Friday, March 17, 2017

কলমের ঢাকনি

কলমের ঢাকনা না হারানো মানুষেরা আদৌ সুবিধের নন। তাঁরা প্রয়োজনে সরল মানুষের গলা কচাৎ করে কেটে ফেলতে পিছপা হবেন না।

কলমের আবিষ্কারই হয়েছিল তার ঢাকনা চটপট হারানো হবে বলে। লেখালিখির জন্য শিলালিপিই যথেষ্ট ছিল। ঢাকনাওলা কলম মানেই মানুষের লিটমাস। এক কলম মাস'খানেক কাগজ ঘষার পরেও যদি মাথায় ঢাকনা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তা'হলে বুঝতে হবে যে তার মালিকানা আদতে যুদ্ধবাজদের হাতে।

কলমের ঢাকনা না হারানো লোকেরা যুদ্ধের ফিকির আঁটতে সিদ্ধহস্ত। ও'দিকে তাঁদের সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে ঠোকাঠুকি করে যাওয়ার বুকের ধক্ আছে শুধু ছাতা-না-হারানো-পাথর-হৃদয় মানুষদের।

কলমের ঢাকনা না হারানো আর ছাতা না হারানো মানুষদের কাটাকাটিতেই বিশ্বযুদ্ধটুদ্ধ লেগেছিল। মাঝখান থেকে স্কন্ধকাটা কলমদের বয়ে যে মানুষটা জিন্দেগি গুজরান করলেন, তাঁর অবস্থা উলুখাগড়ার মত। সে বেচারির বুকপকেটে থ্যাবড়ানো নীল কালির ছাপ। বেমক্কা বৃষ্টিতে ভেজাকাক হয়ে তাঁর অটোরলাইনে দাঁড়ানোটুকু কোনওদিনই ইতিহাসের কোনও চ্যাপ্টারে জায়গা করে নিতে পারবে না।

Wednesday, March 15, 2017

রাতের ছাতে

সে কয়েক হাজার বছর আগের কথা। গ্রীষ্মের রাতে আচমকা লোডশেডিং হলে মাদুর, বালিশ আর মশারি নিয়ে ছাতে উঠে যাওয়ার রেওয়াজ ছিল।

ছাতের মশারি আলাদা, তার চারদিকে এক্সট্রা-লং নাইলনের দড়ি। সে দড়ি টাঙানোর স্ট্র‍্যাটেজিক পয়েন্টগুলো জানতো  বাপ্টুদা।

এছাড়া বাপ্টুদা ভূতের গল্প জানত।  আর চিনত কন্সটেলেশন। চেনাতেও পারত। বাপ্টুদার বকরবকর মিলিয়ে গেলে পড়ে থাকত ওর ঘুমের ফসফসে নিঃশ্বাস।  আর আকাশটা অল্প অল্প করে নেমে আসত গায়ে। বাপ্টুদা টের পেত না, আমি পেতাম। মশারির গায়ে ছাতের হাওয়ার সুড়সুড়। নয়নতারার ঝোপের একটা বুনো গন্ধ আছে, তা'তে মনভার হয়ে আসত।  আর সব ছাপিয়ে মশারির ভিতর দানাদানা ছাত ছড়িয়ে পড়ত।

ছাতে কোনওদিন ঘুম আসেনি, অথচ ভালোলাগাটুকু বইয়ের মত বুকে মেলে চিৎ হয়ে শুয়ে ভোর পর্যন্ত নটআউট রয়ে যেতাম।

ছাতের রাত আর ভোরের মাঝে যে আবছায়া, সে আবছায়ায় বড় মায়া। যদি মরে কোনওদিন ভূত হতে পারি, তাহলে সেই আবছায়ায় রোজ নেমে আসব; এ ছাদ থেকে ও ছাদ ফুসমন্তরের মত উড়ে বেড়াবো।

সে আবছায়ায় বড় মায়া, আমি নিশ্চিত সে মায়া তাঁদের টানবেই। ঈশ্বরের অবিশ্বাস ভূতেদের দূরে ঠেলে দেয় বটে কিন্তু স্নেহ অতি বিষম বস্তু। স্নেহ ভর করে আত্মারা জমাট হয়। শেষ রাত আর ভোরের মাঝের আবছায়ায় তাঁরা নেমে আসেন, আসতেই হয়। নেহাত ছাতমশারি স্পেশ্যালিস্ট বাপ্টু নেই তাই রাতের ছাতে আর টেনে নিয়ে যায় না কেউ।

গেলে শোনা যেত সেই রাতভোর হওয়া ছাদে ওঁদের ডাক ; "ঘুম আসছে না দাদুভাই?"।

ভূতের ভয় নেই। ঈশ্বর নেই।
ছাত আছে। ভোরের আগের আবছায়া আছে। আর আছে স্নেহ। অপত্য।

ক মাইনাস খ

(ক) এই মুহূর্তে যা যা দরকার:

১. পাশবালিশ। ধবধবে সাদা ওয়াড়ের। পেটমোটা অথচ নরম।

২. টিনটিন - চন্দ্রলোকে অভিযান।

৩. এক গেলাস লেবুর সরবত, তা'তে বাড়তি এক চামচ চিনি।

৪. "মনের কথাটি ওগো বলিতে পারিনি মুখে" - হেমন্ত। লূপে।

৫. বাতাসে রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা হাঁসের ডিম কষানোর কলেজ-প্রেম-মার্কা সুবাস।

***

(খ) এই মুহূর্তে যা যা রয়েছে:

১. স্টাডি টেবিল।

২. অফিস থেকে বয়ে আনা ফাইল।

৩. এক গেলাস পিপাসা। জল গড়িয়ে খাওয়ার আলসেমি।

৪. ডেডলাইন। ডেডলাইন।

৫. চোঁয়াঢেঁকুর।

***

(ক) - (খ) = বনলতা সেনের কাঁধে রাখা থুতনি।

Sunday, March 12, 2017

ভোম্বলদার দোলযাত্রা

- ভোম্বলদা।
- হুঁ।
- বেরোবে না?
- দেখি। ইচ্ছে হলে না হয়...। আসলে...ব্যাপারটা তো আদতে ছেলেছোকরাদের ইভেন্ট। এ'সব রংচঙ আর আমাদের এ বয়সে...।
- নাকি...প্রতিবার আমি আসি বলে...।
- আলবাত আসবি। আমার কাছেই তো আসবি রে ইডিয়ট।
- তুমি আমায় ভয় পাও না?
- ভয়? তা খানিকটা তো পাই বটেই। তবে সে'টা তুই মারা গেছিস বলে নয়।
- হেহ্, অপরাধ বোধ?
- দায় তো অস্বীকার করতে পারি না।
- ধুস। তুমি না... কী একটা। দু'দিনের জ্বরে টপ করে মরে গেলাম, এমন ঢ্যাঁড়শ আমি। তোমার কী দোষ।
- তোর কাছে ক্ষমা চাওয়ার মুখও আমার নেই রে।
- আমায় দেখলে তোমার মুখ কালো হয় যায়। প্রতিবার। আমার খারাপ লাগে..মনে হয় আসব না আর।
- আসিস রে। আসিস। তুই ছাড়া আর বড় কেউ আসে না আমার কাছে আজকাল। আর দোলে তো মুখ কালো হওয়ারই কথা...।
- ভোম্বলদা, তোমার কোনও দোষ নেই...।
- আমায় ক্ষমা করিস না কেদার। ক্রিমিনাল না হলে ওই শীতের রাতে বুক জলে তোকে দাঁড় করাই? তাও স্রেফ মস্করা আর মাতব্বরির জন্য?
- বেশ করেছ। নয়তো ফোকাস নষ্ট হত।
- হুঁ?
- স্বপ্নের নেচার। ফোকাস। আমার পাল্লায় পড়লে নষ্ট হত। আজ দেখলাম ফোকাস আর ফোকাসের ডাক্তার বর। দু'জনের গালে আবির। ফোকাসের চোখ ভোম্বলদা...চোখ। এখনও। আজও। আজও।
- কলকাতা থেকে গতকালই এসেছে দু'জনে। আমিই স্টেশন থেকে ওদের টাঙ্গা ধরিয়ে দিয়েছিলাম।
- ওকে একবার বলবে...আমি কখনও মন্দভাবে দেখিনি...এই তোমার গা ছুঁয়ে বলছি...।
- হেহ্।
- এ কী! তোমার গা ছুঁতে পারলাম কী করে? আমি তো জ্যান্ত মানুষ ছুঁতে পারি না...।
- কাল সরস্বতীকে স্টেশনে দেখে তোর কথা হুহু করে মনে পড়লো রে। তুই সত্যিই বোকা কেদার, এতক্ষণ বকবক করে চলেছিস অথচ সিলিং ফ্যান থেকে ঝোলা বডিটা এখনও খেয়াল করিসনি? পাড়াপড়শিরা কাল গন্ধ পাবে হয়তো। তখনই দরজাটরজা ভেঙে একটা ব্যবস্থা করবে'খন।

Tuesday, March 7, 2017

আরও মন্মথ

মন্মথর গল্প ১

মন্মথ বুকপকেট থেকে সিগারেটের বাক্স বের করলেন। তখনই খেয়াল হল হিপপকেটে লাইটারটা মিসিং।

যাচ্চলে। মেজাজটা চিড়বিড়িয়ে জ্বলে উঠলো। লাইটারের অভাববোধ খানিকটা কমে এলো তাই।

মন্মথর গল্প ২

ফিফটি শেডস অফ গ্রে পড়ে মন্মথর মাথায় অদ্ভুত সব বুদ্ধি কিলবিল করতে শুরু করল।
তবে চাবুক বা হ্যান্ডকাফের চেয়ে বেশি মজবুত আইডিয়া মাথায় এলো তার। হালখাতার সিজনে লেপ নামালেন তিনি।

মন্মথর গল্প ৩

মন্মথ তক্কে তক্কে ছিলেন। নীল হাফ শার্টের ছেলেটা কর্নার সীটের দু'টো টিকিট কাটতেই তিনি ফস করে তাঁদের পাশের সীটের টিকিট কেটে ফেলে বাড়িমুখো হলেন। মন্মথ শৌখিন। অজানা প্রেমিক প্রেমিকাদের স্পেস উপহার দেওয়াটা তার শখ।