Sunday, April 3, 2022

গোলাপি খাম আর মুদীর ফর্দ



- অনি, এ'দিকে আয়৷
- আ..আমায় ডাকছেন স্যার?
- তুই ছাড়া আশেপাশে আর কে আছে যে ডাকব?
- স্যার, ভালো আছেন? আপনার ব্লাডশুগার কন্ট্রোলে আছে তো? আমার জ্যাঠাইমা কী বলে জানেন? ব্লাডশুগার হল সাইলেন্ট কিলার। আমি অবশ্য..।
- এ'বেলা ও'বেলা রোজ ইস্কুলে পথেঘাটে দেখা হচ্ছে, আজ হঠাৎ তোর আমার খবর নেওয়ার দরকার পড়ল কেন?
- আপনি গুরুজন স্যার৷ আমাদের আইডল..।
- ব্যাপারটা কী বল দেখি? আমার বাড়ির সামনে ঘুরঘুর করছিস কেন? আর ওই দোতলার দক্ষিণের জানালার দিকে এত উঁকিঝুঁকি কীসের?
- দোতলা? না না। আমি আপনার ছাতে মেলা ওই নীল ফতুয়াটা অবজার্ভ করছিলাম। ওটা পরেই আপনি গত মঙ্গলবার আমায় আর বিশুকে আড়ং ধোলাই দিয়েছিলেন না স্যার? ওই ফতুয়াটা দেখছিলাম আর আপনার ক্লাসের কথা মনে পড়ছিল, বিশ্বাস করুন। থ্রিলিং৷
- তোর হাতে ও'টা কী?
- হাতে?
- ডান হাতে৷ ও'টা কী।
- এ'টা?
- হ্যাঁ। ও'টা কী?
- এ'টা কিছুই না স্যার৷ কিস্যু না৷ একেবারেই কিছু না৷ কখনই কিছু ছিল না৷
- অনি৷ ও'টা কীসের খাম।
- চিঠির।
- কী চিঠি?
- মু..মুদীখানার।
- মুদীখানার চিঠি?
- ইয়ে..হ্যাঁ। পিসেমশাই লিখে পাঠিয়েছে। মাঝেমধ্যেই লেখে পিসে৷ তাই তো এই খাম নিয়ে গোকুলকাকার দোকানে যাচ্ছিলাম৷ এই রাস্তা দিয়েই আমি ও'দিকে যাই৷ আপনি ভাবছেন এই ঘুরলি রাস্তা দিয়ে খামোখা কেন যাওয়া৷ আসলে পিটি স্যার অনুকুলবাবু বারবার বলেন, দিনে অন্তত দশ কিলোমিটার না হাঁটলে চলবে না..।
- তোর পিসেমশাই গোকুলের মুদীর দোকানে চিঠি পাঠায়? মাঝেমধ্যেই?
- না মানে, ঠিক চিঠি নয়। ফর্দ। মাসকাবারি জিনিসপত্রের।
- মুদীর ফর্দ পাঠায় গোলাপি খামে?
- পিসে বড় শৌখিন স্যার। বড় শৌখিন৷ সে'বার পিসির বালুচরির আঁচল দিয়ে এঁটো টেবিল পুছে তিনদিনের জন্য গা ঢাকা দিয়েছিল। চীনেবাদামটুকুও দামী চিনেমাটির প্লেট আর কাঁটাচামচ আর ছুরি ছাড়া খেতে পারে না।
- পিটিয়ে তোর চামড়া তুলে নেব রে রাস্কেল।
- আমি..আমি বরং আসি স্যার..।
- ফের যদি ঝুমির ধারেকাছে ঘুরঘুর করতে দেখেছি..।
- ঝুমি কে স্যার? নামটা তো কখনও শুনেছি বলে..।
- থার্ড ডিগ্রী শুনেছিস? ঝুমির জানালার নীচে ফের যদি তোকে তিড়িংবিড়িং করতে দেখেছি..।
- স্যার, আমি আজ আসি৷ দেরী হলে পিসেমশাই চিন্তা করবেন। মাসকাবারির ফর্দের মধ্যে সাদা তেল রয়েছে তো৷ ও'টা সময়মত না পৌঁছলে আবার লুচি ভাজা শুরু করা যাবে না৷ আর সময়মত লুচি না পেলে পিসের মাথাটা কেমন যেন গোলমাল হয়ে যায়। সে এক কেলেংকারি কাণ্ড৷ ও গল্প পরে হবে স্যার৷ আজ আসি৷ আর শুগারটাকে হাল্কাচালে নেবেন না স্যার, প্লীজ৷ আসি, কেমন?

Thursday, March 24, 2022

সুমনবাবুর হুকুম



- কফি চলবে অনিলবাবু?

- না৷ থাক৷

- টাকাটা পেয়ে গেছেন আশা করি।

- হ্যাঁ।

- ভালো কথা৷ কাল গুপ্তাদের চারটে ট্রাক বর্ডার ক্রস করে ওদের করিমগঞ্জের গোডাউনের দিকে যাবে৷ বড় কনসাইনমেন্ট, হাতাতে হবে৷

- বারো পার্সেন্ট।

- দশ থেকে এক্কেবারে বারো? ট্যুয়েন্টি পার্সেন্ট জাম্প? আপনি যে আমাদেরও এক্সটর্ট করতে শুরু করলেন মশাই৷ ও'টা এগারো করুন।

- বারো৷

- আমার কথার অনারে অন্তত কিছুটা..। সাড়ে এগারো, ফাইনাল! সেটল করুন।

- শম্ভু সিংকে বলুন৷ সাড়ে সাতে ট্রাক হাতিয়ে আপনার জিম্মায় ফেলে দেবে৷ তবে ওর পুলিশের ওপর কন্ট্রোল কম৷ সে ঝক্কিটা সামাল দিতে পারবেন নিশ্চয়ই৷

- সামনে বসিয়ে কফি অফার করেছি বলে নিজেকে আমার ইকুয়াল বলে ভেবে বসবেন না অনিল৷ 

- ও মা, না! আপনি পে-মাস্টার৷ আমাদের নমস্য৷ আর শম্ভু একসময় আমারই সাগরেদ ছিল৷ ইদানীং নিজের মত করে লাইনে নেমেছে, উইথ মাই ব্লেসিংস৷ তাই ভাবলাম রেকমেন্ড করি৷ ব্যাপারটা অন্যভাবে নেবেন না সুমনবাবু৷

- আপনার থেকে আমার বয়স অনেক কম হতে পারে৷ কিন্তু আমি গুণ্ডা নই অনিলবাবু, আমি একজন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট। বাজারে আমার একটা সুনাম আছে৷ অবশ্য দোষটা আমার বাবার৷ বেঁচে থাকতে লাই দিয়ে আপনাদের মাথায় তুলে গেছে, আর এখন সাফার করছি আমরা। যাক গে, আপনার সঙ্গে তর্ক করে সময় নষ্ট করতে চাইনা। ওই বারো পার্সেন্টই পাবেন। কিন্তু কাজে যেন ঢিল না দেখি৷আপনার ছেলেদের বলে রাখবেন৷ ট্রাকের ডিটেলস আমি পাঠিয়ে দেব৷ 

- আপনার বাবার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা একটু অন্যরকম ছিল বটে৷ সে যাকগে। সুমনবাবু,আপনি বোধ হয় আমাদের ওপর সামান্য অসন্তুষ্ট৷ তাই কি?

- ন্যাচরেলি। আপনার স্যাঙাৎ, ওই কী যেন নাম..বিমল। গতকাল সে আমার অফিসে এসে কী রুডলি কথা বলে গেল৷ আমার ইচ্ছে ছিল মেরে চামড়া গুটিয়ে নেওয়া। আমি বেশি ঝামেলায় না গিয়ে স্রেফ খানকয়েক চড়চাপড় মেরে ছেড়ে দিয়েছি। তবে অতটা লিনিয়েন্ট আমি না হলেও পারতাম। আপনার দলের ছেলে আমার সঙ্গে ও'ভাবে কথা বলতে সাহস পায় কী করে?

- সে কী! বিমল আপনার সঙ্গে মিসবিহেভ করলে?

- রীতিমত। আরে আমার শালাবাবুর একটা মেডিকাল সিক সার্টিফিকেট চাই, অফিসে জমা দিয়ে আর্জেন্ট ছুটির দরখাস্ত করতে হবে৷ আমি বিমলকে বললাম একটা ডাক্তারকে চমকে মাসতিনেকের সিক সার্টিফিকেট লিখিয়ে আনবে। এ'সব সামান্য ফাইফরমাশ খাটার  সার্ভিস যদি নাই পাই, তা'হলে এত খরচ করে গুণ্ডা পুষছি কেন। তো অথচ আপনার বিমল বলে কিনা পয়সা ছাড়া কোনও কাজ সে করবে না৷ ক্যান ইউ ইম্যাজিন?আমার মুখের ওপর সে বললে যে এমন ছিচকে কাজ সে করে না? রাস্কেলটা কি ভেবেছে কি নিজেকে? 

- নাহ্৷ কাজটা বিমল ঠিক করেনি৷ ও নিয়ে আপনি ভাববেন না। সিক সার্টিফিকেট পরশু দুপুরের মধ্যে পেয়ে যাবেন। আপনার শালার নাম আর বয়সটা লিখে দেবেন, তা'হলেই হবে। আপনার জন্য এ'টুকু আমরা করতেই পারি। 

- যাক৷ ঠিক আছে৷ আর দেখুন অনিলবাবু৷ ও'সব চ্যাংড়া ছেলেকে আমার কাছে পাঠাবেন না৷ 

- নাহ্, সিনসিয়ার এপলজিস। 

**

- হ্যালো। সুমনস্যার, আমি ফ্যাক্টরি থেকে বলছি। তাপস। খানিকক্ষণ আগে হয়েছে কী..। 

- পঞ্জিকা খুলে বসতে হবে না৷ ট্রাক ঢুকেছে?

- আধঘণ্টা আগে। 

- মালপত্র? 

- সব আছে৷ যেমন খবর ছিল।

- গুড৷ নাহ্, অনিল গুণ্ডার এলেম আছে৷ আগাম বারো পার্সেন্ট নেওয়াটা গায়ে লেগেছিল বটে, তবে কাজকর্ম এত স্মুদলি এক্সেকিউট করে যে পুষিয়ে যায়..।

- ইয়ে, স্যার..অন্য একটা জরুরী খবর দিতে আপনাকে ফোন করা..।

- আবার কী? গুপ্তারা আরও ট্রাক আনাচ্ছে?

- না স্যার৷ ব্যাপারটা একটু সিরিয়াস৷ একটা ট্রাকে..একটা ট্রাকে মালের মধ্যে...হয়েছে কী...।

- তাপস৷ ভ্যানতারা ছাড়ো।

- একটা ট্রাকে আপনার শালাকে পাওয়া গেছে...আনকনশাস..পা দু'টো বিচ্ছিরি ভাবে থেঁতলানো৷ মুখেও চোট আছে। আর বড্ড ব্লাডলস হয়েছে। আমরা ইমিডিয়েটলি এম্বুলেন্স ডেকেছি..এখনও এসে পৌঁছয়নি। আশপাশ থেকে একজন ডাক্তারকেও ধরে এনে দেখানো হয়েছে৷ ডাক্তার দেখে বললেন ইমিডিয়েটলি অ্যাডমিট করতে হবে৷ অন্তত মাসতিনেক হাসপাতালের ধাক্কা..।

শুটিংয়ে ফেলুদা আর আমাদের আকাশকুসুম



ছোটবেলায় পড়া প্রিয় অ্যাডভেঞ্চার বইয়ের ইলাস্ট্রেশন রিক্রিয়েট করার প্রসেসটা নির্ঘাৎ দারুণ জমজমাট৷ ব্যাপারটায় ঠিক কী কী ঘটে? 

সেটে সবার হাতে ফেলুদার বইয়ের সেই ছবি আঁকা পাতাটা ঘোরাঘুরি করে? 

নির্দেশক অভিনেতা অভিনেত্রী এবং সমস্ত কলাকুশলীরা কি নিজেদের কাজ সাইডে রেখে বইয়ের ছবিতে লালমোহনের বসার অ্যাঙ্গেল আর সেটের লালমোহনের বসার ভঙ্গি মিলল কিনা তা নিয়ে মারাত্মক তর্ক জুড়ে বসেন? 

সেটের ফেলুদাকে কি পাইকারি হারে জ্ঞান শুনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়তে হয়? 

অকুস্থলে উপস্থিত প্রতিটা মানুষই কি ভেবে বসেন না যে " আহ্, আমিই যদি ফেলুদার সেই একপেশে ক্যারিস্মাটা নিজে গিয়ে ডেমোন্সট্রেট করে দিতে পারতাম"!

আর সেটের 'এক্সট্রা' বা ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা সংলাপহীন জুনিয়র অভিনেতারাও কি বইয়ে আঁকা ছবিতে নিজের খুঁজে হদ্দ হন? এই যেমন এ'খানে বইয়ের আঁকায় এক দম্পতি (তাদের দাম্পত্য নেহাতই আমার  কল্পনার ফসল) খানিকদূরে হেঁটে যাচ্ছেন। আবার সেটের ছবির আবছা ব্যাকগ্রাউন্ডে সে দম্পতি দূরের সোফায় বসে। সোফায় বসে কি তাদের মনের মধ্যে খতরনাক হ্যাঁচোড়প্যাঁচোড় শুরু হয়েছে "প্রিসাইস রোলে" নিজেদের ফেলতে না পেরে?

দিনের শেষে ফাইনাল আউটপুট দেখে মানুষজন কি নিজেদের হাত কামড়ে ওঠেন খুচখাচ 'তফাৎ স্পট' করে? "এ কী ভাই, নুনের ডিবেগুলো ফ্রেমে নেই কেন? কে সরিয়েছে? কোর্ট মার্শাল, রাইট নাউ"! 

আর, এর ফলে কি একসেট মানুষ নতুন করে ফেলুদা পড়তে শুরু করেন? 

কে জানে!

প্রিয় বইয়ের আঁকা ছবি শুটিং ফ্লোরে রিক্রিয়েট হওয়ার ব্যাপারটা রীতিমত টিকিট কেটে দেখা যায়৷ কিন্তু তা যখন সম্ভব নয়, তখন "আরিব্বাস" বলে বুকের ছ্যাঁত চেপে "দার্জিলিং জমজমাট" বইটা তাক থেকে নামানো ছাড়া আর বিশেষ কোনও উপায় থাকে না।

প্রতিবাদের হিসেব

- খবরটা শুনেছ সৌরভদা?

- শুনেছি৷ 

- গা শিউরে উঠছে।

- ব্যাপারটা বেশ আননার্ভিং তো বটেই।

- ক্লাবের ছেলেমেয়েদের ডাকব? আজ সন্ধ্যের দিকে একটা মিটিং করে যদি..।

- হঠাৎ মিটিং কীসের শুভ?

- আজকের এই পলিটিকাল নৃশংসতার বিরুদ্ধে একটা প্রটেস্ট তো হওয়া দরকার৷ এতবড় একটা ঘটনা ঘটে গেল অথচ সবাই নিশ্চুপ৷ রাস্তাঘাটে তেমন কাউকে সোচ্চার হতেও দেখা যাচ্ছে না৷ কিন্তু তুমি যদি সবাইকে গাইড করো, ইন্সপায়্যার করো; তা'হলে সবাই বুকে বল পাবে৷ সাহস করে রাস্তায় নামবে৷ তুমিই তো কতবার আমাদের টেনে নিয়ে গেছ সৌরভদা৷  তুমি পাশে ছিলে বলেই আমরা..।

- এই তোদের একটা বিচ্ছিরি রোগ শুভ৷ সব কিছুতেই পলিটিকাল লাফালাফি৷ এ'বার থাম দেখি৷ আর মন্টুকে বল একটু চা-মুড়ির ব্যবস্থা করতে৷ বড্ড খিদে পেয়েছে৷ 

- এ'টার রাজনৈতিক প্রটেস্ট হওয়া উচিৎ নয়?

- না৷ উচিৎ নয়৷

- কী বলছ সৌরভদা, ইউক্রেনের ব্যাপারেও আমরা পথে নেমেছি৷ আর নিজেদের পাড়ার ব্যাপারটাকে পাত্তা দেব না? অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকব?

- সে'টাই করা দরকার৷ পুটিন আমাদের ক্লাবের ফান্ডে টাকা ঢালেনা৷ পুটিন আমাদের ক্লাবের জিম বানানোর জন্য টাকা দেবে না৷ নতুন টিটিবোর্ডগুলো রাশিয়া থেকে আসবে না। কিন্তু এমএলএ শ্যামল দত্ত ক্লাবকে রসেবশে রাখবে৷ এই  ছুটকোছাটকা ব্যাপার নিয়ে আমরা প্রটেস্ট-ট্রটেস্ট করলে শ্যামলদা একটু এমব্যারেসড হতে পারে৷ 

- ছুটকোছাটকা? তুমি এ'ভাবে বলবে সৌরভদা? এত বড় একটা পলিটিকাল ক্রাইম! এর কোনও প্রতিবাদ হবে না?

- শুভ, নিজের ভালো বুঝতে পারাটাও পলিটিক্স৷ আর সে জন্যেই, সব ব্যাপারে ছিঁচকাঁদুনে হয়ে রাজনীতি টেনে আনিস না৷ এখন এ'সব বাজে কথা ছেড়ে মন্টুকে বল চট করে চা-মুড়ি-চপ দিয়ে যাবে৷  সে'সব খেয়েদেয়ে ক্যারম পেটানো যাবে'খন৷ 

Saturday, March 12, 2022

অপড়ুয়ার বইমেলা



আরে! কাল বইমেলা শেষ৷ ফেসবুক ট্যুইটারের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই, অজস্র 'বইমেলার সেল্ফি'র বদান্যতায় এদ্দূরে বসেও সে মেলার গমগম দিব্যি উপভোগ করলাম৷ 

চেনামানুষের হাতে অচেনা বই৷
অচেনা মানুষের হাতে চেনা বই৷
খাবারের স্টলে হুমড়ি খেয়ে পড়া বইপ্রেমি৷
আড়ালে থাকা ছোট স্টলের কাউন্টারে বসা দোকানির দমে না যাওয়া হাসি৷
বড় প্রকাশনার সামনে উৎসাহী লাইন।
নতুন প্রকাশকদের ঘিরে আশাবাদী মানুষের উচ্ছ্বাস।
আর সমস্ত কিছুর ওপর রয়েছে বড়দের হাত ধরে ঘুরঘুর করা ছোট্ট ছেলেমেয়েরা৷
আসলে, বইয়ের জমায়েত মানেই লাইব্রেরির নিঝুম নয়, চশমা ডাঁটি চেবানো গম্ভীর আলোচনা নয়; বই উৎসবও বটে। 


মেলা আলো করা এত মানুষের মধ্যে সবাই কি বইয়ের পোকা? নিশ্চয়ই নয়৷ কিন্তু কী এসে যায় তা'তে৷ স্রেফ বই পড়ে কে কবে নিখুঁত মানুষ হয়েছে, বই পড়ার নেশা না থাকাতেই বা কার ভালোমানুষি নষ্ট হয়েছে৷ আর বইয়ের পড়ার সময় বা সুযোগ; সবার সমান নয় মোটেও৷ কাজেই, বইহুল্লোড় পাঠক-পাঠিকাদের মনোপলি নয় মোটেও৷ 

এই ধরুন, বই-নিরেট কোনও মানুষ বইমেলার কোনও স্টলে ঢুকে টুক করে একটা বই হাতে নিয়ে দু'প্যারাগ্রাফ পড়লেন৷ সে পড়া জলে গেল ভেবেছেন? আদৌ না৷

অপাঠক-প্রেমিক তার একনিষ্ঠ-পাঠিকা-প্রেমিকার কেনা অজস্র বইয়ের অর্ধেকভার কাঁধে নিয়ে বইমেলার  সাতপাক ঘুরলে আর ধুলো খেয়ে হদ্দ হলে। তা কি সাহিত্যের বাইরে? নেভার!

খবরের কাগজের বাইরে একটা শব্দও না পড়া কোনও বাবা পাশের অচেনা মানুষটার কাছে সাজেশন চাইছেন নিজের স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়ের জন্য কোন গল্পের বইগুলো কিনলে তারা সাগ্রহে পড়বে৷ সেই গায়ে পড়া বইপ্রশ্নের গুরুত্ব কোনও গুরুগম্ভীর লিটফেস্ট প্যানেল ডিসকাশনের তুলনায় খেলো? হতেই পারেনা।

কিছুতেই দু'পাতার বেশি পড়ার ধৈর্য কুলিয়ে উঠতে না পারা কেউ 'এ'বারে ঠিক পড়বই' মার্কা দুঃসাহস নিয়ে মাইনের অনেকটা ঘ্যাচাং করে উড়িয়ে দিলেন  বইমেলার হুজুগে গা ভাসিয়ে৷ হয়ত সেই বইগুলোও পড়া হবে না৷ তা বলে সে দুঃসাহসটুকু কি এক্কেবারেই ফেলনা? অবশ্যই না৷ 

গপগপিয়ে বইগেলা মানুষরাই বই নিয়ে শেষ কথা বলবেন না৷ বইমেলার আনন্দোৎসব সে ভরসাটুকু জোগায় বটে।

**

ইয়ে। বিজ্ঞাপনটা ঠেকিয়ে রাখা গেল না৷ এ'বার বইমেলায় আমার যাওয়াটাওয়া হল না৷ তবে ওই মেলারই এক কোণে, পত্রভারতীর স্টলে আমার লেখা খানদুই বই রয়েছে৷ 'বংপেন-৭৫' আর 'বংপেন-আরও ৭৫'। নেড়েচেড়ে দেখতে পারেন, বেশ মজবুত; ডেঁপো ভাইবোন বা হাড়জ্বালানো ইয়ারদোস্তকে শায়েস্তা করতে হলে ও বইয়ের একটা গুঁতোই যথেষ্ট৷