Wednesday, January 31, 2018

বইমেলা ২০১৭: হাইলাইটস


১. আমরা ভিড় করে দাঁড়িয়ে বড় স্ক্রিনে বাংলা সিরিয়াল দেখছি। 

২. আমাদের গায়ের ডিও, ঘাম আর ব্যাগের সদ্য কেনা বইয়ের গন্ধ ছাপিয়ে বইমেলার হাওয়া ভারি হয়ে আছে আরামবাগের মুর্গি ভাজা, আলিবাবার বিরিয়ানির গন্ধে।

৩. বইমেলার শেষ বেলায় এসে মনে হয়েছে যে মোটামুটি  ভাবে বইমেলার ম্যাপটা বোধগম্য হয়েছে।

৪. চায়ের কাপ, জলের প্যাকেট ইতিউতি মাঠময় ছড়িয়ে ডেওয়াটা একটা আর্ট। ডাস্টবিন হচ্ছে আর্টকিলার।

৫. অসতর্কতাবশত আগুন লাগলে প্রশাসনের কলার হেঁচড়ে ধরা ইজ মাচ ইজিয়ার দ্যান মেলার ভিড়ে সিগারেট না খাওয়া।

৬. আমরা আচারবিচারে শ্রেষ্ঠ। বিশাল আচারের দোকান বইমেলার মধ্যিখানে। আচারের দোকানে মনকাড়া ভিড়। ঝাল আমের আচার বেস্টসেলার।

৭. যদ্দিন সূর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে, তদ্দিন বইমেলায় কার্তিকচন্দ্র পাল থাকবেন। (পেয়েছি, তার অটোগ্রাফসহ বইয়ের এক কপি আজ পেয়েছি)।

৮. বইমেলার শেষদিনে সিদ্ধি খাওয়ার চল নেই।

(স্বাভাবিক; পুরনো লেখা)

জিলিপিস্তান


- দেখেছেন? দেখেছেন জিলিপিটার সাহস? আমায় ভ্যাঙাচ্ছে ব্যাটচ্ছেলে! বদমাইসের গাছ।

- কোনটা?

- ওই যে। ওইটে।

- জিলিপি জিভ বের করে ভ্যাঙাচ্ছে?

- জিলিপির জিভ হয়? সে ব্যাটা গামলা থেকে মুণ্ডু বের করে নাচিয়ে আমায় অপমান করছে।

- কই দেখি।

- মন দিয়ে দেখুন। ওই যে। বাঁদিকে যেখানে ফোকাসটা এসে পড়ছে। ওই ব্যাটা হারামি জিলিপ। আমায় হ্যাটা করছে।

- ঠিক। ঠিক। স্পষ্ট দেখছি। আপনার প্রতি একটা ডিস্টিঙ্ক্ট অবজ্ঞা ওর চোখে মুখে ফুটে উঠছে। আপনি ইনসাল্টেড ফিল করছেন না?

- করছি না আবার! গা রি রি করছে।

- আমারও! রক্ত টগবগ করে ফুটছে। আপনার অপমান মানে আমার অপমান।

- নেহাত আমার সুগারটা বেড়েছে তাই।

- তা বলে অপমান টলারেট করবেন? ও ব্যাটা জিলিপির বাচ্চা কন্সট্যান্ট হাবেভাবে আপনাকে বলছে 'ধক থাকে তো খেয়ে দেখা"।

- ধক নিয়ে কথা বলছে। আমারও তাই মনে হচ্ছে। যদিও আমার সুগারটা বেড়েছে।

- রাজপুতেরা সম্মানের জন্য কচাকচ নিজেদের গলা কাটত জানেন?

- রাজপুতেরা নিজেদের গলা কাটত। আর আমি সামান্য সুগারের ভয়ে অপমান হজম করব?

- কভি নহি। আপনি সহ্য করলে আপনি আমার চোখে নেমে যাবেন।

- ঠিক হ্যায়। অ্যাই ব্যাটা, জিলিপি দে দেখি এক পিস। এইটা নয়। ওই ফোকাসে নিচে যেটে দাঁত কিড়মিড় করে পড়ে আছে, উসকো লাও।

- শ্যামবাবু।

- ইয়েস অমিয়বাবু।

- আই অ্যাম প্রাউড অফ ইউ। জিলিপি ব্যাটাকে যোগ্য ঠ্যাঙানি দিয়েছেন।

- থ্যাঙ্ক ইউ।

- একটা কথা বলি?

- বলুন।

- গতকাল লালুর তেলেভাজার দোকানে একটা আলুর চপ আমায় দেখে বিশ্রী খ্যাঙোর খ্যাঙোর শব্দ করে হাসছিলে। রাস্কেল কোথাকার। নেহাত কোলেস্টেরল লেভেলটা বিট্রে করছে। নেহাত।

- অপমান। অপমান। বিটনুন অন ইঞ্জুরি। এ আপনি সহ্য করবেন?

- সহ্য করব না?

- সহ্য করলে আপনি দেশের কলঙ্ক। দশের কলঙ্ক।

- মানুষ আমি, নহি তো মেষ। বদলা নেব।

- আলবাত নেবেন।

- কোলেস্টেরলের ক্যাঁথায় আগুন, ল্যাজে ভেসলিন। চলুন, নেক্সট বদলা; কালু দাসের স্পেশ্যাল আলুর চপ।

- জয় হিন্দ।

এক জোড়া বিরাশি বছর জিলিপিস্তান জয় করে চপনগরের দিকে রওনা হলেন।

একটা করে


"ওদিকের জানালাটা আমার বেশ প্রিয় জানো অপর্ণা!  জানালাটার ওপারে একটা পুরোনো বাড়ি যা এক কচি খোকা দিনরাত হাসিকান্নায় মাথায় করে রেখেছে। সে বাড়ির পাশ দিয়ে সরু ইট বাঁধানো রাস্তা গিয়ে মিশেছে আকাশে। আকাশটা অমন মরচে মাখানো সাদা কেন, তাই ভাবছ? আর সাদার গায়ে ছোপ ছোপ কেন?

ক'দিন থাকো এখানে। তারপর বুঝতে পারবে। ওই যে'টাকে ফ্যাকাশে সাদা আকাশ ভাবছ, সে'টা আসলে পুরোন বইয়ের পাতা। কালো ছোপ ছোপগুলো হচ্ছে ছাপার অক্ষর। ছাপা ছেতরে গেছে কেন তাই ভাবছ? আসলে মেয়েটা ঘুরে ফিরে এ পাতাটায় ফেরত আসে, উদ্ভ্রান্তের মত পড়ে আর ফিরে যায়। বড় মায়া আছে মেয়েটার চোখে। ভেজা। বালিশে আর বইয়ের পাতায় সে ভেজা ভাব মিশে যায় বারবার। 

অবিশ্যি মায়া মেয়েটার মধ্যে না তার চোখের জলে ভেজা বালিশে তা বলতে পারিনা। তবে সে বালিশে যখন এ পাতায় খোলা বইটা উপুড় করে রাখে মেয়েটা, তখন ওই ডান দিকের লাগোয়া ছাতে বৃষ্টি নামে; আমি বেরিয়ে ভিজে আসি বেবাক। বেশ লাগে। 

এখন কিনা বইটা বন্ধ করে রাখা, তাই আকাশ অমন ফ্যাকাসে। তাই হয়তো তোমার অমন গুমোট লাগছে।  মেয়েটা মন খারাপে পড়লেই এ বই বিছানায় নিয়ে এসে সপাট চলে আসে এ পাতায়। সেদিন আকাশ জুড়ে শুধু মেঘ, সে মেয়ের চোখের মেঘকালো আনচান। মন খারাপের রঙ আর মন ভালোর গন্ধ মেশানো।"

*
বারবার এ পাতায় ফিরে আসা। বারবার। তবু এদ্দিন অপুকে ডিঙিয়ে অপর্ণাকে ছুঁতে পারেনি সুমি। কিন্তু আজ কেমন করে যেন ঝরঝর করে অপর্ণা বয়ে চলে  এলো। পুরোনো ভালো লাগা বইকে নতুন করে চেনা যে কী আনন্দের। বিষন্নতা মন্দ নয়, সুমির তাই ভেবে হাসি পেলো। মন ভালো করা হাসি। ভেজা হাসি।

*
অপর্ণা বুঝলে বৃষ্টির ভিজে যাওয়ার বড় আদরের। আর বৃষ্টির আদর বড় লজ্জার। সংসারে ভেজা মাটি আর বইয়ের গন্ধ খুঁজে পায় সে। অপুর ঠোঁট আবডাল দেখে তার বৃষ্টি ভেজা গালের কাছে নেমে এলে সে ফিসফিসিয়ে ওঠে "প্রতি বৃষ্টিতে একটা করে, কথা দিয়েছ কিন্তু"।

টোটাল ইন্টারনাল রিফ্লেকশন


- হীরা চমকায় কেন জানিস?
- টোটাল ইন্টারনাল রিফ্লেকশন। অফ কোর্স।
- ডেমো দেখাতে পারবি?
- হীরে নিয়ে ঘুরছ নাকি মামা?
- নয়তো ডেমো দেখাতে বলছি কী করে!
- রিয়েলি? 
- এই দ্যাখ। 
- ধুস। শিঙাড়া। এটা কি তোমার সেই স্পেল অফ কবি ভাব? পুরী বিচ ফিট?
- পাকামি করিস না। কোশ্চেনটায় ডেপথ রেখেছি।
- বেশ তুমিই ডেমোটা দেখাও।
- এ শিঙাড়া যে সে শিঙাড়া নয় বাবু। ডেসিমাল সাইজের ব্রিলিয়ান্স। তা বলে প্যাকেট করা হলদিরামি ভাঁওতা নয়। ভিতরে জেনুইন হলুদ মাখো মাখো আলুর পুর। জেম।
- কথায় কাজ কী? ডেমোয় এসো। টোটাল ইন্টারনাল রিফ্লেকশন। ডায়মন্ড। থ্রু শিঙাড়া।
- ওকে। এই দ্যাখ। পুরীর বে বেঙ্গলের ছাদের নরম আলোর ফোকাসে শিঙাড়াটাকে প্লেস করলাম। ওকে?
- ওকে।
- সে আলো অপ্টিক্যালি ডেন্স মিডিয়াম থেকে রেয়ারার মিডিয়ামে চলা ফেরা করে চকমকি জেনারেট করছে সে'টা তো স্পষ্ট দেখতেই পাচ্ছিস।
- ধ্যার। 
- চকমক দেখতে পাচ্ছিস না?
- ধ্যার ধ্যার।
- ওরে, এ কি যে সে হীরে? দুম করে চমকালেই হল? ফাটা কেষ্ট কি দড়াম করে কেলিয়ে দিয়েই খালাস হয়? সে মারে এখানে আর লাশ ফেলে শ্মশানে। তেমনই, এ হীরে চমকায় এখানে কিন্তু ঝলক পড়ে গিয়ে বুকের ভিতরে। ইনসাইড ইওর সোল।
- শিঙাড়াটা কি খাবে না মামা?

ভয়ডর

- মৃত্যু ভয়?
- জন্মিলে মরিতে হবে..এট সেটেরা।
- স্বজন হারানোর চিন্তা?
- ডেডবডি স্বজন নয়।
- কলঙ্কের কালি মাখতে হলে?
- একটু স্ক্যান্ডাল, অল্প ভুঁড়ি। ক্যারেক্টারে পালিশ আনে।
- তাহলে আপনি নির্ভয়?
- হান্ড্রেড পার্সেন্ট নই। একটা টেরর্ রয়েইছে।
- কী?
- মাঝরাত্তিরের পিপাসা।
- বিছানার পাশে বোতল নিয়ে শুলেই হল। এই যেমন আমি নিয়ে শুয়েছি। এই দেখুন।
- সেই পার্ফেকশন হিট করা..ঠিক ততটাই জলপান যাতে পিপাসার সাপও মরবে আবার ছোট বাথরুমের প্রেশারও ক্রিয়েট হবে না। ডিফিকাল্ট। বিশেষত শীতের রাতে। আজ পর্যন্ত কেউ অপ্টিমাইজ করতে পারেনি।
- কী কুক্ষণে যে আপনাকে ভয় নিয়ে জিজ্ঞেস করতে গেলাম। কী কুক্ষণেই যে আপনার সঙ্গ রুম শেয়ার করতে রাজী হলাম মশাই। এখান পিপাসা পাচ্ছে।
- বেশ। আপনি পিপাসা আর বাথরুমকে বাইসেক্ট করার চেষ্টা করুন। আমার ঘুম পাচ্ছে। গুড নাইট।