- ওয়েলকাম টু আফটার লাইফ।
- ধন্যবাদ, আপনিই কি...?
- আমিই। ইয়েস।
- হাউ এক্সাইটিং।
- এক্সাইটমেন্ট পরে, আগে একটা প্রশ্ন ছিল।
- কী প্রশ্ন?
- যা'র উত্তর সবাইকে দিতে হয় এ'দিকে এসে।
- প্রশ্নটা কী?
- আপনি ও'দিকে থাকতে কী কী দিয়ে এসেছেন?
- কী কী দিয়ে এসেছি?
- হ্যাঁ। বা বলা ভালো কতটা দিয়ে আসতে পেরেছেন?
- উম্ । লেট মি সী। লিস্টটা বেশ লম্বা। নব্বুই বছরে তো কম দিয়ে আসিনি..এই যেমন ধরুন..।
- জ্ঞান ছাড়া কী কী দিয়ে এসেছেন সে'গুলো বলবেন।
- কী ছাড়া?
- জ্ঞান। জ্ঞান বাদে আর কী কী দিয়ে আসতে পেরেছেন। সেই লিস্ট।
- অ।
- কই। বলুন।
- বলছিলাম যে, ইয়ে, আপনাদের এখানে টয়লেটটটা কোথায় আছে বলতে পারেন?
Monday, July 17, 2017
দেওয়ার হিসেব
Sunday, July 16, 2017
রোব্বার
রবিবার বিকেল নাগাদ অল্প জ্বরজ্বর বোধ
করেন অনিল মুন্সী। চোখের সামনে গল্পের বইয়ের তাকটা আবছা হতে শুরু করে। সন্ধেবেলা
কফির স্বাদ পানসে হয়ে যায়। মনের মধ্যে থেকে “ম্যা হু ঝুম ঝুম
ঝুমরু”র গুনগুন মিলিয়ে গিয়ে ‘অমুক কোটেশন’ ‘তমুক ফাইল’
ভাসতে শুরু করে।
অল্প অম্বল বুকের কাছে ভাসতে থাকে।
এমপিথ্রিতে নির্মলা মিশ্রের “এমন একটা ঝিনুক” শুনে মনে হয়
বড়বাবু শুধচ্ছেন “স্টেটমেন্টগুলো তৈরি হয়নি এখনও”?
রবিবার সন্ধে হলেই ভাজাপোড়া খাওয়ার
ইচ্ছেটা বিলকুল গায়েব হয়ে যায়। ইচ্ছে করে শুধু ছাতুর সরবত খেতে, তাও
পেঁয়াজ লঙ্কা কুচি ছাড়া। জোর করে বিট্টুর থেকে ধার করে চাচা চৌধুরীর কমিক্স পড়ার
চেষ্টা করেও লাভ হয় না, ক্রমশ মনে হয় গ্র্যাভিটি বেড়ে চলেছে। বিপুল
জ্যেঠুর শ্রাদ্ধে একটা পকেট গীতা পেয়েছিলেন বছর তিনেক আগে। রবিবার রাত এলেই সেই
পকেট গীতা উলটেপালটে দেখে সময় কাটান অনিলবাবু।
ও’দিকে তখন
ব্যালকনিতে হুড়মুড়িয়ে পায়চারি করে চলেছেন বিশ্বনাথ মল্লিক। একের পর এক সিগারেট
নিকেশ হয়ে ফিল্টারগুলো জমা হচ্ছে ব্যালকনিতে রাখা আধমরা পাতাবাহার গাছের টবে। কাল
সান্যালেরই একদিন কী তাঁরই একদিন।
সে’দিনের ছোকরা
তাঁকে বিজনেস শেখাবে? আগামীকালের অকশনেই বোঝা যাবে কত ধানে কত চাল।
অনিল মুন্সীর থেকে গতবছরের স্টেটমেন্টগুলো ভালো করে বুঝে নিয়েই কাল ছুটতে হবে
অকশনে।
রবিবার দিনটা একটা নষ্টের দিন। কত কাজ
করে ফেলা যেত সকাল থেকে। কত হিসেবেকিতেব সেরে ফেলা যেত। তা নয়, কথায়
কথায় মানুষের ছুটি চাই। ছুটি মানেই অকাজ। হপ্তায় সাত সাতটা দিন অথচ মানুষ স্রেফ ছ’দিন
টাকা কামিয়ে সন্তুষ্ট। কী জঘন্য অপচয়। রবিবারের অযৌক্তিক ছুটির জন্যেই সান্যালের
ব্যাটার মুখে ঝামা ঘষতে একদিন দেরী হয়ে গেল। ইশ, ভাবলেই গা
চিড়বিড় করে উঠছে। এখন সবে রাত দশটা, আরও অন্তত দশ ঘণ্টার আগে অফিস যাওয়া
যাবে না।
খাবারে স্বাদ নেই, বিছানার
নরম গদি যেন ঘামাচির কারখানা। উফ, কখন যে সকাল ছ’টার অ্যালার্মটা
বাজবে। কখন যে সুখলাল গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের করে গেটের সামনে এসে হর্ন বাজাবে।
তারপর সান্যালেরই একদিন কী তাঁরই
একদিন।
ও’দিকে তখন সুখলাল
বাড়ির ছোট্ট বারান্দায় মাদুর পেতে শুয়ে। বস্তিতে লোডশেডিং,ঘরের ভিতর অসহ্য
গুমোট ভাব। বারান্দায় মশারি টাঙিয়ে শুলে সামান্য স্বস্তি। ছোট মেয়েটাকে নিয়ে তাই
বাইরে এসে শুয়েছে সুখলাল।
রবিবারটা বড় ভালো লাগে সুখলালের। বউয়ের
সঙ্গে বসে ঠোঙা বানানো যায় গোটাদিন, দু’জনে বানালে ডবল
ঠোঙা; ডবল টাকা। ছেলেমেয়ে দু’টো আশেপাশে ঘুরঘুর করে। দুপুরে এক
সঙ্গে খাওয়া। বিকেলে ঠোঙার বস্তা কাঁধে বউকে যেতে হয় না বনিয়ার কাছে, সে
নিজেই নিয়ে যায়। এ’টা শুধু রবিবারই হয়।
এত ভালো কাটে সপ্তাহের এই দিনটা।
গোটাদিন পুষ্পা পাশে থাকে। খবরের কাগজ, আঠা আর বউয়ের মাথায় দেওয়া নারকোল তেল
মেশানো সুবাস সুখলালকে ঘিরে থাকে। তবে ড্রাইভারির কাজে পয়সা বেশি। দু’জনে
মিলে গোটা মাস জুড়ে ঠোঙা বানালেও ড্রাইভারির মত টাকা নেই।
রবিবার শেষ হলেই মনে হয় পুষ্পা যেন
আবার এক হপ্তা দূরে চলে গেল, পাশের রেললাইন থেকে মালগাড়ির
ঝুপুরঝুপুর বুকের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। পরের মুহূর্তেই আবার মনে পড়ে মল্লিকবাবুর
দেওয়া বাড়তি মাইনে। পুজোর বখশিশ। বছরে তিন সেট জামা প্যান্ট। বিপদের সময় দেওয়া
ধারের টাকা। ছেলেমেয়েগুলোর স্কুল। পুষ্পার সোনার কানের দুলের শখ।
রোববারের মড়া ঘুম হয়ে নেমে আসে
সুখলালের চোখে।
Saturday, July 15, 2017
স্মাইল জেনারেটর
মামুলি সব জিনিসকে নামের তুকতাকে দুরন্ত করে উপহার দেওয়াটা বুবাইয়ের ছোটমামার একটা পুরনো অভ্যাস। মামার ভাষায় ‘একটু ক্লাস মিশিয়ে দিতে পারলেই, কিপটেমোতেও ঝলক আনা সম্ভব’।
ব্যালকনিতে ছোট্ট দু’টো সাদা টব রাখা আছে। দু’টোতেই নয়নতারা। মামা গত জন্মদিনে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন “এই নে, এক জোড়া স্মাইল জেনারেটর দিলাম, যখনই মেজাজে কিছু গড়বড় মনে হবে, এ’দের কাছে এসে সাবমিট করবি”। পয়লা বৈশাখে দিয়েছিলেন কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাথ থেকে পঞ্চাশ টাকায় কেনা পুজোবার্ষিকী আনন্দমেলা; “এই নে। তখনও পুজো সংখ্যা জ্যান্ত ছিল। কই মাছের মত বঁটির নীচেও ল্যাটরপ্যাটর করার দম ছিল। অন্ধ্রের চালানি কেরোসিন মাখানো চীজ তো রইলই। আগে এ’টা পড়ে দ্যাখ”। গত পুজোর সময় দিয়েছিলেন ডাংগুলি যে’টা বাবা কোনও দিন বুবাইকে ব্যবহার করতে দেয়নি চোট লাগার ভয়ে। বাবা বলেন “মন্টুটা একটা ওয়ার্থলেস, অন্তত একটা চাকরী যদি মন দিয়ে করতে পারত”। মন্টু ছোটমামার ডাকনাম, বুবাইয়ের ডাকনাম যেমন বুবাই। ছোটমামা বাবাকে আড়ালে ট্রিগোনোমেট্রি বলে ডাকেন।
ছোটমামা অনেক চাকরী ধরেছেন ছেড়েছেন। বাবার জোগাড় করে দেওয়া দু’টো চাকরী সহ। একটা বাবার উকিল সমাদ্দারবাবুর অফিসে হিসেব দেখার। অন্যটা বাবার এক ক্লায়েন্টের ফ্যাক্টরিতে লেজারবাবুর কাজ। প্রথমটায় মামা তিন মাস টিকে ছিল, পরেরটায় তিন দিন। দ্বিতীয় চাকরীটা ছাড়ার পর মামা যখন বাড়িতে এসেছিলেন তখন বাবা মামাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন “রাস্কেল ছোকরা, ব্যাড ইনফ্লুয়েন্স অন বুবাই” বলে। দিন চারেক পর অবশ্য নিজে গিয়ে ডেকে এনেছিলেন ছোটমামাকে, কারণ মামা বাবার তাসের আড্ডার পার্টনার।
“তোর বাবা মানুষটা মন্দ না, নেহাত নিয়ম মেনে মেনে লোকটা নুন তেল ঝাল ছাড়া মাখা আলুসেদ্ধর মত হয়ে গেছে, তাই বলে তো কাউকে ডিসমিস করে দেওয়া যায় না”, মন্টুমামা এ কথাও বলেছেন কতবার।
ছোটমামার দেওয়া নয়নতারার গাছ দু’টো সত্যি বেশ মন ভালো করা, রোজ ফুলে ঢাকা থাকে। রোজ বিকেলে বুবাই এসে ওদের গায়ে অল্প জল ছিটিয়ে যায়।
ব্যালকনিতে ছোট্ট দু’টো সাদা টব রাখা আছে। দু’টোতেই নয়নতারা। মামা গত জন্মদিনে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন “এই নে, এক জোড়া স্মাইল জেনারেটর দিলাম, যখনই মেজাজে কিছু গড়বড় মনে হবে, এ’দের কাছে এসে সাবমিট করবি”। পয়লা বৈশাখে দিয়েছিলেন কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাথ থেকে পঞ্চাশ টাকায় কেনা পুজোবার্ষিকী আনন্দমেলা; “এই নে। তখনও পুজো সংখ্যা জ্যান্ত ছিল। কই মাছের মত বঁটির নীচেও ল্যাটরপ্যাটর করার দম ছিল। অন্ধ্রের চালানি কেরোসিন মাখানো চীজ তো রইলই। আগে এ’টা পড়ে দ্যাখ”। গত পুজোর সময় দিয়েছিলেন ডাংগুলি যে’টা বাবা কোনও দিন বুবাইকে ব্যবহার করতে দেয়নি চোট লাগার ভয়ে। বাবা বলেন “মন্টুটা একটা ওয়ার্থলেস, অন্তত একটা চাকরী যদি মন দিয়ে করতে পারত”। মন্টু ছোটমামার ডাকনাম, বুবাইয়ের ডাকনাম যেমন বুবাই। ছোটমামা বাবাকে আড়ালে ট্রিগোনোমেট্রি বলে ডাকেন।
ছোটমামা অনেক চাকরী ধরেছেন ছেড়েছেন। বাবার জোগাড় করে দেওয়া দু’টো চাকরী সহ। একটা বাবার উকিল সমাদ্দারবাবুর অফিসে হিসেব দেখার। অন্যটা বাবার এক ক্লায়েন্টের ফ্যাক্টরিতে লেজারবাবুর কাজ। প্রথমটায় মামা তিন মাস টিকে ছিল, পরেরটায় তিন দিন। দ্বিতীয় চাকরীটা ছাড়ার পর মামা যখন বাড়িতে এসেছিলেন তখন বাবা মামাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন “রাস্কেল ছোকরা, ব্যাড ইনফ্লুয়েন্স অন বুবাই” বলে। দিন চারেক পর অবশ্য নিজে গিয়ে ডেকে এনেছিলেন ছোটমামাকে, কারণ মামা বাবার তাসের আড্ডার পার্টনার।
“তোর বাবা মানুষটা মন্দ না, নেহাত নিয়ম মেনে মেনে লোকটা নুন তেল ঝাল ছাড়া মাখা আলুসেদ্ধর মত হয়ে গেছে, তাই বলে তো কাউকে ডিসমিস করে দেওয়া যায় না”, মন্টুমামা এ কথাও বলেছেন কতবার।
ছোটমামার দেওয়া নয়নতারার গাছ দু’টো সত্যি বেশ মন ভালো করা, রোজ ফুলে ঢাকা থাকে। রোজ বিকেলে বুবাই এসে ওদের গায়ে অল্প জল ছিটিয়ে যায়।
ছোটমামা শহর ছেড়েছেন চার মাস মত হয়েছে, দুম করে শেষে সুরাটের একটা মিলে চাকরী নিলেন। “প্রেম করাটা ট্যাক্সিং হয়ে গেল রে বুবাই”।
বাবা ব্রীজ ছেড়েছেন তিন মাস। ব্যালকনিতে বেতের চেয়ার আর টেবিল পেতেছেন, নয়নতারা ঘেঁষে; ঝাড়ে দেড় ঘণ্টা পেশেন্স খেলেন রোজ বিকেলে।
ছোটমামার বিয়েতে অবশ্য খুব মজা হয়েছিল। বিয়ে হয়েছিল মামাদের দেশের বাড়ি বাঁকুড়ায়। বাবা আর বুবাই গিয়ে দিন দশেক ছিল। এত লম্বা ছুটি বাবা কতদিন যে নেয়নি। কলকাতা থেকে বাবা ব্যালকনিত থেকে নয়নতারার একটা টব বয়ে নিয়ে গেছিল। টবের গায়ে একটা চিরকুট।
চিরকুটে বাবা যত্ন করে লিখেছিল;
“ভায়া ওয়ার্থলেস,
ভালো থেকো, বৌটিকে ভালো রেখো। মেয়েটা বড় ভালো, তোমায় মানুষ করার চেষ্টা করেছে। তোমার দিদি যাওয়ার আগে বলে গেছিল ওর হাতের বালাজোড়া তোমার বৌকে দিতে। সে সুদিন যে আদৌ আসবে সে’টা ভাবিনি। যা হোক, আমার আর বুবাইয়ের তরফ থেকেও কিছু দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি।
বাপ ব্যাটার জন্য একটা স্মাইল জেনারেটরেই যথেষ্ট। এ’টা রইলো তোমার জন্য।
বাবা ব্রীজ ছেড়েছেন তিন মাস। ব্যালকনিতে বেতের চেয়ার আর টেবিল পেতেছেন, নয়নতারা ঘেঁষে; ঝাড়ে দেড় ঘণ্টা পেশেন্স খেলেন রোজ বিকেলে।
ছোটমামার বিয়েতে অবশ্য খুব মজা হয়েছিল। বিয়ে হয়েছিল মামাদের দেশের বাড়ি বাঁকুড়ায়। বাবা আর বুবাই গিয়ে দিন দশেক ছিল। এত লম্বা ছুটি বাবা কতদিন যে নেয়নি। কলকাতা থেকে বাবা ব্যালকনিত থেকে নয়নতারার একটা টব বয়ে নিয়ে গেছিল। টবের গায়ে একটা চিরকুট।
চিরকুটে বাবা যত্ন করে লিখেছিল;
“ভায়া ওয়ার্থলেস,
ভালো থেকো, বৌটিকে ভালো রেখো। মেয়েটা বড় ভালো, তোমায় মানুষ করার চেষ্টা করেছে। তোমার দিদি যাওয়ার আগে বলে গেছিল ওর হাতের বালাজোড়া তোমার বৌকে দিতে। সে সুদিন যে আদৌ আসবে সে’টা ভাবিনি। যা হোক, আমার আর বুবাইয়ের তরফ থেকেও কিছু দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি।
বাপ ব্যাটার জন্য একটা স্মাইল জেনারেটরেই যথেষ্ট। এ’টা রইলো তোমার জন্য।
ইতি
ট্রিগোনোমেট্রি চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়”।
ট্রিগোনোমেট্রি চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়”।
Friday, July 14, 2017
বালিশবাবুর অফিসে - ৫
- এ কী! আপনি?
- কেন? আপনার ডাক না এলে আপনার অফিসে আসা বারণ নাকি বালিশবাবু?
- মতলবটা কী বলে ফেলুন।
- মতলব আবার কী ভাষা!
- ধান্দা! কী ধান্দায় এসেছেন শুনি?
- ঈশ! মতলব। ধান্দা। প্রয়োজন বলতে পারেন না?
- ঝেড়ে কাশুন। আমার অনেক কাজ।
- অনেক কাজ?
- আপনার মিসেসের...।
- ইউ মীন আপনার মায়ের...।
- বাহান্ন তিপ্পান্ন। দ্যাট ইজ ওকে। দিন দুই হয়ে গেল আপনার মিসেসের ড্রেসিংটেবিলটা তছনছ করা হয়নি। কুইক। বলে ফেলুন যা বলার।
- তা'তে মনে পড়ল, টিভির রিমোটটা কোথায় আছে আপনি জানেন?
- টিভি আমি চালাই?
- না তা নয়। এমনি র্যান্ডমলি জিজ্ঞেস করে নিলাম।
- এ'টা জিজ্ঞেস করতেই অফিস পর্যন্ত ছুটে এসেছেন?
- নাহ্। একটা জরুরী কথা ছিল।
- টিভির চেয়েও বেশি জরুরী? ব্যাপার কী ?
- বলছিলাম যে...। এই যে আপনার ভাষা...।
- ভুলে যাচ্ছেন যে অফিসের বাইরে আমি কথা বলতে পারি না। তত থথ বব ভভ করে শর্টহহ্যান্ডে কথা বলতে হয়। অবিশ্যি আপনার মিসেসের কমিউনিকেট করতে কোনও অসুবিধে হয় না।
- আই মীন...আপনি মূলত যে ভাষাতে কথা বলতে শিখবেন বা লিখবেন; সে'টা হল বাংলা।
- পর্তুগীজ হলেও তো কিছু এসে যেত না। সেরিল্যাকটুকু চেয়ে নিতে পারলেই তো ল্যাঠা চুকে যাওয়ার কথা।
- ইয়ে, সেরিল্যাক চাওয়ার বাইরেও ভাষার দরকার আছে...।
- পটির পর ইয়ে সাফ করার জন্য কাউকে ডাকতে, তাই তো? হ্যাঁ। নোটেড। এর বাইরে ভাষাফাষা দিয়ে কী হবে। ও চিন্তা করবেন না। বাংলা, জুলু; যা কিছু দিয়ে চালিয়ে নেব।
- হোয়াট ননসেন্স। বাংলা না শিখে যাবেন কোথায়?
- আপনি বাংলা শিখেই বা কোথায় গেছেন স্যার? সেই তো 'এ'টা তুই ভালো নিভিয়েছিস' বা "তোমার কথার আন্দাজটা খুব সুন্দর' ঝেড়ে দিন গুজরান করছেন।
- ইয়ে, সেজন্যেই এ'বারে আপনার কাছে আসা আপনি এ'বার আবোলতাবোল জিবেরিশ বন্ধ করে নিজের মনের কথা বাংলায় বলতে শুরু করবেন। সে বয়স আপনার হয়ে গেছে। এক বছর দু'মাস! অলমোস্ট দেয়ার। কাজেই কী কোয়ালিটির বাংলা পিক করছেন সে’টা খুব জরুরী।
- মনের কথা বাংলায়?
- ঠিক। মনের মধ্যে হয়ত আপনি বলে চলেছেন 'হুসবাএ ফস্ক্রহ থথত্থথ'। সে'টাই বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় "আমার খুব হিসু পেয়েছে"।
- হলো না। অনুবাদ করলে দাঁড়াবে আমার বহুত জোরসে হিসু লেগেছে।
- বহুত জোরসে লেগেছে? শুনুন বালিশবাবু, ব্যাপারটা সিরিয়াস। হিসু হয়ে গেলে বলতে হবে হিসু করে ফেলেছি।
- হিসু করে চুকেছি।
- চুকেছি?ধ্যাত্তোর। শুনুন। আপনাকে ওয়ার্ন করে দেওয়ার জন্য এই অসময়ে ছুটে আসা।
- কীসের ওয়ার্নিং?
- এই যে বাংলাটা আপনাকে মন দিয়ে শিখতে হবে।
- ঠিক আছে। মন লাগিয়ে শিখব। আর একবার আচ্ছা সে শিখে গেলে কোনও চিন্তা নেই...।
- আচ্ছা সে? মন লাগিয়ে?
- হুঁ।
- জল আছে বালিশবাবু?
- কেন? শরীর মস্ত্ নেই?
- মস্ত্? তা ঠিক নেই। মস্ত চিন্তা মাথায়।
- ইয়ে মিস্টার মুখর্জি...।
- কী? কিছু বলবেন?
- বাজারের খবর আপনার বানানবোধে নাকি ফলিডল মেশানো আছে?
- সে দুই একটা হয়ত...।
- সে দু'একটায় যে'দিন শুধার আনবেন, সে'দিন না হয় আমি বাংলা নিয়ে আমার দায়িত্ব নেভাব? জিনকে সম্মান করা মানুষের উন্নতির আধার।
- কানে বাংলার নামে কী সব ঢুকলো বালিশবাবু...।
- জ্ঞান কিছু টাইম বাদে দেবেন। এখন আসুন। স্টার প্লাসে মাসির সিরিয়ালে নতুন সীজনের শুরুয়াদ হবে। আমিও দেখি। এ’বার সোফাঘুম থেকে একটু উঠুন। উত্তরের জানালার কার্নিশে টিভির রিমোট পড়ে আছে। সে'টা চটপট নিয়ে আসুন দেখি।
- কেন? আপনার ডাক না এলে আপনার অফিসে আসা বারণ নাকি বালিশবাবু?
- মতলবটা কী বলে ফেলুন।
- মতলব আবার কী ভাষা!
- ধান্দা! কী ধান্দায় এসেছেন শুনি?
- ঈশ! মতলব। ধান্দা। প্রয়োজন বলতে পারেন না?
- ঝেড়ে কাশুন। আমার অনেক কাজ।
- অনেক কাজ?
- আপনার মিসেসের...।
- ইউ মীন আপনার মায়ের...।
- বাহান্ন তিপ্পান্ন। দ্যাট ইজ ওকে। দিন দুই হয়ে গেল আপনার মিসেসের ড্রেসিংটেবিলটা তছনছ করা হয়নি। কুইক। বলে ফেলুন যা বলার।
- তা'তে মনে পড়ল, টিভির রিমোটটা কোথায় আছে আপনি জানেন?
- টিভি আমি চালাই?
- না তা নয়। এমনি র্যান্ডমলি জিজ্ঞেস করে নিলাম।
- এ'টা জিজ্ঞেস করতেই অফিস পর্যন্ত ছুটে এসেছেন?
- নাহ্। একটা জরুরী কথা ছিল।
- টিভির চেয়েও বেশি জরুরী? ব্যাপার কী ?
- বলছিলাম যে...। এই যে আপনার ভাষা...।
- ভুলে যাচ্ছেন যে অফিসের বাইরে আমি কথা বলতে পারি না। তত থথ বব ভভ করে শর্টহহ্যান্ডে কথা বলতে হয়। অবিশ্যি আপনার মিসেসের কমিউনিকেট করতে কোনও অসুবিধে হয় না।
- আই মীন...আপনি মূলত যে ভাষাতে কথা বলতে শিখবেন বা লিখবেন; সে'টা হল বাংলা।
- পর্তুগীজ হলেও তো কিছু এসে যেত না। সেরিল্যাকটুকু চেয়ে নিতে পারলেই তো ল্যাঠা চুকে যাওয়ার কথা।
- ইয়ে, সেরিল্যাক চাওয়ার বাইরেও ভাষার দরকার আছে...।
- পটির পর ইয়ে সাফ করার জন্য কাউকে ডাকতে, তাই তো? হ্যাঁ। নোটেড। এর বাইরে ভাষাফাষা দিয়ে কী হবে। ও চিন্তা করবেন না। বাংলা, জুলু; যা কিছু দিয়ে চালিয়ে নেব।
- হোয়াট ননসেন্স। বাংলা না শিখে যাবেন কোথায়?
- আপনি বাংলা শিখেই বা কোথায় গেছেন স্যার? সেই তো 'এ'টা তুই ভালো নিভিয়েছিস' বা "তোমার কথার আন্দাজটা খুব সুন্দর' ঝেড়ে দিন গুজরান করছেন।
- ইয়ে, সেজন্যেই এ'বারে আপনার কাছে আসা আপনি এ'বার আবোলতাবোল জিবেরিশ বন্ধ করে নিজের মনের কথা বাংলায় বলতে শুরু করবেন। সে বয়স আপনার হয়ে গেছে। এক বছর দু'মাস! অলমোস্ট দেয়ার। কাজেই কী কোয়ালিটির বাংলা পিক করছেন সে’টা খুব জরুরী।
- মনের কথা বাংলায়?
- ঠিক। মনের মধ্যে হয়ত আপনি বলে চলেছেন 'হুসবাএ ফস্ক্রহ থথত্থথ'। সে'টাই বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় "আমার খুব হিসু পেয়েছে"।
- হলো না। অনুবাদ করলে দাঁড়াবে আমার বহুত জোরসে হিসু লেগেছে।
- বহুত জোরসে লেগেছে? শুনুন বালিশবাবু, ব্যাপারটা সিরিয়াস। হিসু হয়ে গেলে বলতে হবে হিসু করে ফেলেছি।
- হিসু করে চুকেছি।
- চুকেছি?ধ্যাত্তোর। শুনুন। আপনাকে ওয়ার্ন করে দেওয়ার জন্য এই অসময়ে ছুটে আসা।
- কীসের ওয়ার্নিং?
- এই যে বাংলাটা আপনাকে মন দিয়ে শিখতে হবে।
- ঠিক আছে। মন লাগিয়ে শিখব। আর একবার আচ্ছা সে শিখে গেলে কোনও চিন্তা নেই...।
- আচ্ছা সে? মন লাগিয়ে?
- হুঁ।
- জল আছে বালিশবাবু?
- কেন? শরীর মস্ত্ নেই?
- মস্ত্? তা ঠিক নেই। মস্ত চিন্তা মাথায়।
- ইয়ে মিস্টার মুখর্জি...।
- কী? কিছু বলবেন?
- বাজারের খবর আপনার বানানবোধে নাকি ফলিডল মেশানো আছে?
- সে দুই একটা হয়ত...।
- সে দু'একটায় যে'দিন শুধার আনবেন, সে'দিন না হয় আমি বাংলা নিয়ে আমার দায়িত্ব নেভাব? জিনকে সম্মান করা মানুষের উন্নতির আধার।
- কানে বাংলার নামে কী সব ঢুকলো বালিশবাবু...।
- জ্ঞান কিছু টাইম বাদে দেবেন। এখন আসুন। স্টার প্লাসে মাসির সিরিয়ালে নতুন সীজনের শুরুয়াদ হবে। আমিও দেখি। এ’বার সোফাঘুম থেকে একটু উঠুন। উত্তরের জানালার কার্নিশে টিভির রিমোট পড়ে আছে। সে'টা চটপট নিয়ে আসুন দেখি।
এ পাশে
ভাবনার এ পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অনন্ত।
স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন অন্যপাশে জুটের কারখানার ধোঁয়া। অনর্গল, এই রাতেও।
ভাবনার বুক ছুঁয়ে মিঠে হাওয়াটুকু অবশ্য আসে, ভালো লাগে অনন্তর। ঘাটের বেঞ্চিটায় গা এলিয়ে বসে সে। রাতের এ সময়টা সামান্য শীত বোধ হয়।
দূরে ভাবনার বুকে একটা নৌকা স্থির হয়ে আছে, তার বুকে হ্যারিকেনের বিন্দুটা মায়াবী দানার মত জ্বলজ্বল।করে চলেছে। ভাবনার নিঃশব্দ অথচ স্পষ্ট বয়ে চলায় গান খুঁজে পায় অনন্ত;
আবছায়া ভালো লাগার গান।
ক্রমশ আকাশ একটু নীচে নেমে আসে। ক্রমশ আদুরর সমস্ত কিছু। বুক পকেট থেকে বিড়ির প্যাকেট বের করে অনন্ত।
আচমকা ঘোর কেটে যায় বেমানান স্টীমারের হুইসেলে।
- ঘুমোসনি, না?
- হেহ্।
- জানতুম।
Subscribe to:
Posts (Atom)