নীলুবাবুর সে কী জেল্লা তুমি যদি দেখতে। ফিনফিনে আদ্দির পাঞ্জাবি, তকতকে গালে ওল্ডস্পাইসের মিঠে সুবাস। কবজির চামড়ার ব্যান্ড সাদা ডায়্যালের ঘড়িটা সস্তা হলেও রুচিশীল; ভদ্রলোকের কবজি ও ব্যক্তিত্ব আলো করে রেখেছে যেন৷ বুক পকেটে শৌখিন ফাউন্টেন পেন। মুখে স্মিত হাসি যার জেল্লা সহজেই মাত দিয়েছে ঠোঁটের মিঠে পান চেবানো মোলায়েম লালকে। সন্ধেয় শ্যাম্পু করে বেরিয়েছেন অতএব নরম চুল ফুরফুরে ঠিক তার মেজাজের মতই।
ট্যাক্সিওলাকে একটা রহিসি টিপ দিয়ে আঙুলের হাওয়া-সেলামে টাটা বলে দুলকি চালে গিয়ে ঢুকলেন পেল্লায় বাড়িটায়। সাতপুরনো কোল্যাপ্সিবল গেটওলা লিফট ঠেঙিয়ে সোজা উঠলেন সাত তলায়। অবাঙালি লিফটম্যান দরজা খুলে দিতে ধারালো মেজাজে একটা বাইশ ক্যারেটের "শুক্রিয়া" বলে বেরিয়ে এলেন। সাতশো সাত নম্বর ফ্ল্যাটে বেল বাজালেন। মুখের হাসিটা তখন উজ্জ্বলতর।
বেরিয়ে এলো সোমা।
- নীলু, আজ আমার মন ভালো নেই। তুমি আজ এসো।
- ওহ, তাই কী? মনের সমস্যা? শিঙাড়া নিয়ে আসি? তোমার ফ্ল্যাটের নীচেই যে ভদ্রলোক চপ শিঙাড়া ভাজেন তার সঙ্গে গেলবার চমৎকার আলাপ জমিয়ে গেছি..।
- প্লীজ নীলু। তোমার মত আনন্দ-উল্লাস আমার জীবনে নেই। আর ঝামেলা যা আছে তা শিঙাড়ায় দূর হওয়ার নয়। প্লীজ৷ কিছু মনে কোরো না, আজ তোমায় কিছুতেই ভিতরে ডাকতে পারছি না।
- ওহ আই সী। নোউ প্রব্লেম সোমা। বাবলুকে একবার ডেকে দেবে? এই ফ্যান্টাসটিক গল্পের বইটা গতকাল কলেজ স্ট্রিটে দত্তর দোকানে জাস্ট জলের দরে পেলাম৷ টুক করে তাই...।
- দাও। আমি দিয়ে দেব।
- ওহ, শ্যিওর। মৌস্ট কাইন্ড অফ ইউ। তা'হলে আজ আমি..।
- নীলু। কোর্ট স্পষ্ট বলেছে। মাসে একবার বাবলুর সঙ্গে..একবার মাসে। প্রতি হপ্তায় নয়। এত বছরের ভুল হঠাৎ বইয়ে শিঙাড়ায় কাটে নীলু?
- অফ কৌর্স। অফ কৌর্স। কোর্টের ইন্সট্রাকশনের ব্যাপারে আমি কিন্তু জেনুইনলি সিরিয়াস। অলরাইট দেন...শিঙাড়া তা'হলে বরং পোস্টপোন করি।
- এসো আজ।
***
মুশকিল হল চাকরি না থাকার ব্যাপারটা সোমাকে বলা হলো না। অবশ্য সোমার করার কিছু নেই এই বিষয়ে। সুলভে ঢুকে চোখ মুখ ভালো করে ধুয়ে বেরিয়ে এলেন নীলুবাবু। চোখের লাল ভাবটা জলে দেওয়া যায় না৷ তা'ছাড়া নিজের হাবিজাবি দু:খ নিয়ে নিজের কাছে ঘ্যানঘ্যান করতে হলে ফুলকপির শিঙাড়ায় কাজ হবে না। সস্তা, পুষ্টিকর ও চোখের লালে লাল মার্কা সলিউশন চাই। "থ্যাঙ্ক গউড এ অঞ্চলের সবচেয়ে সস্তা পানশালার ম্যানেজারটির সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছি ক'দিন আগেই"। নিজের একপেশে হাসিটা হেসে বুকপকেট থেকে একটা মশলার কৌটো বের করে দু'চারটে এলাচদানা মুখে ফেলে একটা রোম্যান্টিক ফিল্মি গান ধরলেন নীলুবাবু।