Sunday, November 6, 2022

লীভ অ্যাপ্লিকেশন

কে কী'ভাবে লীভ অ্যাপ্লিকেশন ব্যাপারটাকে ম্যানেজ করে জানি না৷ কিন্তু অফিসে ছুটি চাইতে যাওয়াটা আমার কাছে একটা অতি-বিচ্ছিরি রকমের স্ক্যান্ড্যাল৷ বলে রাখি, যারা ছুটির দাবী অবলীলায় পেশ করতে পারেন, তাদের আমি অত্যন্ত সমীহ করি (সমীহটা রীতিমতো আন্তরিক)৷ কিন্তু কী'ভাবে যেন আমার কাছে ব্যাপারটা ভজকট কেমিক্যাল ইকুয়েশন ব্যালেন্স করার চেয়েও জটিল বলে মনে হয়।

ছুটি চাওয়ার আগেই যে'ভয়টা ঘাড়ে চেপে বসে সে'টা হল মার্ফির মারের আতঙ্ক৷ প্রথমেই আমি নিজের মনের মধ্যে একটা কুরুক্ষেত্র গোছের সেটিং তৈরি করে ফেলি৷ আমি ছুটি চাইতে গেলেই নির্ঘাৎ কোনও জরুরী মিটিং রিভিউ চলে আসবে৷ আমার ছুটি নেওয়ার দিনেই কোনও বড়কর্তা মারকাটারি লেভেলের ছক কষে বসবেন৷ হাজার রকমের দুশ্চিন্তা দানা বাঁধে; এই বুঝি অফিসে যুদ্ধ লেগে গেল৷ এই বুঝি বস রথে রিল্যাক্স করে বসা কেষ্টার মত জ্ঞান দেবেন, "বেশি ন্যাকাপনার কাজ নেই ভাই অর্জুন, তুমি ইন্টারভ্যাল চাইলেও যুদ্ধ তোমায় ফুরসৎ দেবে না"। আর মার্ফিদাদার বদান্যতায় দেখি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজের বিটকেল আশঙ্কাগুলো টপাটপ ফলেও যায়৷ অথচ আড়াই দিন দিয়ে ভেবে চলেছি লটারিতে আড়াই লাখা টাকা পাওয়ার কথা, সে'সব ফলবার কোনো চান্স নেই।
এরপর রয়েছে কনফিডেন্সের অভাব৷ যেন ক্যাসুয়াল লীভ নয়, বসের থেকে দেড়খানা কিডনি চাইছি৷ ও মেজাজ নিয়ে নব্বুইয়ের দশকে ভারতীয় ক্রিকেট টীম অস্ট্রেলিয়ার পিচে ব্যাটিং করতে নামত৷

আর ওই ঘ্যানঘ্যানানির চোটে যদি ছুটি আদায় করে নেওয়াও যায়, তা'হলেও মনের মধ্যে একটা গোলমেলে বোধ উদয় হয়৷ ছুটিটা নিয়েই ফেললাম? (যেন ছুটি নয়, গঞ্জিকা-সেবনের অনুমতি হাতিয়েছি)৷ একটা অজানা অপরাধবোধ তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়৷ আগবাড়িয়ে বাড়তি কাজ এবং অকাজ কাঁধে তুলে নেওয়া শুরু হয়; যেন ছুটিতে যাওয়ার আগে নিজেকে ড্যাংশপেটা না করলেই নয়৷ ছুটি (বিশেষত যদি লম্বা ছুটি হয়) যত এগিয়ে আসে, তত নার্ভ কাঁপতে থাকে; এই বুঝি সব গোল্লায় গেল৷

একসময় মনে হয়; ধ্যাত্তেরি ছাতারমাথা ছুটি৷ বয়ে গেছে৷ এর চেয়ে অফিসের রগড়ানি আর ট্র্যাফিকে পেষাই হওয়াই ভালো; নির্বাণ সে'খানেই৷ ছাপোষা চাকুরের ছুটির প্ল্যান মানে হল গিয়ে ওই গতজন্মের খুচরো পাপের হিসেবকিতেব।

চাউমিনের দিল্লী কলকাতা



দিল্লী আসার পর থেকে রকমারি চাউমিন 'ট্রাই' করে চলেছি৷

কলকাতার মত চাউমিন৷
আদৌ কলকাতার মত নয়; তেমন চাউমিন।
কলকাতার মত বানাতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেছে; সে'রকম চাউমিন।
কলকাতার মত কোনও মতেই নয় তবু কোথাও যেন একটা চেনা স্বাদ মিশে আছে; ও'রকম চাউমিন।
হাফ-কলকাতা হাফ-দিল্লী গুবলেট চাউমিন।
কলকাতা হতে হতেও হল না চাউমিন৷
দিল্লীর বুকে আলতো-বেহালা চাউমিন৷

এমন অন্তত সতেরো রকমের ভ্যারাইটি৷ ভেবেটেবে দেখলাম, কোনওটাই জিভে তেমন আপত্তিকর ঠেকেনি৷ বরাতজোরে যে'দিন কলকাতা ফিরে যাব, সে'দিন হয়ত আবার দিল্লীর ফিল্টারে বসিয়ে কলকাতার চাউমিনদের নতুন করে চেখে দেখা শুরু করব।

বার বার ফিরে যাওয়া



খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে যতই গালগল্প করি, ক্লাস এইট-নাইনের পর থেকে আমার টেস্টবাড আদৌ ইভলভ করেনি৷ কুইসিনটুইসিন নিয়ে বাছবিচারও কোনও কালেই ছিলনা৷ তেলঝাল টানটান, মশলাপাতি জমজমাট, ডুবো তেলে ভাজা বা তেড়ে কষানো; এ সমস্ত কিছুর প্রতিই আমার আগ্রহ অসীম৷ আর ওই গতানুগতিক সাতআটটা আইটেম আছে, যে'গুলোয় বারবার ফিরে যাই।

কম্বিনেশনের ব্যাপারেও আমার অত ধানাইপানাই নেই৷ এই যেমন বাটার নান দিয়ে বাটার চিকেন আর চিলি চিকেন৷ একগ্রাস বাটারচিকেন-নান আর তারপরেই চিলিচিকেন-নান৷ এই ভাবে একটানা..প্লেট সাফ না হওয়া পর্যন্ত। মাঝেমধ্যে কচাত কামড় ভিনিগারে চুবিয়ে রাখা ডুমোডুমো পেঁয়াজে। ও'টাই আমার কাছে অমৃত৷ চিত্তরঞ্জন পার্কের দিকে একটা ক্যালকেশিয়ান মেজাজের রেস্টুরেন্ট খুঁজে পেয়েছি৷ ইয়ে, বাঙালি রেস্টুরেন্ট নয়, কিন্তু ওই আমাদের ও'দিকের শহরতলির নর্থ ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের রান্নাবান্না খানিকটা এমনই৷ দিল্লীতে বসে কোথায় অথেন্টিক পাঞ্জাবি রেস্টুরেন্ট পাকড়াও করব, তা না৷ ছেলেবেলার ভালোলাগা স্বাদ খুঁজে হদ্দ হচ্ছি৷ ব্যাপারটা ভেবে মাঝেমধ্যে একটু দমে যাই বটে; জিভটা ম্যাচিওর করলনা৷

তবে, ভালোও লাগে।

মাইরি, বাটারচিকেন আর চিলিচিকেন যে কী সুন্দর আমে-দুধে মিশে যায় (মিশে যায় বলতে দু'টো ঝোল মিশিয়ে খাওয়া নয়৷ ওই, অলটারনেটলি)৷ আহা। নাক কুঁচকোবেন না প্লীজ৷ ওরকম কনট্রাস্টিং স্বাদের আসা-যাওয়ায় জিভ এক্কেবারে চাক্কুর মত ধারালো হয়ে ওঠে৷ চেখে দেখবেন৷

Saturday, September 24, 2022

পাপাইদা আর বিশ্বাসঘাতক



সে'কদ্দিন আগের কথা।

সে'দিন পাপাইদা বসেছিল মেঝের ওপর পাতা মাদুরে। পাশবালিশে হেলান দিয়ে। দু'বছরের মাথায় উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ওর রোয়াব খুব বেড়ে গেছিল। বকাবকি করার সময় ইয়াব্বড় সব ইংরেজি শব্দ আউড়াত। খবরের কাগজ ঘেঁটে পলিটিকাল নিউজ পড়ত। ওর মেজকার দামী জিলেটের রেজার চুরি করতে গিয়ে দু'বার গাঁট্টাও খেয়ে ফেলেছিল। ফুলটসে বোল্ড হওয়ার পর হাওয়ার ডিরেকশন আর টেনিসবলের 'টেকনিকাল গ্যাপ' নিয়ে গা-কাঁপানো লেকচার ঝাড়ত। মোটের ওপর, পাপাইদাকে একটু বাড়তি সমীহ করতে শুরু করেছিলাম। এই যেমন একদিন বাবার পকেট থেকে পড়ে যাওয়া পঞ্চাশ টাকার নোটটাকে খামোখা পকেটে ফেরত না দিয়ে সোজা চপের দোকানে গেলাম, কিন্তু পাপাইদার প্রতি প্রবল সমীহ ব্যাপারটা মাথায় রেখে আর ওকে বেগুনিতে ভাগ বসানোর জন্য ডাকলাম না।

যা হোক, সেই দুপুরে পাপাইদার চিলেকোঠার চেম্বারে না এসে উপায় ছিল না। আমি একটা বেতের মোড়ায় লেতকে বসেছিলাম। আড়াই মিনিট পাপাইদা চুপচাপ সিলিংয়ের তাকিয়েছিল, মাঝেমধ্যে বলছিল "কোয়াইট ইনক্রেডিবল"। খানিকক্ষণ পর পাশবালিশ সরিয়ে রেখে সোজা হয়ে বসল পাপাইদা। 

- ভুতো, আর ইউ শিওর?

- আমি নিজের চোখে দেখে এলাম।

- বিট্টা আর মৌ?

- তবে আর বলছি কী।

- পাশাপাশি? 

- একদম। 

- হয়ত টিউশনি যাচ্ছিল, ওদের সাবজেক্ট তো একই। 

- কাঁধে ব্যাগ ছিল না। আর...। 

- আর কী? খুলে বল্‌ ভুতো। 

- মৌদি শা...শাড়ি পরে...আর বিট্টাদা পাঞ্জাবি...।

- ও মাই গড।

- ইয়ে, পাপাইদা। শাড়ি আর পাঞ্জাবি। ম্যাচিং।

- ম্যাচিং? ডিড ইউ সে ম্যাচিং? হোলি কাউ! দিস ইজ ডিসগাস্টিং। বিট্টাটা না হয় ইরেস্পন্সিবল লোফার ছেলে একটা। মৌ কী করে এমন শেমলেস হতে পারল...।

- ইয়ে, বাবা কিন্তু বলে বিট্টাদার মত ছেলে হয়না। আইআইটিতে পড়ছে, ভদ্র, নম্র। দুর্দান্ত টেনিস খেলে...।

- প্লীজ ডোন্ট মাইন্ড, তোর বাবা একটা সুপারগাম্বাট। সামান্য চাঁদা চাইতে গেলে তো হাজার রকমের টালবাহানা শুনতে হয়। কত জ্ঞান! উফ! পরীক্ষা সামনে এখন পুজো পুজো করে নাচলে হবে কেন। ইনফ্লেশনের বাজারে পুজোয় এত বাড়াবাড়ি ভালো না। এট সেটেরা। এট সেটেরা। সে কত রকমের ফিচলেমি। বিট্টার মত মেনিমুখো ছেলেরা যে সোসাইটির পক্ষে কতটা টক্সিক, সে'টা বোঝার মত ইন্টেলিজেন্স তোর বাবার নেই।   

- যাক গে, আমি জানিয়ে গেলাম। 

- পাড়ার একটা রেস্পন্সিবল রেসিডেন্ট হিসেবে এই মরাল ডিগ্রেডেশন আমায় রুখতে হবে।

- মরাল কী?

- সে'সব বোঝার বয়স তোর হয়নি। 

- বা রে, তুমিই না বলতে, তোমার স্বপ্ন মৌদিকে সাইকেলে বসিয়ে পুজোয় ঘোরার? বিট্টাদা তো শুধু পাশাপাশি হেঁটেইছে। 

- সবে মাধ্যমিক পাস দিয়েছিস। সব ব্যাপারে ইন্টারফেয়ার করিস কোন সাহসে ভুতো?

- যাব্বাবা। ইনফর্মেশনটা দেওয়াই দেখছি ভুল হয়েছে। বেশ, আমি আসি। খবরটা যখন শেয়ার করা হয়েই গেছে...।

- এই ভুতো। কুড়িটা টাকা হবে রে?

- টাকা? টাকা আমার কাছে কই। 

- তোর হাতে কাঁচাটাকা এসেছে সে খবর আমি রাখিনা ভেবেছিস? পরশু তুই শ্যামলদার দোকানে গিয়ে ছ'পিস বেগুনী খাসনি? একা একা?

- ওই, না, মানে হয়েছিল কী...।

- শাটাপ! গোটা পাড়াটা ট্রেটারে ভরে গেল। 

- তুমি বেগুনীর খবরে কনসেন্ট্রেট করলে, এ'দিনে শাড়ি পাঞ্জাবি ম্যাচিং হয়ে গেল।

- এ মায়া প্রপঞ্চময়।

আচমকা বেগুনীর উল্লেখে সত্যিই কেমন হয়ে গেছিল পাপাইদা। খটখট করে ইংরেজি চাল দেওয়া বন্ধ হয়েছিল সে'দিন থেকেই।

সে'কতবছর আগেকার কথা। 

আজ সন্ধেবেলা পাপাইদার দিল্লীর ফ্ল্যাটবাড়িতে চ্যালা মাছ ভাজা খেতে খেতে খোশ গল্প জমেছিল। পাপাইদাই ভাজছিল আর রান্নাঘর থেকে মাঝেমধ্যে এসে প্লেটে ঢেলে যাচ্ছিল। মৌদি ওদের হিমাচল ঘুরে আসার ছবি দেখাচ্ছিল। পাপাইদার ছেলেটা মহাদুরন্ত এবং হাইলি ফচকে হয়েছে। ওর সঙ্গেও দিব্যি গল্পআড্ডা জমে যায়। পাপাইদার আমায় ট্রেটার বলার গল্প শুনে মৌদি বললে ছেলেবেলার সমস্ত মার্কামারা ট্রেটারদের প্রতি নাকি পাপাইদার মায়া অসীম। 

- কী'রকম মৌদি?পাপাইদা আর কোন ট্রেটারকে আগলে রেখেছে?

- কাল তো মহালয়া। সকাল সকাল চলে আয়। নিজের চোখে দেখতে পাবি। তুইও কিন্তু লাঞ্চ করে ফেরত যাস। বাড়ি থেকে এদ্দূরে মহালয়ার দিন একা থাকবি কেন।

- সে আসা যেতেই পারে। কিন্তু কালকেও কোনও ট্রেটার আসছে নাকি?

- বিট্টা।

- বিট্টাদা?

- সে দিল্লীতেই থাকে। এই সে'দিনই আমরা জানতে পারলাম। আইএনএ মার্কেটে বাজার করতে গিয়ে দেখা। পাপাইতো বিট্টাকে জড়িয়ে ধরে নেমন্তন্ন করে একাকার কাণ্ড। বিট্টা নিজেই হতবাক। উফ, তোর পাপাইদা পারেও বটে।

- পাপাইদা সত্যিই অদ্ভুত। আমার বাবাও ওর দু'চোখের বিষ ছিল। আজকাল মাসে একবার আমার বাবাকে ফোন করে খুব খাতির করে। বাবাও দেখি আজকাল পাপাইদা বলতে অজ্ঞান।

- তবে বিট্টাকে কিন্তু ঠিক সাদা মনে ডাকেনি তোর পাপাইদা।

- কী'রকম?

- বিট্টাকে নেমন্তন্ন করেই কাপড়জামার দোকানে ছুটেছিল। সেই সন্ধেবেলাই। আমায় একটা নতুন শাড়ি কিনে দিল, আর নিজের জন্য কিনল ম্যাচিং পাঞ্জাবি। কাল বিট্টা এলে আমরা সে'টাই পরছি। 

- সত্যিই, পাপাইদার জবাব নেই।  

Thursday, September 22, 2022

রিল্যাক্সিং



- বুঝলে দত্ত, এ'বার পুজোটা ভাবছি টোটালি রিল্যাক্স করে কাটাব।

- আপনি তো লাকি চ্যাপ দাদা, টানা পাঁচদিন ছুটি? তা, এ'বারেও কি দার্জিলিং? নাকি কেরলটেরল কিছু।

- ঘোরাঘুরি যে কতটা ট্যাক্সিং...উফ। টিকিট বুক করো। প্যাকিং করো, আনপ্যাকিং করো, রিপ্যাকিং করো, রিআনপ্যাকিং করো। গাড়ি ভাড়া করো। সাইটসিয়িংয়ের ছক কষো। প্ল্যান এ, প্ল্যান ব, প্ল্যান সি। উফ, ভাবতেই পালসরেট বেড়ে যাচ্ছে, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। লেবুসরবত খেতে হবে এ'বার।

- ও, তা'হলে এ'বার পুজোয় মণ্ডপ সাফারি। হ্যাঁ, সেই ভালো। হাঙ্গামা কম। ঠাকুর দ্যাখা, খাওয়াদাওয়া; হান্ড্রেড পার্সেন্ট ফুর্তি। 

- তুমি দুর্গাপুজো দেখেছ কোনোদিন দত্ত? হাবভাব দেখে তো মনে হয় তুমি বলিভিয়ার মানুষ। উইকিপিডিয়া পড়ে দুর্গাপুজোর কথা জেনেছ।

- সে কী!

- ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখতে কী পরিমাণ স্ট্যামিনা দরকার হয়,সে'টা তুমি জানো না? পায়ের মাসল এক্কেবারে লোহার মত হতে হবে। রেস্টুরেন্টে আড়াইঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়ানোর জন্য দরকার অ্যালুমিনিয়ামের কোমর। আর ঘাম, ধুলো, ইত্যাদি হজম করার ইনফাইনাইট ক্যাপাসিটি।  ঠাকুর দেখে রিল্যাক্স করা আর ঘামাচিতে বিটনুন মালিশ করা একই ব্যাপার।

- পুজোর পাঁচদিন ঘরের মধ্যে বসে? বিছানায় লম্বা হয় গোটা হপ্তা? শুধু খাওয়া শোওয়া আর বই?

- তুমি ব্যাচেলর মানুষ ভাই দত্ত। ব্যথা কী বুঝবে। গিন্নী আর আমার গোটা বছর অফিস, দৌড়ঝাঁপ হুড়মুড়; ও'টাই আমাদের ন্যাচরাল স্টেট অফ ইকুইলিব্রিয়াম। হুট করে পাঁচদিনের ছুটিতে বাড়ি বসে থাকতে গেলে বস্তাবস্তা কাজ এসে পড়বে ভাই। গিন্নী দেখবে বাথরুমের মেঝে রিপেয়ার করা দরকার, আমি দেখব বাড়ির দেওয়ালে এক পোচ রঙ না পড়লেই নয়। মোটকথা বাড়িতে থাকলেই কাজের বোঝা। আর সেই কাজের বোঝার জর্জরিত হয়ে দু'জনের খিটিরমিটির।

- আপনার মতলবটা কী বলুন তো? পুজোয় রিল্যাক্স করবেনটা কী'ভাবে?

- পুজোর পাঁচদিনই অফিস করছি ভাইটি। সক্কালসক্কাল হাজিরা। সন্ধেবেলা রিটার্ন। মাঝখানে ফাঁকা অফিসে আমি অ্যালেক্সান্ডার সেলকার্ক। নিজের ইচ্ছেমত প্যান্ট্রিতে গিয়ে কফি অমলেট বানাবো। ফাইল ক্লিয়ার করব। অফিসে লোক কম থাকবে, দিব্যি গান শুনতে শুনতে হেলেদুলে কাজকর্ম করা যাবে। এক্কেবারে স্পা ফর সোল, টানা পাঁচদিন।

- দাদা, আপনি সোশিওপ্যাথ।

- মন্দ লোকে কত কী রটায়, সে'সবে কান দিও না। কেমন?