Sunday, January 24, 2021

ভ্যাকেশনে ভাগ্নে


- মামা, চললাম ভ্যাকেশনে৷
- ভ্যাকেশন?
- ইয়েস স্যার৷ ঝাড়া দু'হপ্তা৷
- অফিস ছুটি দিলে?
- আরে ছুটি নিতেই হবে বলে বসের কী ঝোলাঝুলি৷ ক'দিন কোথাও ঘুরে না আসলে নাকি আমার প্রডাক্টিভিটি অপটিমাইজ করা যাবে না৷
- তা চললি কোথায়?
- বহু দূর৷ ক'টা দিন আরামে কাটানো যাবে - এই অসহ্য নিস্তব্ধতা থেকে হাজারখানেক মাইল দূরে৷ এ'কদিন শুধু হইচই গোলমাল আর হট্টগোল৷
- আহ! পিসফুল৷ ডেস্টিনেশনটা কোথায় রে ভাগ্নে?
- কী হিংসে হচ্ছে নাকি মামা? তবে আরও শোনো। সে'খানে বাতাস এমন ম্যাড়মেড়ে নয়৷ এ'খানের বাতাসে শ্বাস নেওয়া যায় নাকি ছাই? শুধু অক্সিজেন আর অক্সিজেন৷ ধুর ধুর৷ ক'দিন একটু ধুলোবালি বুকে নিয়ে রিল্যাক্স করব৷ আর সবচেয়ে বড় কথা মামা, বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলেই টের পাবো পোড়া পেট্রোলের সুবাস৷
- এক্সটিক ব্যাপার তো রে।
- অফ কৌর্স৷ তাছাড়া এত নিরিবিলি মামা, প্রাণ এক্কেবারে হাঁপিয়ে উঠছিল৷ আর মাইলের পর মাইল হেঁটে গিয়েও মানুষজনের দেখা মেলেনা এখানে৷ ছ্যাঁহ্৷ ছুটিতে গিয়ে ভীড় ছাড়া একটি পা'ও এগোনো নয়৷
- আরিব্বাস ভাগ্নে৷ শহর চললি নাকি?
- যে'সে শহর নয় মামা। এক্কেবারে মেট্রোসিটি৷ সে'খানে কয়েকদিন স্রেফ রিল্যাক্স করা৷ শশব্যস্ত হয়ে দৌড়ঝাঁপ, ট্রেনেবাসে ঝুলোঝুলি; ব্যাস৷ ক'দিন পরেই তো আবার সেই আলসেমিতে ফিরে আসতেই হবে৷
- মাইরি রে ভাগ্নে৷ এই ম্যাদামারা বরফ ঢাকা পাহাড়ে থেকে থেকে প্রাণ আইঢাই করে ওঠে রে৷ ভাবছি ঝুলে পড়ব তোর সঙ্গে৷ শহরে গিয়ে কিছুদিন যোগনিদ্রায় না কাটালেই নয়৷

প্রেম-ফ্রেম


- প্রেমে দাগা খাওয়ার যন্ত্রণা...সে যে অসহ্য।
- তা ঠিক, তবে কী জানো ভায়া, দাঁতের ব্যথার কাছে সে যন্ত্রণা হল নেকু সুড়সুড়ি মাত্র।

***
- বাতাসে একটা বেশ, প্রেম প্রেম ইয়ে, তাই না?
- রিল্যাক্স। পাশের বাড়ির পিসিমা বোধ হয় ফুলকপির শিঙাড়া ভাজছেন ভাই। বাতাসের ইয়ের সোর্স ওটাই।

***
- শীতের কলকাতা। সন্ধ্যে নাম্বার ঠিক আগে ময়দানে বসা প্রেম আর আড্ডা। তার যে কী রোম্যান্স...উফ!
- প্রসেসটা বইয়ে পড়লে রোম্যান্টিক ভায়া। সমস্যা হচ্ছে ময়দানের খচ্চর মশারা সেসব বইকে তেমন পাত্তা দেয় না।

***
- ভালোবেসে দেবদাসের মত নিজেকে ভাসিয়ে দিতে চাই।সমস্ত ধান্দাবাজি ভুলে, নিজের ভালোমন্দ ভুলে, উজাড় করে দিয়ে, স্রেফ নিজেকে ভাসিয়ে দিতে চাই।
- ভেরি গুড। তবে নিজের ভালো ভুলে ভেসে যাইতে চাইলে তার চেয়েও একটা সরেস অপশন আছে ভায়া। গোলবাড়ির কোলেস্টেরলে ভেসে যাওয়ায় মুনাফা বেশি।

বুকমার্ক


ঝুলছি৷
মানে..কী অদ্ভুত! পা'দুটো নাইলনের দড়ি দিয়ে কষে বেঁধে কেউ সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দিয়েছে৷ হাত দু'টোও পিছমোড়া করে বাঁধা। কী সাংঘাতিক৷ এমন ভাবে বেশিক্ষণ ঝুললে মাথায় রক্ত উঠে যাবে তো৷ দুম করে এ'খানে এলামই বা কী করে৷
চিৎকার করতে গেলাম। লাভ হলো না৷ গলা শুকিয়ে কাঠ, জোরালো আওয়াজ বেরোলনা৷ থুতনির ঘাম চোখে এসে পড়ছে৷ বিশ্রী অবস্থা৷
চারপাশে নিরেট অন্ধকার৷ কিছুই দৃষ্টিগোচর হয়না৷
যা বুঝছি, এ'টা সম্ভবত স্বপ্ন৷ কিন্তু আচ্ছা হ্যাপা তো, স্বপ্ন না ভাঙা পর্যন্ত এমন বাদুড়ঝোলা হয়ে থাকাটাও তো রীতিমতো যন্ত্রণাদায়ক৷
স্বপ্নের মধ্যেই চেষ্টা করলাম সতেরার ঘরের নামতা পড়ে মনকে শান্ত করতে৷ লাভ হলো না। একুশের ঘরে পৌঁছনর পর একটা হিমশীতল কমল মিত্তির গোছের ধারালো পুরুষ কণ্ঠ কানে এলো৷
- ঠিকই ধরেছেন, এ'টা আপনার স্বপ্নই। তবে শাস্তিটা কিন্তু রিয়েল৷
- শাস্তি?
- ইয়েস৷ আজকে খানিকক্ষণ ঝুলিয়ে রেখে ছেড়ে দেব৷ এর পরের দিন দেব গিলোটিনে৷
- আপনি কে বলুন দেখি? বড় চ্যাটাংচ্যাটাং কথা তো৷
- ইউনিয়নের নেতা, তেজ না থাকলে চলবে কেন?
- ইউনয়ন? কীসের ইউনিয়ন।
- আপনার বই-তাক-নিবাসী বইদের ইউনিয়ন।
- কী?
- আপনার বই-তাক-নিবাসী বইদের ইউনিয়ন।
- ইয়ার্কি হচ্ছে?
- ঝুলছেন আপনি৷ অসহায়, নিরুপায়,ঠুঁটোজগন্নাথ৷ আপনার সঙ্গে ঠাট্টা করে লাভ নেই।
- আমার বই-তাক-নিবাসী বইদের ইউনিয়নের নেতা মানেটা কী?
- এক তাকে পাশাপাশি থাকা বইদের মধ্যে একটা ইউনিটি থাকে মশাই৷ আপনার মত কোদালে পাঠকরা সে'টা বুঝবে না।
- বইদের ইউনিয়নের নেতা৷ মানে,আপনি মানুষ নন? আপনি বই?
- অপরাজিত, দশম মুদ্রণ৷ আপনি কিনেছিলেন বছর দশেক আগে৷ মাঝেমধ্যেই উল্টেপাল্টে দেখেন আমায়, বহুবার পড়া সত্ত্বেও ফের যে'কোনো পাতা থেকে পড়তে শুরু করেন৷ কাজেই আপনার তাকে অন্য বইদের মধ্যিখানে আমার ইজ্জতও একটু বেশি। কাজেই আমিই নেতা।
- সে'তো ভালো কথা৷ তা আমায় এ'ভাবে স্বপ্নের মধ্যে টাঙিয়ে রাখার মানে?
- কারণ আপনি একটা ক্রিমিনাল।
- ক্রিমিনাল?
- আস্ত ক্রিমিনাল৷
- ও মা! সে কী৷ কেন?
- গ্যাঁটের পয়সা খরচ করে মাঝেমধ্যেই শৌখিন বুকমার্ক কেনেন৷ ভালো কথা৷ উপহার হিসেবেও মাঝেমধ্যে জুটে যায় সুন্দর সব বুকমার্ক, অতি উত্তম৷ অথচ প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে সে'সব চমৎকার জিনিস না পেয়ে, বুকমার্ক হিসেবে ব্যবহার করেন ভিজিটিং কার্ড, আঙুল, দেশলাইকাঠি, খাম, স্কেল, পেনসিল এবং আরও বহুবিধ ননসেন্স৷ এই তুঘলকি কারবার সহ্য করা উচিৎ?
- ইয়ে মানে..।
- এ'টা অন্যায় নয়?
- সরি, আসলে হয় কী..।
- আমরা বইরা৷ আমরা সবাই মিলে আপনার মগজ আর আত্মার জন্য এত কিছু করি, আর আমাদের প্রতি আপনার এতটাই অযত্ন? এতটাই অবহেলা? কী ইরেসপন্সিবল আপনি মশাই৷
- ইয়ে মানে, নেতাবাবু। শুনুন..।
- আমাদের কি আদত বুকমার্ক জুটতে নেই মশাই? আপনি কি এতটাই পাষণ্ড? আজ বইয়ের ফাঁকে তাস রাখছেন, কাল তো পাতা মুড়বেন মশাই।
- না না না
- এই অভব্যতা চালিয়ে গেলে কিন্তু আপনাকে সত্যিই গিলোটিনে দেওয়া হবে। কেমন?
***
ধড়ফড়িয়ে খাটের ওপর উঠে বসলাম। এই শীতের রাতেও গায়ের জামা ঘামে ভিজে একাকার কাণ্ড৷ হাত বাড়িয়ে বেডস্যুইচ টিপে আলো জ্বালতেই, নজর গেল খাটের পাশের টেবিলের ওপর৷ সে'খানে রাখা আছে সন্ধ্যেবেলা বইয়ের তাক থেকে নামানো "অপরাজিত"। আর আমি জানি যে সে'টার একশো আটচল্লিশ আর একশো উনপঞ্চাশ নম্বর পাতার মধ্যে বুকমার্ক হিসেবে যে'টা রয়েছে সে'টা আদতে কোল্ডড্রিঙ্কসের বোতলের ছিপি৷

দ্য ক্যালক্যাটাজ


"কী দেখছেন"?

উত্তর ১ঃ কলকাতা।

উত্তর ২ঃ ক্যালক্যাটা।

উত্তর ৩ঃ ফোট্৷ ন্যাকাপনা৷ ক্লিশে৷

উত্তর ৪ঃ আর্কিটেকচারল ফিলোসোফিটা বুঝতে হবে ভায়া..এমারসন সাহেব যেমন তেমন লোক ছিলেন ভেবেছ? তবে শোনো..।

উত্তর ৫ঃ কলোনিয়াল হিস্ট্রি তো তলিয়ে দেখলি না..। তোকে শুরু করতে হবে ফিফটিন্থ সেঞ্চুরি থেকে, বুঝলি৷ য়ুরোপে তদ্দিনে..।

উত্তর ৬ঃ কদ্দিন কলকাতা যাইনি রে ভাই৷ কদ্দিন৷ কদ্দিন। মাস তিনেকের মধ্যে যাবই যাব।

উত্তর ৭ঃ ডিসেম্বরের কলকাতা৷ মফস্বলি ড্যাবডেবে একজোড়া সরল চোখ, তারা 'আরিব্বাস কলকাতা'র স্লোগান তুলে যা পাচ্ছে তাই শুষে নিচ্ছে৷ দাদুর কাঁধের ঝোলা থেকে বেরোবে স্টিলের টিফিন বাক্স৷ ঠাণ্ডা লুচি, ঠাণ্ডা আলুরদম, জলভরা সন্দেশ৷ কাগজের প্লেটের ওপর পড়লেই সে'ঠাণ্ডা লুচি-আলুরদমের স্বাদ তুরীয় লেভেলে চলে যায়৷ লুচি সাফ হলে দাদুর সঙ্গে মেমোরিয়ালের ভিতর মিউজিয়াম দেখা, ধীরেসুস্থে,খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে৷ "বাঁ-দিক থেকে দেখা শুরু করে ক্লকওয়াইজ যাব আমরা৷ কেমন ভাই"? তারপর বাগানে খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি৷ বাড়ি ফেরার পথে বেলুড়ে পিট-স্টপ, গঙ্গার ধারে খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি, খণ্ডন-ভববন্ধনের সুরমাখানো সন্ধ্যারতি। হাতে ততক্ষণে চলে এসেছে হাওড়া স্টেশনের হুইলার থেকে দাদুর কিনে দেওয়া গল্পের বই। পকেটে এসেছে লোকাল ট্রেনে কেনা কাঠিভাজা, সল্টেড বাদামের পাশাপাশি দিলখুশ মেঠাই৷ ভিক্টোরিয়ার শীতের দুপুরসহ ছোটবেলার একটা জরুরী টুকরো পকেটস্থ করে দাদু সরে পড়েছেন৷ ঠাণ্ডা লুচি আর আলুরদমকে অমৃতজ্ঞানে গ্রহণ করতে পারার বুকের পাটাও বেমালুম গায়েব৷ এ'ছবি হালফিলের, অথচ দিব্যি সে'সব ডিসেম্বরের হুহ-তে ভরপুর৷

মিঠে পান ও ওষুধ



- এই যে দাদা, একটা ফার্স্টক্লাস মিঠাপান দিন দেখি৷

- স্পেশ্যাল বানিয়ে দিই?

- দিন। তবে দেখবেন, স্পেশ্যালের নামে আবার গুলকন্দ ঠুসে ভরবেন না যেন৷

- তা অবিশ্যি ঠিক৷ কড়া মিঠে স্বাদে পান নষ্ট হয়৷
গোটা ব্যাপারটাই হচ্ছে সুগন্ধের খেলা।

- করেক্ট৷ অতিরিক্ত মিষ্টি খেতে হলে দু'পা এগিয়ে হরেনদার দোকান থেকে দু'টো গরম রসগোল্লা খেয়ে নেব৷ তাই না? পান মিঠে হবে আলতো আভাসে, কলার টানা মিষ্টি হলেই কেলেংকারি৷ টেস্টের পাঁচদিন একটানা যদি শুধু সিধুবাবুর কমেন্ট্রি হজম করতে হয়, গোলমাল হবে না?

- ঠিক৷ সুপুরি দেব তো?

- সুপুরি বাদে পান? মোটরসাইকেলের দুলুনি বাদ দিয়ে এই পথ যদি না শেষ হয়?

- হওয়া উচিৎ না, তাই না?

- কভি নহি৷

- গোটা গোটা টুকরো করে কাটা সুপুরি না মিহি কুচনো সুপুরি?

- চাঁদের পাহাড়ের অ্যাব্রিজড ভার্সন পড়তে নেই৷ মিহি কুচনো সুপুরির চলবে না৷ চেবানোর সাবস্ট্যান্স চাই। আর হ্যাঁ, এলাচের খোসাটা ফেলে শুধু দানাগুলো৷ কেমন? এ ব্যাপারে আমি একটু সেনসিটিভ।

- বহুত খুব। আমি তো বারবার বলি, পান ব্যাপারটাই ওই..আপনি যে'টা বললেন...সেনসিটিভ।

- এই যেমন আমার বাবা খান খয়ের ছাড়া সাদা পান৷ এক্সট্রা সুপুরি, অল্প এলাচ, সামানহ চমনবাহার৷ নো জর্দা৷ তিরিশ বছর বাবাকে দেখেছি, টেম্পলেট এ'দিক ও'দিক হতে দেখিনি৷ উনিও বলেন, পান ব্যাপারটাই সেনসিটিভ৷ তবে অত নীরস পান আবার আমার চলেনা৷ তাই এই মিঠে পানের ককটেল।

- আসুন৷ খেয়ে দেখুন দেখি৷

- দেখি দেখি৷

- কেমন?

- অত্যন্ত মোলায়েম৷ ঠিক যেমনটি চেয়েছিলাম। খুশবুতে ঘায়েল করেছেন। কত দেব?

- টুয়েন্টি রুপিজ অনলি।

- আসুন।

- একটা কথা বলি দাদা?

- দশটা বলুন পানবাবু। দশটা বলুন।

- এত রাত্রে একা বেরিয়েছেন শুধু পানের জন্য? পান আপনার নেশা তো নয়৷ নেশাড়ুরা স্পেশ্যাল মিঠেপানের খদ্দের হয়না। আর এত গল্পও জোড়েনা।

- উরিব্বাস৷ এ'টা পানের দোকান না দু'শো একুশের বি বেকার স্ট্রিট মশাই? তবে মোক্ষম ধরেছেন৷ রাত বাড়লে কাশির মত মনখারাপগুলোও বাড়ে। প্রথম ডোজে হেমন্তবাবু ইঞ্জেক্ট করি মনে৷ তারপর বিভূতিভূষণ৷ সে'টাও কাজ না করলে আই ওয়াক ইনটু আ পানশালা।

- সিগারেট চলে নাকি দাদা? না না, এ'টা বিক্রি নয়৷ আমি খাওয়াব।

- ও বদনেশাটা নেই৷ তবে দিন, ঠোঁটে ঝোলাতে আপত্তি নেই৷ আগুন জ্বালার ব্যাপারটা না হয় বাদই থাকল। অমন ভালোবেসে অফার করলেন, রিফিউজ করি কী করে।

- ও'তেই হবে৷ আসুন৷ গোল্ডফ্লেক।

- তা পানবাবু, সিগারেট অফার করলেন যে৷ আপনারও কি ওই কেস? মনখারাপ?

- মোক্ষম ধরেছেন৷ ওই, রাত বাড়লে যা হয় আর কী৷ আমার ওষুধ আবার কিশোরকুমার। ওই দেখুন, ওই সিডি প্লেয়ারে। তবে দু'একদিন গভীর রাতের দিকে স্রেফ কিশোরে বরফ গলেনা৷ সে'সব রাতে আমার বরাতে ঠিক স্পেশ্যাল মিঠে পানের খদ্দের জুটে যায়৷ ব্যাস, আমি অমনি একটা সিগারেট অফার করে ফেলি। মনখারাপের পানের ওপর দিলখোলা আড্ডার চুন-খয়ের লাগিয়ে দিলেই ঝামেলা শেষ।