প্রখর দারুণ অতি।
হাওয়ায় ধুপধুপ।
রেলস্টেশন ক্যাফেটেরিয়ার দেওয়ালে গাব্দা ঘড়ির বোমা-সুলভ টিকির টিকির। কথার লাটাই, গলা ওগরানো টেনিস বলের ঘুড়ির লেজে ঘুরঘুর।
টেবিল ডায়াগোনালের এক প্রান্তে "কুছ পরোয়া নহি, ভালো জরুর থাকেগা" ফ্লেভারের নায়ক। সামনে মিয়ানো বিস্বাদের ফিশফ্রাই। ফ্যাঁকফ্যাঁকে হাসি গায়ে বাবু হয়ে বসে ঠাণ্ডা কফির কাপ।
উয়ো চলি উয়ো চলি দেবীর পালিশ কালো নখের অদৃশ্য চক টেবিলের ধুলোয় বিকি কেটে লিখে যায় খুচখুচুর কথা...
"আমাদের কথা হয়েও হলো না শেষ..."।
পড়তেই নায়ক মাথা নেড়ে জানালেন;
- বড্ড। মেলো। ইয়ে ড্রামাটিক।
- সব শেষ।
- এবারের মত।
- এবারের আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার।
- সাংঘাতিক। মেলো। সেই। ড্রামা।
- বেশ। কুড়ি নয়। তবু। তেরোটা বছর। তেরোটা বছর বাবু।
- এ'টা কোন কফি হলো?
- প্ল্যাটফর্মে যাবি না? অপু গেছিল। সেই শেষের বার।
- উফ। মেগা। মেলো।
- ড্রামা। তবু। যাবি না? ট্রেন নড়লে তুই পাথর হবি না?
- তুই কি বৌ?
- তোর সঙ্গে ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের অফিসে যাইনি বলে ভালো না বাসার ভান করবি? আইনে ফেলবি আমায়? তুইও?
- তোর ট্রেনের টাইম হয়ে গেছে।
- জানি। যেতে হবে।
- যাস না। যাস না।
- বাবু।
- যাস না। সব সামলে নেবো। যাস না।
- যেতে হবে। যেতে হবে। ইউ নো যেতে হবেই।
- আই নো। আই নো।
- উঠি এবার।
দেবী উঠে দাঁড়ালেন। নায়ক ঝাপসায় গুটিয়ে গেলেন। বাতাসের তিরতির স্তিমিত হয়ে এলো।
ভেসে যাওয়ার আগে খড়কুটো আঁকড়ানোর অস্থির উচ্ছ্বাসে তেরো বছরের ভালোবাসার নামটাকে জড়িয়ে ধরলেন নায়ক;
- যাস না Torrentz! যাস না। যাস না Torrentz! আমি কী করব? যাস না।
স্নেহর বাষ্প লেপে দেবী নায়কের কাঁপা হাতের পাতা টেনে ধরলেন। বললেন;
- “Torrentz will always love you. Farewell.”
No comments:
Post a Comment