Monday, May 17, 2021

অদরকারী ৪


কয়েকটি অদরকারী কথা।

এক,
গুগল ফটোসের মত মায়াবী অ্যাপ আর দু'টি নেই। মাঝেমধ্যেই পিঠে ডিজিটাল টোকা মেরে ডাকে, "আহ্। এই মুহূর্তের গুমোটটাই শেষ কথা নয় হে৷ শেষ কথা নয়। তিন বছর আগে এই সময় তুমি পাহাড়ে ছিলে৷ মনে পড়েছে ভাইটি"? 

দুই,
পাহাড়ে গেলে মনকেমনের গায়ে বাড়তি জেল্লা আসে। পাহাড়ে সঞ্জীবের লাইনগুলো সঞ্জীবার হতে হতে সঞ্জীবেস্ট হয়ে পড়ে।
পাহাড়ে গেলে মনের ধান্দাবাজিগুলো খানিকক্ষণের জন্য মিইয়ে আসে।


তিন,
পাহাড়ি নদীরা তুকতাক জানে, রাণাঘাটের মানুষের মনের ভিতর তিব্বতি গোলমাল পাকাতে তাদের জুড়ি নেই।
তাদের ছুটে চলার সুরে মাথার মধ্যে ঝিম ধরে; সে ঝিমধরানো নেশা ছবি বিশ্বাস লেভেলে খেলে যায়, ওল্ডমঙ্ক সে তুলনায় আলেক্সার কেঠো সঙ্গত। 

চার,
সূর্যাস্ত মানেই কোথাও কেউ হেমন্ত শুনে বুকের হুহু সামাল দিচ্ছে। 

Sunday, May 16, 2021

মোটিভেশনাল



- কী? কী চাই?
- প্রভু, বড় সাধ। রোজ রোজ কাউকে জ্ঞান দেওয়ার৷ জ্ঞান শোনার লোক না পেয়ে মন-প্রাণ-বুক শুকিয়ে যাচ্ছে। আমি জ্ঞান দেব, লোকে শুনবে৷ যত দেব, তত শুনবে৷ সে জ্ঞান কেউ শুনতে না চাইলে যেন কলার টেনে গিলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাটুকু থাকে। বড় সাধ বাবা।
- বড়ই বিচিত্র ইচ্ছে। বিচিত্র।
- সাফিশিয়েন্টলি জ্ঞান না ঝাড়তে পারলে বড় অম্বল হয় প্রভু, সঙ্গে সামান্য বুকভার৷ মনের মধ্যে এত জ্ঞান জমে রয়েছে, সে জ্ঞান নিয়মিত ফ্লো না করলেই যে কী মুশকিল।
- কঠিন সমস্যা৷ কাজেই, সমাধানটা যে সহজ হবে না।
-একটা উপায় বাতলে দিন প্লীজ। প্লীজ! আমি যাবতীয় কাঠখড় পোড়াতে রাজী৷ হোমযজ্ঞ মাদুলি বা কোনও স্পেশাল চ্যবনপ্রাশের জন্য টু-পাইস খরচ করতেও আপত্তি নেই প্রভু৷
- উপায়? তা উপায় তো আছে৷ তবে সে পথ বড় কঠিক, দুর্গম৷
- আপনি একবার খোলসা করেই দেখুন না৷ আমি ঠিক পারব।
- পারবে? যা বলব পারবে?
- আলবাত প্রভু৷ আলবাত৷
- তুমি কর্পোরেট জগতের মোটিভেশনাল ট্রেনার হতে পারবে? পার্টিসিপ্যান্টদের আধঘণ্টা লুডো খেলিয়ে পাইকারি হারে স্টিভ জবস তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে? পারবে?

নিউ নর্মাল নববর্ষ

- হ্যালো!
- কাকা, তুমি আমার নববর্ষের প্রণাম নিও।
- তুই হাত নিয়মিত স্যানিটাইজ করছিস তো?
- আর কাকীমাকে আমার প্রণাম জানিও।
- শোন, ভীড়েটিড়ে যাস না। খবরদার!
- আরে, প্রণাম নিও।
- এই আমি বলে রাখছি। যদি শুনি মাস্ক ছাড়া বেরিয়েছিস, পিঠের ছালচামড়া তুলে নেব রে রাস্কেল।
- ইয়ে, কাকা! আশীর্বাদটা দাও!
- উম, তোর তো মনে হয় পঁয়তাল্লিশ হয়নি, তাই না?

(পয়লা বৈশাখে লেখা)

ওয়াইজক্রিম

১।
"আমার এমনিতে ওই তোদের মত খাওয়ার পর ডেজার্ট নিয়ে বসার শৌখিনতাটুকু নেই৷ আমার এই ভাজা মৌরিই ভালো। তবে, জোরাজুরি যখন করছিস, তখন দে'দেখি সামান্য৷ ওই কোকোনাট আইসক্রিমটা..হ্যাঁ ওইটা। খেতে দিব্যি৷ তাই দু'চামচ চেখে দেখব। ব্যাস! ও'টুকুই কিন্তু"!
২।
" উমমম..দু'চামচ কেমন ফুড়ুৎ করে গায়েব হয়ে যায়৷ তাই না? স্বাদটা জিভের ওপর ঠিক সেটল করতে পারে না৷ এক কাজ করা যাক৷ একটা ছোট বাটিতে বরং কিছুটা নিই..এই না না না! খবরদার! ফুল বাটি একদম নয়৷ একদমই নয়! হাফ বাটি ম্যাক্সিমাম, হাফের চেয়েও কম, প্লীজ"!
৩।
"ইয়ে, মানে ওই.....না তেমন কিছু নয়..ওই আর কী..বলছিলাম যে..আর হাফ বাটি পাওয়া যাবে কি"?
৪।
"আচ্ছা.. বলি কী..আর আছে? আছে কি?এই..দু'বাটি মত"?

মিরাকিউরল



আমাদের সময়ে হস্টেলে-টস্টেলে বা মেসবাড়িতে মেডিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার বেশ সরেস ছিল। রাতবিরেতে, সময়ে-অসময়ে; ফাঁপরে পড়ে ওষুধের ভাণ্ডার ঘাঁটলে পাওয়া যেত শুধু পুদিনহরার শিশি।
পেট চিনচিন? আধ ছিপি পুদিনহরা।
পেটে নিদারুণ ব্যথা? দেড় ছিপি পুদিনহরা।
বুকজ্বালা? সোয়া ছিপি পুদিনহরা।
জ্বর জ্বর ভাব? অন্যান্য ওষুধের অভাবে ধরে নেওয়া হত সে জ্বর পেট গরম থেকে হয়েছে। কাজেই; দু'চামচ পুদিনহরা।
প্রেম-ঘটিত চোট আঘাতের ক্ষেত্রে অন্য ওষুধের দরকার পড়ত বটে, তবে পকেটে ভ্যাকিউম পোষা মানুষের বহুবিধ যন্ত্রণা। পুদিনহারার শিশি থেকেই ডাইরেক্ট চুমুক দিয়ে ঘ্যানঘ্যান জুড়তে হত-
"উয়ো রাত আপুন দো'বজে তক পিয়া"।