Wednesday, December 31, 2025

পাওয়ার ফুড


লারেলাপ্পা খাবারদাবারে ভেসে না গিয়ে পাওয়ার-ফুড চিনতে শিখুন।

মনে রাখবেন:
সক্রেটিস বলে গেছেন যে ভালো ডিমভাজার সাপ্লাই থাকলে মানুষের পক্ষে টুথপিক দিয়ে পাহাড় থেঁতো করা সম্ভব।
আর সান জু'র সেই মহান বাণী তো আর সহজে ভোলার নয়, "আলুভাজার মুচমুচ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত"।
অতএব এই কম্বিনেশনকে হেলাফেলা করবেন না। অন্তত শাস্ত্রে তেমনটাই বলা আছে।

ভালো লেখা

ভালো কোনো লেখা পড়তে পড়তে হাপুস-নয়ন হওয়াটা অনিন্দ্যবাবুর নতুন বদঅভ্যাস। এ'সব ঝ্যামেলা আগে ছিলো না, দিব্যি ক্রিটিকাল চোখে সমস্ত কিছু পড়ে অঙ্ক কষে বলে দিতে পারতেন কোন লেখাটা অনবদ্য আর কোন বইটা স্রেফ জঞ্জাল। শখের ক্রিটিক হিসেবে খানিকটা আলগা সুনামও অর্জন করে ফেলেছিলেন।

এই হপ্তাদুই ধরে যে কী হলো! যে বই পড়তে ভাল লাগছে না, তা মাঝপথেই নির্মোহ ভাবে সরিয়ে রাখছেন। ভালো লাগা হাসির বইয়ে মুখ গুঁজে এমন বিশ্রী ভঙ্গি ও শব্দে হাসছেন যে গোটা আইসিইউর নার্সরা ছুটে এসে তাকে নিরস্ত করছে। আর নিখাদ ভালো লেখা পড়লেই চোখে জল আসছে। অঝোর ধারায়। বহুবার পড়া আরণ্যক ধরে তো হাপুসনয়ন অবস্থা।

আজ সকাল থেকে লীলা মজুমদারে আটকে ছিলেন। পাহাড়ের বুকে এক ছবির মত বাড়ি, সে বাড়িটা ভালোমানুষে ভর্তি; এ'টুকুতেই অনিন্দ্যবাবুর হাউহাউ করে কান্না পেলো। বিকেলের দিকে ডাক্তার সান্যাল এসে দাঁড়িয়েছিলেন পাশে, তাঁর সেই একই বুলি, "মিসেস সেনের ভেন্টিলেটরের ব্যাপারে এ'বারে ডিসিশন নিয়ে ফেলতে হয়"।

গত দিন তিনেকের মত আজও সে প্রশ্নটা অনিন্দ্যবাবুর কানে গেলো না। ছলছলে চোখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "ডাক্তারবাবু, আপনি চেরাপুঞ্জির মৌসমাই জলপ্রপাতের গল্প শুনেছেন"?

বিলিতি

- ভেরি স্যাড বুঝলে মেজমামা। এইসব বিলিতি উৎসব পালন করতে গিয়ে দেশটা জাস্ট উচ্ছন্নে যাচ্ছে।
- (কেকে ছোটো কামড় দিয়ে) ঠিকই বলেছিস ভটকে। ঠিকই।
- আরে, দেশে কি দেব-দেবী কম পড়েছে যে এখন যীশু পুজোয় আদেখলামো করতে হবে?
- (প্রকাণ্ড এক টুকরো কেক এ'বারে মুখের মধ্যে নিয়ে) ...বফেই ফো...বফেই ফো...ফিফই ফলেফিস...।
- কী?
- (কেক গিলে ফেলে) না মানে...বলছিলাম...বটেই তো...ঠিকই বলেছিস...।
- এই ক্রিশ্চান উৎসব নিয়ে মেতে থাকা, এ'টা একধরণের গোলামি...মনের গোলামি...।
- (কেকে আর একটা পেল্লায় কামড় দিয়ে)- ফিফ্‌। ফিফ্‌। (গিলে নিয়ে)...আই মীন...ঠিক। ঠিক।
- আমার জাস্ট গা রি রি করে এ'সব দেখলে। আজকাল আবার বাচ্চাকাচ্চাদের মধ্যে স্যান্টা ক্লজ নিয়ে কী বিস্তর ন্যাকামো। অথচ এদেরই মিনিট দশেক পুজোর আসরে ভক্তি নিয়ে বসতে বলো...দেখবে হাজারো অজুহাত...।
- (আর এক কামড় কেক...) গা... রি রি...করাই উচিৎ... (আরও বড় কামড়)...ফে ফ্যান্টা! ফাফতু ফত!
- আরে তোমার সঙ্গে কথা বলাই দায়।
- আহা, ভটকে। রাগ করিস না। এই প্লাম কেকটা ভীষণ টেস্টি। নেহাত তুই ক্রিসমাস বিরোধী তাই খাওয়াতে পারছি না। অবশ্য চিন্তা করিস না। তোর জন্য মামি সাবু মেখে রেখেছে। বেশ করে নুন লেবু দিয়ে...।
- সাবু মাখা?
- দু'টো তুলসী পাতা ফেলে দিতে বলবো তা'তে?
- না। থাক গে। আমার তেমন খিদে নেই।
- বিপ্লবী মানুষ তো তুই। তোদের অত খিদে পেলে চলবেই বা কেন। যাক গে, শোন। পুলিকে পাঠিয়ে দিস। বলিস মামা তলব করেছে।
- পুলি তো আর এক কুলাঙ্গার। সে নিজের বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে ব্যান্ডেল চার্চ ঘুরতে গেছিল কাল। এত করে বারণ করলাম, অথচ দাদা বলে মিনিমাম রেস্পেক্ট করলে না!
- পুলিটা একটা ইডিয়ট। তুই ওকে পাত্তা দিস না। শুধু বলিস, মামা ডেকেছে। একটা স্পেশ্যাল গিফট দেওয়ার আছে।
- গিফট? হঠাৎ?
- আরে। আর বলিস না। সে'দিন তুই বাইরে গেলি, আর বাড়ির সবাই সিক্রেট স্যান্টা খেলবে বলে লটারি করলে। আমি কত করে বারণ করলাম এ'সব থার্ডক্লাস জিনিসে সময় নষ্ট না করতে। কেউই আমায় বিশেষ পাত্তা দিলে না। এমন কি তোর বাবা-মাও পার্টিসিপেট করলে। তোর বাবা তো বললে ভটকেটাকে ভালো করে উত্তমমধ্যম না দিলে শোধরাবে না। তবে বিশ্বাস কর আমি প্রটেস্ট করেছি। যাক গে। কী আর করা যাবে। তা পুলির সিক্রেট স্যান্টা আমিই। গিফট কিনে রেখেছি। টিনটিনের বক্স সেট। ওকে পাঠিয়ে দিস।
- তুমি পুলিকে টিনটিনের বক্স সেট দিচ্ছ মামা?
- চিন্তা করিস না, সামনের পূর্ণিমা দেখে তোকে একটা পাঁচালিটাচালি কিনে দেব'খন।
- গা রিরি করছে মামা।
- কী করবি বল, এ পোড়া সমাজ তোর ইন্টেন্সিটিটাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করতে পারলো না। ভেরি স্যাড।
- আছে নাকি মামা সামান্য কেক?
- সে কী রে!
- ধ্যাত্তেরি! দাও দেখি কেকের ডিবেটা।

মেরি ক্রিসমাস!


বাপুজি কেক কিনলে দুয়ের বদলে তিনটে কুমড়োর টুকরো যেন আপনার মুখে পড়ে।
সস্তায় পুষ্টিকর কনফেকশনারি, যার ম্যানেজার অদরকারী রকমের গপ্পিয়ে, যেন আপনার বাড়ির বারো-পা রেডিয়াসের মধ্যে গজিয়ে ওঠে।
ফ্লুরিজের টিনের ডিবের কেক যেন হঠাৎ কোনো অজানা কারণে ৭০% ডিসকাউন্টে বিক্রি হয়।
দুনিয়ার অর্ধেক ওল্ডমঙ্ক যেন রামকেকে গিয়ে মিশতে পারে।
আর, বুড়ো বয়সে পাড়ার ছেলেপিলেদের মধ্যে যেন "যখন-তখন-কেক-খাওয়ানো দাদু/দিদা" হিসেবে আপনার সুনাম রটে।

মেরি ক্রিসমাস!

লয়্যালিটি


- এ'টা কত করে?
- বারো টাকা পিস।
- আর এ'টা?
- দশ টাকা।
- টাটকা তো?
- সকালের।
- আজ সকালের?
- এক পিস খেয়েই দেখুন। কথায় আর কাজ কী।
- না না, ঠিকই আছে। দিন তবে দশ পিস।
- আর কিছু?
- আড়াইশো বোঁদে।
- আড়াইশো। বোঁদে। আর কিছু? ছানার জিলিপি? ক্ষীরকদম?
- একা মানুষের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। অত দিয়ে হবেটা কী।
- বেশ।
- নোটটা ভাঙিয়ে দিন প্লীজ।
- আসুন। এই যে মিষ্টি। আর এই আপনার খুচরো।
- থ্যাঙ্কিউ। এই বেঞ্চিতে বসা যায়?
- ও'টা পাশের চায়ের দোকানের। তবে সে'টা এখন বন্ধ। নিশ্চিন্তে বসে পড়ুন।
- ধন্যবাদ।
***
- নাহ্‌, আপনার সন্দেশগুলো সত্যিই টাটকা। আর তেমনি স্বাদ। আপনার নীট অ্যান্ড ক্লীন সেট আপ দেখেই ভরসা পেয়েছিলাম বটে..।
- ও মা, আপনি এখানে বসে নিজেই খাচ্ছেন? আগে থেকে বললে তো দিব্যি প্লেটে সাজিয়ে দিতে পারতাম।
- বাক্স খুলে মিষ্টি খাওয়াতে যে কী তৃপ্তি। আর প্যাকেটখুলে বোঁদে খাওয়াতেও। মনে হয় বেশ একটা হইহইরইরই ব্যাপারের মধ্যে রয়েছি।
- একটু নিমকি দিই?
- দেবেন?
- আমি খাওয়াচ্ছি। দাম দিতে চাইবেন না যেন। এতগুলো মিষ্টির মধ্যে...।
- ইয়ে, না না। সব এখনই খাবো না। স্টেশনের দিকে যাওয়ার আগে এই দু'চার পিস খেয়ে নিচ্ছি আর কী। আর সন্দেশ যেহেতু শুকনো, তাই পাশাপাশি সামান্য বোঁদেটা বড় দরকার। তবে হ্যাঁ। জিভে মাঝেমধ্যে নোনতা পড়লে ভালোই হয়। এক কাজ করুন। ওই কুচোনিমকি আমায় একশোগ্রাম দিন। প্লেটে দেবেন না কেমন? ঠোঙায় দিন।
- তাই হোক। নিমকিটা কাল বিকেলের ভাজা। এই বয়ামে রাখলে অবশ্য দিনসাতেক তাজা থাকে।
- বহুত খুব। থ্যাঙ্কিউ। আপনি আমার লয়্যালিটি কিনে নিলেন। এরপর যতবার মানকরে আসব, ততবারে আপনার দোকানে আশ্রয় নেব।
- মনে রাখবেন স্যার, আপনি আমার লয়্যালটি কিনে ফেরত যাচ্ছেন। আসুন, এই আপনার ফ্রী নিমকি।