সমুদ্দুরের ধারে বসে। রাত সোয়া এগারোটা। শেষ ডিসেম্বর। ছ্যাত করে ছুয়ে যাওয়া হাওয়া। পুরোনো দীঘার সৈকত-চত্তর প্রায় সম্পুর্ন ফাঁকা। শেষ চা-ওয়ালা এলুমিনিয়ামের বালতি বয়ে ওয়াপস চলে গেছে আধ ঘণ্টা
আগে। এই ঠান্ডায় একটু চা পেলে মন্দ হতো না কিন্তু উপায় নেই; তার জন্যে হোটেলে ফিরতে হবে।
কিন্তু বসে থাকতে থাকতে নেশা ধরে গেছিলো। উঠতে গভীর অনিচ্ছা। অগত্যা গায়ের শালটাকে
আরও আঁকড়ে বসলাম।
অফিসের সঙ্গী-সাথীরা
হোটেলে আড্ডায় মশগুল। ফেরত গেলে সেই গতানুগতিক আধো-অফিস-আড্ডা। ধুর। সমুদ্রের ধারে এমন
নিরবিলি খুঁজে পেলেই বাপ্টু’দার
সেই অমোঘ বাতেলাতা মনে পড়ে যায় ; “ সমুদ্রের বালি-জল-হাওয়া
মেলানো পরিবেশের মত এমন ল্যাদানুকূল পরিবেশ আর হয় না। হুল্লোড় বিহিন সমুদ্রের দিকে চেয়ে থাকার চেয়ে স্বাস্থকর মেডিটেশন আর হয়
না।
ছোটমামা বলেন;
পুরীর সমুদ্র হচ্ছে সত্যজিত আর দীঘার সমুদ্র হচ্ছে সন্দীপ। অনস্বীকার্য। তবে পুরোনো দীঘার সৈকতের এই বিশেষ নিরবিলি
অঞ্চলটি আমার ভীষণ প্রিয়, খোঁজ দিয়েছিলো ছোটমামা'ই।
আলু-থালু ভাবতে ভাবতে চোখে একটু ঝিম লেগে এসেছিলো এমন সময়
অনুভব করলাম পিঠে কেউ হাত রেখেছে।