Tuesday, September 7, 2021

ছবি বিশ্বাস



ছবির ভালো-মন্দ বুঝিনা। সুন্দর-অসুন্দর বুঝি না। আমার ফ্রেম-বোধ আমার ভাষাজ্ঞানের মতই গোলমেলে। আলোর জ্ঞানের দিক দিয়ে আমার মনের মধ্যে প্রকাণ্ড একদলা অন্ধকার। আই-এস-ও, অ্যাপারচার; এই'সব শুনলে পেটের মধ্যে গুড়ুম গুড়ুম শব্দ হয়। ইন্সটাগ্র্যাম ঘেঁটে দমাদম ফিল্টার চাপিয়ে দিয়ে ফটোর গায়ে জুনের গরমে কম্বল চাপিয়ে থাকি।
তবু।
আমার ছবি তোলার অন্ত নেই৷ বিশেষত গাড়ি সিগনালে দাঁড়ালেই অজস্র সাবজেক্ট খুঁজে পাই। আদতে সে'সব আগাগোড়াই গুরুত্বহীন। তবু, সুযোগ পেলেই রাস্তায় মোবাইল ক্যামেরা বের করে ঘ্যাচাং-ঘচ। রাস্তার পাশে ফুল, মেট্রোর পিলারের গায়ে মধুবনী মাছের ঝাঁক, অথব অন্ধকার আলো করে হুস করে বেরিয়ে যাওয়া এক উজ্জ্বল লাল টোটো; ক্যামেরার কবল থেকে কারুরই রক্ষে নেই।
ক্যামেরা বাটনে ক্লিক করবার আগে পর্যন্ত মনে হয়, "আহ্, কী চমৎকার একটা ক্যাপচার হতে চলেছে। হাইক্লাস৷ মাপা। এলিগ্যান্ট। লাখটাকার মুহূর্ত"। অথচ ছবি তোলার পর দেখি বাঁকাচোরা একটা ছবি, বেমক্কা জরুরী ব্যাপারস্যাপার সব কেটেকুটে গায়েব। সে ছবি হয় বাড়তি আলোয় ঝলসেছে অথবা অঙ্কে ফেল খোকার মুখের মত অন্ধকার।
তা সেই ভাঙাচোরা ছবির দল অদরকারী। তবুও, গুগল ফটোসে তারা টিকে থাকে। আর, বছরখানেক পর সে'সব ছবি ফিরে আসে বুকমার্ক হয়ে।
এই যে সন্ধের আবছা আলোয় একটা অদরকারী ল্যাম্পপোস্টের ছবি। সে ছবির অন্যের কাছে হিজবিজবিজ কিন্তু আমার কাছে স্মৃতির কোড। সে'দিন হয়ত কোনও বন্ধুর সঙ্গে জোর আড্ডা জমেছিল৷ ওই গোবেচারা ল্যাম্পপোস্টের মধ্যে লুকিয়ে আছে সে বন্ধুর " আরে ব্যাটা আর আধঘণ্টা বস না, অত হুড়মুড় কিসের"! বন্ধুটি আজও হয়ত আছে, কিন্তু আড্ডার অবসর বড় সহজে জোটে না।
অথবা ধরা যাক কেউ চপ ভাজছেন। কাঁপা ছবি, কিন্তু স্মৃতি স্পষ্ট৷ সে দোকানের চপ আমি কোনওদিনও চেখে দেখিনি। তবে সেই চপভাজিয়ের ছবি যে'বিকেলে তুলেছিলাম, সে'দিন রাত্রেই অকারণ মনকেমন। সেই মনকেমনের সুরাহা হয়েছিল বাবুঘাটের হাওয়ার ঝাপটা মুখে লাগিয়ে দু'জোড়া ডিমসেদ্ধ খেয়ে। বছর চারেক পরও সেই চপ-ভাজিয়ের ছবিটা সহজেই বাবুঘাটের ফুরফুরে হাওয়ার আমেজ ফিরিয়ে আনে।
আসলে, কোনও ছবিই বোধ হয় মিথ্যে নয়। কোনও ছবিই ফেলনা নয়। ছবি পুরনো হলেই সে'টার বাজে ফ্রেম, ঝাপসা রঙ বা অন্যান্য যাবতীয় ভুলত্রুটি হাপিস হয়ে যায়। পড়ে থাকে জবরদস্ত ভালোবাসা, নিজের প্রতি। আমরা বোধ হয় প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারে নিজের কাছে বিভূতিভূষণের ভাষায় জবাবদিহি করে থাকি।

২.০



- নমস্কার মিস্টার মিট্টার৷
- মগনলাল!
- ওয়েলকাম টু মাই প্রাইভেট আশ্রম৷
- প্রাইভেট সার্কাসটা তা'হলে ত্যাগ করেছেন?
- উ'সব আমার ডার্ক ডেজ কি বাত মিস্টার মিট্টার৷ ইয়াদ করিয়ে তকলিফ দিবেন কেন? আমি এখন ট্রান্সফর্মড মানুষ৷ হে হে হে৷ অনলি চ্যারিটি৷ নো গোলমাল৷ মগনলাল ২.০।
- তা মগনলালজি, আপনার ২.০ ভার্সনেও দেখছি কিডন্যাপ করে তুলে আনার ব্যাপারটা পাল্টায়নি৷
- ডিসাইপলদের হ্যাবিট ওভারনাইট চেঞ্জ ক্যায়সে হোবে? আপনিই বোলেন৷ একটু টাইম দিন৷ তখন আর আপনাকে কিডন্যাপ করে নয়, রামচরিতমানস শুনিয়ে হিপনোটাইজ করে লিয়ে আসবে৷ হে হে হে৷
- আই সী৷ তা আপনার তো এখনও জেলে থাকার কথা৷
- আপনার ভি তো এখন ক্যালক্যাটায় আঙ্কিলের সঙ্গে সমোসা খাওয়ার কথা৷ লেকিন আপনি গোরখপুরের আউটস্কার্টে মগনলাল ২.০-র প্রাইভেট আশ্রমে বসে। কিসমত তো আর মছলিবাবা নয় যে প্রাইভেট ডিটেকটিভের দিমাগকে পরোয়া করবে৷
- কী প্রয়োজনে আমায় এখানে আনা হয়েছে জানতে পারি?
- জাস্ট টু কনভে দ্যাট আই অ্যাম আ চেঞ্জড ম্যান। মগনলাল ২.০। তুলসি লীফ ওয়াশড ইন দ্য গ্যাঞ্জেস ওয়াটার৷
- সে তো ভালো কথা৷ তার জন্য আমার মাথায় গুঁতো মেরে অজ্ঞান না করলেই চলছিল না? তারপর এই ভাবে তুলে আনা। মাথাটা এখনও টনটন করছে৷
- আপনার মাথায় হিট করল? রাসকালস, তিন মহিনেকা তনখওয়া কাট লেঙ্গে৷ দেখিয়ে লিবেন আপনি৷ মাই এপলজিস মিস্টার মিট্টার৷ আপনার সামনে সরবত রাখা আছে, প্লীজ ড্রিঙ্ক। একদম রিফ্রেশড ফীল হবে৷ গ্যারেন্টি৷
- বাহ্৷ আপনার সরবতের স্বাদ দেখছি সে বেনারসের মতই রয়েছে৷
- সরবতেএ স্বাদ কন্সট্যান্ট৷ লেকিন মগনলাল তো ট্রান্সফর্মড মিস্টার মিট্টার৷ মগনলাল ২.০।
- প্রাইভেট সার্কাসের বদলে প্রাইভেট আশ্রম। ট্রান্সফর্মেশন তো বটেই।
- হে হে হে..মিস্টার মিট্টার..। শুনেন, মগনলাল ২.০'র অফার করা উ সরবতে ভিষ আছে..। জরুর আছে।

Tuesday, August 17, 2021

সামান্য প্রতিবাদ



- প্রটেস্ট করব ঘোষদা?

- এ ছাড়া আর উপায় কী আছে বল৷

- মানে, একটা লিখিত রিকুয়েস্ট দেওয়া যেতেই পারে৷ আমরা সবাই মিলে যদি ম্যানেজমেন্টকে কনসিডার করতে বলি, মানে..একটু নরম সুরে যদি..। 

- অনুরোধ কাকুতিমিনতি তো কম করা হয়নি। জানিস তো সব৷ 

- কিন্তু তাই বলে অফিসের মধ্যে দিনদুপুরে স্লোগান হেঁকে সিন ক্রিয়েট করব? 

- সিন ক্রিয়েট? কী বলছিস! তুই খুব ভালোভাবেই জানিস যে বিমলদার চাকরিটা যাওয়াটা উচিৎ হয়নি। অন্যায়টা আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে৷ এর পরেও তুই হেসিটেট করছিস কেন?

- তোমার কী ধারণা? অফিসে হইহট্টগোল করলে বিমলদাকে ওরা ফিরিয়ে নেবে?

- মে কাইন্ডলি কনসিডার বলে ঝুলোঝুলি করলে লাভ হবে কি?

- তাই বলে..। শোনো ঘোষদা, এ'রকম একটা হঠকারি কিছু করলে শেষে আমাদের চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়তে পারে৷ তার চেয়ে বরং আমরা সবাই মিলে যদি কিছু টাকাপয়সা কন্ট্রিবিউট করে বিমলদাকে সাহায্য করি..।

- মৃণাল৷ এ'দিককার স্লোগান হইহল্লা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না৷ তুই তোর টেবিলে ফেরত যা৷ ভাবিসনা আমি রেগে বলছি, রিস্কটা আমি জানি, বুঝি। এবং, সে রিস্ক নিতে না চাওয়াটা যে অপরাধ নয় সে'টাও বিশ্বাস করি৷ শুধু একটা রিকুয়েস্ট, তুই অন্তত বিমলদাকে টাকা অফার করিসনা, কেমন?

Saturday, August 14, 2021

বংপেনের জ্যেঠু




- তুমি লেখালিখি করো?

- (উজ্জ্বল মুখে) ইয়ে জ্যেঠু, আমার একটা ব্লগ আছে৷ বংপেন৷ 

- ওহ্৷ আমি ভাবলাম লেখোটেখো বোধ হয়৷

- (পালিশ করা বিনয় বাগিয়ে) ওই ব্লগে সামান্য দু'চার লাইন..। কখনও সখনও..।

- ভেরি গুড। ভেরি গুড৷ খুব খুশি হলাম শুনে৷ এ'বার আস্তে আস্তে লেখার চেষ্টা করো৷ 

- (সামান্য থমকে) ওই, বেসিকালি লেখাই তো৷ ব্লগে৷ ফেসবুকে৷ ট্যুইটারে।

- ব্লগ। ফেসবুক। ট্যুইটার। ভেরি গুড। এই তো চাই৷ নীড অফ দ্য আওয়ার যাকে বলে৷ গুড। 

-  হ্যাঁ৷ তাতেই সামান্য...অপর্যাপ্ত আর কী...লেখালিখি।

- জানি তো৷ দেখেছি৷ অল্প পড়েছি। শোনো, আমি বেশ টেক স্যাভি কিন্তু৷ 

- ( হাঁফ ছেড়ে) ওহ, হ্যাঁ! সেটাই বলছিলাম৷

- আমিও তাই বলছিলাম৷ এ'বারে তা'হলে লেখালিখির চেষ্টা শুরু করলেই হয়। শেখার কোনও বয়স তো নেই৷

- (এ'বার দমে যেতেই হল) না মানে...ওগুলোও তো..মানে..।

- ওগুলো কী? 

- (মরিয়া) লেখা৷ 

- সে কী!

- (হাহাকার) লেখা নয়?

- সকালবেলা কেউ কাগজ পড়তে চাইলে তুমি তার দিকে চপের তেল চুপচুপে ঠোঙা এগিয়ে দেবে?

- (থতমত) সে কী!

- এগজ্যাক্টলি।

- (মরিয়া) কিন্তু ব্লগে...জ্যেঠু মানে...আফটার অল..প্রসেসটা তো লেখালিখির৷ আউটপুট যাই হোক..।

- অফিসের মেমো বানাতে গেলেও প্রসেসটা লেখারই৷ জানালার বাইরে আকাশ দেখলে, রবীন্দ্রসঙ্গীত গুনগুন করলে, তারপর লিখলে 'দিস ইজ টু ব্রিং টু ইওর কাইন্ড অ্যাটেনশন'..ইত্যাদি৷ সে'টাও দিব্যি লেখা৷ বাট নট টু বি ক্যাটেগরাইজড অ্যাজ লেখালিখি।

- (মিইয়ে যাওয়া সুরে) হচ্ছে না বলছেন? মিডিয়াম চেঞ্জ করতে হবে?

- লেখালিখি তো প্ল্যানচেট নয়৷ যে ভূতের ব্যাটাবেটি রেস্পন্ড করছে না বলে মিডিয়াম চেঞ্জ করবে। 

- (রুমালের মা, বারুইপুরের আইফেল) ইয়ে৷ তাও বটে৷ কিন্তু, একদু'বার ছাপাও হয়েছে কিন্তু, আমার লেখা৷ 

- ভেরি গুড৷ ভেরি গুড৷ ছাপা হয়েছে৷ ব্লগ আছে৷ ফেসবুক আছে৷ তা'হলে লেখালিখির চেষ্টা করতে ক্ষতি কী?

- ক্ষতি নেই৷ না?

- ইউ মাস্ট৷ তবে আই মাস্ট সে, তোমার ব্লগটা দিব্যি জমজমাট। ক্রিস্প৷ তরতরে৷ 

- এ'বার আসি জ্যেঠু৷

- আর তোমার ট্যুইটগুলোও ভালো হচ্ছে৷ 

- আসি জ্যেঠু৷

- গুড গোয়িং৷ চালিয়ে যাও৷ ব্রাভো!

- আসি। 

- এসো। আর লেখালিখির ব্যাপারটাও চেষ্টা করে দেখো, কেমন?

Monday, August 9, 2021

দ্য মঙ্ক অফ মাসকাবারি



এক সময় মনে হত মনের মত রেস্তোরাঁ বা বইয়ের দোকান খুঁজে পাওয়ার মত আনন্দ আর হয়না৷ পছন্দের রেস্তোরাঁর নির্দিষ্ট একটা টেবিলের প্রতি বাড়তি মায়া তৈরি হত, জুটে যেত খাবারদাবারের অর্ডার নেওয়া পরিচিত হাসিমুখ৷ মাসে বারদুই সে'খানে গিয়ে গা এলিয়ে দিতে পারলেই নিশ্চিন্দি৷ খাবার স্বাদটাই সে'খানে শেষ কথা নয়, সে'খানে জমে উঠত আড্ডা৷ হুড়মুড় থাকত না, সে'খানে মেনুকার্ড ধরে "আজ কী খাব" ভেবে ভেবে হন্যেও হতে হত না; কারণ সমস্তটাই বড্ড পরিচিত৷ অথবা ধরুন, প্রিয় বইয়ের দোকানের ম্যানেজারের সঙ্গে খেজুর জুড়তে পারার অসীম তৃপ্তি; তিনি আমার পছন্দ বুঝবেন, আমার আব্দারগুলো মনে রাখবেন৷ একমাস সে'খানে ঢুঁ না মারলে পরেরবার জিজ্ঞেস করবেন, "অনেকদিন পর যে...ভালো একটা সাজেশন আছে৷ আগে চা'টা আসুক, তারপর বলছি"৷ সে বইয়ের দোকানের ছোট প্লাস্টিকের টুলটাই হচ্ছে থেরাপি চেয়ার৷ সে'টায় বসে একের পর এক নতুন বইয়ের পাতা উলটে যাওয়া; সেলুনে নবরত্ন তেল দিয়ে ঝাড়া আধঘণ্টা মাসাজ করালেও সে স্বস্তি মিলবেনা। 

কিন্তু, আজকাল মনে হয় আদত তৃপ্তি রয়েছে একটা মনের মত মাসকাবারির দোকান খুঁজে পাওয়ার মধ্যে৷ বয়স? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা। তবে একটা জবরদস্ত সেকেলে 'যা চাইবেন তাই পাবেন' মার্কা দোকান, যে'খানে খরিদ্দার-দোকানির মধ্যে 'মাইডিয়ার' গল্পগুজবের সুযোগ রয়েছে, তেমন একটা মান্থলি ডেস্টিনেশন খুঁজে পাওয়ার মধ্যে যে হাইক্লাস নির্বাণ রয়েছে, সে'টা অস্বীকার করা সম্ভব হচ্ছেনা। 

ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে সুপার-স্মুদ মাখনে-ছুরি ব্যাপার আছে বটে, তবে আলাপচারিতার তেমন সুযোগ নেই৷ মালপত্তর ট্রলি-কার্টে ফেলো, বিলিং কাউন্টারে যাও, অফার-ডিসকাউন্ট বুঝে নাও, খেল খতম৷ প্রবল এক্সেল-শিট মার্কা অভিজ্ঞতা৷ কিন্তু এই একটা চমৎকার সাতপুরনো 'মম অ্যান্ড পপ স্টোর' খুঁজে ফর্দ ধরিয়ে দেওয়ার তৃপ্তিই আলাদা। দোকানের উদ্যোগী কর্মীরা সে ফর্দ হাতে চনমনে স্টাইলে কাজে লেগে পড়বেন৷ আর ক্যাশবাক্সের সামনে বসা কাকার সঙ্গে শুরু হবে গল্প, আউট-অফ-দ্যি-ফর্দ শৌখিন জিনিসপত্তরের আইডিয়া জুটবে তাঁর থেকেই৷ 

" বার্মা থেকে একটা বিশেষ ধরণের নুডল আনিয়েছি৷ ইন্সট্যান্ট নয়৷ তবে স্বাদে ইন্স্ট্যান্টলি কাত করবেই৷ নিজে টেস্ট করেছি তাই কনফিডেন্ট"। 
অথবা
"মুরুক্ক সম্বন্ধে আপনার আগ্রহ আমি নোটিস করেছি। একটা স্পেশ্যাল গার্লিক ফ্লেভারের মুরুক্কু আনিয়েছি৷ হোম-মেড। দু'বাক্স দিয়ে দিচ্ছি। আমার গ্যারেন্টি"। 
অথবা
"শুনুন, সিক্কিম থেকে বড় এলাচ এসেছে৷ আপনার ফর্দে আমিই অ্যাড করে দিয়েছি"৷ 

এমন গল্প-আড্ডায় মাসকাবারি এগোবে৷ ম্যানেজারবাবু মাঝে একবার ক্যাশবাক্স ছেড়ে আমার জিনিসপত্র প্যাক করার প্রসেসটা যাচাই করে আসবেন৷ শেষে বিল তৈরি হবে কলমে, লেটারহেডের নীচে সাদা পাতায়৷ ঢাউস ক্যালকুলেটরে হিসেব হবে৷ দু'হাজার একশো বাহাত্তর টাকা রাউন্ড অফ হয়ে যাবে দু'হাজারে৷ তিনহাজার দু'শো বাইশ তিন হাজারে৷ গল্পটা হয়ত ভালো জমবে যেদিন রাতের দিকে তাঁর দোকানে যাব, কর্মীরা দোকান বন্ধ করার তোড়জোড় চালাচ্ছে, অন্যান্য খরিদ্দার নেই৷ টাকার লেনদেন শেষ, আমার মালপত্তরের ব্যাগ পাশেই রাখা৷ ক্যাশবাক্সে প্রণাম ঠুকে খানিকক্ষণ দিলদরিয়া গল্পে মজবেন দোকানি কাকা; সৎ উপদেশ দেবেন খান দুই, খাবার অভ্যাস রিফাইন করতে বলবেন, " ফর্দে অত প্যাকেজড ফুড...নট গুড..নট গুড" মার্কা মৃদু তিরস্কারও জুটে যেতে পারে৷ হয়ত কোনও একদিন দু'জনেই একসঙ্গে দোকান থেকে বেরোব, তিনিই বলবেন, "চলো, পার্কিং পর্যন্ত তোমার সঙ্গে হেঁটে যাই"। দোকানের বাইরের সম্পর্কে "আপনি" থেকে "তুমি"-তে প্রমোশন পাবো। 

এমন একটা মাসকাবারির দোকান কপালে জুটলেই- প্রাণের হেঁসেলে শুরু হবে আরাম-চচ্চড়ি রান্নার ব্যস্ততা।