Sunday, March 16, 2025

খবর

- স্টাম্পিডের খবরটা শুনলে মামা?
- না।
- সে এক সাংঘাতিক ব্যাপার...গতকাল রাতের দিকে হয়েছে কী..।
- কী ব্যাপার, অত কথা বলছিস কেন?
- এই যে শোনোনি বললে! সিরিয়াস ব্যাপার মামা, হয়েছে কী..।
- বেশি ইনফর্মেশনে আমার ডাইজেশনে অসুবিধে হয়।
- এতগুলো মানুষ জাস্ট..।
- তোর যত ফড়ফড়ানি শুধু নেগেটিভ নিউজ নিয়ে। হ্যাঁ রে, এই যে সে'দিন পাড়ার পার্কে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো চালু হলো, সে'দিন তো সকাল সকাল গল্প ফাঁদতে আসিসনি।
- যা বাবা। কোথায় কী..।
- তবে হ্যাঁ। অল ইজ নট ওয়েল। শেয়ার মার্কেটের অবস্থাটা দেখছিস তো।
- কী হয়েছে?
- এই দ্যাখো। আসল ম্যাক্রো ইস্যুগুলো নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে যত মাইক্রো সমস্যা নিয়ে সকাল সকাল গলা ফাটায়। শোন। হয়েছে কী, ট্রাম্প আসার পর থেকে যদি ইন্টারেস্ট রেটের ট্র্যাজেক্টরিটা ফলো করিস..।
- মামা, আজ আসি। আমার একটা জরুরী মাইক্রো লেভেলের কাজ আছে।

অভয়ের ভালোবাসা

- অবিনাশ!
- ঘুম ভাঙলো?
- ব্যথাটা এ'বার টের পাচ্ছি বটে।
- ক্রমশ বাড়বে।
- হুম।
- এক গেলাস জল দেব অভয়দা?
- না। থাক। মৃতপ্রায় মানুষের ওপর জল নষ্ট কোরো না। স্কার্স রিসোর্স।
- জ্যান্ত মানুষ বলতে তো এখন আমি আর আপনি পড়ে। আধ জেরিক্যান জল এখনও স্টকে রয়েছে। দিব্যি আরো দিন দুই কেটে যাওয়ার কথা।
- তবু। পেনকিলার হিসেবে অফার করে নষ্ট কোরো না। আর রেস্কিউ টীম পৌঁছতে অন্তত আরও দিন তিনেক। এ'খানে এসেও আমাদের খুঁজেপেতে বের করতে পারবে কিনা..। আমি যদি আজ রাত্রের মধ্যেই মারা যাই, তা'হলে এ জল দিয়ে তুমি অন্তত দিনচারেক..।

*****

- আপনার কী খেতে ভালো লাগে অভয়দা?
- রুটি আর ঝিঙের তরকারি।
- এ'খান থেকে বেরোতে পারলে আপনাকে একদিন খাওয়াবো। রুটি আর ঝিঙের তরকারিই হবে। তখন আবার পোলাও মাংস চেয়ে লজ্জা দেবেন না।
- উঁ।
- ব্যথা বাড়ছে।
- বাড়বে আরও অভয়দা।

*****

- অবিনাশ, বড় বিশ্রী যন্ত্রণা যে, আর কতটা বাড়বে?
- মৃদুল, হারুণ আর অজিতের এক্সপিরিয়েন্স যা ছিলো , তা'তে আমার ধারণা এক সময় ব্যথার চোটে অজ্ঞান হয়ে পড়বেন।
- ওদের কি জ্ঞান ফিরেছিল?
- সম্বিৎ মাঝেমধ্যে ফিরেছে হয়তো। দু'এক সেকেন্ডের নড়াচড়া। আবার তলিয়ে গেছে। তাদের মগজ হয়তো সে অর্থে আর সচল ছিল না।
- জ্ঞান হারানোর কতক্ষণের মধ্যে...? আই মীন হাউ লং ডিড দে..।
- মৃদুল অজ্ঞান অবস্থায় ঘণ্টা কয়েক টিকে ছিল। হারুণ বড়জোর মিনিট চল্লিশ। অজিত হারুণের চেয়ে সামান্য বেশি।
- ওরা কি...ওরা কি...সাফার করেছে খুব?
- আমি ডাক্তার নই। কাজেই নিশ্চিত নয়। তবে কেউই বিশেষ ছটফট করেনি।

*****

- আহ। বড্ড ব্যথা অবিনাশ।
- বাড়ির কথা মনে পড়ছে?
- না। সবকিছু বড্ড ক্লা..ক্লাউডেড। যন্ত্রণা। অবিনাশ। যন্ত্রণা।
- আপনার স্ত্রী, মেয়ে; তাদের মনে পড়ছে না?
- পড়ছে..অথচ সমস্ত ঝাপসা...। মুখগুলোও ঝাপসা..। আ..আমার স্ত্রীর..স্ত্রীর নামটা...।
- সুমনা। আপনার মেয়ে মৌ, ক্লাস ইলেভেনে পড়ে। দারুণ ব্যাডমিন্টন খেলে, লেখাপড়াতেও চৌকস। আপনারা গত মাসে হিমাচল ঘুরে এলেন।
- এই মুহূর্তে তো ওদের কথাই মনে পড়া উচিৎ অথচ..।

****

- যন্ত্রণাটা বাড়ছে অভয়দা?
- খুউব। আমি আর পারছি না।
- আর বেশিক্ষণ নয়। বৌদির কথা ভাবুন। মৌয়ের কথা।
- চারদিক বড় অন্ধকার অবিনাশ। ও..ওদের মুখগুলো কেন মনে আসছে না।
- অভয়দা..।
- ভালোবাসা টের পাচ্ছি..যন্ত্রণার মত স্পষ্ট...হাড়ে-মাংসে মিশে যাচ্ছে...।
- ভালোবাসা?
- ওদের বোলো। আমি খুউব ভালোবেসেছি। যন্ত্রণায় নাম মুখ আবছা হলো অথচ..।

*****

- এই মুহূর্তে যন্ত্রণা কতটা? এক থেকে দশের স্কেলে?
- আহ অবিনাশ। তুমি বেঁচে ফিরলে তাদের বোলো আমি বড় ভালোবাসা নিয়ে মরেছি। সে কী মারাত্মক যন্ত্রণা, তার চোটে মানুষ গুলিয়ে যায়। কিন্তু ভালোবাসা...ভালোবাসাটা এমন অনুভব করছি বলেই যন্ত্রণা এখনও অজ্ঞান করতে পারছে না..।
- এইতো। আর কিছুক্ষণ।
- তুমি বেঁচে ফিরলে তাদের বোলো। আমি বড় মন দিয়ে তাদের ভালোবেসেছি। কেমন?

প্রতিজ্ঞা

- সামনের বইমেলায় কিন্তু কলকাতা ফিরবই! ফিরবই!
- ইয়েস!
- দেখতে পাচ্ছিস তো আমার চোয়ালটা কী ট্রিমেন্ডাস শক্ত হয়ে আছে?
- স্পষ্ট! ঠিক যেন একতাল লোহা!
- রক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে ভাবলেই। মিনিমাম এক হপ্তা থাকবো, বুঝলি। রোজ মেলায় যাবো; দুপুর থেকে রাত মেলাতেই পড়ে থাকবো। বোনাসের টাকার একটা মোটা অংশ সরিয়ে রাখবো ফর বইমেলা এক্সপেন্সেস।
- এই না হলে সাচ্চা বাঘের বাচ্চা!
- মনে মনে প্রায় পৌঁছেই গেছি পরের বইমেলার মাঠে।
- সে'টাই তো আসল। ভেরি গুড। তবে ইয়ে..।
- ইয়ে কীসের? কীসের ইয়ে?
- গত পুজোয় অফিসে বসে সামনের পুজোতে এক হপ্তার জন্য বাড়ি ফিরবি প্ল্যান করেছিলিস না? টানা পাঁচ রাত জেগে ঠাকুর দেখবি, হাবিজাবি খাবি আর ভোর হলে প্যানফর্টি চার্জ করে শুয়ে পড়বি?
- হুম?
- তা'হলে সামনের পুজোয় এক হপ্তা ছুটি প্লাস সামনের বইমেলায় আরো এক হপ্তা ছুটি, তাই তো?
- হুম?
- ও কী রে, তোর চোয়ালটা কি সামান্য ঝুলে পড়ছে? টেনেটুনে রাখ ভাই!

ছোট আর বইমেলা



- ভূতের গল্প পড়ছিস বড়দা?
- না। হাড়কাঁপানো প্রেমের গল্প।
- ও। তা, ঘুমোবি কখন রে?
- কী চাই?
- বলছিলাম, কাল অফিসের পর বইমেলায় যাবি?
- আমি গেলে তোর কী লাভ ছোট?
- না মানে, আমিও ঘুরতাম তোর সঙ্গে। ও'দিকেই একটা টিউশনি ছিল। সে'খান থেকে বেরিয়ে না হয়..।
- ফার্স্ট ইয়ারের লায়েক ছোকরা। ইয়ারদোস্ত থাকতে আবার এই গোবেচারা বড়দাকে কী দরকার।
- ইয়ারদোস্ত তো আর বই কেনাকাটা স্পন্সর করে না।
- বেশ তো। আমি টাকা দিয়ে দেব। বই কিনিস পছন্দমত।
- তুই আমায় সাইড করছিস কেন বল তো? প্রেম করতে যাবি নাকি বইমেলা?
- কান ছিঁড়ে নেবো ডেঁপোমি করলে।
- যাচ্ছি কি আমরা বইমেলায়? সোজাসুজি বল।
- ঠিক আছে। পাংচুয়ালি সাড়ে পাঁচটায় চার নম্বর গেটের সামনে দেখা করবি। আর ঘোরার সময় বকবক কম করবি, দেখবি বেশি।
- কিপটেমো করবি না তো?
- পিঠের চামড়া গুটিয়ে নেব ছোট।
- আচ্ছা দাদা, বইমেলা ঘুরে কোথাও রুটি মাংস খেতে যাবি?
- এই দ্যাখো। বসতে দিলে শুতে চায়।
- চ' না রে। এত ভালো চাকরি করছিস। আজ বাবাকে দামী রেজার তো কাল মাকে কানের দুল কিনে দিচ্ছিস। আমার ব্যাপারেই যত হিসেব।
- আর কোনো ফরমায়েশ আছে?
- ট্যাক্সি করে বাড়ি ফিরব প্লীজ। রুটি মাংসের পর বই বোঝাই ব্যাগ হাতে বাস-ট্রাম ভালো লাগবে না।
- ছোট। তোর হাবভাব ভালো বুঝছি না।
- তা'হলে সে কথাই রইলো?
- এখন ভাগ। রাত অনেক হয়েছে।
***
ছোট ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বইটা বন্ধ করে খাটের পাশের টেবিলে রাখলেন সুবিমল। এখন কিছুক্ষণের অপেক্ষা। একটু পরেই ঘুম ভাঙবে। তখন এই টালিগঞ্জের বাড়ির পুরনো ঘরটা উবে গিয়ে নিউটাউনের ফ্ল্যাটের সবুজ দেওয়াল স্পষ্ট হবে। সামনের দেওয়ালে এখন যে মা তারা হার্ডওয়্যার স্টোর্সের ক্যালেন্ডার চোখে পড়ছে, তার বদলে দেখা যাবে ফটোর-ফ্রেমে বাবা-মা। ওদের ফটোর ডানদিকে ছোটর ফটো।
স্বপ্নটা এখন গা-সওয়া হয়ে গেছে সুবিমলের। মাঝেমধ্যেই ঘুরে ফিরে আসে। ছোটর সেই একই আব্দার। কত বছর আগে সেই অফিসের বিশ্রী একটা মিটিংয়ে আটকে গিয়ে বইমেলায় যাওয়া হয়নি সুবিমলের। তখন মোবাইল-টোবাইল ছিল না তাই ছোটকে জানানো হয়নি। সে বেচারি একাই ঘুরেছিল হয়তো বইমেলা, কিন্তু বড়দা না থাকায় বিশেষ কেনাকাটা করতে পারেনি। আর পারেনি বাড়ি ফিরতে; রাস্তা পেরোতে গিয়ে দুর্ঘটনা । সেই থেকে সে বারবার সুবিমলের স্বপ্নে ঘুরে ফিরে এসে ঝুলোঝুলি করে, "বইমেলা যাবি বড়দা"।
স্বপ্নটা দিব্যি চিনতে শিখেছেন সুবিমল। এই দু'ণ্ডের আব্দারটুকু এখন তাঁর অভ্যাস। স্বপ্নে ছোট অন্তত তাঁকে সেই পুরনো বাড়িতে এনে ফেলে বারবার। সে জগতে পাশের ঘরে বাবা-মা শুয়ে। অন্য ঘরে অঙ্ক করার অছিলায় ছোট রেডিওয় হিন্দী গান শুনছে। আর নির্ঘাৎ পরের দিন কী কী বই কিনবে তার ছক কষছে। প্রথমদিকে মনকেমন হত, এখন এ স্বপ্নের জগতটা উপভোগ করেন সুবিমল। মাঝেমধ্যে সন্দেহও হয়, নিউটাউনের ছোট-হীন জগতটাই আদতে স্বপ্ন নয় তো? কাল হয়তো সত্যিই বইমেলা যাওয়ার আছে?
বালিশে মাথা রেখে চোখ বুজে ছোটর রেডিওয় বেজে চলা সুরটা চেনার চেষ্টা করলেন সুবিমল। ছোটকে কাল বইমেলা ঘোরনোর পর পার্ক স্ট্রিটে নিয়ে গিয়ে চাইনিজ খাইয়ে চমকে দিলে কেমন হয়?

হিসেবনিকেশ

- এই যে তুই সকাল থেকে এত নিশ্চিন্ত হয়ে বই পড়ছিস..।
- আর এই যে তুই ক্রমাগত বাগড়া দিচ্ছিস তুলি..।
- এত ম্যানেজ করতে আমার আর ভালো লাগে না।
- মাইক্রোম্যানেজ করা বন্ধ কর। দেখবি সব ভালো লাগবে।
- বিনু, গোটা রোব্বার বইয়ে মুখ গুঁজে পড়ে থাকলে তো প্রব্লেমগুলো নিজে থেকে সলভ হবে না।
- সে কী। আমার তো ধারণা এই বই পড়াটাই সলিউশন।
- আজ মাসের দু'তারিখ। তোর আর আমার অ্যাকাউন্ট মিলে পড়ে আছে সতেরোশো টাকা। আর সে'সব নিয়ে আলোচনা না করে গল্পের বই পড়াটা সলিউশন?
- মাংসের দোকানে লাইন দেওয়ার নেই। সিনেমার টিকিট কাটার নেই। ঘুরতে যাওয়ার নেই। অখণ্ড অবসর; অতএব বই পড়াটা এস্কেপ রুট নয়, সলিউশন।
- আমি ও'রকম চোখ বুজে ভবাপাগলা হয়ে থাকতে পারি না।
- পারলে আরো দু'টো টিউশনি নে।
- আর তুই? তুই কি করবি? সংসারটা আমার একার?
- আমি বই কেনা ছেড়ে দেব। তা'তে আমার নেট কন্ট্রিবিউশান তোর দু'টো টিউশনির চেয়ে বেশি হবে।
- ছুটির দিনে পড়বি কি?
- পুরোনো বই। রিপীট টেলিকাস্ট।
- বিনু। সিরিয়াস কবে হবি।
- আরে তুই বড্ড প্যানপেনে। আগামী হপ্তায় দু'টো কমিশন ব্যাঙ্কে ঢুকবে। মিনিমাম আট হাজার।
- মাসকাবারি বাকি।
- তোর ওই লেকটাউনের টিউশনির টাকাটা পাওয়া বাকি আছে না?
- দিয়ে দেবে। আজকালের মধ্যে। ও'দিকে স্কুটারের ইএমআইটাও কাটবে পরের হপ্তাহে। ওরে বাবা রে...কত খরচ রে আমাদের..। এখনও গোটা মাস পড়ে..।
- অন দ্য ব্রাইটার সাইড তুলি..এ মাসে আঠাশ দিন। দু'দিন আগেই পরের স্যালারি ঢুকবে। ভেবেই মনে হচ্ছে সন্ধেবেলা ফিশফ্রাই খাই।
- ফোন আর ওয়াইফাইয়ের রিচার্জ বাকি।
- তুলি।
- ভাল্লাগেনাছাই। আরো কত খরচ বাকি..। আর এ'টা শুধু এ'মাসে নয়। এক টানা, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। এক মাসের ধাক্কা কোনোরকমের সামলে পরের মাসের টেনশনে ঢোকা...ভাল্লাগেনা বিনু..।
- তুলি..।
- কখনও জিরোতে পারি না যেন। ধুর।
- তুলি!
- কী?
- এ'দিকে আয়।
- হ্যাট। ন্যাকা।
- ইধর আও।
- কী ব্যাপার?
- আয় না।
- বল্।
- মাসের পয়লায় আমরা বাড়িভাড়া দিই। বছরের শুরুতেই মেডিকেল ইন্সুরেন্সের প্রিমিয়াম ভরি। গরমকালে এসি চালাই। গত তিন বছরে একবার পাহাড় একবার সমুদ্র হয়েছে। আমরা খুব বড়লোক রে তুলি।
- তা আমি জানি। সে জানায় টেনশন কমে না।
- এটা একটা ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট প্রব্লেম। একটু দ্যাখনাই গলা শুকোনো।
- ভাল্লাগেনা বিনু। একটু গা ছেড়ে খরচ করতে ইচ্ছে করে মাঝেমধ্যে। খুব বড়লোকি না, ওই একটু দুশ্চিন্তা না করে রেস্টুরেন্টে ঢোকা একদু'বার। ও'তেই হবে।
- নির্মলদার দোকানের রুটি তরকা যে কেন তোর এলিট রেস্টুরেন্ট মেনুতে পড়ে না কে জানে।
- থাম তুই। অসহ্য ডেঁপো।
- ডেঁপো হ্যাস এক্সেপশনাল চুলেবিলি স্কিলস।
- তা হ্যাস।
- তুলি, একটা মাইনর আপডেট।
- কী?
- নীলুর দোকান থেকে ফোন এসেছিল। আমাদের ফ্রিজটা আর রিপেয়ার হবে না।
- সে কী! আমায় এখন বলছিস? এই বাজারে নতুন ফ্রিজ পাবো কই!
- সেই এমার্জেন্সি ফান্ড!
- না। মরে গেলেও না!
- ও'টা এখন সত্তর হাজার আছে। ও'খান থেকে বড়জোর কুড়ি বেরোবে।
- না! খবরদার!
- উপায় কী? ফ্রিজ ছাড়া থাকলে ডেলি খরচ বাড়বে।
- বিনু তুই একটা আস্ত বজ্জাত।
- আমার ওপর চটে কী হবে।
- বিনু, ও'টাকে তুই এমার্জেন্সি ফান্ড বলিস কেন? ও'টা আমাদের বিয়ের ফান্ড! ও'টায় দু'লাখ জমলে আমাদের জমজমাট বিয়ে করার কথা।
- একদম! ও'টায় দু'লাখ হলেই ছাদনাতলা! স্ট্রেট!
- পাঁচবছর সংসার হয়ে গেল বিনু অথচ এখনও বিয়ের ফান্ড একলাখও পেরোলো না। সবার চোখে লিভটুগেদার কাপল হয়েই রয়ে গেলাম।
- পাতি সইসাবুদে বিয়ে তোর মনে ধরে না। বিয়ে নিয়ে লাটসাহেবি করলে এই হবে!
- বিয়ে পাতি হবে কেন রে রাস্কেল?
- নবাব নবাবী করে তুলি তুলিগিরি, মিছিমিছি গাল খায় বিনুভিখিরি।