ভাঙা আসরে একলা পড়ে রইলেন বাবু মহেন্দ্রনাথ। মঞ্চ থেকে গায়ক বিদেয় নিয়েছেন, বাজিয়েরা সরে পড়েছেন। দর্শকরা শতরঞ্চি এলোমেলো করে গায়েব। সুর কানে একা রয়ে গেছেন মহেন্দ্রনাথ। তাঁর চোখ ছলছল, আর বুকপকেটে শালপাতায় মোড়া জর্দাবিহীন সাদা পান। আজকাল বড় একলা হয়ে পড়েছেন তিনি। এই ফুরিয়ে যাওয়া জলসায় সে একাকিত্ব ইয়াব্বড় হয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছে। মহেন্দ্রনাথ বাধ্য হয়ে গান ধরলেন। ভদ্রলোকের কণ্ঠে সুর নেই, তবে প্রাণে আছে। নজরুলগীতিতে প্রাণ ঢাললেই তা জলজ্যান্ত হয়ে ওঠে, ফিজিক্সের নিয়ম প্রায়।
নজরুল ছুঁয়ে ভেসে চলেছেন মহেন্দ্রনাথ।
গান ভাসছে হাওয়ায়। প্রবল একলা মহেন্দ্রনাথ তখন একাই গানের আসর হয়ে নিজেকে মাত করছেন। একা মানুষের লজ্জা পেতে নেই, মিইয়ে যেতে নেই। জগতসংসারে যে যত একা, তার তত গানের প্রয়োজন, তার তত হাউহাউয়ের প্রয়োজন।
দু'টো নজরুল পেরিয়ে সবে একটা দরদী বাউলে এসে পৌঁছেছেন, এমন সময় বাবু মহেন্দ্রর রসভঙ্গ হলো।
"মহিন্দর সাহাব, ডু ইউ ওয়ান্ট আ বিয়ার"?
দড়াম করে ক্লাবের বিলিয়ার্ড রুমে এসে পড়লেন বাবু মহেন্দ্রকুমার।
একটা পালিশ দেওয়া "অফ কৌর্স" বলে তড়িঘড়ি সেই বাউল পরিস্থিতি ধামাচাপা দিয়ে লিলির হাতটা নিজের দিকে টেনে নিলেন ভদ্রলোক।
No comments:
Post a Comment