Monday, March 16, 2026

শুরু

- হ্যান্ডস আপ! আমার পকেটে রিভলভার আছে। কোনোরকম চালাকি করলেই পকেট থেকে বের করে গুড়ুম!

- আমোলোযা! পকেটে বন্দুক রেখে হ্যান্ডস আপ বলতে নেই, তাক করে বলতে হয়..!

- ওহ, তাই কি?

- আলবাত। সিনেমায় দেখোনি?

- তবু। হ্যান্ডস আপ করুন না প্লিজ।

- সর্বনাশ! এ লাইনে এসে "প্লিজ"? ভাই। তুমি আজ এসো। আমিও এগোই, সোয়া বারোটার লোকালটা পেয়ে যেতে পারি। আর পারলে কাল থেকে সল্টেড বাদাম বিক্রিতে নেমে পড়ো। রাহাজানিতে ফিউচার নেই তোমার।

- ইয়ে, আমার পকেটে কোনো বন্দুক নেই। জানেন। 

- আঁচ করেছিলাম। ওই নেলাবোলা রিস্ট নিয়ে পিস্তল চালানো সহজ না।

- পঞ্চাশটা টাকা দেবেন?

- না।

- কুড়ি?

- তোমার দ্বারা দেখছি বাদাম বিক্রিও হবে না।

- সরি। কিছু মনে করবেন না। আসলে প্রথম অ্যাটেম্পটেই একদম খালি হাতে ফিরব..সে'টা ভেবে একটু দমে যাচ্ছি। এমনিতে কিছু টাকা পয়সা আমার কাছে আছে। মানে, আমি বেগ করছি ভাববেন না। 

- আই সী। বেশ। এই নাও, একশো টাকা। আর শোনো, আপাতত রিভলবার যেহেতু নেই; একটা ছোরা রাখলেই পারো তো।

- থ্যাঙ্কিউ, থ্যাঙ্কিউ দাদা।

- তুমি আমায় নিতাইদা বলে ডাকবে। আমার মন বলছে আবার দেখা হবে। 

- আমার নাম..।

- যদ্দিন লাইনে আছ, কাউকে নিজের নাম বলতে যেও না। কেমন?


**

নিতাইবাবু আজ রিটায়ার করলেন। বাহান্ন বছরের কেরিয়ারে শেষ মক্কেলের পকেট কেটে মাত্র একশো সত্তর টাকা পাওয়া গেছিল। তা থেকে আবার একশো ফেরতও দিতে হলো। তবে ব্যাপারটা বেশ ভালোই লেগেছে। ছেলেটি সরলমতি, নিতাইবাবুর ভালো লেগেছে তাকে। সে ব্যাটাকে সামান্য কোচিং দিলে একটা জীবন পাল্টে যেতে পারে। এখন তো এমনিতেই অখণ্ড অবসর।

এ লাইনে নেমে নিতাইবাবু চিরকাল শুধু নিয়েই গেছেন, কিন্তু আজ সামান্য একশো টাকা দিয়ে বেশ অন্যরকম ভালো লাগলো। এ'বার কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার সময়। কোচিং ক্লাসটা খুলে ফেললেই হয়। ট্রেনের জানালার গ্রিলে মাথা ঠেকিয়ে পরম তৃপ্তিতে চোখ বুজলেন নিতাইবাবু।

1 comment:

Priya Dutta said...

❤️