- গাঁয়ের মিষ্টির দোকান স্যার। ও'সব জিনিস এখানে বিক্রি হয় না।
- আই সী।
- আর বলেন কেন। সে'দিন মন্টু হালদার দোকানের ওপর সে কী বিশ্রি তম্বি করে গেল। কী? না দানাদারটা নাকি যথেষ্ট মিঠে হয় নি, ভাবুন দেখি অবস্থাটা। কাজেই শুগারফ্রি মিষ্টি চাইলে আপনাকে টোটো বা সতেরো নম্বর বাসে উঠে পড়ে সোজা যেতে হবে টাউনে। সে'খানে রয়েছে অরবিন্দ সুইটস। সে'খানে আপনি ও'সব ফ্যাশনে মিষ্টি পেলেও পেতে পারেন।
- ভারি সমস্যায় পড়া গেল। এনিওয়ে, আপনাদের এ'খানে কম মিষ্টি দেওয়া আইটেম কিছু আছে কি?
- শিঙাড়া আছে। নিমকি আছে। তারপর গিয়ে ধরুন এই সন্ধে নামলে আলুরচপ ভাজা হবে।
- মিষ্টির কথা বলছি যে। শুগারফ্রি।
- আমাদের এ'খানে সব মিষ্টিই এক্কেবারে চাবুক মিষ্টি বুঝলেন কি না। তা, আপনি বোধ হয় এ'দিকে ঘুরতে এসেছেন?
- আমি যাচ্ছি বর্ধমান। ওই সামনের ওই গাড়িটা আমার। লাঞ্চ সঙ্গেই এনেছিলাম। শুধু খাওয়ার পরে একটা মিষ্টি না হলে আমার চলে না। কিন্তু আমি আবার প্রি-ডায়বেটিক কিনা, শুগারফ্রি মিষ্টি না হলে...।
- নাহ্। ও জিনিস এ'খানে পাবেন বলে মনে হয় না। একটা রসগোল্লা বরং খেয়েই নিন।
- খেয়ে নেব?
- নিন না। গাঁয়ের রসগোল্লা, শহরের ওই ঘেসো স্পঞ্জ মাল নয়। জিভে লেগে থাকবে। আজ খাবেন, সামনের মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সে স্বাদ জিভে লেগে থাকবে।
- না, থাক।
- এই যে কড়াকড়ি, ডাক্তারের নির্দেশ না গিন্নির? কী মশাই? হে হে হে হে...।
- আমার গিন্নিই যে ডাক্তার।
- ও। না স্যার। আমার দোকানের মিষ্টি আপনি খেতে যাবেন না। এ হচ্ছে মন্টু হালদারের গাঁয়ের দোকান, এ মিষ্টির ওজন আপনার রক্ত বইতে পারবে না।
- ইয়ে, ডায়েট কোক আছে?
- ডায়েট? কোক?
- নেই, না?
- লেবু সরবত খাবেন?
- লাইম সোডা? সল্টেড প্লীজ। নো শুগার। পেপার স্ট্র না থাকলে এমনিই দেবেন। প্লাস্টিকের স্ট্র ব্যাপারটা অ্যাভয়েড করছি আজকাল।
- দাদা, আপনি এ'দিকে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না। এ গাঁয়ের জলবাতাসে আপনার শুগারকে চাগিয়ে দেবে। তবে ইয়ে, লেবুজলটা আমিই বানাবো। স্পেশ্যাল। আপনার জন্যে। পাতিলেবু, কুঁজোর জল, ফ্রিজের বরফ, আর সামান্য বিটনুন। স্টিলের গেলাসে। পত্রপাঠ সে জিনিস ঢকঢক করে খেয়ে ফেলে গাড়িতে গিয়ে বসুন। নয়তো এই ট্রেতে সাজিয়ে রাখা মিষ্টি থেকে অতি-মিষ্টি রশ্মি বেরিয়ে আপনার বডিতে মিশে যাবে। সে এক কেলেঙ্কারি!
No comments:
Post a Comment