Sunday, January 26, 2014

শুভ ২৬ জানুয়ারি

                       প্রথম ও শেষ দৃশ্য
  
-   দাদা,  আমার পিছনে টিকটিকি তুই লাগিয়েছিস ?

-   সে জবাব কি আমি তোকে দিতে যাব ?

-   আমার পিছনে টিকটিকি লাগাবি তুই, আর জবাব দেবে কি আমাদের বাবা ?

-   নিজেকে আর নিজের সংসারকে বাঁচানো তো আমারই দায়িত্ব পিকু। তুই নিজে বখে ক্ষান্ত হলি না, এখন আমার সর্বনাশ করতে চাস ?

-   তোকে কাঠি করতে আমার বয়ে গেছে। উত্তরপাড়ার জমিটা আমায় লিখে দে, ল্যাঠা চুকে যাক।

-   বাবার উইল’য়ে যে হিসেব স্পষ্ট আছে, তা নিয়ে আমায় উত্ত্যক্ত করার কি মানে পিকু ?

Tuesday, January 21, 2014

খোসা ছাড়ানোর গল্প


টকটকে লাল সূর্য। ভোরের। লালচে কালো সমুদ্র। সূর্যের গালে আঁচিলের মত একটা পাখির মেলা ডানা। দেশলাই বাক্সের ওপর এমন হলমার্ক মার্কা ছবি খুবই কম দেখা যায়।

তবে সেই টকেটকে সূর্যোদয়ের ছবি হার মানিয়ে যা চোখ টেনে নেয় তা হচ্ছে সেই মেয়েটির চোখ যার হাতে দেশলাইটা ধরা আছে। সপাট তাকিয়ে মেয়েটি। বুকের মধ্যে ছ্যাঁত যেটা লাগে সেটা দেশলাইয়ের বারুদের নয়; অন্য কিছুর।  

ল্যাম্পপোস্টের কোমর আঁকড়ে ছিল দেশলাই বিজ্ঞাপনের পোস্টারটি আর পোস্টারের সেই খুনে দৃষ্টির মেয়েটা। দু একটা যৌনরোগ বিশেষজ্ঞের প্যাম্পফ্লেটের দাপটে দেশলাই মডেলটির পেটের দিকটা রহস্যময় ভাবে বাদ পড়েছে।

ল্যাম্পপোস্টটা যে বেশ পুরনো তা  ফটোটা খুঁটিয়ে দেখেই মালুম হবে।  এসপ্ল্যানেডে তোলা।  ফটোগ্রাফার ধীমান দত্ত। নিউ আই ফটোগ্রাফি ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে মোমবাতির মত জ্বলজ্বল করছিল ছবিটা। 

নিউ আই ফটোগ্রাফি ম্যাগাজিনের কভার দিয়ে ঝালমুড়ির ঠোঙা ? ভাবা যায় ? ভদ্রলোক মুড়ি চিবোতে চিবোতে হয়তো উদাস হয়ে এটাই ভাবছিলেন।

আনন্দবাজারের প্রথম পাতায় এমন মুড়ি চিবুনো ভুঁড়ি-ওয়ালা মধ্যবিত্তের ছবি সচরাচর দেখা যায় না। আজকের কাগজেও থাকার কথা ছিল না। নেহাত “মরা টেস্টে নায়ক ইডেনের গ্যালারি” শিরোনামের ছবিতে, ইডেন গ্যালারির একটি পরিস্ফুট বিন্দু হয়ে আনন্দবাজারে উদয় হয়েছেন তিনি।

Friday, January 17, 2014

অবিচুয়ারি নয়

-      কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে আপনি হ্যাঁ বলাতে চাইছেন ?
-      ঠিক তাই।
-      বেশ। আমি রাজি।
-      রিয়েলি ?
-      সিরিয়াসলি বলছি। শুধু একটা প্রশ্ন সুখদেও বাবু। এত পোষা গুণ্ডা থাকতে, আপনি আমার মত পাতি গোয়েন্দাকে দিয়ে এই খুনটা কেন করাতে চাইছেন ?
-      কারণ, নিয়মিত ওনার কাছে যাওয়ার সুযোগ আপনার রয়েছে অনিন্দ্যবাবু।
-      ও, সে খবরও রাখেন দেখছি।
-      আলবাত। আমি জানি যে সুনেত্রা-দেবী আমার ক্লায়েন্টের ব্যাপারে খবর আদায় করতে গোয়েন্দা লাগিয়েছেন। আর এমন গোয়েন্দা লাগিয়েছেন যার সাথে অন্য কোনও ফিল্ম অ্যাক্টর বা সেলিব্রেটির বিন্দু মাত্র যোগাযোগ নেই। পুলিশ যাকে পাত্তা দেয় না। আমরা এও জানি যে উনি আর ওনার মেয়ে ছাড়া আপনার এই নতুন তদন্তের খবর কেউ জানে না। তাই আমি ঠিক করেছি, যে ওনার ফেউ গোয়েন্দা দিয়েই ওনাকে খুন করাবো।

Wednesday, January 15, 2014

অন্য

বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মুখে ছুটে ট্রামে উঠতে গিয়ে গড়বড় করলেন আশুতোষ। পা ফসকে পপাত চ। সন্ধ্যের ভিড়, বাস-ট্যাক্সিতে মাখা-মাখি রাস্তা, সাই সাই করে অটোরিকশা ছুটছে; পা ফসকে ট্রামের চাকার তলায় যাবেন না মিনিবাসের টায়ার জুটবে এসব ভাবতে ভাবতেই ধপাৎ করে পড়লেন কাঠের মেঝেতে!

কি মুস্কিল। বালিগঞ্জ ফাঁড়ির পিচের রাস্তা হয়ে গেল হলদে কাঠের মেঝে ? আশেপাশে তাকিয়ে আশুতোষ দেখলেন ঘন চাপ চাপ অন্ধকার। কিছুই তেমন দেখা যায় না। এ যে ভোজবাজি। ছিলেন কলকাতায় আর এলেন এ কোথায় ? তবে কি তিনি মারা গেছেন ? পেছন থেকে বাস এসে তার মাথা চটকে দিয়ে গেছে ? কি চাপ। বেয়াল্লিশে মারা গেলে তেমন ক্ষতি ছিল না, কিন্তু এল-আই-সি’টা আগামী মাসে ম্যাচিওর করছিল। গিন্নী সব কিছু ঠিকঠাক ম্যানেজ করতে পারলে হয়। 

টের পেলেন কোমরে চিনচিন ব্যথা হচ্ছে। মরে গেলে কি ব্যথা-ট্যাথা হওয়া উচিৎ ছিল ? মহা-মুশকিল।   গায়ে  রক্ত-টক্ত লেগে নেই, আত্মার গায়ে রক্ত লাগা উচিৎও নয়। কিন্তু আশুতোষবাবু অবাক হলেন এই ভেবে যে পরলোকের চেহারা এত ম্যাড়ম্যাড়ে কেন ? স্বর্গ-সুলভ জেল্লা নেই, নরক-গোছের হ্যঁচড়-প্যাঁচর নেই।   শুধু এই হলদে কাঠের মেঝে।

অন্ধকারে চোখ একটু থিতু হতে আশুতোষ টের পেলেন যে মেঝে জুড়ে রকমারি জিনিষপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। চিরুনি, মানিব্যাগ, বর্শা, সিনেমার টিকিট, কলম, হামানদিস্তা; কি নেই সেখানে। প্রবল ঘাবড়ে গেলেন আশুতোষ। তবে কি স্বপ্ন  ? নিজেকে চিমটি কাটলেন। ছেলেবেলায় ভদ্রেস্বরের বেণুমামার থেকে রাম-চিমটি কাটা শিখেছিলেন। ব্যথায় ককিয়ে উঠলেন তিনি। লে হালুয়া।

Saturday, January 11, 2014

সে

প্রথম পর্ব

সিদ্ধার্থ জানলা খুলে অবাক হয়ে গেলেন। আচমকা এত মেঘ এলো কোথা থেকে ? পাহাড়ি এলাকায় অবিশ্যি এটাই মজা। রিসেপশনে ফোন করে আরেক কাপ চায়ের অর্ডার দিতেই হল।

দ্বিতীয় পর্ব

-   সিদ্ধার্থর লাশটা অন্তত...
-   না মানসবাবু, পাওয়া গেল না...গোটা সিকিম প্রায় চষে ফেলা হল।
-   ইন্সপেক্টর দাসগুপ্ত, ব্যাপারটা তো নাও ঘটে থাকতে পারে ?
-   সুইসাইড নোট এর আগে বহু কেসে ফাঁপা বেরিয়েছে। সেটা বিশেষ অ্যানন্যাচুরাল নয়। ইনফ্যাক্ট, আপনি সিদ্ধার্থবাবুর দাদা হিসেবে ওর চারিত্রিক ব্যাপারগুলো হয়তো বেশি আঁচ করতে পারবেন।তবে মাস খানেকেও যখন কোনও খবর পাননি...
-   ও আর যাই হোক, সুইসাইডের দিকে ঝুঁকবে এটা বিশ্বাস হয় না। এনিওয়ে, আপনি যা করলেন, আপনার প্রতি এই মিত্র পরিবার চিরকৃতজ্ঞ থাকবে ইন্সপেক্টর দাসগুপ্ত।
-   কিছু আর করতে পারলাম কই মানসবাবু।
-   সিক্রেটটা যেন...