Tuesday, June 26, 2018

নির্মলবাবুর পাগলামো

এ এক বিশ্রী নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মল আমার বন্ধু, কোথায় তাঁর পাগলামি বন্ধ করতে উদ্যত হব, তা নয়; তাঁকে রীতিমত প্রশ্রয় দিয়ে চলেছি। গত তিন মাস ধরে রোজই ভাবছি; আজ আর নয়। আর কিছুতেই নির্মলের বাড়ি যাওয়া চলবে না। অথচ তবু প্রতি অমাবস্যার সন্ধেবেলা অফিস থেকে ফেরার সময় একবার ইচ্ছে করবেই- "যাই, দেখি আজ তাঁর প্ল্যানচেট কেমন দাঁড়ায়"। অকাল্ট, তন্ত্র, তুকতাক; এ'সবে একসময় একটু আগ্রহ ছিল বটে, হয়ত সেই টানেই এখনও নির্মলের পাগলামিতে সায় দিয়ে ফেলছি। তবে উপকারের বদলে এতে ওর বেশ ক্ষতিই হচ্ছে।

আর ব্যাপারটা গোটাটাই যে ডাহা বুজরুকি; সে'টাও চোখের সামনে স্পষ্ট দেখতে পাই। সন্ধে সাড়ে সাতটা বাজলেই ঘরের সমস্ত জানালা বন্ধ করে, বাতি নিভিয়ে; নিজের তর্জনীর ডগাটা রাখবে বাহারি সেন্টার টেবিলটা মধ্যিখানে। আর আমায় বলবে;
"আনন্দ, তোর সমস্ত ফোকাস আর এনার্জি এই বিন্দুতে থাকা চাই, কেমন? আর হ্যাঁ; দীপার মুখটা মনে করার চেষ্টা কর। তুই তো তাকে দেখেছিস বার কয়েক। আমার দীপাকে যারা একবার দেখেছে তারা সহজে ভুলবে না। কোঁকড়া চুল, ডাগর চোখ,  ডান গালে একটা তিল, গায়ে ল্যাভেন্ডারের নরম সুবাস। ফোকাস, কেমন"?

এরপর সে 'দীপা, দীপা' বলে বিড়বিড় শুরু করবে। ঘণ্টাখানেক চলবে সেই বিড়বিড়, শেষে ঘেমেনেয়ে প্রচণ্ড অস্থির হয়ে পড়বে সে। অথচ নির্মলের সদ্যমৃতা প্রেমিকার আত্মার কোনো হদিশই মিলবে না। টেবিল নড়ে ওঠার কথা; সে'টা থাকবে স্থির। মাঝখান থেকে ঘণ্টাখানেক কেটে গেলে আমি বিরক্ত হয়ে টেবিলে চাপড় মারব আর ব্যর্থ রাগের বসে টেবিলে একটা লাথি কষাবে নির্মল। আমি ওকে তখন শান্ত করার চেষ্টা করব। এ'টাই নিয়ম। নির্মল আমার ছোটবেলার বন্ধু, আর কেউ না বুঝুক; আমি অন্তত ওকে এ অবস্থায় একা ফেলে যেতে পারব না।

আজকেও তাই হল।

- দীপা আমার সঙ্গে জাস্ট ছেলেখেলা করছে।
- তোর মাথাটা জাস্ট গ্যাছে নির্মল।
- আমি ঠিকই বলছি আনন্দ। শিমলার মনোহর সিংয়ের বাংলোয় আড়াই মাস আমি এমনি এমনি কাটিয়ে আসিনি। দু'জন মানুষের নিশ্ছিদ্র মনসংযোগ আর সঠিক তিথি ও মুহূর্ত; এই দুই মিলে অসাধ্য সাধন করা যেতে পারে; আত্মা টেনে নামানো তো কোন ছাড়। কিন্তু...কিন্তু জানিস আনন্দ; আমি দীপার আত্মার উপস্থিরি রীতিমত টের পাই।
- তোর ওই প্ল্যানচেটের সময়?
- ইয়েস। স্পষ্ট। ওর শরীরের গন্ধ আমার নাকে আসে।
- তোর দরকার একজন থেরাপিস্ট।
- আনন্দ প্লীজ, তুই আমার বন্ধু। তুই আমায় একটু সাপোর্ট করবি না?
- সাপোর্ট না করলে তোর খামখেয়ালিপনা এন্টারটেন করতে প্রতি অমাবস্যায় এখানে আসতাম না।
- আর কিছুদিন আয় ভাই,আমায় বিশ্বাস দীপা একদিন আমাদের সঙ্গে কথা বলবেই। দীপা আমায় ভালোবাসত রে, মনপ্রাণ দিয়ে। ও আসবে, আসবেই। একার কনসেন্ট্রেশনে প্ল্যানচেট হবে না; প্লীজ ভাই আনন্দ। পরের অমাবস্যায় আসিস।

প্রতিবার রাগের মাথায় নির্মলের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি, অথচ পরের অমাবস্যাতেই নির্মলের প্রতি একটা টান অনুভব করি। দীপার অকালমৃত্যুতে বেচারা সত্যিই বড় একা হয়ে পড়েছে। আমি ছাড়া ওর আর কেই বা আছে।

***

- হ্যালো, আনন্দ?
- বলছি। এখন কেমন আছিস তুই নির্মল?
- আগের চেয়ে ভালো। তুই ছ'মাস না এসে ভালোই করেছিস। আমার পাগলামোটা কেটে গেছে ভাই। আমি আর উন্মাদের মত প্ল্যানচেট করে বেড়াই না। দীপার আত্মা নামানোর ভূত এ'বার আমার মাথা থেকে সত্যি গেছে। তুই আসা বন্ধ করার পর আমি শিমলা গেছিলাম, মনোহর সিংয়ের কাছে। আমরা দু'জনে চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। আসলে গোটা ব্যাপারটাই একটা খ্যাপামি ছিল রে, আজ বেশ বুঝতে পারি।
- যাক।
- একদিন দেখা কর প্লীজ। বুঝতে পারছি তুই আমায় এড়িয়ে যাচ্ছিস। কিন্তু আমি খুবই লজ্জিত রে আনন্দ।
- অফিসের কাজে একটু আজকাল ব্যস্ত রয়েছি রে। কিছুদিন পর না হয়...।
- আচ্ছা বেশ, পরেই না হয়।

***

নির্মলকে কী ভাবে বলব যে ওর বাড়ি যাতায়াত আমি এমনি বন্ধ করিনি। আমার আর কোনো উপায় ছিল না। তাছাড়া নির্মলকে বোঝাবই বা কী; এ'টা বলব যে আমাদের প্ল্যানচেট ব্যর্থ হয়নি? ওকে জানাব যে আমার টাক মাথায় দিব্যি কোঁকড়া চুল গজিয়েছে? ডান গালে হঠাৎ করে দেখা দিয়েছে বড় একটা তিল? আর হাজারবার সাবান শ্যাম্পু ঘষে স্নান করেও আমার গা থেকে এই গা কাঁপানো ল্যাভেন্ডারের সুবাস যাচ্ছে না?

Saturday, June 16, 2018

মেসি ও মামা

- মামা গো!
- এই অসময়ে ফোন করেছিস কেন?
- অসময়? রাত পৌনে ন'টা। এখন তো তুমি সবে মশলা মুড়ি খেয়ে অ্যাপেটাইট বিল্ড করছ।
- নাহ্‌। আজ আর সে'সব করছি না।
- সে কী! শনিবার রাত তো তোমার পাঁঠার কোর্মা আর হাতরুটির রাত। প্লাস ছানার পায়েস। তা, অ্যাপেটাইট বিল্ড না করলে চলবে?
- আজ রাতে ঝিঙের তরকারি আর সয়াবিন।
- সে কী!
- বাজে কথা বলার সময় আমার নেই।
- তা খেলা দেখলে?
- হ্যাঁ। ইংল্যান্ড খুব ভালো ব্যাট করেছে।
- সে কী! মেসি মাঠে নামলে আর তুমি ক্রিকেটের রেফারেন্স দিচ্ছ মামা?
- বড্ড পেকেছিস তুই। সেদিনের ছোকরা, বড়দের লেগপুল করছিস?
- যাব্বাবা! খেলা দেখছ কিনা জিজ্ঞেস করলাম, এ'তে আবার লেগপুলের কী হল।
- শোন, এককালে ডিস্ট্রিক্ট খেলেছি। লেফট উইং। বুঝলি? তোদের মত ইএ স্পোর্টসে লম্ফঝম্প করে জ্ঞান ঝাড়ি না।
- মন খারাপ মামা? মেসির পেনাল্টি মিসে?
- মনখারাপের কী? শোন, মারাদোনা আর মেসির পর আমার মোস্ট ফেভারিট আর্জেন্টাইন চে'কে টিশার্টে নয়, বুকে রাখি। বিপ্লব কখনও পেনাল্টি মিস করে সন্ন্যাস নেয় না। আইসল্যান্ডের সঙ্গে আইসব্রেকিংয়ে সমস্যা হয়েছে, দাঁড়া আর দু'দিন। ওই নন-ন্যাড়া রোনাল্ডোর কান মুলে যদি মেসি না এগিয়েছে...।
- কিন্তু যাই বলো মামা। তেকাঠিতে প্রায় বল রাখতেই পারল না। পেনাল্টিতে অবশ্য রেখেছিল, তবে ইয়ে। গোলকিপারটা বেরসিক।
- ইনজুরিতে আজিনোমোটো ছড়াচ্ছিস? সেই জন্যেই তো ফোন করেছিস, তাই না?
- মামা, খামোখা চটছ মাইরি।
- সব বুঝি। যাক গে। এ'টা আমি জানতাম।
- জানতে?
- বাপনদা বলছিল, গ্রহের পজিশন নাকি বিট্রে করতে পারে।
- বাপনমামা? তোমার সেই তান্ত্রিক কাম জ্যোতিষ বন্ধু?
- হুঁ।
- গ্রহের পজিশনের পেনাল্টি মিস?
- মেসি একটু ভেবড়ে গেছিল তাই। মেসি একটা মাদুলি ধারণ পারলে ভালো হত। কিন্তু যাকগে। অল্টারনেট উপায় একটা পাওয়া গেছে।
- কী উপায়?
- সামনের মঙ্গলবার নিরামিষ খেয়ে মেসির নামে কালীঘাটে একটা পুজো দিতে হবে। বাপনই সমস্ত ব্যবস্থা করে দেবে।
- বলো কী!
- গ্রহের ইন্টারফারেন্স কাটলেই; কচাতকচাত করে সব কচুকাটা হবে।
- মামা, তুমি মঙ্গলে নিরামিষ খাচ্ছ?
- উপায় নেই রে। উপায় নেই।
- যাব্ববা। এ তো বেশ মুশকিল হল।
- কীসের মুশকিল?
- মঙ্গলে জামাই ষষ্ঠী না? এ'বার তোমার শ্বশুরবাড়ি থেকে ডাকেনি? জামাইআদরের শেলফ লাইফ শেষ?
- সর্বনাশ! মঙ্গলে তো জামাই ষষ্ঠী। একদম ভুলে মেরে দিয়েছিলাম। এ'দিকে পুজোটা মঙ্গলেই করতে হবে। পরের মঙ্গল হলে ইট উইল বি টু লেট।
- যাক, তা'হলে কী আর করা যাবে। এ যাত্রা নিরামিষ খেয়েই কাটিয়ে দাও জামাইষষ্ঠীতে। শ্বশুরবাড়িতে জানিয়ে দাও। দুপুরে ভাত, ঝিঙে আলুর ঝোল, আর মুলো দেওয়া ডাল থাকলেই চলবে।
- খামোশ। ভামোস নিয়ে পরে ভাবলেও চলবে। আর রিয়েল খেলা তো ক্রিকেট রে; যে'খানে লাঞ্চ টী ড্রিঙ্কস সমস্ত আছে। ফুটবল তো ধ্বস্তাধস্তি। একটা আদ্দির পাঞ্জাবি কিনতে হবে। বেরোব ভাবছি। দেখা করবি নাকি? পাঞ্জাবি কেনা আর নন্দী হোটেলের মেটে চচ্চড়ি আর ডিম তড়কা। কী?
- তুমি অন্তর্যামী মামা। মোড়ের মাথায় দেখা করি তা'হলে? আধঘণ্টার মাথায়?
- তাই আয়। আমি একটু মশলা মুড়ি মুখে দিয়েই বেরোচ্ছি।
(ছবিঃ Pulse)

বিক্রম বেতাল


- দাদা।
- বিক্রম? আয়।
- কাজ হয়ে গেছে।
- লাশ?
- অ্যাসিড। তারপরে নদী।
- আশেপাশে?
- কেউ ছিল না। ডবল শিওর।
- গুড।
- দাদা।
- আবার কী। টাকা পাসনি?
- পুরোটাই অ্যাডভান্সে।
- তবে?
- না মানে...।
- আর কী?
- এক পেগ, হবে? আসলে এ'সব কাজের পর কেমন...।
- নার্ভাস?
- ছিঃছিঃ, তা না। তবে ওই, কেমন একটা।
- সোডা?
- শুধু জল।
- নে।
- আহ্। বাঁচালে।
- তাড়াহুড়ো কেন?
- না...এমনি।
- তাই বলে বটমস আপ?
- প্যালপিটেশন হচ্ছিল যেন। ইয়ে, হবে? আর এক পেগ?
- হবে।
- থ্যাঙ্কস।
- বিক্রম। এরপর কিন্তু আর এক পেগও নয়। কাল আবার নতুন করে কাজে নামতে হবে।
- কাল? আবার?
- উপায় নেই। থামার উপায় নেই বিক্রম।
- দাদা, আমার আর ভালো লাগছে না।
- সে কথা আগে ভাবা উচিৎ ছিল।
- তোমার দমবন্ধ হয়ে আসে না? এই বিশ্রী খেলা খেলতে?
- বিশ্রী? 
- রোজ একটা করে নতুন দেহ খুঁজে বের করে ভর করো, রোজ আমি সেই মানুষ খুঁজে খুন করি আর তারপর তুমি এখানে এসে গা এলিয়ে বসে অপেক্ষা করো আগামীকালের। নতুন দেহের।
- গা এলিয়ে বসি, নাকি? আত্মার গা?
- সরি, মানে...ওই আর কী। কিন্তু রোজ তোমায় খুন করে নতুন নতুন লাশ গায়েব করা আর তারপর এই ভূতের আস্তানায় এসে অপেক্ষা করা; কখন নতুন বডি ধরবে; কাহাতক সহ্য হবে?
- টাকা নিয়েছিস। কোনো ওপরচালাকি নয়।
- বেতালদাদা, প্লীজ। আমি আর পারছি না। আমার আর টাকার দরকার নেই।
- বেশ, শেষ খুনটা করে দে।
- তারপর?
- মুক্তি?

ছটফট করে ওঠে বিক্রম, নিজের নতুন দেহের মধ্যে তখন বেতালদাদার আত্মার পাক খাওয়া দিব্যি টের পায়। 
ফের নিজের বুকে ছুরি বেঁধানো। ফের নিজের লাশ গায়েব করা। ফের একটা মড়া বয়ে এই অন্ধকারে ফিরে আসা। রোজ রোজ নতুন শেষ খুন জমা হয়।

টাকাগুলোয় অবশ্য পরিবারটা বেঁচেছে। কিন্তু এ দুর্ভেদ্য অন্ধকার বড় অসহ্য লাগে বিক্রম গোয়েন্দার। মামুলি সিরিয়াল কিলিংয়ের কেস ভেবে বেতালের পিছনে পড়াটা মোটেও উচিৎ হয়নি।

সাহেব আর বিশ্বকাপ


বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে আমার লেভেলের ফুটবল বোদ্ধার যা প্রথমেই করা উচিৎ; তা হল
ফের "সাহেব" দেখা।

সাহেব গোলকীপার; কীপিংয়ের ট্র‍্যাজেডি সিনেমার ডায়লগেই আছে। কিন্তু ইঞ্জুরি টাইমে গোল দিয়ে এ সিনেমাকে এগিয়ে দিয়েছেন উৎপলবাবু।
মনমেজাজ বেশ গোলমেলে জিনিস, মাঝেমধ্যেই মনে হয় "সবে জলে, সব নষ্ট হয়ে গেছে। তিব্বত-লেভেলের হৃদয় নিয়ে শেয়ালদার ভীড় ট্রেনে পেষাই হয়েই এ জীবন কেটে যাবে"। তখন প্রয়োজন পড়ে আত্মার সর্বিট্রেট, মেজাজের জিভের তলায় তৎক্ষণাৎ তা না রাখলেই সমূহ বিপদ। প্যাকেজড দুঃখের ব্র‍্যান্ডিতে মন চাঙ্গা করার বেশ কিছু ফর্মুলা রয়েছে; যেমন 'ইতি তোমার মা'য়ের শেষ চিঠি বা 'সাহেব' সিনেমার এই দৃশ্যের উৎপলবাবু।
এক সৎ পিতা তাঁর পুত্রকে প্রণাম করতে চেয়েছিলেন। যে সুগভীর যন্ত্রণা আর আকাশ-ছোঁয়া গর্ব মিশে সে ইচ্ছে তৈরি হয়, তা বোধ হয় শুধু এক পিতৃহৃদয়ই ধারণ করতে পারে।

এ'দিক আর ও'দিক


ক্লাসরুমের এক কোণে বসে কেউ মন দিয়ে বুকক্রিকেটে ভেঙ্কটেশ প্রসাদকে দিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করাচ্ছে, আর অন্যদিকে ব্ল্যাকবোর্ডে অঙ্ক স্যার এলিয়েনদের ভাষায় আঁকিবুঁকি কেটে চলেছেন।
অফিসের গোলমালে একজন বসের ইগোর জুতোয় বুক নিঙড়ানো চেরিব্লসম ডলে চলেছেন আর অন্যপ্রান্তে বসে একজন জান লড়িয়ে দিয়েছেন ফাইলের ভিড় সাফ করতে।
একদিকে কেউ খবরের কাগজ আর নিউজ চ্যানেলের পাল্লায় পড়ে তিতকুটে মেজাজের পুকুরে ডুবসাঁতার দিচ্ছেন আর ও'দিকে পাশের ঘরেই অন্য একজন জয় গোস্বামীর হোকাসপোকাস ব্যবহার করে নিজের পাশবালিশ কে লেভিটেট করাচ্ছেন।
আর...
ভরা গড়িয়াহাটে।
রাস্তার ও'পাশে দাস কেবিন।
এ'পাশে প্রেশার আর ওজন মাপার কাউন্টার।
মাইরি।