Sunday, February 12, 2017

আলাপ

- বসতে পারি?
- শিওর। প্লীজ। 
- ক্লাবে নতুন মনে হচ্ছে?
- শহরে এসেছি এই মাস খানেক হয়েছে। 
- আমার পরিচয় দিই। আমি মনোজ দত্তগুপ্ত।  রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা। 
- আমি সঞ্জয় মুখার্জি। বিজ্ঞাপনের কাজকর্ম করি। বম্বেতে ছিলাম বছর কুড়ি। একটা নতুন চাকরী নিয়ে এই রিসেন্টলি...। 
- অ্যাডভার্টাইসমেন্টের মানুষ, বম্বে ছেড়ে ক্যালক্যাটা? দিল্লি হলে তাও...সে যাকগে। ইউ মাস্ট হ্যাভ ইওর ওউন রিজনস। দেখলাম আপনি একা বসে আছেন, তাই ভাবলাম যাই যেচে একটু আলাপ করে আসি। 
- এ ক্লাবে আমায় নিয়ে আসেন মিস্টার আগরওয়াল...। দিন দুয়েক আগে।  
- মুকেশ? দ্য ব্যাঙ্কার? 
- হ্যাঁ। 
- আরে সে তো আমার গলফ পার্টনার। প্রতি শনিবার উই মীট আপ। 
- ওহ আই সী। আসলে আমি একলা মানুষ, ঘর সংসার নেই। আর এদ্দিন পর কলকাতায় ফিরে তেমন পরিচিত কাউকে বিশেষ...। 
- নাউ দ্যাট ইউ আর হিয়ার মিস্টার মুকর্জি, ইউ উইল নট ফীল অ্যালোন।  আমার তো মশাই প্রতি সন্ধ্যেয় এখানে এসে দু পেগ গলায় না ঢাললে শান্তি হয় না। আর শনিবার তো ভোর থেকে এখানে। দুপুরের লাঞ্চ সেরে তারপর ওয়াপসি। রোববারটা অবশ্য ফ্যামিলির জন্যে রাখতেই হয়। তা আপনি গল্ফ খেলেন নাকি? 
- ওই। কুছ নহি তো থোড়া থোড়া। 
- ভেরি গুড। তাহলে নেক্সট শনিবার জয়েন করুন না। কিটের ব্যবস্থা হয়ে যাবে।  সকলের সঙ্গে আলাপ করে ভালোও লাগবে। নাথিং ব্রেক্‌স দ্য আইস লাইক গলফ অ্যান্ড বিয়ার। 
- বেশ তো।
- আচ্ছা মিস্টার দত্তগুপ্ত...। 
- আমায় ডিজি বলে ডাকতে পারেন। ক্লাবে ওটাই চলে। দত্তগুপ্ত ইজ টু লং। 
- আচ্ছা মিস্টার ডিজি, আপনি বরাবরই এ শহরে...। 
- ইয়েস স্যর। তিন পুরুষের বাড়ি সাউথে। দুই পুরুষের ব্যবসা।  অবিশ্যি, রিয়েল এস্টেট এখন মাফিয়াদের হাতে চলে যাচ্ছে। আমাদের মত চুনোপুঁটিরা কোনও রকমে টিকে আছে। জলে কুমির আর ডাঙায় বাঘ, দু'দিকেই রিকনসাইল করে চলতে হয়। মাঝেমধ্যে মনে হয় এর চেয়ে আপনাদের মত চাকরী করলেই ভালো হত...। 
- বিজ্ঞাপনের জগতটাও...।
- অফ কোর্স নাথিং ইজ ইজি। 
- মিস্টার ডিজি...আপনার সঙ্গে কি আগে কখনও দেখা হয়েছে?
- স্ট্রেঞ্জ। দূর থেকে আপনাকে দেখে আমারও ঠিক সে'টাই মনে হচ্ছিল। কিন্তু এগজ্যাক্টলি ঠিক...। 
- হয়তো মুম্বইতে কখনও...। 
- হতে পারে। ব্যবসার কাজে মাঝেমাঝেই...। 
- আমারও অবশ্য কলকাতায় মাঝেমধ্যে আসা হত...এখানেও কোথাও হয়ত। 
- আফটার অল ইট ইজ আ স্মল ওয়ার্ল্ড, কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছি না...। সে যাক গে, আজ উঠতে হবে মিস্টার মুকর্জি, ডার্মাটোলজিস্ট দত্তের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার চেয়ে বিষ্ণুর দেখা পাওয়া সহজ ...। এই রইলো আমার কার্ড, শনিবারের গল্‌ফটা তাহলে কনফার্ম রইলো, কেমন?
- শিওর। দাঁড়ান, আমার কার্ডটা আপনাকে দিই। আর ডার্মাটোলজিস্ট যদি রিল্যায়েব্‌ল হয় তাহলে ডিটেইল একটু শেয়ার করবেন প্লীজ। আমারও শরীরে মাঝেমধ্যেই কেমন ছুঁচের ফুটোর মত দাগ তৈরি হচ্ছে...উইয়ার্ড প্রব্লেম। 
- বলেন কী?
- কেন?
- স্ট্রেঞ্জ। আমারও সে'টাই ইস্যু। কোনও নতুন এপিডেমিক নাকি? এনিওয়ে, ডাক্তার দত্ত ইজ দ্য বেস্ট ইন ক্যালক্যাটা। আমি আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়ে দেব। আজ আসি।  তাহলে নেক্সট শনিবার গল্‌ফে, কেমন?
- অবশ্যই। কিন্তু আপনাকে যে কেন এত...। 
- অসোয়াস্তিটা আমারও লাগছে...যেন খুব কাছ থেকে আপনাকে দেখেছি কখনও...কিন্তু কিছুতেই ঠিক...। 
- এগজ্যাক্টলি...খুব কাছ থেকে...অথচ কিছুতেই...। 
- যাক, পরে কখনও কনেক্ট করা যাবে না হয়...আজ আসি...। 

**
সাড়ে সাতটার মধ্যে ডিনার সেরে নেওয়াটা এখন অভ্যাস হয়ে গেছে সুতপার। তারপর এক কাপ চা নিয়ে তাঁর গোপন আঁকার খাতা ওলটানো। কবেকার খাতা। 

অন্তত খান তিরিশেক আঁকা। পুরুষের নগ্নতা। 
বিশ্রী, লোভী, ঠকানো নগ্নতা।

ঘেন্না বড় বিশ্রী ব্যাপার। ভালোবাসা ইউটার্ন নেওয়া ঘেন্না আরও ভয়ানক। অজস্র ভালোবাসার ভেঙ্গে যাওয়া দেখেছেন সুতপা, এ ব্যাপারে তাঁর শুচিবাই ছিল না কোনোদিন। প্রতিটা ভেঙে যাওয়াই সমৃদ্ধ করেছে তাঁকে। 
আর যেখানে ঘৃণা এসেছে, সে'খানে আরও নিবিড় হয়ে উঠেছেন সুতপা। ম্যাসোচিসম? হয়তো বা। তিরিশটা ঘেন্নার পুরুষকে এই গোপন ডায়েরীতে এঁকে রেখেছেন সুতপা। ডিটেইলিং দেখে নিজেরই গর্ববোধ হয়। 

সবচেয়ে ভয়ানক দু'জনের মুখোশ ছিঁড়ে যাওয়া প্রায় একই সঙ্গে টের পেয়েছিলেন সুতপা। সে কবেকার কথা। কবেকার। দু'টো আঁকাই তাই এক সঙ্গে বেড়ে উঠেছিল। অদ্ভুত ভাবে  সেই দু'জনেই সুতপার এ গোপন আঁকার ডায়েরী আবিষ্কার করে উলটেপালটে দেখেছিল। অপ্রস্তুত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে দু'টো সম্পর্কই ভেস্তে দিতে হয়েছিল। 

ডিনারের পর এ'সব স্মৃতি ঘেঁটে খানিক সময় কাটান সুতপা। আর ছুঁচ নিয়ে ক্রমাগত বিঁধে যান প্রত্যেকটা আঁকায়।  

Saturday, February 11, 2017

বিকেল, সাইকেল ও আলিসাহেব

- বুঝলি বাবাই, প্রেম হবে দুড়ুম করে। তুই হয়তো ডিফারেনশিয়েশন করছিস। অথবা ডেল্টা ফোর্স খেলছিস। অথবা উইকেট কীপিংয়ে ঝপাঝপ বল গলাচ্ছিস। হঠাৎ টের পাবি এক ধরণের বুক খালি করা গন্ধ, অনেক উঁচু থেকে ঝাঁপ দেওয়া পেট খালি গোছের ভালো লাগা অস্বস্তি।
- কী'রকম?
- এই যেমন ধর, আমি গত পরশু রামমন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে আলুকাবলি খাচ্ছিলাম। এক্সট্রা ঝাল, টক কম। হঠাৎ করে সেই গন্ধটা বুকে এলো। অমনি পেট খালি ভাব। অস্বস্তি। ব্যাস। ক্লীয়ার হয়ে গেল ব্যাপারটা কী।
- ব্যাপারটা কী বান্টুস?
- প্রেম। তুই এখনও ঠিক যে'টা গ্রিপ করতে পারছিস না। কিন্তু আমি পেরেছি। আলুকাবলি খেতে খেতে।
- কী গ্রিপ করেছিস?
- এই যে সুদীপ্তাই হচ্ছে আমার রিয়েল ডেস্টিনেশন।
- সুদীপ্তা?
- ইলেভেন। সেকশন বি।
- জুনিয়র?
- পার্টনার জুনিয়র সিনিয়র হয় না।
- ও জানে?
- হনুমান জানতো ওর পোটেনশিয়াল?
- সুদীপ্তা হনুমান?
- তুই হনুমান। অখাদ্য মাইরি।
- বান্টুস।সাবধানে। সামনে টেস্ট।
- তুই এত নেদু কেন রে?

**


দিল ভি কহি হ্যায় পহাড়ো মে
থোড়া সা কহি হ্যায় কিনারো মে
ফির কে চলি হ্যায় ঠন্ডি হাওয়ায়ে
কেয়া তুম মিলোগে হম সে যহা লেকে যায়ে
ভিগি ভিগি পলকে, কমসিন অদায়ে
মাসুম চেহরা তেরা নহি ভুল পায়ে


**
একটা বিকট খয়েরী রঙের হিরো ইম্প্যাক্ট সাইকেল ছিল।ছিল অজস্র বিকেল। আর ছিল মফস্বলি ফাঁকা রাস্তা। তার মাত্র কিছুদিন আগে বাটি বসানো ছাঁট বন্ধ হয়েছে, চুলের ফুরফুরে সাইকেলে অ্যাক্সিলারেট করে, প্যাডেল হালকা হয়ে আসে। পিচ রাস্তার দু'পাশে ইউক্যালিপটাস, বিকেলের নরম রোদ মাখানো হাওয়া আর কাপ্তানি প্যাডেল।
তখনও কানের ইয়ারফোন এসে পড়েনি, সাইকেলের গতি গুনগুনে ওঠা নামা করে। পিঠের টিউশানির ব্যাগ আদতে গোপন ভিসা।

তেমনই একটা বিকেলে টের পাওয়া গেছিল যে বান্টুস মন্দ বলেনি। দুড়ুম করেই স্বাদটা জিভে ঠেকে যায়। পেট খালি করা অস্বস্তি। ভালো লাগা। ওদিকে সুদীপ্তায় বান্টুশ ডেস্টিনেশন খুঁজে পেয়েছিল। আর এদিকে বিকেল আর ইউক্যালিপটাস মেশানো গন্ধে লাকি আলির সুর ঠেকেছিল আমার কানে। বছর তিন চারেকের পুরনো সুর, দুম করে টেনে ধরেছিল।

বিকেল ভেজা রুমালের মত মুখ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।


**
তুমহে ভি কভি ইয়ে সতাতে হ্যায়
মুস্কুরাকে দিল কো চুরাতে হ্যায়
জিনে কো তো দিল ইয়ে চাহতা হ্যায়
জানে ফির ক্যিউ শরমাতা হ্যায়
রুকতা নহি হ্যায়, সব কুছ বতায়ে
ছুপতা নহি হ্যায়, দিল জান যায়ে
অব রেহনা কিসকো ইহা

**
গানের হিসেব বুঝতে ক্ষমতা লাগে। সাইকেল আর টিউশনানি ফাঁকিতে সঙ্গীত নেই। তবে বান্টুশ গুরমন্ত্র দিয়ে গেছিল, হঠাৎ সে সুবাস এসে আটক করবে সমস্তটুকু। সেই আটকে পড়াটুকুতে ছিলেন লাকি আলি। ক্লাস সেভেনে ইংরেজি স্যার "প্যাথোস" শব্দটা বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেন। সে'টার সমঝ হয়েছিল বেশ কয়েক বছরের মাথায়; লাকি আলি, সাইকেল আর বিকেল মিলে।


**
কিতনি হসিন জিন্দেগি হ্যায় ইয়ে
হোঠো পে য্যায়সে কহানী হ্যায়
সদা ইহা কিসকা ঠিকানা হ্যায়
উন কি রওয়ানি মে জানা হ্যায়
বহারো নে হর শও রং হ্যায় বিখেরা
রেত কা সেহরা, এক পল কা ঘেরা
ইকদিন বিখরনা ইহা

**

"ইকদিন বিখরনা ইহা"। এ'টুকু বুকে অনবরত প্যাডেল করে চলে। নিশ্চিন্দি আনে। এখনও। গুনগুন পিষে ফেলে ইউটিউব এসেছে। কিন্তু এ গানখানা এখনও বিকেল বয়ে আনে। যে বিকেলে হিরোইম্প্যাক্ট সাঁইসাঁই ছুটে চলে। যে বিকেলে ইউক্যালিপটাসের সুবাসে ভরপুর। পেট ফাঁকা হয়ে আসে। তবে বান্টুস বলে গেছে সে'টা ভালো লাগার অস্বস্তি। বান্টুসটা যে কোথায় গেল। ফেসবুকের জমানায় নিখোঁজ হতে পারার অসাধ্য সাধন একজন আলুকাবলিস্টের পক্ষেই সম্ভব।

সবাই ডেস্টিনেশন চিনে নিতে পারে না তাই সে বয়সের প্রেম না হওয়াটুকু আছে। আর আছে সুরটুকু।
রেত কা সেহরা, এক পল কা ঘেরা;
ইকদিন বিখরনা ইহা।


Thursday, February 9, 2017

খুকি

ছিপছিপে। আনন্দমাখানো। মিঠে কান্নার। খেলনাবাটির।

মেয়েটাকে কেউ কোনও দিন দেখেনি।
যেমন দেখেনি কচুপাতার ডগা থেকে টপাত করে বৃষ্টিকণার ঝরে পড়া।
বা যেমন মৌরি লজেন্সের জোকারমুখো কাগজের বাক্সে লেপটে থাকা অপরিচিতের লোভাতুর দৃষ্টির দাগ।
বা যে'ভাবে মিষ্টির বাক্স থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া গার্ডার জমে রান্নাঘরের অজান্তে ভিবজিওর পড়ে থাকে তাকের কোণে।

মেয়েটার খবর রাখেনি কেউ।
যেমন এক ফেজ উড়ে যাওয়া লোডশেডিংয়ের হালহকিকতের হিসেব থাকে না।
যেমন লুডোয় হেরে বোর্ড ভেঙ্গে দেওয়া রাগ।
যেমন মাসকাবারির লিস্টে একশো গ্রাম তেজপাতা।

কয়েক মুহূর্তের পৃথিবীর ওলটপালটে শুধু খুকির খবর। খুকির দেখা।

মাদুরে মা, মায়ের গায়ে গন্ধরাজ। মায়ের চোখে টুপুরটাপুর, খুকির খেলনা আঁচল। মায়ের সুরে মেঘের হাপুসহুপুস। মায়ের দু'আঙুলের ডগায় ঝিনুক।
বাবার ফতুয়ায় হলুদের দাগ, বাবার প্রেশারেকুকারের ঢাকনা খোলার ক্যালামিটি, বাবার মাদুরের বর্ডার টহল দেওয়া অস্থির পায়চারীর।

'টুকুর বাইরে খুকির খবর রাখেনি কেউ।
'টুকুর বাইরে মেয়েটা ভালোবাসার সুবাস চেনেনি।

Monday, February 6, 2017

রাজযোটক

- সুনিয়ে।
- কহিয়ে।
- আমি বোল রহা থা যে...।
- বাংলায় কহিয়ে জনাব। নয়তো সম্পর্ক শেষ।
- বলছিলাম যে...আজ বড্ড মনকেমন।
- কেন?
- আজ বড্ড উইক বোধ করছি। ইমোশনালি।
- বাট হোয়াই?
- আজ মনের মধ্যে কন্সট্যান্ট সানাই বাজছে। সানাই ইজ করুণ ফরএভার। জানোই তো।
- ব্যাপারটা কী?
- আজ মেজাজে ঝঙ্কার বিটস নয়, ঢিমেতেতালা টপ্পা ছুটেছে। চোখ বুজলেই টের পাচ্ছি বুকের ভিতর ছবি বিশ্বাস পায়চারী করছেন।
- মতলবটা কী তোমার?
- আজ আর শিব্রামে বাঁচোয়া নেই, একেবারে সঞ্জীবে সাবমিশন। আজ বড় বুক চিনচিন।
- কী চাই?
- আজ ডিনারের নিরামিষে আমি ভাঙচুর হয়ে যাবো। আমার মলিকিউল সমস্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে বুকশেল্ফের ধুলো হয়ে জমা হবে।
- ন্যাকামো। তোমার ওজনটা খেয়াল আছে? ওবেলা গাণ্ডেপিণ্ডে মাটন গিলেছ খেয়াল আছে?
- পাণ্ডবরা ইনোসেন্ট জেনেও কি ভীষ্মবাবু পেরেছিলেন দুর্যোধনকে রিজেক্ট করতে? সামান্য ভুঁড়ি দুলছে বলে রাতে ডাটা চেবাতে হবে? তারপর ওই সয়াবিন। এর চেয়ে সায়নাইডে কাজ দেবে বেশি।
- উফফ।
- ফ্রীজ আলো করে থরে থরে নীলাভ দেহের হাঁসের ডিম। সেদ্ধ করে কষিয়ে নিতে আধ ঘণ্টা লাগবে। মেজপিসির রেসিপি। পারমিশন দাও।
- অসম্ভব। তুমি কোলেস্টেরলে সাঁতার কেটে শেষ হবে।
- বাঙালি। জন্মিলে ভুঁড়িটি হবে, সিলিম কে কোথা কবে।
- সিলিম?
- স্লিমে ছন্দ হার্ট হচ্ছিল, সয়াবিনে আমি।
- জাহান্নামে যাও।
- শিলনোড়াটা বের করে দিও প্লীজ। তুমি তো জানোই, পলিটিক্স আর গুঁড়ো মশলাকে আমি ট্রাস্ট করি না।
- আমার জন্যেও এক জোড়া ডিম দিও। আমার পাশে বসে হাঁসের ডিমের ঝোল দিয়ে ভাত মাখবে আর আমি সোয়াবিন খাবো, সে'টা বধু নির্যাতন।
- রাজযোটক,  মাইরি।
- Grudgeযোটক।

Friday, February 3, 2017

মানিব্যাগ


আমার মানিব্যাগে সিনেমার টিকিট কোথা থেকে এলো?
আজকের টিকিট। প্রিয়ার। ম্যাটিনি শো। ঠিক যখন আমি অফিসে বসে মিটিং ফাঁকি দিচ্ছিলাম।


এক মিনিট। এই মানিব্যাগ আমার নয়। এটাও কালো, কিন্তু আমারটা অনেক বেশি পুরনো। আমার মানিব্যাগে তিনশো বাহান্ন টাকা থাকার কথা। এখানে সাতাশশো আছে।


এক গুচ্ছ ভিজিটিং কার্ড পাওয়া গেছে। অমল সামন্ত, ডালহৌসিতে অফিস। ঠিকানা ফোন নম্বর আছে।


অদ্ভুত ব্যাপার। অমলবাবুর মানিব্যাগও পালটে গেছে। কিন্তু তাঁর কাছে যে মানিব্যাগ রয়েছে সে'টা আমার নয়। বাগবাজারের বিপুল সমাদ্দারের আধার কার্ড রয়েছে সে'টায়।


এ কী। এই মাত্র টালিগঞ্জ থেকে বিপিন রায় ফোন করেছিলেন। ভদ্রলোকের প্লাস্টিক প্রোডাক্টসের ব্যবসা।  ওনার পকেটে আমার মানিব্যাগ পেয়েছেন উনি। অফিসের আইকার্ড থেকে আমার নম্বর পেয়ে ফোন করেছেন। কী অনাসৃষ্টি। অবশ্যই ওর মানিব্যাগটি হাওয়া।
একটা অদ্ভুত ব্যাপার, আমরা দুজনেই ননীগোপাল দত্ত স্মৃতি লাইব্রেরীর মেম্বার। দু'জনেই শেকভ্ ভক্ত। বেশ মাই ডিয়ার মানুষ, পরশু নিজের বাড়িতে চা ওমলেট খেতে ডাকলেন। লোকনাথ বাবার কৃপায় ভদ্রলোক এখন মানিব্যাগ ফেরত পেলে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়।


- বৈজ্ঞানিক?
- আজ্ঞে প্রেসিডেন্ট।
- তৈরি? 
- অবশ্যই। এই সেই প্যানেল।
- ইয়ে, সব গোপন আছে তো?
- গোটা পৃথিবীতে এর খবর জানে শুধু দু'জন।
- তা এ প্যানেলে কী ভাবে কাজ হবে?
- এখানে বোতাম টিপে ঠিক করে দিন লোকেশন। আর এইখানে পাঞ্চ করুন কতজন লোক টার্গেট।  আর তারপর এই সবুজ হাতল টানলেই কাজ শুরু।
- ফলাফল?
- হাতেনাতে। আজ সকালেই কলকাতা শহর আর জনা বিশেক লোক টার্গেট করে একটা ট্রায়াল রাউন্ড করেছি। সাকসেসফুল।  এক গাদা নতুন আলাপ হয়েছে। খান চারেক বন্ধুত্বও বেরিয়ে আসবেই।
- বাহ্। বা বাহ্। এ যন্ত্র তাহলে পারবে বৈজ্ঞানিক? যন্ত্রের গুণে এ যুগের নিজের প্রতিবেশীকে না চেনা মানুষেরা অপরিচিতের সঙ্গে যেচে আলাপ করবে?
- এ রিমোট যন্ত্র সে আলাপ ঘটাবে। নিশ্চিত।
- বন্ধুত্ব হবে?
- প্রতি দশটা আলাপে অন্তত দু'টো।
- মানুষের ইতিহাস পালটে যাবে বৈজ্ঞানিক।
- সবই আপনার দূরদর্শিতা প্রেসিডেন্ট।
- আর তোমার প্রতিভা। একটা কথা বলো বৈজ্ঞানিক, এ যন্ত্র এমন চমৎকারভাবে এ'সব ঘটায় কী করে?
- সে বড় জটিল বিজ্ঞান মহারাজ। আসুন, কিছু আলাপ আর বন্ধুত্ব জেনারেট করা যাক। কোন লোকেশন? কতজন লোক?
- লোকসভা। পাঁচশো পঁয়তাল্লিশ।