Monday, January 31, 2022

বাজে পান

এই এক রোগ। পান। এই করে করে ট্যুইটার অ্যাকাউন্টটাই উজাড় হয়ে গেল। ফেসবুকটাকেই বা ছাড় দেওয়া কেন। মাঝেমধ্যে টুইটার থেকে কয়েক পিস্‌ করে তুলে এনে এখানে রেখে যাওয়া দরকার।

**
সে'বার পিকনিকে গিয়ে কিশোরকুমার বড়ই বিপদে পড়েছিলেন৷ খেতে বসে দেখলেন মাংসের ঝোলে বিশ্রী গন্ধ, অতিরিক্ত মশলাপাতি দেওয়ায় গোলমাল হয়েছে আর কী। তখনই তিনি গেয়ে উঠেছিলেনঃ
শুঁকেও কেঁদে ওঠে মন,
শুঁকেও কেঁদে ওঠে মন,
এমনও খাসি আছে বেদনা মনে হয়;
জলে ভরে দু'নয়ন,
শুঁকেও কেঁদে ওঠে মন।

**
তাঁবুতে হুট করে ঢুকেই আলভারেজ হতবাক! শঙ্কর মদ্যপান করছে যে।
আলভারেজ শুধোলে, "কোন ব্র্যান্ড ভাই"?
স্মিত হেসে শঙ্কর জানালে, " দেবদারু"।

**
পাটনা শহরে কোনও জুটমিল নেই৷ স্বাভাবিক৷

**
সাপটা তেমন বিষাক্ত ছিল না৷ Patisapta.
**
ইনসমনিয়ার ওষুধঃ
টর্চ জ্বেলে ভেড়া গুনতে গুনতে ঘুমিয়ে পড়ুন৷
অর্থাৎ,
Aloe vera কাজে দেবে।

পিকনিকের প্রাণ



পাড়ার পিকনিক উজ্জ্বল হয় যাদের গুণে।

১।

।।"হারি আপ" জ্যেঠু।।
আলো ফোটার আগে থেকেই তাঁরা মন্ত্রপাঠ শুরু করবেনঃ
"পাংচুয়াল না হলে পিকনিক কেন, কোনও বড় কাজই কোনওদিনও করতে পারবি না"!
"ফিরতে রাত হলে বিস্তর ঝ্যামেলা হবে, তখন যেন আমায় বলতে এসো না"!
(ভোর ছ'টার সময়) "আরে দুপুর গড়ালে বেরোবি নাকি রে তোরা"!
মোট কথা অনবরত ঘ্যানঘ্যান করে সবার প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলবেন৷ রাত থাকতে উঠে, স্নান সেরে ফিটফাট জামাকাপড় পড়ে বারান্দায় পায়চারি করবেন আর চিৎকার করে পাড়া মাথায় তুলবেন৷

২।

।।"প্ল্যানার" বড়দা৷।
টারজানের কলজে নিয়ে এরা পিকনিকের পরিকল্পনা সাজান। এদের মতে অন্তত তিন রাত্রি বাইরে ক্যাম্প করে না থাকলে নাকি পিকনিকই হয় না৷ শিকার করা জিরাফের ঠ্যাঙ ঝলসে না খেলে নাকি পিকনিকের মেজাজটাই মাটি৷ ঝর্নার জলে চুমুক দিয়ে তেষ্টা মেটানোর পক্ষে এরা৷ দশহাত দূরে লম্ফঝম্প করে চলা সিংহের গর্জন শুনতে শুনতে এরা শালপাতার গায়ে লেগে থাকা চাটনি চেটে খেতে চান।
এইসব মোহময় চাওয়া-পাওয়া নিয়েই তাঁরা প্ল্যান ছকেন; লেপের তলে শুয়ে, মশলা জোয়ান চিবুতে চিবুতে৷ অত্যাধিক দৌড়াদৌড়িতে তাদের বিশ্বাস নেই৷ তাদের কাজ শুধু পিকনিক স্পটে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা, "আরে ধুর, এ'সব ট্যুরিস্ট স্পট আমার পোষায় না৷ পিকনিক করেছিলাম বটে নাইনটি ট্যুর জ্যানুয়্যারিতে৷ সে'এক অ্যাডভেঞ্চার বুঝলি..কফি আর এক প্লেট পকোড়া আন দেখি..গুছিয়ে সে গল্পটা বলি"৷

৩।

।।শেফ-মামা।।
তারা রান্নাবান্নায় বৃহস্পতি৷ কিন্তু টীকা-টিপ্পনিতে গর্ডন র্যামসের পিসেমশাই।
পেঁয়াজ কুচোতে খাবি খান কিন্তু বারো মিনিটে ভিন্ডালুর রেসিপি বলে জনতাকে তাক লাগিয়ে দেবেন৷
কালো জিরে আর চা-পাতার তফাৎ ধরতে পারেন না কিন্তু উনুনের ওপর কোন অ্যাঙ্গেলে কড়াই রাখলে মুর্গি নিখুঁতভাবে কষবে, সে'সম্বন্ধে এরা নিশ্চিত৷
এই বিশারদরা পিকনিকের বাসন মাজার সময় ব্যাডমিন্টন খেলবেন কিন্তু খেতে বসে প্রতিটা পদের ইতিহাস নিয়ে লেকচার নামাবেন অবলীলায়।
~~
আর এদের ছাড়া পিকনিক?
ক্যান্টিনবিহীন কলেজ৷
কেষ্টাবিহীন অর্জুন।
টেনিলেস পটলডাঙা৷

পল্টু-সুমির বইমেলা



- হ্যাঁ রে পল্টু, এ'টা আনন্দেরই লাইন তো?

- ভেরিফাই করে নিয়েছি সুমি৷ এই দাদা কনফার্ম করেছেন৷

- লাইনের যা বহর, সন্ধ্যে নামার আগে স্টলের গেট দেখতে পাব বলে মনে হচ্ছে না৷ যা ভীড়৷ উফ্! এত মানুষ বই পড়ে?

- দেখ, আমি অত পড়িনা৷ তবে ঘাটাঘাটি করি৷ হেবি লাগে৷

- অবশ্য আনন্দর বইটইগুলোর যা দাম৷ ইএমআই ফেসিলিটি না থাকলে উল্টেপাল্টে দেখেশুনে বেরিয়ে আসা ছাড়া উপায় থাকেনা৷

- তোদের মত পাবলিকের জন্যই যত সমস্যা৷ বাপের বাড়ির দলিল বন্ধক রেখে সিনেমাহলের পপকর্ন কিনবি কিন্তু বইয়ের দাম দেখলেই গলা শুকোনো৷

- বাজে না বকে লাইনে ফোকাস কর পল্টু৷ সুট করে কেউ ঢুকে না পড়ে৷

**

লাইন মন্থর গতিতে এগোতে থাকে৷ সুমি আর পল্টুর খোশগল্প জমে ওঠে৷ পড়ন্ত বিকেলের আকাশ লালচে, মেলার মাঠ সরগরম। গল্পের আগুনের ঘি হয়ে ওঠে সুমির হাতে ধরা বাদামের ঠোঙা আর পল্টুর হাতের নুনের প্যাকেট৷

**

- সুমি! বেগুনি খাবি?

- লাইনের কী হবে?

- আগেও লম্বা লাইন৷ তুই দাঁড়া! আমি চট করে নিয়ে আসি!

- ক্যুইক কমরেড! ক্যুইক!

- লাইন সামলে।

- জান কবুল। তুই আয় বেগুনি নিয়ে৷

**

বেগুনির গুনেই বোধ হয়, লাইন সামান্য গতি পেয়েছে।

বেগুনি সাবাড় করে কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ হাতড়ে এক ডিবে মিঠেমৌরি বের করে আনলো সুমি। পল্টু নিজের ব্যাকপ্যাক থেকে বের করে আনলো নন্টেফন্টে। আনন্দর লাইনে একটানা দাঁড়িয়ে হদ্দ হওয়ার পর মোক্ষম অ্যান্টিডোট; দেবসাহিত্য কুটীরের স্টল থেকে সংগ্রহ করা কমিক্স সুর করে পড়া৷

পল্টুর পড়া শুনে গজল ভালোবাসার মেজাজে "ওয়াহ ওয়াহ" বা "নাজুক" বলে সেলাম ছুঁড়ে দেবে সুমি৷

**

- পল্টু..! এই পল্টু! থাম৷ পড়া থামা৷ ওই দ্যাখ..।

- কী দেখব?

- স্টলের গেট দেখা গেছে৷ দিল্লী দূর নহি!

- আরে! ওইত্তো আনন্দ! মার দিয়া কেল্লা।

- পল্টু৷ শোন..।

- কী..।

- চ', লাইন ছেড়ে দিই।

- খেপেছিস সুমি?

- আরে বই কেনাটাই কি শেষ কথা? শোন না রে পল্টু, চ' এ'বার দে'জ পাবলিকেশনের লাইনে গিয়ে হত্যে দিই। এ লাইন থেকে ও লাইন..।

- সুমি তুই একটা আস্ত...।

- এই লাইন ছাড়তে রাজি হলে, সামনের শনিবার; টিউশনির পর হাত ধরে রেল ব্রিজ পেরোনো অ্যালাউ করব৷

- শুধু আঙুলের ডগা নয়৷ পুরো হাত৷

- পুরো হাত৷

- চলুন সুমিদেবী৷ এ'বার তা'হলে দে'জ।

**

- পল্টু৷ এ'বার আমায় ফোন রাখতে হবে৷

- এখুনি?

- হ্যাঁ৷ একটা জরুরী কাজ।

- ধুস৷ লংডিস্ট্যান্স প্রেম আর সইছে না রে সুমি৷ কী ছাই দু'জনে দুই মুলুকে চাকরী নিলাম৷ মুখোমুখি প্রেম আর কলকাতা; দুইই জলে৷

- আমাদের বইমেলার টেলিফোনিক রোলপ্লেগুলো খুব ইন্টেন্স হচ্ছে কিন্তু।

- তা ঠিক৷ এক্কেবারে রগরগে৷ কোথায় লাগে সেক্সটিং৷

- তুই একটা যাতা৷ এ'বার আসি?

- ধুস৷ যা ভাগ!

**

কল্পনার বইমেলা, তার গা-কাঁপানো কাল্পনিক ভিড়। আনন্দের স্টলের সামনের মাইলখানেক লম্বা কাল্পনিক লাইনে বহুক্ষণ দাঁড়ানোর পর,
দুম করে সে লাইনের মায়া উড়িয়ে স্টলের পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া;

এ'টাই সুমি আর পল্টুর আনন্দ৷
তাদের গোপন রোলপ্লে৷

Wednesday, January 26, 2022

এম্পলয়ার



- প্রবীর? আয়, বস।

- সময় কম বড়দা। টাকাটা?

- ওই যে৷ টেবিলের ওপর। এনভেলপ।

- চললাম।

- গুনে দেখবি না?

- থাক।

- চারটেকেই কি গঙ্গায় ফেললি?

- বড়দা। কাজ হাসিল। নগদ হিসেব মিটিয়ে দিয়েছ৷ খেল খতম। হিসেব জেনে কী করবে৷

- কাল পরশু আবার কোথায় ভেসে উঠবে৷ পুলিশ খামোখা দৌড়ঝাঁপ শুরু করবে। তাই আর কী..।

- এদ্দিনে তোমার হয়ে অন্তত শ'তিনেক লাশ ফেললাম৷ তোমার দিকে কেউ আঙুল বাড়িয়েছে কি?

- আসলে কী জানিস, চারজনকেই সরাতে বলতাম না৷ কিন্তু ওই, বিজনেসে এমন গোলমাল পাকাতে শুরু করেছিল৷

- আমি মাইনে করা মানুষ৷ ও গল্পে আমার কাজ নেই৷

- প্রবীর।

- কিছু বলবে বড়দা?

- সিংঘানিয়ার পোষ্যরা কেউ তোকে দেখেনি তো?

- জিতু দেখেছিল।

- ওদের সেই ম্যানেজার? অবশ্য সে ব্যাটা নিজেও গুণ্ডা৷ কিন্তু সে যদি দেখে থাকে..। ঝামেলা পাকাবে না তো? ভালো করে শাসিয়ে এসেছিস তো?

- লাশকে শাসিয়ে কী হবে৷

- ওহ৷ ওকেও তুই...।

- দেখে ফেলেছিল৷ না দেখলে বেঁচেবর্তে থাকত৷ 

- তোর মাথাটা বড্ড গরম।

- জিতুর জন্য তোমায় তো বাড়তি টাকা দিতে বলিনি। কোল্যাটেরাল ড্যামেজ৷ 

- বলছি, বুলেটেই নামিয়েছিস তো সবকটাকে?

- বুলেটের যা দাম আজকাল৷ অবশ্য প্রসেসটা তোমার জেনেও কাজ নেই।

- তোর মেজাজটা দিনদিন বড় খটখটে হয়ে যাচ্ছে প্রবীর। আমি তোর এম্পলয়ার৷ ভুলে যাস না। 

- তুমি এম্পলয়ার৷ তা ঠিক৷ তবে আমি তো ক্লার্ক নই।

- লাশ কোথায় ফেলেছিস৷ সে'টা আমার জানা দরকার।

- এদ্দিন তো সে দরকার পড়েনি। 

- আজ পড়ছে৷

- থাক৷ আজ আসি।

- ও কী রে৷ এনভেলপটা রেখে যাচ্ছিস কোথায়।

- লাশের হিসেব যে দেবে, কাজ তাকেই দিও৷ টাকাটা রইল।

- উফ। তোর সব কথাতেই রাগ। নে, টাকাটা রাখ। ইয়ে, চা খাবি?

- আসি।

- চ', তোকে এগিয়ে দিই একটু।

***

- প্র..প্র..প্রবীর।

- বড়দা৷ বলো।

- আমি..আমি কোথায় বল দেখি..।

- বেশি ভেবে কী হবে বড়দা। থাক না।

- আমায় কোথায় এনেছিস?

- বড্ড বেশি ভাবছ।

- তুই..তুই সন্ধ্যেবেলা বাড়ি এলি, যাওয়ার সময় আমি তোকে এগিয়ে দিতে এলাম..। তারপর কিছু মনে পড়ছে না কেন?

- জিরিয়ে নাও বড়দা৷ 

- তুই আমায় কিডন্যাপ করেছিস? গুম করবি তুই আমায় রাস্কেল?

- আমি কিডন্যাপার নই৷ জানোই তো। 

- আমি নিজের বাড়িতে নেই কেন? এই ঘুপচি ঘরটায় আমায় এনেছিস কেন প্রবীর? তুই আমায় আটকে রাখবি? র‍্যানসম চাইবি? তুই এত বড় নিমকহারাম? 

- না বড়দা৷ খানিকক্ষণ পরেই ছেড়ে দেব। তোমার অনেক কাজ।

- হেঁয়ালি ছাড়৷ ব্যাপারটা ভালো হচ্ছে না৷

- এম্পলয়ারের মেজাজ বিগড়োচ্ছে নাকি?

- আমি তোকে ওয়ার্নিং দিচ্ছি। কোন সাহসে আমায় ধরে এনেছিস রে তুই? কী ভেবেছিস, তুই কি আমার একমাত্র পোষা গুণ্ডা?

- না। তোমার তো রীতিমত নারায়ণী সেনা পোষা রয়েছে। আর সে জন্যেই তোমার মনে হচ্ছিল আমায় একটু শায়েস্তা করা দরকার৷ তাই না? 

- মাইনে দিয়ে পুষি তোকে৷ তোর কাজের মেথড জানার রাইট আমার আছে। 

- আর সে'টা জানতে না পেরে তুমি আমার পিছনে স্পাই লাগিয়েছ। পুলিশে ফাঁদে ফেলার ধান্দাও করছিলে৷ জানি৷ খবর পেয়েছি৷ 

- ইয়ে, শোন প্রবীর৷ তুই ওভাররিয়্যাক্ট করছিস৷ আমায় ফিরিয়ে নিয়ে চ'। তারপর ঠাণ্ডা মাথায় না হয়..।

- কোথায় ফিরবে?

-ও মা৷ বাড়িতে।

- সে সুযোগ আর কোথায় বলো।

- কী ব্যাপার বল তো৷ কী সব আজেবাজে কথা বলছিস।

- তোমায় এম্পলয়ার হিসেবে বয়ে বেড়াতে বেড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম বড়দা। এ'বার আমিই তোমার এম্পলয়ার৷ 

- তোর মাথাটা গেছে৷ তুই বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গেছিস।

- বড়দা৷ আমার কাজের মেথডটাও এ'বারে জানবে৷

- আমায় তুই ধরে রাখতে পারবি না!

- তোমায় তো আমি বেঁধে রাখিনি৷ দরজাটাও হাট খোলা৷ এই দ্যাখো, হাতে ছুরি পিস্তর কিস্যু নেই৷ তুমি ছুটে বেরিয়ে যাচ্ছ না কেন?

- আমি..আমি..আমি..।

- কেন পারছ না?

- প্রবীর, আ..আমি বেরোতে পারছি না কেন?

- কারণ আমি এখন এম্পলয়ার৷ আমি না বলা পর্যন্ত পারবে না। তবে চিন্তা কোরোনা৷ তুমিও পাতি ক্লার্ক নও৷ 

- আমি..আমি কোথায়..।

- আমার অফিসে। একটু পরেই জিতু এসে তোমায় সব বুঝিয়ে দেবে। 

- জিতু?

- ওই যে, সিংঘানিয়াদের ম্যানেজার৷ 

- তুই ওকে খুন করিসনি?

- কথার খেলাপ আমি করিনা৷ আমি খুনি, তাই বাজে মিথ্যেও বলিনা৷ যে'টা তোমার মত বিজনেসম্যানের জন্য জলভাত।

- আমি কিছুই..।

- আমার খুনের কারখানাটা বড্ড বড় বড়দা৷ রোজ কত শত অর্ডার৷ অত লাশ নদীতে ফেললে দেশে মড়ক লাগবে যে৷ আর গুণী মানুষের হাতে প্রতিটা লাশই প্রডাক্টিভ রিসোর্স। নষ্ট করলে আমার ব্যবসাটা চলবে কেন? কাজেই তারা আমার হয়ে কাজ করে বেড়ায়।  আমিই তাদের এম্পলয়ার৷ বড়দা, এখন আমিই তোমার মালিক। সবচেয়ে বড় কথা মাইনে দেওয়ারও ঝামেলা নেই, বেগার খাটার আর্মি আর কী৷ 

- তুই কী সব...!

- খবরদার..আর তুই নয়৷ মালিককে তুই বলে ডাকাটা ভালো দেখায় না। যাক৷ তোমায় জিতুই সব বুঝিয়ে দেবে৷ সামনের হপ্তা থেকে ফিল্ডে নামবে'খন৷ এখন আসি৷ কেমন?

সরি



র‍্যান্ডি পশ 'সরি বলার সঠিক পদ্ধতি' জলের মত সহজ ভাষায় বুঝিয়ে গেছেন৷ সবার আগে কোনও রকম 'কিন্তু', 'যদিও', 'আসলে কী হয়েছিল' মার্কা কেরদানি বাদ দিয়ে নির্ভেজাল 'সরি'টা বলতে হবে৷ তারপর স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করতে হবে "দোষটা পুরোপুরি আমার"৷ আর সবশেষে থাকবে আসল ব্যাপারটা যে'খানে নিজেকে এগিয়ে এসে বলতে হবে, "ভুল তো করেইছি৷ এ'বার কী করলে সে ভুলের খেসারত দেওয়া হবে সে'টুকু জানা দরকার"। 

কিন্তু এই ধরণের হাইক্লাস মেন্টোস সলিউশন আমাদের ধুরন্ধর আম জিন্দেগীতে সবসময় চলবে না। অতএব উপায়? ওই, গোপন কোডে 'সরি' চালান করার বিভিন্ন পদ্ধতি আমরা খুঁজে বের করি৷ সে কোড অবশ্য এনিগমার মতই জটিল৷ কিন্তু সংসার, প্রেম এবং ইয়ারদোস্তি গোছের সমস্ত ব্যাপারগুলোই যে হাজারো এনিগমা-সঙ্কেতের ওপর দাঁড়িয়ে। সে হেঁয়ালির তল না পেলে সম্পর্কের পেল্লায় সব জাহাজ ভুলবোঝাবুঝির ইউবোটের আক্রমণে ডুবতে বাধ্য। 

তা কী ধরণের সাঙ্কেতিক ভাষায় আমরা 'সরি' বলার চেষ্টা করে থাকি?

"আরে ভাই, শোন না। আজ ভাবছি তোকে শ্যামলদার দোকানে মোগলাই খাওয়াব। না না, কিছুতেই না শুনছি না৷ তোকে আসতেই হবে৷ আরে না হয় ক্রিকেট মাঠে সামান্য ইয়েটিয়ে হয়েছে, তা হতেই পারে৷ তুই ভাবলি লেগস্টাম্পের বাইরে বল পিচ করেছে, তাই আমার লেগ বিফোর আপিল উড়িয়ে দিলি। আমি বল আর লেগস্টাম্প বগলদাবা করে টিউশনি পড়তে চলে গেলাম৷ ওই সামান্য ব্যাপারের জন্য তুই মোগলাই রিফিউজ করবি"?

অথবা, 

"সুমি, নীল শাড়িতে তোমায় যা মানায় না..কী বলব..চোখ ফেরানো যায়না মাইরি...। শোনো না, আজ চলো গড়িয়াহাট ঘুরে আসি। গড়িয়াহাট নাপসন্দ? পার্কস্ট্রিট চলো! কী বললে? আমি মনে মনে সমুদের তাসের আড্ডা প্রেফার করি? ধুস্! সে তো বোগাস একটা গুড-ফর-নাথিং জায়গা৷ শুধু বাজে গপ্প আর সিগারেট। ননসেন্স৷ তার চেয়ে চলো না, প্রিন্সেপ থেকে ঘুরে আসি"৷ 

অথবা,

আয়নার দিকে তাকিয়ে; "এই যে ব্রাদার,  একটা গোটা ক্যাজুয়াল লীভ শুধু তোমারই জন্য বাগিয়েছি৷ ওই যে, বাঁদিকে দেখো, পুরনো পুজোসংখ্যার বান্ডিল৷ আর ডানদিকে একগাদা কমিক্স। ফোন স্যুইচড অফ৷ বাড়ির সবাই ঘুরতে গেছে৷ আর ফ্রিজে বাসি বিরিয়ানি, ফর ব্রেকফাস্ট,  লাঞ্চ অ্যান্ড ডিনার৷ জানি ভাই, বড্ড হুড়মুড় যাচ্ছে। আর এর মধ্যে যে তোমার দিকে দু'দণ্ড তাকাবো, সে সুযোগটুকুই জুটছে না৷ যাক গে৷ আজ একটু গা এলিয়ে বসো দেখি"৷