাবে চার সেকেন্ডেরও কম সময়ে। আর সে গল্প-আড্ডার পাশেপাশে স্বাদে কাটতি হলেও চলবে না।

অতএব; নরম হাতরুটি, টানটান ঝালনুনের ডিমতরকা। ফাউ পেঁয়াজ-লঙ্কা-বিটনুনের অভাব থাকবে না। 

আর মনের আড়ালে বসে থাকা কবি আওয়াজ দেবেন, "কেমন ভাইটু, ভালোবাসা ফ্লো করছে তো"?

অসোয়েটারের দেশে



বম্বেতে শীত পড়ে না। একটা বেয়াড়া রকমের ঢ্যাঙা গাছের মগডালে বসে সেই বোম্বাইয়া শীত পা দোলায় আর নীচের দিকে তাকিয়ে কপালের ঘাম মুছতে থাকে মানুষদেরকে মুখ ভ্যাঙায়।

এই অসোয়েটারের দেশের বেয়াদপ শীতকে তাই মাঝেমধ্যে নামানোর চেষ্টা করতে হয়। আর সে শীতব্যাটার ঠ্যাংজোড়া ধরে ঝুলে পড়ার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো গিয়ে কড়াইশুঁটির কচুরি। এ কচুরি মিনিমাম ছ'পেগ, আলুর দমের চাখনা দিয়ে খাওয়াটাই নিয়ম; অন্তত আদত মাতালরা শুনেছি তেমনটাই বলে থাকেন।

গ্রাসেক্সেলেন্স



অফিস-বিষয়ক জরুরী ব্যাপার। লিঙ্কডইনে লেখার কথা ছিলো, আলসেমিতে এইখানেই রাখলাম।

অফিস ক্যান্টিনের বিরিয়ানির কোয়ালিটি গত দু'মাসে বেশ ইম্প্রুভ করেছে (বম্বের নিরিখে, পিওরিটির দিক দিয়ে বিচার করে হাহুতাশ করে লাভ নেই)।

হপ্তায় একবার সে বিরিয়ানি হচ্ছে আর সুমিতবাবু যত্ন করে তা টেবিলে সাজিয়ে রেখে যাচ্ছে।

মোদ্দা কথা হলো মোটিভেশন তুঙ্গে।
ওয়ার্কপ্লেস ডিলাইট দুদ্দাড় করে বেড়ে চলেছে।
প্রতি গ্রাসে এক্সেলেন্স।

শাসমলবাবু ও বম্বের আমেজ


- হ্যালো, শাসমলদা!
- আরে দত্ত যে। কদ্দিন পর ফোন করলে। তা তোমরা আছ কেমন সব কলকাতায়?
- এই চলে যাচ্ছে দাদা। আমাদের আবার থাকা আর না থাকা। আপনি বরং বম্বের খবরটবর বলুন..।
- বম্বে মানেই তো হাইভোল্টেজ অ্যাকশনের জায়গা ভায়া। ওই, হ্যাপেনিং যাকে বলে। এ তো আর ক্যালক্যাটা পাওনি যে সময় থমকে থাকবে। এ'খানে সময়ের দাম আছে।
- সে তো বটেই৷ তা ও'দিকে এখন ওয়েদার কেমন শাসমলদা? শীতটীত পড়েছে কি?
- শ..শী..শীত...ইয়ে মানে। বাতাসে একটা প্লেজ্যান্ট ইয়ে আছে কিন্তু। রাতে ফ্যানের স্পীড কমিয়ে দিতে হচ্ছে।
- বাহ্‌। বিউটিফুল। ওটাই আইডিয়াল বুঝলেন। এ'বার আবার কলকাতায় বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে। এই দেখুন না এখনও শালমুড়ি দিয়ে বসে। এ'সব আবার বাড়াবাড়ি। বম্বের টেম্পারেচার ব্যালেন্সটা বেশ ঈর্ষনীয়।
- যাকেগ বাদ দাও সে'সব কথা। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের যুগে আবার শীত কীসে।
- এটা একদম মোক্ষম কথা বলেছেন। এ শীত আজ আছে কাল নেই। এর আবার কী ভ্যালু। ফালতু যত জয়নগরের মোয়া বিক্রির মার্কেটিং গিমিক আর কী।
- অ। মোয়া উঠেছে বাজারে?
- আরে বেশিরভাগই ফ্রড। তবে বাধ্য হয়ে খুঁজেপেতে দু'এক বাক্স মাঝেমধ্যে আনছি। ওই, হুজুগ আর কী। তবে কলকাতার আর কিছু হওয়ার নয় কিন্তু বুঝলেন। ও'দিকে বম্বের যে একটা আমেজ..।
- ঠিক। ঠিক বলেছো দত্ত। আমেজ। একবারে আসো দেখি এ'দিকে। দেখে যাও আরবসাগরের চার্ম কাকে বলে।
- যাবো। নিশ্চয়ই যাবো। শুধু নলেনের সিজনটা কেটে যাক। বোঝেনই তো, আজকাল জেনুইন নলেনের উইন্ডো এত শর্ট। কলকাতা জাস্ট গোল্লায় গেছে। মাস দেড়েকের বেশ হাইকোয়ালিটি গুড়ের সন্দেশ আর রসগোল্লা পাওয়ার উপায় নেই। জাস্ট ফালতু জায়গা।
- নলেন৷ রসগোল্লা। হুম৷
- ও কী। কিছু ভাবতে বসলেন নাকি?
- না না। আমার আজকাল মিষ্টি তেমন পোষায় না বুঝলে। হেলথের ব্যাপারে একটু নজর দিচ্ছি কিনা।
- হক কথা। মিষ্টি তো নয়। বিষ বিষ। আমার গিন্নীর আবার এই এক রোগ বুঝলেন শাসমলদা। সোয়েটার ট্রাঙ্ক থেকে বেরোতে না বেরোতেই পিঠেপুলির বাই। আরে বাবা ঠাণ্ডা পড়েছে আর গুড়ের সাপ্লাই আছে মানেই কি সাপের পাঁচ পা দেখতে হবে নাকি? ডায়াবেটিস হলে কে দেখবে?
- দত্ত। তোমার সঙ্গে বাজে গল্পের সময় আমার নেই। কাজকর্ম নেই নাকি তোমার? অত খেজুরের সময় পাও কী করে? ফোন রাখো তো। যত সময় নষ্ট। এ'টা আমার এখন বড়াপাও খাওয়ার সময়। তুমি ফোন রাখো।
- ওহ। বড্ড হিংসে হচ্ছে শাসমলদা। কোথায় আপনার সেই ফ্যান্টাস্টিক বড়াপাও। আর কোথায় আমার সামনের এই বাটিতে রাখা সমরদার মিষ্টির দোকানের একজোড়া ফুলকপির শিঙাড়া। নাহ, মুখটা বিস্বাদ হয়ে গেলো।
- ব্যাটাচ্ছেলে দত্ত! তোমায় আমি জুতোপেটা করবো!

পাওয়ার ফুড


লারেলাপ্পা খাবারদাবারে ভেসে না গিয়ে পাওয়ার-ফুড চিনতে শিখুন।

মনে রাখবেন:
সক্রেটিস বলে গেছেন যে ভালো ডিমভাজার সাপ্লাই থাকলে মানুষের পক্ষে টুথপিক দিয়ে পাহাড় থেঁতো করা সম্ভব।
আর সান জু'র সেই মহান বাণী তো আর সহজে ভোলার নয়, "আলুভাজার মুচমুচ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত"।
অতএব এই কম্বিনেশনকে হেলাফেলা করবেন না। অন্তত শাস্ত্রে তেমনটাই বলা আছে।

কুমড়োর স্যুপ


কুমড়োর একটা স্পেসিফিক জাতের ছক্কা আছে যে'টা লুচির সঙ্গে বিউটিফুলি খাপ খায়। ওই একটি পদ বাদে রান্নায় কুমড়ো দেখলে আমি মুখ ভেটকে দিতে অভ্যস্ত। অতএব এই পরিস্থিতিতে যখন ওয়েটারভাইটি বললে যে মেনুতে লেমন-গার্লিক স্যুপের পাশাপাশি পাম্পকিন ক্রীম স্যুপ রয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই তির্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাঁকে বিব্রত করতে চাইলাম। কিন্তু সে বেশ জোর গলায় দাবী করলে যে এই কুমড়োর স্যুপ খেলে আমায় ঘায়েল হতেই হবে।

ভাইটির দাবীটা পত্রপাঠ উড়িয়ে দিলে তাঁর মনে আঁচড় কাটা হহবে। অতএব বললাম, "বেশ তো, লাইয়ে কুমড়া কা স্যুপ"। কুমড়া কা স্যুপ শুনে সে সাহেবি ওয়েটারটি সামান্য কেঁপে উঠলে; নরম সুরে শুধরে দিয়ে ঘোষণা করলে "পাম্পকিন ক্রীম স্যুপ, উইল সার্ভ স্যর"।

স্যুপ এলো।
স্যুপ-চামচে চুমুক হলো।
বিশ্বাস করুন, মিনিট চারেকের মাথায় ওয়েটারভাইটিকে বলতে হলো, "আউর এক বাউল কুমড়া কা স্যুউপ প্লীজ"।
ভাইটির মুখে তখন যুদ্ধজয়ের হাসি।
কুমড়োর প্রতি; অহো।

বড় হয়ে



সবার সঙ্গে সহজে মিশবো;
চটুল চুটকিতে থাকবো,
দু'লাইন পদ্যে থাকবো,
গুনগুন গানেও ঝুলে পড়বো।

সমস্ত আসর আলো আলো ভবে জমিয়ে দেবো;
হাহাহোহোতে মিলেমিশে হন্যে হবো,
হাহাকারে জুড়ে গিয়ে গজল হবো।
ভাঙা প্রেমে বোরোলিন হবো,
ক্লান্তি ওড়ানো আড্ডায় রফি।

বড় হয়ে চিলি চিকেন ড্রাই হবো।
কেমন?

Thursday, December 4, 2025

দেখা হ্যায় পেহলি বার


এ ছবিটা ঢাকুরিয়ায় তোলা। অফিস-ঘেঁষা চায়ের দোকানে। দোকানি দাদাটির বড় গুণ ছিল যে তার মধ্যে ছিঁটেফোঁটাও তাড়াহুড়ো ছিলো না। ডিমটা ফাটাতেন ধীরেসুস্থে। পাউরুটি ফালি করতেন মিহিমেজাজে। অফিসটাইমের দৌড়ঝাঁপ অথবা খদ্দেরদের ব্যস্ততা তাকে স্পর্শ করতে পারতো না।

তেল সঠিক লেভেলে গরম না হলে চাটুতে ডিম পড়তো না। স্টোভের আঁচ গনগনে রাখতেন না ডিম ভাজার সময়, কড়া তাপে ডিমের সেনসিটিভিটি ম্যানেজ দেওয়া যায় না। পাউরুটির গায়ের ডিম নির্ভুল লালে পৌঁছনো পর্যন্ত তিনিও চাটুর দিকে দেখছেন আর্টিস্টের মেজাজে, আমিও চাটুর দিকে চেয়ে আছি ভক্তের চোখ নিয়ে। তারপর সে ডিমপাউরুটি তুলে নেওয়া হবে পরিষ্কার প্লেটে, ছড়িয়ে দেওয়া হবে সামান্য মশলা ও নুন। সামান্যই; সে'টাই হলো ব্যালেন্স।

সকাল-সকাল অমন ভালো ডিমপাউরুটি পাতে পেলে যাবতীয় দায় বুকপকেটে নিয়েও অনায়াসে বিশ্বজয় করা যায়।

কাঁচালঙ্কায় কেল্লাফতে


কাঁচালঙ্কা এমন একটা ভালো ব্যাপার যে বুঝেসুঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে হাইক্লাস কেল্লাফতে হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই যেমন ইন্সট্যান্ট নুডলস; তা সে ব্যাপারটা আজকাল মোটের ওপর কমই খাই। কিন্তু যখন খাই, তখন কাঁচালঙ্কার দরাজ ব্যবহারটা খুবই প্রয়োজনীয় বোধ হয়।

আজকাল আবার নতুন স্ট্র্যাটেজি ধরেছি। এক প্যাকেট ম্যাগি খাই ডবল মশলা (টেস্টমেকার) দিয়ে। অতএব পরের প্যাকেটটা খাই মশলা ছাড়া (চাউমিন স্টাইলে)। তা ডবল টেস্টমেকার দিয়ে সিঙ্গল ম্যাগির ক্ষেত্রে কয়েকটা ব্যাপার আমায় মাথায় রাখতে হয়ঃ

প্রথমত, সেদ্ধ ব্যাপারটা বেশির দিকে যাওয়ার থেকে কমের দিকে থাকা ভালো। আর জল অতি সামান্য, সুতোগুলো অতি সামান্য নরম করে নেওয়ার জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়েও সামান্য কম।

দ্বিতীয়ত, মাখনের পরিমিত ব্যবহার। তাল তাল নয়, প্লীজ। পরিমিত মানে কতটা? বলাই বাহুল্য আমার হিসেব আপনার হিসেবের সঙ্গে মিলবে না।

তৃতীয়ত, ওই। কড়াই থেকে তুলে নেওয়ার আগে ম্যাগিতে ফেলে দেওয়া খান চারেক পেট চিরে দেওয়া কাঁচালঙ্কা। কুচিকুচির চেয়ে দেখেছি ম্যাগির মধ্যে এই পেট চেরা গোটা লঙ্কারা বেশি এফেক্টিভ।

এই ব্যাপারগুলো দোকানের কেনা ম্যাগিতে কিছুতেই পাওয়া যায় না। চীজটীজ ক্যাপসিকাম-ট্যাপসিকাম হাজাররকম জিনিস গুঁজে দেওয়াই যায়, কিন্তু ইনস্ট্যান্ট নুডসল ব্যাপারটাই হচ্ছে সহজ অঙ্কে এগিয়ে যাওয়ার খেল। কোনো রকমের বাড়াবাড়ি সে'খানে চলবেনা। অতএব পাহাড়ে গেলেও, ম্যাগির দোকান নয়; ম্যাগির প্যাকেট হাতে স্টোভ খুঁজে হন্যে হতে হয়।

পুজো ও বম্বে


মুম্বইয়ের এই জমজমাট পুজো মণ্ডপ ঘুরে খাওয়াদাওয়ার অঞ্চলে পৌঁছে মনে হলো পুজো এ'বারে পুরোদমে শুরু।

কলকাতাইয়া ফুচকার দোকানের সামনে হইহই রইরই। ফুচকাদাদা কুপনের দু'প্লেট দেওয়া শেষ করে শুকনো ফাউ গোছাতে শুরু করেছেন, আর খাইয়েজ্যেঠু কটমট করে তাকিয়ে বলছেন, "আমি কি আপনাকে থামতে বলেছি"? ফুচকাব্রাদার আমতাআমতা করে বললেন "দু'প্লেটের পেমেন্ট ছিলো যে"। সপাটে উত্তর "কই স্ক্যানার, দিন প্রিপেড রিচার্জ করি, আপনি চালিয়ে যান"।

বিজলিগ্রিলের স্টলের সামনে আর্তনাদ, "বিরিয়ানি শেষ? ও'ভাবে বলবেন না প্লীজ"।
"ও মা, আর কী'ভাবে বলবো"।
"দেখুন না কুড়িয়ে-বাড়িয়ে যদি.."।
"বিশ্বাস করুন স্যার। শেষ"।
"এ'বারে কী হবে"?
সে মহাজাগতিক "কী হবে"র উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা দেবতাদেরও নেই।

হ্যাংলার স্টলে অজস্র মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। প্রতি মিনিটে অন্তত সতেরো রকমের রোলের অর্ডার অবলীলায় টুকে নিচ্ছেন কূপন কাটা দিদিভাই। দিদিভাইয়ের সাতজন সাগরেদ রোল ফিশফ্রাই চপ ভেজেই চলেছেন। এর মাঝে গোবেচারা কারুর হাতে দোকানের এক কর্মচারী শশব্যস্তভাবে ধরিয়ে দিলে রোল।

"এ'টা এগচিকেন রোল যে", বেশ নির্লিপ্তভাবে বললেন খদ্দেরটি।
"আপনি কোনটা বলেছিলেন"?
"মটন রোল"।
"সরি। এ'দিকে দিন। আমি আপনারটা..ও কী! কামড় দিলেন যে"।
"মটনরোল না আসা পর্যন্ত সামান্য মুখ চালানো যাবে আর কী। দিন স্ক্যানারটা দিন"।

একটা নিরামিষ দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক অল্পবয়সী ছোকরার হাত টেনে ধরলেন তার কাকা-জ্যাঠা গোছের এক মুরুব্বি, "ডোন্ট গো দেয়ার। ওরা কাঁঠাল বিরিয়ানি বিক্রি করছে। নিজেকে কন্টামিনেট কোরো না"।

ঘণ্টাদেড়েক পর রোল, ফুচকা, ফিশকবিরাজি আর থামসআপ সাঁটিয়ে যখন প্যান্ডেল চত্বর থেকে বেরোলাম, মন, প্রাণ ও জিভ ততক্ষণে সপ্তমী আলোয় পরিপূর্ণ।

গ্র্যান্ড মুড়িমাখা


মুড়ি মাখার সময় দেখে নেওয়া দরকার রান্নাঘরে যে কোনো ফরম্যাটের আলুভাজা পড়ে আছে কিনা। এ'টা বোধ হয় সিভিক সেন্সের পর্যায় পড়ে।

কী পরিমাণে আলু দিতে হবে? যতক্ষণ না মনে হচ্ছে মুড়িতে আলুর বদলে এ'বারে আলুতে মুড়িমাখা শুরু হবে। সহজ ফর্মুলা। এ'গুলো আলাদা করে তো আর সিলেবাসে লিখে রাখার কথা নয়।

আফটার অল; গোলাপে সুবাস, কফিহাউসে দাঁতখিঁচুনি, বিজয়ার পরের দিন গা ম্যাজম্যাজ আর মুড়িমাখায় আলুভাজা; এ'গুলো ধ্রুবসত্যের পর্যায় পড়ে।

ধৈর্য্য


ডিম পাউরুটি যিনি বানাচ্ছেন, তাঁকে অযথা তাড়া দিয়ে ব্যস্ত করবেন না প্লীজ। বাস-ট্রেন মিস হওয়ার ভয় থাকল হয় ডিমরুটির লোভ ত্যাগ করুন নয়তো পরের ট্রেন কখন আছে সে খোঁজ নিন। যদি কাস্টোমাইজ করাতে হয়, যত্ন করে প্রথমেই বুঝিয়ে দিন। বার বার ঘ্যানঘ্যান করলে ভালো ডিমরুটি স্পেশ্যালিস্টের পারফরম্যান্স পড়ে যায়। আর তাঁর হাত কাঁচা হয়, তা'হলে শত ইন্সট্রাকশনেও কিছু হওয়ার নয়।

মোট কথা অপেক্ষা করুন, অবজার্ভ করুন। ভুললে চলবে না; আপনার ধৈর্য্যও ডিমরুটির একটি জরুরী উপকরণ।


খাবারদাবারের গপ্পগুজব


খাবারদাবার নিয়ে আমাদের আদেখলাপনার পিছনে যেমন আহ্লাদ বা ক্ষেত্রবিশেষে দম্ভ রয়েছে; তেমনি আছে অবসাদ, মনখারাপ, স্নেহ, আকুতি কিংবা ভালোবাসার গল্প।

"এই দ্যাখো আমি গোটাদিনের যাবতীয় ভুলভ্রান্তি বকাঝকা টেনশন উড়িয়ে দিয়ে গেরস্তালির হিসেবনিকেশ হেলায় সামাল দিচ্ছি"; এমনটা বলে তো আর সিংহনাদ করা যায় না। বাধ্য হয়ে বলতে হয় "যা ফ্যান্টাস্টিক ফুলুরি ভেজেছি না...এক্কেবারে মার্ভেলাস"।

"কত কী করার ছিল হে, কিস্যুই হলো না", সে কথা বলে বারবার নাকিকান্না জুড়লে চলবে কেন? বলতে হবে "আরে কড়াপাকের সন্দেশ দুনিয়ায় থাকতে আমি কারুর তোয়াক্কা কেন করবো"! সবাই তো আর কবি নয় প্রেমভালোবাসার অঙ্ক দেখলেই পদ্যের ক্যালকুলেটর খুলে লিলি বোস লিখে সবাইকে চমকে দেবে। তাকে চাপা দু:সাহস নিয়ে বলতে হবে, "ভুজঙ্গদার সেঁকা ভুট্টায় যে কী ম্যাজিক আছে, না খেলে অ্যাপ্রিশিয়েট করা যাবে না। আর তার ওপর একটা লঙ্কাগুঁড়ো মেশানো লবন যা ছড়িয়ে দেয় মাপা হাতে। সে গুরুদেব ব্যাপার বুঝলে..."।

অথচ।
ফুলুরি বিজ্ঞান বুঝে কি কেউ দুনিয়া উদ্ধার করে ফেলেছে?
কড়াপাকের সন্দেশ নিয়ে লিখে কে কবে কেল্লাফতে করেছে?
ভুজঙ্গদা কী এমন হরিদাস পাল আর কে কবে ভুট্টা দিয়ে রাজ্যজয় করেছে?

বলাই বাহুল্য যে সে সমস্ত আস্ফালনই দ্যাখনাই। কিন্তু সাবধানে ঢেকে রাখা "আহা উঁহু ওহো"গুলো, যে'গুলো স্রেফ ভাষা ও মেধার অভাবে বুকের মধ্যে দলাপাকানো অবস্থায় নষ্ট হচ্ছিল, তারাই সেজেগুজে বেরিয়ে আসে খাবারের আলোচনা হয়ে। যতবার মানুষ খাবার নিয়ে হ্যাহ্যা করে মোটাদাগের গপ্প ফাঁদে, ততবার সে প্রমেথিউসকে অগোচরেই "থ্যাঙ্কিউ স্যার" বলে। কাজেই খাবার বিষয়ক কোনো হইহইই ব্যর্থ নয়।

নোট:
১। আজ যথারীতি বম্বের একঘেয়ে বৃষ্টিতে জেরবার ও মুগ্ধ হয়েছি।
২। ছিল রাস্তাঘেঁষা দোকানের কয়লার গনগনে আঁচ এবং ঝলসানো মুর্গি।
৩। রুমালিও যে ছিল সে'টা বলার দরকার নেই।

Sunday, June 1, 2025

কাবাববন্ধুর প্রতি



কাবাবওলার সঙ্গে গলায়-গলায় দোস্তি নির্মলবাবু্র। কাবাবের দোকানটা নির্মলবাবুর বাড়ি থেকে হেঁটে বড়জোর দেড়-মিনিট, রাস্তার ধারের ছোট্ট ঠেলা বই তো নয়। কিন্তু কাবাবদাদাটি বড় দরদী। আগুনে নির্মমভাবে মাংস পুড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে গাম্বাটপনা আছে, কাবাব শিল্প নেই; সে'কথাটা নির্মলবাবুকে আত্মস্থ করিয়েছেন এই কাবাবকবিই।

সন্ধে থেকে রাত দশটা পর্যন্ত সে ঠেলার চারপাশে বড্ড ভিড়। ব্যাচেলর মধ্যবয়স্ক নির্মল সাহা হপ্তায় অন্তত বার দুয়েক সে দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ান তবে রাত এগারোটা নাগাদ। বাড়াবাড়ি ভিড়ে কাবাবের কদর করতে পারেন না ভদ্রলোক। নির্মলবাবু এমনিতে রাত আটটায় ডিনার সেরে নেন, তবে কাবাবের ম্যাজিক বুঝতে মোটাদাগের পেটের খিদে নয়, দরকার রসিক মনের চনমন। এ সত্যটাও কাবাবিস্ট-ভাইটির থেকেই শেখা।

আজ বাতাসে মৃদু বৃষ্টির আভাস ছিলো। মাঝেমাঝে দু'চার ফোঁটা গায়ে এসে পড়ছিলোও বটে। তা'তে আগুন নেভার নয়, তবে হাওয়ায় সামান্য ছ্যাঁত যোগ হচ্ছিল বটে। নির্মলবাবু একটা ফ্লাস্কে চা নিয়ে আসেন, দু'টো প্লাস্টিকের কাপ। এক কাপ কাবাবনবাবকে ধরিয়ে নিজে এক কাপ ঢেলে দোকানের সামনের বেঞ্চিতে বসেন। এ'টাই নিয়মে দাঁড়িয়েছে।

- নির্মলবাবু, আজ চায়ের পাতা নতুন মনে হচ্ছে?
- ঠিক ধরেছ হে। নিউমার্কেট থেকে নতুন আমদানি।
- ভারি মোলায়েম। বহুত খুব।
- আকাশ দেখেছ? আজ রাতে ঢালবে, জানো।
- গরমটা একটু কমবে বটে তা'তে। আপনার শিক দু'টো রেডি। এক মিনিট দিন, ফ্রেশ পেঁয়াজ কুচিয়ে দিই।

নির্মলবাবুর স্নেহ অনুভব করেন। পোড়া কয়লার উষ্ণতা গায়ে এসে ঠেকে। কানে আসে কাবাবক্যাপ্টেনের পেঁয়াজ কুচোনোর মিহি শব্দ। নির্মলবাবুর বিশ্বাস প্রতিবার কাবাবগুরু তাঁর জন্য একটু বাড়তি ভালোবাসা নিয়ে মাংস ঝলসান, পেঁয়াজ কুচোন, আর প্লেট সাজিয়ে দেন। আসল স্বাদটুকু বোধ হয় সে বিশ্বাসেই। নির্মলবাবু টের পান যে এই ঘিঞ্জি শহরে তিনি একা নন।

কাবাববন্ধুর প্রতি মনে মনে বিগলিত সেলাম ঠুকে এই শনিবারের শেষ চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিলেন নির্মলবাবু।