Wednesday, December 7, 2016
পাসেং ও পিতা
Monday, December 5, 2016
মোহনবাবুর সারপ্রাইজ
- বঢিয়া। ডিনার মা মাটনবা রহিস।
- তবিয়ৎবা?
- তন্দরুস্ত। পাশবালিশ জড়াইস।
- দিলওয়া?...
- খুশ। হাত মে কিতাব। ঘনাদা সসুরা বকরবকর করত হো।
- উঁহু। কুছ তো গড়বড়াইস। ম্যাদামারা কাহে গইল বা?
- সোমবার আ গইল।
- কিচেন মে রেকাবিমা ক্ষীরকদম ভইল।
- কা বাত করত হো। ক্ষীরকদম তো হম কব কা খা গইল হো।
- দু'গো ছুপাইকে রখতলা। তহর লগি সারপ্রাইজ।
- সজনী, হমৌ তু কা সরপ্রাইজ রখত।
- কা?
Saturday, December 3, 2016
এক ও অন্য
এক
ট্যাক্সি চলে যেতে ঘরে ফিরে সোফায় গা এলিয়ে দিলেন বিমল।
প্রত্যেকবার এমনই হয়।
ট্যাক্সিতে দেহকে বসিয়ে এই ওয়ান বিএইচকের কলকাতাটুকুতে এসে বসে হাঁফ ছাড়েন তিনি।
অন্য
মৃণাল ভৌমিকের জ্বলে ছাই হওয়া দেহটাকে অ্যাশট্রেতে ছুঁড়ে ফেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন গোল্ডফ্লেকবাবু।
মনের খচখচটা অবশ্য সম্পূর্ণ কেটে গেল সোফা থেকে ভেসে আসা মিস ক্লোরমিন্টের উড়ন্ত চুমুতে।
কিছুই কিছু নয়
- কোনও কিছুই কিছু নয় হে দত্ত।
- আমায় কিছু বললেন স্যার? দস্তুরের ফাইলে প্রচুর ফাঁকফোকর, খুব কনসেন্ট্রেট করতে হচ্ছে।
- দস্তুর?
- নতুন কনসাইনমেন্ট যারা পাঠিয়েছে।
- নতুন কনসাইনমেন্ট?
- যে'টা বম্বে থেকে এলো? ডি এন দস্তুর! বান্দ্রার বান্দা।
- ওহ। সেই দস্তুর। তুমি দেখছি দস্তুরমত নিরেট।
- কেন স্যার?
- ফাইলে মুখ গুঁজে দিন কাবার করলে হবে দত্ত?
- বিজনেস আপনার স্যার, আমি তো কর্মচারী।
- বিজনেস। মুনাফা। ব্যালেন্স সিট। এ'টুকুই চিনলে দত্ত। কিন্তু কোনও কিছুই কিছু নয়।
- স্যার, স্যাড?
- দুঃখ ছাড়া কোনও লাস্টিং ইম্প্রেশন আছে দত্ত?
- ফিলসফি, ওহ। আমার আবার গত হপ্তায় যে রুট ক্যানালটা করিয়েছি সে'টা ঠিক খাপে খাপ হয়নি। একটা কনকন রয়ে গেছে।
- গ্রাউন্ড লেভেল দুঃখ নিয়েই নষ্ট হয়ে গেলে দত্ত।
- গ্রাউন্ড লেভেল দুঃখ?
- দাঁতের ব্যথা। ট্রেনে ভীড়। মাইনে নিয়ে ঘ্যানঘ্যান। ছেলের পরীক্ষার নম্বর। বৌয়ের থাইরয়েড। ধুর।
- ও। এ দুঃখ দুঃখ নয়?
- বাংলা কি মাল নয়? তাই বলে স্কচ চিনবে না তা কী।করে হয় দত্ত?
- স্কচ লেভেলের দুঃখ?
- বেহালা বাজাতে পারো?
- না।
- পাথরে ছেনি হাতুরি ঠুকে নারী দেহ রূপে গুণে রসে ফুটিয়ে তুলতে পারবে?
- না।
- টপাটপ হাইকু লিখে প্রেম নিবেদন করতে পারবে?
- আমার স্টাইল ছিল অন্য। কাউকে পছন্দ হলেই বলতাম 'দুপুরের শোয়ের দু'টো টিকিট কেটে ফেলেছি'।
- ঘরের দুধ ছেঁকে রাবড়ি বানাতে জানো?
- না।
- এত না পারা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছ, দুঃখে ভেসে যেতে ইচ্ছে হয় না? দত্ত?
- বেহালা হাইকু এ'সব আপনি পারেন?
- আদৌ না। তবে আমার মধ্যে না পারার দুঃখ আছে। যে দুঃখ সাজানো বাগানের মত আমার অন্তর সুগন্ধে ভরে রাখে। তোমার মত নির্লিপ্ত নই, অন্তরে মৃত নই।
- আমার অন্তরের ডেডবডি আপনার বাগানের মাটি ফার্টিলাইজ করছে স্যার। দস্তুরের এ ফাইল সন্ধ্যের মধ্যে ক্লীয়ার না হলে আপনার বাগানে আলকাতরা বৃষ্টি হবে। তখন সত্যিই বেহালা শিখে ফুটপাথে বসে বাজিয়ে টু পাইস কামাতে হবে।
- দত্ত, তুমি একটা প্লাস্টিকের টুকরো। আমি মাটির মানুষ। তুমি আমায় অনবরত কন্টামিনেট করে চলেছ।
- যা হোক। এ'বার এই ফাইলটায় একটা সাইন করে দিন। অমনি দস্তুরের পকেট থেকে কড়কড়ে আশি হাজার টাকা আপনার ট্যাঁকে ঝরে পড়বে। ভুল সাপ্লাইয়ের ইনডেমনিটি।
- আশি হাজারের উইন্ডফল? বলো কী দত্ত? চলো নরওয়ে ঘুরে আসি। মুড়ি চানাচুর চিবুতে চিবুতে অরোরা বোরিয়ালিস।
- ডিসেম্বরে শিউরি যান না কলকাতার চেয়ে শীত বেশি বলে। আর আশি হাজারে নরওয়ে? সাইকেলে যাবেন? তার চেয়ে আমায় ক্রিসমাস বোনাস হিসেবে ট্রান্সফার করে দিন।
- সামান্য ক্লোরোফিল তোমার মধ্যে রয়ে গেছে দত্ত। ইজি মানির সালফিউরিক অ্যাসিড ঢেলে তোমায় কোরাপ্ট করতে মন সরছে না। অগত্যা নিজের নামেই ফিক্স করে রাখব। টাকা জলে দেওয়ার জন্য ফিক্স করাই সেরা উপায়। একবার ফিক্স করলে তা আর ভাঙা যায় না। লোভ। মায়া। ভাঙবে পঞ্চভূতে, লুটবে অন্যে। থাম্ব রুল অফ ফিক্স ডিপোজিটস।
- স্যার। মাইরি। আপনার ইয়ে আছে বটে।
- ইয়ে? কোনও কিছুই কিছু নয় হে দত্ত। কোনও কিছুই কিছু নয়।
পার্পল রোজ অফ কায়রো- ২.০
সিনেমাটা দিব্যি চলছিল। টানটান প্লট। রোম্যান্টিক।
প্রেম অনুরাগ যখন তুঙ্গে, তখন। লাস্যময়ী নায়িকা খাট আলো করে শুয়ে, অনতিদূরে দাঁড়িয়ে প্রেম-বিহ্বল চুমুন্মাদ নায়ক, তাঁর দাঁতে চেপে ধরা একটা আগুন রাঙা গোলাপ। নেশা ধরানো চোখে যখন নায়িকা নায়ককে খাটে আসতে বললেন, তখন সিনেমা হলের প্রত্যেকটা সীটে হুহু। হু হু। হু হু। এই বুঝি প্রেমের ঢেউয়ে সমস্তই ভেসে যায়।
এই বুঝি। এই বুঝি।
কিন্তু কী বিপত্তি। নায়ক খাটের কাছে এসে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন। বসলেন না। তাঁর মুখ সামান্য বিচলিত।
"কই গো, খাটে এসে বসো", নায়িকা বাধ্য হয়ে ডাইরেক্ট অ্যাকশনে নামলেন।
নায়ক তবু গোঁয়ারতুমি ফলিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন; তাঁর মুখ থেকে গোলাপ গেছে খসে, কপালে ঘাম।
"কই গো! পাশে বসবে না নাকি"?, নায়িকার মেজাজের পারদ চড়ছে। গোটা হল জুড়ে বিরক্তি দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ছে।
অগত্যা নায়ক বলেই ফেললেন "বসতে চাইলেই কি বসার উপায় আছে গো? কোনও ব্যাটাচ্ছেলে দর্শকাসনে বসে সেই তখন থেকে গুনগুনিয়ে জনগণ মন অধিনায়ক গেয়ে চলেছে। বসব কী করে মাইরি?"।