- প্লীজ ডোন্ট মাইন্ড। ফেলো-প্যাসেঞ্জারের সঙ্গে গায়ে পড়ে খেজুর আমি পারতপক্ষে করি না। কিন্তু আপনাকে জিজ্ঞেস করতেই হচ্ছে। আচ্ছা, অ্যাস্ট্রলজিতে আপনার ইন্টারেস্ট আছে?
- আমি আদৌ মাইন্ড করছি না। আড়াই ঘণ্টার ট্রেন জার্নিতে কোম্পানি ব্যাপারটা মন্দ নয়। তবে সরি টু ডিস্যাপয়েন্ট, ও বিষয়ে আমার তেমন আগ্রহ বা বিশ্বাস কোনোটাই নেই।
- ওহ। আই সী। আসলে আপনার মুখের মধ্যে একটা অদ্ভুৎ..।
- আপনি কি জ্যোতিষী নাকি মশাই?
- হে হে। যদিও আপনার বিশ্বাস নেই। তবু, আসুন। এই আমার কার্ড।
- ওরে বাবা। বেশ পসার আচ্ছে দেখছি আপনার।
- দুর্গাপুর চলেছি একজন পলিটিশিয়ানকে গাইড করতে। অ্যাসেম্বলিতে কনটেস্ট করতে চলেছেন, তাই।একটু কনসাল্ট করতে চেয়ে ডাকলেন। হাই ফিজের ভয় দেখিয়েও ভদ্রলোককে দমানে গেলো না। হেঁ হেঁ।
- বাহ।
- আপনার মুখের মধ্যে একটা..একটা অদ্ভুৎ..একটা অদ্ভুৎ..।
- অদ্ভুৎ কিছু রয়েছে? ফিউচারে? সে'সব জানতে আপনাদের হাত দেখার দরকার পড়ে না?
- পামিস্ট্রি বাদেও তো কত কিছু রয়েছে।
- যেমন ফেস রীডিং?
- ঠিক তাই।
- তা আমার মুখে কিছু দেখলেন নাকি মিস্টার চন্দ্র?
- সামনের হপ্তায় কিছু উইন্ডফল মানি এক্সপেক্ট করতে পারেন।
- বলেন কী!
- অঙ্কটা হাতে পড়লে আপনার মাথা ঘুরে যাওয়া উচিৎ। তবে কত টাকায় আপনার মাথা ঘুরবে সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।
- পামিস্ট্রিতে আমার বিশ্বাস নেই তবে টাকায় আছে। কাজেই আপনার কথা ফললে খুশিই হবো।
- সমস্যা হল, ও টাকা আপনি ভোগ করতে পারবেন না। ও টাকা বিষাক্ত। অবিশ্যি, মানি মানেই পয়জন।
- মানুষে গুণ্ডা লাগায় শুনেছি। তবে সমু আমার পিছনে জ্যোতিষী লাগিয়েছে জেনে হাসি পাচ্ছে।
- সমু? ব্যাপারটা আমি তো ঠিক..।
- মেজোকাকা আমার নামে ওর সম্পত্তি উইল করে গেছে। সমু যদিও কাকার নিজের ছেলে কিন্তু সে একটা লম্পট৷ সে ডিজার্ভ করে না এক পয়সাও। কাকা সে'টা জানতেন। আজ সে যদি ভেবে থাকে জ্যোতিষ দিয়ে আমায় শাসাবে..।
- কোনো একটা ভুল হচ্ছে বুঝলেন..। আমার প্রেডিকশন কিন্তু খাঁটি..!
- অতগুলো সীট খালি। আপনি উঠে গিয়ে অন্য কোথাও বসবেন না আমি উঠবো?
- ইয়ে, মাইরি, আপনি নিজের বেস্পতির পোজিশনটা যদি জানতেন..।
- সমুকে এক পয়সা আমি দেব না। ওকে বলে দেবেন। রাস্কেল একটা!
***
- হ্যালো! সমুবাবু। কাজ হয়ে গেছে।
- গুড। পুলিশের নজর পড়েনি তো?
- রেলে কাটা পড়াও তো পুলিশ কেস। তবে চিন্তা নেই, ধাক্কার ব্যাপারটা কেউ ধরতে পারবে না।
- যাক।
- আমি চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু নিরামিষ ভাবে ব্যাপারটা সলভ করতে। ভদ্রলোকের বেস্পতি যে কী ব্লাডথার্স্টি হয়ে বসেছিল সে'টা ওঁর মুখ দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম। এত করে বোঝালাম তবু ওয়ার্নিং শুনলেন না। জ্যোতিষ ব্যাপারটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিলেন৷
- অ্যাস্ট্রলজির ভাঁওতা ছেড়ে খুন করার সাইন্টিফিক প্রফেশনটা নিয়েই থাকুন না। সে'দিকেও তো কম পসার অর্জন করেননি।
- কিন্তু অ্যাস্ট্রলজিই যে আমার রিয়েল প্যাশন মশাই।।জানেন, আমার প্রেডিকশন একটাও ফেল করেনি এদ্দিনে। সে কথাই আপনার ঢ্যাঁটা দাদাটিকে বোঝাতে গেলাম। কত করে বললাম এই টাকাটা বিষাক্ত, এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কিন্তু চন্দ্র জ্যোতিষীর কথা ভদ্রলোক বাসি করে ছাড়লেন।
- থ্যাঙ্ক গড।
No comments:
Post a Comment