Tuesday, July 7, 2015

ওম


-ওম শান্তি। ওম শান্তি। ইধার আ বেটা। ইধার আ।

-প্রণাম নেবেন স্যার... থুড়ি... বাবা।

-শম্‌সান কালী মাতা তেরা মঙ্গল করে। ওম শান্তি।

-বাবা আমার নাম...।

-চোপ! 

- চোপ? নিজের নাম বলব না?

- নাম! তুই আমাকে নাম বলবি? বস কর পগলে, হসায়েগা কা? তু বতায়েগা মুঝে আপনা নাম? ত্রিলোক ভ্রমণ করিয়ে এসেছি আমি।  তু কেয়া সমঝা রে মূর্খ? আমি তোর নাম-পতা-খবর জানি না? আমি তোর নাম জানি। তোর পতা জানি। তুই রেলওয়ে অফিসের ক্লার্ক আছিস সো জানি। তুই আমার শরণে তোর পত্নীর কথায় বাধ্য হয়ে এসেছিস, আমি সো ভি জানে। তোর মানিব্যাগে কেতনা পেয়সা আছে ও ভি জানি। ওম শান্তি।

-আপনি সব জানেন বাবা? 

- সব কুছ! সূরয কে অন্দর কিতনি গর্মি। চন্দ্রমা মে ক্যায়সি কলঙ্ক। ইলেকশন কউন জিতবে। সব। 

-প্রসেসটা কী?

-বেটা, যো ওম কো জানতা হ্যায় ও সব কুছ জানতা হ্যায়। ওম শান্তি। 

-সব কুছ তো আমিও জানি বাবা। 

-চোপ! বেওকুফ! 

-মাইরি। সূর্যে টেম্পারেচার পনেরো মিলিয়ন ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত যেতে পারে। চাঁদের ক্রেটারকে কলঙ্ক বলে আমরা পোয়েট্রি লিখি।  আর ট্যুইটার ফলো করলে ইলেকশনটা তো জলবৎ। তা’ছাড়া আপনি আমার মানিব্যাগের প্রসঙ্গই যখন তুললেন বাবা, তা’হলে আমিও বলি। আপনার মুখে ছাই মাখানো, এ’দিকে হাত আর পায়ে ম্যানিকিওর পেডিকিওরের ছাপ স্পষ্ট। কৌপীনে পকেট না থাক, আপনার লিকুইড অ্যাসেট তেমন কম নেই। ওমকে আমিও গ্রিপে এনেছি, কী বলেন?   

-অরে মূর্খ! সনসার মে রেহকে, তুই ওম কা সম্‌তা পেহচানবি কী করে?

-সংসারে থেকেই যে আস্‌লি ওমকে চেনা যায় বাবা।

- কেয়া মতলব? ত্রিলোক ভ্রমণ করিয়ে, ত্রিকাল জয় করিয়ে আমি ওমকে 
চিনলাম। আর তুই, সংসারী, ব্যাটা রেল অফিসের ক্লার্ক, বঙ্গালী, তুই চিনলি ওম? বতা মুঝে ফির, কেয়া হ্যায় ওম!

-বাবা, আত্মার শান্তি, জীবনের মোক্ষ হল ওম।

-বহুত খুব। লেকিন হ্যায় ক্যা চিজ ওম? মিলেগা ক্যায়সে? খুলকে বতা! 

-বলবো?

-জরুর বলবি! 

-ডিসেম্বরের রবিবারে; বুঝলেন কিনা বাবা। খাসির মাংসের ঝোল দিয়ে চাট্টি ভাত খেয়ে; বুঝতেই পারছেন বাবা। দুপুরে সুড়ুত করে লেপের তলায় ঢুকে পড়ে যে উষ্ণতা লাভ হয়, তাকেই ওম বলে বাবা। ওমকে আমি চিনবো না তো কে চিনবে বাবা? তবে দুঃখের কথা কী আর বলব আজকাল কি আর সে সুখ বেশিদিন ভোগ করার উপায় আছে? এখন তো ফেব্রুয়ারি মানেই উইন্টার কা মউত। 

-বেটা, তু যা। চলা যা।

-চলে যাব? বৌ ভেজলে যে, আপনার কাছে জ্ঞান লেনে কে লিয়ে।

-মেরে পাস ভি ওম, তেরে পাস ভি ওম। অউর তেরা ওম কা শক্তি মেরা ওম সে জিয়াদা হ্যায় বেটা। ইধার সে চলা যা। চলা যা।

Sunday, July 5, 2015

সিরিয়াল মার্ডার

-তাহলে এটাই তোমার ফাইনাল ডিসিশন অর্পণ। তুমি আমায় খুন করবেই।
-আমার কী উপায় আছে বল মহুয়া। অ্যাজ আ হাজব্যান্ড এটা আমি কখনও চাইনি করতে। কিন্তু যেহেতু তুমি ডিভোর্স ফাইল করে বসলে আমার আর কোন উপায় নেই। ই নো টু মাচ।
-তোমার কালো বিজনেসের কিছুই আমি ফাঁস করবো না। এই পাগলামি বন্ধ কর। রিভলভারটা সরিয়ে রাখ।
-সরি মহুয়া। তুমি এতটাই জানো যে তোমায় আর বিশ্বাস করা চলে না। তুমি ডিভোর্সের জন্য আর পুশ না করলেও আমি তোমার আর ট্রাস্ট করতে পারি না। সরি মহুয়া।
-প্লীজ অর্পণ।
-সরি মহুয়া।
*দ্রুম দ্রুম*
---
-অর্পণবাবু, তাহলে আপনি বলছেন মহুয়া দেবী অনেকদিন আগেই মারা গেছেন। আর গতকালের গুলি চালানোর কেস্‌টা...।
-আপনার কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকলে আমার কিছু করার নেই ইন্সপেক্টর। ফ্যাক্ট ইজ ফ্যাক্ট। মহুয়ার আত্মা রোজ রাতে আমায় হন্ট্‌ করতে আসে। আমি মার্ডার করার রোল প্লে না করা পর্যন্ত সে গায়েব হতে চায় না। পাক্কা দু'টো বুলেট খরচ করার পর সে গায়েব হয়। অফ কোর্স আই ট্রাই নট টু এইম অ্যাট হার। কিন্তু তবু, ইট্‌জ ট্রমাটিক।
--
-আপনি জানেন আপনি কী বলছেন মহুয়াদেবী?
-বারবার এক কথা কেন জিজ্ঞেস করেন ইন্সপেক্টর? জানোয়ারটা বিয়ে করে আমার সর্বনাশ করেছে। এখন মরেও আমায় শান্তিতে থাকতে দিতে চায় না। রোজ রাত্রে অর্পণের ভূত আমায় খুন করার ভয় দেখাতে আসে। এবং চেষ্টাও করে মার্ডার করতে। আই জাস্ট হ্যাভ ট প্লে অ্যালং টু মেক হিম বিলিভ যে আমি ভয় পেয়েছি। রোজ একটা ভুতুড়ে রিভলভার বের করে আমায় দু'বার গুলি করে এবং তারপর সে গায়েব হয়। গুলিগুলো ওর মতই হাওয়াবাজ, আমার গায়েও লাগে না। কিন্তু এই ট্রমা আর কতদিন?
--
- ডক্টর, এই খেলনা রিভলভারটা নিয়ে আপনি ওয়ার্ড ভিজিটে যান কেন?
-তুমি এখানে নতুন ডক্টর দীপক, তাই জান না। এই খেলনা রিভলভারটা নিয়ে যাই মেল ওয়ার্ডের চারশো বাইশ নম্বর পেশেন্ট আর ফিমেল ওয়ার্ডের দু'শো বারো নম্বর পেশেন্টের জন্য। ম্যারেড টু ইচ আদার। দাম্পত্য কলহ এমন জায়গায় পৌঁছোয় যে দুজনকেই অ্যাসাইলামে আসতে হয়। একে অপরের প্রতি ঘৃণা এতটাই প্রবল যে একে অপরের অস্তিত্বকে কেউ স্বীকার করতে চায় না। কিন্তু অ্যাজ আ পার্ট অফ ট্রিটমেন্ট রোজ সন্ধ্যাবেলা দু'জনকে মুখোমুখি আনি ফর আ রোল প্লে। এই রিভলভারটা সে জন্যেই।
-রোল প্লে? ট্রিটমেন্ট?
-ওয়েল। আজ দেখাব তোমায়। ফ্যাক্ট ইজ, ঘৃণার বাঁধন দাম্পত্যকে ভালোবাসার মতই স্ট্রং করতে পারে। ওদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ওদের কনেক্ট ঘৃণার সূত্রে হলেও একে অপরকে দিনে একবার অন্তত না দেখে ওরা থাকতে পারে না; ওদের পাগলামি আরও বেড়ে যায়। কভার্ট ভালোবাসা; যেটার এক্সপ্রেশন পায় নিয়মিত খুন করা আর খুন হওয়ার নাটকে। আর আমায় ওরা কখনও ভাবে ওঝা আর কখনও ইন্সপেক্টর। এভাবেই চলছে। লেট্‌স গো।


---


শাটার আইল্যান্ড সিনেমার কাঁচা অ্যাপ্রিসিয়েশন। 

জানালা

খড়াক!

এই নিয়ে তৃতীয় বার অনিন্দ্যর মাথার কাছের জানালাটা সশব্দে খুলে গেল। প্রত্যেকবারই শশব্যস্ত হয়ে তাকে মশারি ঠেলে উঠতে হয়েছে। একটানা ঝড় বাইরে; জানালাটা তৎক্ষণাৎ বন্ধ না করলে ঠাণ্ডা লেগে ছেলেটার শরীর আরও বিগড়ে যেতে যেতে পারে। জানালার ছিটকানিতে নিশ্চয়ই কোন গণ্ডগোল হয়েছে।
অনিন্দ্যর চার বছরের ছেলে মিলুকে নিয়ে ক’দিন ধরে যমে মানুষে টানাটানি; রক্তে কিছু সাংঘাতিক ইনফেক্‌শন। রিমা মিলুকে বুকে চেপে বিছানায় ঘুমিয়ে।রিমারও কিছুদিন ধরে যা ধকল যাচ্ছে; ছেলে বুকে অসাড় হয়ে ঘুমোচ্ছে সে। সে জন্যেই প্রত্যেকবার অনিন্দ্যকে হুড়মুড় করে উঠতে হচ্ছে জানালা বন্ধ করতে। তৃতীয়বারের জন্য জানলা বন্ধ করে, বিছানার পাশের টেবিলের ওপর থেকে জলের বোতলের ছিপি খুলে দু’ঢোক মুখে নিলে সে। নাইট ল্যাম্পের আবছা আলোতে রিমার ক্লান্তি মাখা ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে কী ভীষণ মন খারাপ হয়ে গেল অনিন্দ্যর। কী দুশ্চিন্তাতেই না কাটছে এ ক’দিন। মিলু ভালো হয়ে উঠবে তো? কোন চেষ্টারই ত্রুটি রাখা হচ্ছে না অবশ্য। মোবাইলের স্ক্রিন অন করে সময় দেখলে অনিন্দ্য; ঠিক রাত তিনটে বাজে। 

**
ঝড় কমছে না এই একটা সুবিধে। এই নিয়ে চতুর্থ বার জানালা খুলতে জোর লাগাল মিলু। এত আনন্দ হচ্ছে; কতদিন পর তার গায়ে আর জ্বর নেই। কিন্তু মুস্কিলটা অন্য জায়গায়। সেই যে মিলু দু’ঘণ্টা আগে ঘরের বাইরে চলে এলে; এখন আর চাইলেও ঘরের ভিতরে আসতে পারছে না সে। বারবার হুড়মুড় করে ঠেলে জানালা খুলে দেখতে হচ্ছে বিছানায় মা শুয়ে তার ঠাণ্ডা শরীরটা জাপটে। বাবাটা বিচ্ছিরি; এত কষ্ট করে মিলু জানালাটা খুলছে আর অমনি বাবা প্রত্যেকবার ধড়ফড়িয়ে উঠে জানালাটা বন্ধ করে দিচ্ছে। মিলুর হাঁকডাকও বাবা বা মা ; কেউই শুনতে পারছে না। এর কোন মানে হয়?

প্রশ্ন

-বাবা, ঘুমিয়ে পড়েছ?
-না।
-কেন ঘুমোওনি?
-ভাবছি।
-কী ভাবছ?
-তুই এত প্রশ্ন করিস কেন। তাই ভাবছি।
-তাই ভাবছ কেন?
-কারণ উত্তরগুলো আমাকেই দিতে হয়।
-উত্তরগুলো তোমাকেই দিতে হয় কেন?
-কারণ তোর মা ভোঁসভোঁস করে ঘুমিয়ে চলে, এই মেশিনগানের মত প্রশ্নগুলো তাই আমাকেই হ্যান্ডল করতে হয়।
**
-আমি ভোঁসভোঁস করে ঘুমোই?
-কই না তো।
-তবে তুমি ছেলেকে এই মাত্র বললে কেন?
-তুমি ঘুমিয়ে গেছিলে বলে এক্স্যাজারেট করে বলে ফেলেছি।
-এত এক্স্যাজারেট কর কেন কথায় কথায়?
-না মানে। ছেলেটার এত প্রশ্ন করে পদে পদে।
-প্রশ্ন করা কি খারাপ?
-না খারাপ কেন হবে।
-খারাপ যদি না হয় তাহলে তুমি বিরক্ত হচ্ছ কেন?
-আসলে সব কথাতেই যদি প্রশ্ন থাকে তাহলে...
-তাহলে কী?
-কিছু না। ঘরটা কেমন গুমোট লাগছে। তুমি ছেলেকে নিয়ে ঘুমোও, আমি ভাবছি ড্রয়িং রুমের সোফায় ঘুমিয়ে নেব আজ। প্লীজ।
**
-খোকা তুই সোফায় শুয়ে কেন?
-এমনি মা। ও কিছু না। তুমি আবার উঠে এলে কেন। শুয়ে পড়।
-বৌমার সাথে ঝগড়া হয়েছে?
-না। ঝগড়া হয়নি। আসলে মা ছেলে মিলে এত সওয়াল করে চলেছে একটানা।
-কিরকম সওয়াল?
-সব ফালতু সব প্রশ্ন।
-ফালতু প্রশ্ন বলছিস কেন?
-প্রশ্ন করতে হয় তাই করছে। তাই ফালতু।
-কোন প্রশ্ন করতে হয় বলে করা খোকা?
-ইয়ে মা। সোফায় কেমন অসোয়াস্তি হচ্ছে। ঘুম আর আসছে না। ভাবছি ছাতে একটু পায়চারী করে আসবো। প্লীজ।
**
-চ্যাটার্জি সাহাব আছেন নাকি ওখানে?
-হ্যাঁ। কে কেয়ারটেকার বুঝি!
-জি সাব। আপনি এত রাত্রে ছাদে কেন সাহাব?
-এমনি। হাওয়া খানে কে লিয়ে আয়া হ্যায়।
-ঘর মে এসি খারাব হ্যায় কেয়া সাহাব?
-না।
-ফির ছত পে হাওয়া কে লিয়ে কিউ আয়া সাব?
-আমি ঝাঁপ দেনে কে লিয়ে আয়া হ্যায়। ভাগো হিয়াসে।
-ঝাঁপ দেনে মতলব সাব?
-আউর এক সওয়াল করেগা তো হাম তুমকো মার ডালেগা।
-কিউ সাব। মেরা কেয়া কসুর?
**
-কী রে খোকা, হঠাৎ ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলি কেন?
-প্রশ্নের ভয়ে বাবা।
-প্রশ্নের ভয়ে মানে?
-ছেলের প্রশ্নের ভয়ে পাশ ফিরে শুলাম। বৌয়ের প্রশ্নের ভয়ে বেডরুমে ছেড়ে ড্রয়িং রুমে শুতে এলাম। মায়ের প্রশ্নের ভয়ে ছাতে উঠে এলাম।শেষে কেয়ারটেকারের প্রশ্নমালা সহ্য করতে না পেরে ঝাঁপ দিলামl
-তা ঝাঁপ দিয়ে কী লাভ হল?
-অক্কা পেলাম। মন্দের ভালো এই যে তোমার সাথে এদ্দিন পরে দেখা হল।
-অক্কা পেয়ে কী বুঝলি?
-ভূত হয়েও শান্তি নেই। প্রশ্ন থামে না।
-অতএব?
-অতএব, নেক্সট কোশ্চেন প্লীজ।

Saturday, June 27, 2015

খাবার

-কতটা নৃশংস হলে মানুষ কুকুর খেতে পারে গো?

-যতটা নৃশংস হলে ইলিশ বা পাঁঠা কেটে খাওয়া যায়, ততটা হলেই চলবে।

-পাঁঠা কাটা আর কুকুর কাটা এক জিনিষ গো?

-একই তো। প্রোভাইডেড কাটার অবজেক্টিভ যদি একই হয়; তাদের মাংস খাওয়া।

-কুকুরের মাংস তোমার পাতে দিলে খেতে পারবে বুঝি?

-বায়াস্‌ড প্রশ্ন করছ নীলা। যার কাছে কুকুরের মাংস সুস্বাদু, সেও হয়তো পাঁঠার মাংসে ঘেন্না পেতে পারে। অথচ পাঁঠা ভক্ত আর কুকুরের মাংস বিলাসী দু'জনেই মোজার্ট রসিক হতে পারে। দু'জনেই সমান ভাবে সভ্য এবং সমান ভাবে অসভ্য।

-ছিঃ, তুমি আমার বর হয়ে যে কী করে এমন ব্রুটের মত কথা বলতে পারো মাঝে মাঝে। এটা জেনেও যে আমি কুকুর অন্ত প্রাণ। এরপর কবে বলবে আমায় কেটে ফেললেও সেটা মাগুর মাছ কাটার চেয়ে  বড় কোন অপরাধ হবে না।

-প্রোভাইডেড যদি তোমাকেও ঝোলে ফেলে খাওয়ার তাল করি।

-খেতে পারবে নাকি?

-প্র্যাকটিসে কী না হয়। 

-তুমি মানুষ খাওয়ার প্র্যাকটিস করছ?

-তাহলে বলেই দিই। তোমার এত প্রশ্ন আর সহ্য হচ্ছে না। 

-কী বলে দেবে? 

-আমি প্র্যাকটিস শুরু করেছি। তোমার মা যখন মারা গেলেন, তার কয়েক মাস পরে যখন তোমার বাবা মারা গেলেন; তাদের দাহ করার সময় কোন আত্মীয়স্বজনকে কাছে ঘেঁষতে দিইনি কেন জান?

-কেন?

-কারণ তাদের দাহ করিনি আমি নীলা। আমি অভ্যাস করেছি তাদের মাংসে।

-কী পাগলের মত কথা বলছ। গলা থেকে হাত সরাও।

-রিয়েলি নীলা। অভ্রর সঙ্গে তোমার ব্যাপারটা গোড়াতেই নজরে চলে এসেছিল গো আমার। শুধু স্ত্রী হত্যার মত নোংরা পাপটা করতে চাইছিলাম না! কিন্তু খাওয়ার জন্য হত্যা করাটা পাপ নয়। আমরা ইলিশ মারি, ডিম ফাটাই, মুর্গি কাটি; তাতে পাপ নেই। কারণ তাদের আমরা খাই। আমি মানুষ খেতে শিখেছি। সেই তোমার বাপ-মাকে দিয়ে শুরু। গত ছ'মাস ধরে প্রতি শনিবার আমি অফিসের ট্যুরের নাম করে তারাপীঠ গিয়ে রাত কাটাই গো। তুমি যখন অভ্রর সাথে রাত কাটাও, তখন আমি শ্মশানে সময় কাটাই। নতুন মাংসের স্বাদে নিজের জিভটাকে অভ্যস্ত করে তুলি। রিয়েলি। ইট্‌স নট দ্যাট ব্যাড রিয়েলি।

-গলা ছাড়! তুমি উন্মাদ হয়ে গেছ। আ...আহ...প্লীজ...।

-সরি। সরি গো। এখন বুঝতে পারছ তো আজ ডিনারটা কেন স্কিপ করেছিলাম?