Tuesday, July 31, 2018

এপাশ ওপাশ

প্রবল বিরক্তি নিয়ে পাশ ফিরে শুলাম। কিন্তু তখনই গোলমালটা পাকালো।

কী নিয়ে বিরক্ত হয়েছিলাম? কিছুতেই মনে পড়ল না। পাশবালিশটা জাপটে ধরলাম, মাথা ঠাণ্ডা করতে হবে।

কেন বিরক্ত হয়েছিলাম? কার ওপর? কোন বিষয়ে? মহামুশকিল, কিছুতেই মনে পড়ছে না। আর তখনই টের পেলাম যে আরো অনেক কিছু মনে পড়ছে না।

এই যেমন শিয়রের খোলা জানালার ও'পাশে অন্ধকার দেখে সময়টা রাত মালুম হচ্ছে বটে কিন্তু এখন ঠিক ক'টা বাজে? নাহ্, খেয়াল করে দেখলাম আমার কোনো হাতঘড়ি নেই। খাটের পাশে একটা টেবিল আছে বটে কিন্তু কিন্তু তার ওপর কোনো ঘড়ি নেই। দেওয়ালে ঘড়ি আছে কি কোনো? বাতি জ্বালার চেষ্টা করব? নাহ, সাহস হল না। ঘড়ি বা স্যুইচ বোর্ড কোথায় আছে সে সম্বন্ধে আমার কোনো ধারনাই নেই কারণ এই ঘরটা আমার আদৌ চেনা নয়।

গলা শুকিয়ে আসছিল। জানালা দিয়ে বেশ ফুরফুর হাওয়া আসছে, অথচ আমি ঘেমে উঠছি। তারিখ দূরের কথা, এ'টা বছরের কোন সময় সে'টাও মনে করতে পারছি না। দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম।

"ঘুম আসছে না বাবু"?

সম্বিত ফিরল পিঠে একটা নরম হাতের স্পর্শে। কণ্ঠ শুনে মনে হয় কোনো বাচ্চা মেয়ে। কিন্তু সে কণ্ঠ কী মিষ্টি, কী নরম। মনের বিরক্তি যেন উবে গেল। একবার মনে হল পাশ ফিরে দেখি খুকিটিকে। নিশ্চয়ই আমার খুব চেনা কেউ হবে। কিন্তু সাহসে কুলোল না। তাকেও চিনতে না পারলে একটা বিশ্রী ব্যাপার হবে। তবে এ'টুকু বুঝেছি যে আমার নাম 'বাবু'।

সেই নরম হাতের স্পর্শ এ'বার মাথায় টের পেলাম।
"ঘুমোও বাবু, ঘুমোও। এত রাত্তির পর্যন্ত জেগে থাকতে নেই। ঘুমোও। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিই"।

কিছুক্ষণের মধ্যেই দু'চোখ জুড়ে ঘুমের ভার নেমে এলো। যাক বাবা, নিশ্চিন্দি।

***

- জানো বাবা, বাবু তো কালকে কিছুতেই ঘুমোচ্ছিল না। খালি এ'পাশ আর ও'পাশ। শেষ মাঝরাত্রে আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে তবে ঘুমোল।

- কে ঘুমোচ্ছিল না?

- বাবু।

- বাবু? সে কে?

- বাহ্ রে, কালকে নতুন যে টেডি বিয়ারটা কিনে দিলে; তার নাম আমি বাবু দিলাম না? এরই মধ্যে ভুলে গেলে?

Monday, July 30, 2018

চাঁদু ও দাদু।

- অ্যাই চাঁদু!

- এ কী দাদু, আপনি? এত রাত্রে? তাও আবার স্বপ্নের মধ্যে?

- তোর কপাল ভালো স্বপ্নে এসেছি। নয়ত বেধড়ক কানমলা খেতে হত।

- কী মুশকিল, হলটা কী?

- তুই বাঙালিকে পাঁঠা খেতে বারণ করেছিস?

- না মানে...ইয়ে। আসলে..।

- পাঁঠা আমাদের মা? এ'টা তুই বলেছিস?

- ওই যে, গান্ধীজি ছাগলের দুধ খেতেন যে। তাই বলছিলাম...।

-  গান্ধীজিকে কোট করে এমন কথা বলবি রে? এ'সব শুনলে বুড়ো মানুষটা তিন মিনিট অহিংসা ভুলে একটানা তোর মাথায় গাঁট্টা কষাতেন।

- শোনো...দাদু...প্লীজ..অত উত্তেজিত হতে নেই।

- উত্তেজনার এ আর কী দেখলি রে৷ ফের আগডুমবাগডুম বললে আর টেলিপ্যাথেটিকালি কনেক্ট করব না চাঁদু। স্ট্রেট হিমালয়ের গোপন গুহা থেকে নেমে এসে এ বাড়ির কলিংবেল টিপব।

Saturday, July 28, 2018

ছাতু আর ফলিডল

- বিট্টা! অ্যাই বিট্টা!
- আমায় ডাকছ বাবা?
- ন্যাকাউদ্দিন বুরবক্! এ বাড়িতে ক'টা বিট্টা আছে?
- হয়েছেটা কী?
- তোর লজ্জা করে না জিজ্ঞেস করতে? ব্যাটা রাস্কেল।
- পার্ট ওয়ানে কম নম্বর? সে'টা হঠাৎ মনে পড়ল? তবে মাসখানেক আগে বেরোনো রেজাল্ট নিয়ে এখন আবার...।
- শাট আপ। দ্য গ্রেট হারু ডাকাতের রক্ত রয়েছে আমার  মধ্যে, আমি কি মার্কশিটকে ডরাই?
- বাজারে করে না হয় বাইশ টাকা সরিয়েছি, তার জন্য এই রাতদুপুরে এত তোলপাড়?
- চোপ ব্যাটাচ্ছেলে। বাসমতির কাঁকর তুই। এগরোলের কুমড়ো সস। তোকে দেখলেই গা রিরি করছে। ইশ, তোকে বেদম জুতোলে যদি শান্তি পাই।
- আরে! তোমার ব্যাঙ্কের কাজ আজ করিনি, একটা ভালো বই পড়ছিলাম। কাল করে দেব। এত ঝ্যামেলার কী আছে।
- টাকা রাবড়ি, রাবড়ি টাকা। ব্যাঙ্কফ্যাঙ্ক নিয়ে আমি ভাবিনা। তবে তোর মত এমন হাড়বজ্জাত আমি আগে দেখিনি।
- আরে আমি করেছিটা কী?
- কী করেছিস? এরপরেও জিজ্ঞেস করতে সাহস পাচ্ছিস? কী করেছিস?
- মাইরি, কিছুতেই ধরতে পারছি না।
- তা কী করে ধরতে পারবে; গবেটেন্দ্র গাম্বাট বাহাদুর। আমার কপালেই জুটেছে এমন আপদ।
- বলবে কী হয়েছে?
- আজকের দিনটার কথা খেয়াল আছে?
- আজ? সোমবার!
- তারিখটা কত? সে'টা খেয়াল আছে?
- ষোলোই। জুলাই। তা'তে কী?
- তা'তে কী? মুখ ভেঙে দেব ইডিয়ট।
- ষোলোই...ষোলোই...ওহ হো! আজ তো..আজ তো তোমাদের বিবাহবার্ষিকী! বলা হয়নি তোমায়; কঙ্গ্র‍্যাচুলেশনস পিতা!
- তোর শুভেচ্ছাকে দলা পাকিয়ে থুতু মাখিয়ে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেল।
- আরে...হয়েছেটা কী?
- কুলাঙ্গার!  হয়েছেটা কী? লজ্জা করে না? তোর উচিৎ ছিল না আমায় সময় থাকতে রিমাইন্ড করা?
- আমার উচিৎ ছিল?
- হ্যাঁ হ্যাঁ তোর! বাপের পয়সায় মিতার সঙ্গে বসে মিত্র কেবিনের কবিরাজি সাঁটাতে পারো, আর এটুকু মনে করাতে পারো না?
- মিতা নয়, স্মিতা। আর বিবাহবার্ষিকীর কথা তোমার বুঝি এই মনে পড়ল?
- জাস্ট! সকাল থেকে তোর মায়ের মেজাজটা গোলমেলে ছিল, ঠিক গ্রিপ করতে পারিনি..এই জাস্ট কিছুক্ষণ আগে...।
- কিছুক্ষণ আগে?
- কার্পেট বম্বিং।
- অতএব?
- ড্রয়িং রুমে শুতে যাচ্ছি। ডিনারে ছাতুর সরবত।
- এহহে। তবে মিতা মাকে উইশ করেছে। সকালেই। রিলেশনশিপ বিল্ডিং।
- মিতা? স্মিতা নয়?
- এহহে, মানে ইয়ে...স্লিপ অফ টাং। স্মিতা।
- আমার না হয় ছাতু জুটেছে, তোর কপালে বোধ হয় ফলিডল নাচছে রে।

অঙ্কের মাস্টার আর পেপারওয়েট

- শোনো।
- আবার কী?
- জরুরী।
- রাত দুটোর সময় এমন জরুরী ডাকের মিনিমাম লেভেল হওয়া উচিৎ হার্ট অ্যাটাক। আশা করি তার চেয়ে কম কিছু নিয়ে হুজ্জুতি করবে না।
- মিতুল, তুমি বৌ না হারপুন?
- তুমি বর না দাঁতব্যথা?
- রিয়েলি। জেনুইন প্রশ্ন।
- ধ্যাত।
- ডিসকাস না করলে ঘুম আসবে না।
- কী?
- জানো, আজ বিকেলে...টিভি দেখতে দেখতে..চানাচুরের প্যাকেট কেটে চানাচুরের ঝর্না পার্লপেটে ঢালতে ঢালতে...হঠাৎ মনে হলো...।
- কী?
- মনে হলো..।
- বলবে না কান মুলব?
- তুমি বৌ না অঙ্কের মাস্টার?
- তুমি বর না পেপারওয়েট?
- মরুক গে। বলব না।
- ন্যাকামো না করে বলে ফ্যালো।
- বলতাম না। নেহাত তুমি ঝুলোঝুলি করছ বলে বলছি।
- আজ বিকেলে...টিভি দেখতে দেখতে..চানাচুরের প্যাকেট কেটে চানাচুরের ঝর্না পার্লপেটে ঢালতে ঢালতে...হঠাৎ তোমার কী মনে হল?
- মনে হল তোমার অভিরূপে সঙ্গে বিয়ে হলেই ভালো হত। অন্তত তোমার ইন্টেলেকচুয়াল ইকুয়াল হল। আমার সঙ্গে ভ্যাবলামি করে দিন গুজরান করতে হত না।
- হয়েছে?
- আরো মনে হল...।
- কী?
- তোমাদের ব্যালকনিতে দু'টো নয়নতারা গাছ থাকত। দু'টো বেতের চেয়ার। থুড়ি। মাদুর।
- বেশ। আর কিছু?
- না। এ'টুকুই। কী ভিষণ রিয়েল মনে হল। আর কেমন দুম করে সব কিছু ফাঁকা হয়ে গেল।
- এ'বার ফোন রাখতে হবে। ঘুম পাচ্ছে।
- হুঁ।
- শোনো।
- আবার কী?
- চানাচুর খাওয়াটা এ'বার একটু কমাও। বয়স হচ্ছে তো।

ফোন রেখে শুতে যাওয়ার সময় 'তুমি যে আমার' গানটা গুনগুন করছিল মিতুল। সামনের সপ্তাহে অভিরূপকে বলে ব্যালকনির চেয়ার দু'টো সরাতে হবে৷ মাদুরই ভালো; তা'তে বেশ হাত-পা ছড়িয়ে গল্পগুজব করা যায়। আর দু'টো নয়নতারার টবও জোগাড় করতে হবে। হবেই।

পুজোবার্ষিকী।

অ্যাডাল্ট-পুজোবার্ষিকীর সূচিপত্র:

//উপন্যাস//

"ফাইলগঞ্জে নাস্তানাবুদ" - বস মুখোপাধ্যায়।

"ওয়েটলিস্টের আর্তনাদ" - আইআরসিটিসি গাঙ্গুলি।

"পরাজিত আনন্দ" - ট্র‍্যাফিক নন্দী।

"গল্পজুড়ে কেলো" - পোড়াতেল ঘোষ।

"মানিব্যাগ হত্যা রহস্য" - শপিং কর।

"কৌরব গোয়েন্দা" - ছেলেপিলেরদাবী চট্টোপাধ্যায়।

"প্যান্ডেল কত দূর" - এনার্জিশেষ মজুমদার।

//বড়গল্প//

ইতি শরৎ - পলিউশন চট্টোপাধ্যায়।

ধুর মশাই - পাহাড়নাসমুদ্র ভৌমিক।

//অপ্রকাশিত গল্প//

প্রফেসর প্রতিবেশি আর জ্ঞানের গাছ - পুজোপ্ল্যানার রায়।

ল্যাদবাবুর হাহুতাশ - হতাশাপূর্ণা দেবী।

//ম্যাজিক//

হরেকরকম্বা - পিসি সরকার।

//খেলাধুলো//

ডন আর লাইনে বডি - অচ্ছেদিন সাহা।

//সম্পূর্ন কমিক্স//

অরণ্যেদেব - লি বুনিপ।

(আসিতেছে।  আসিতেছে। আপনার মেজাজের বুকস্টল আলো করে। আসছে)।