Monday, October 10, 2016

হাত

- ম্যানিকিওরের চার্জেস কত?
- টু হান্ড্রেড রুপিজ অনলি।
- শিওর?
- মানে?
- ক্লায়েন্ট দেখে রেট পালটে ফেলবেন না তো?
- কুড়ি বছরের বিজনেস ম্যাডাম। চীফ মিনিস্টার হোক কি পিসীমা, ফিক্সড প্রাইস।
- কেসটা একটু অন্যরকম স্যার। ম্যানিকিওর আমার মা করাবেন।
- ওই। টু হান্ড্রেড রুপিজ পার ম্যানিকিওর। আপনার মা হোন বা জ্যেঠিমা।
- শিওর?
- ধ্যার রে বাবা। বললাম তো। ফিক্সড।
- নড়নচড়ন যেন না হয়।
- উফফ!
- বেশ। মা আসছেন।
- ওনার নাম? রেজিস্টারে লিখে রাখি।
- দুর্গা!
- ড্যাম!


সাধারণ বোলার উইকেট পাওয়ার পর:

বাকি দশজন ফিল্ডার তাঁকে ঘিরে ধরে।
তারপর;
হাই ফাইভ
হাই ফাইভ
হাই ফাইভ
হাই ফাইভ
হাই ফাইভ
হাই ফাইভ
হাই ফাইভ
হাই ফাইভ
হাই ফাইভ
হাই ফাইভ।

**

মিস দুর্গা উইকেট পাওয়ার পর:

বাকি দশজন ফিল্ডার তাঁকে ঘিরে ধরে।
তারপর;
হাই ফাইভ
হাই ফাইভ।

Sunday, October 9, 2016

পুজোর আমি

বয়স বাড়ছে।
ভিড়ে তিতিবিরক্ত লাগে।
পুজোবার্ষিকী পত্রিকাগুলো নিরস লাগে।
পুজো এলেই পকেটে যন্ত্রণাময় টান পড়ে।
Peer প্রেশার আর পিয়ার প্রেশারে হিমাচল কাশ্মীর প্ল্যান করে নাভিশ্বাস উঠে যায়।
বারবার গজরগজর করে যাই- আলসে বাঙালির এ সেন্টিমেন্ট ঝুঠা।
বারবার বুক ঠুকে বলে যাই 'কিস্যু ম্যাটার করে না, আলটিমেটলি বিজয়ার ওপারে অফিস। এন্ড অফ স্টোরি'।

তবু।
অষ্টমীর সন্ধ্যেয়। প্রবাসের এই অচেনা পুজো মণ্ডপে এসে একটা নধর 'তবু' দাঁত বের করে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে।

**

দিল্লীতে বেমক্কা ঘুরে বেড়াচ্ছি। কারণ পুজোর গোটাদিন সোফায় শুয়ে বসে থাকলে পাঁচজনে পাঁচ কথা বলবে। চিত্তরঞ্জন পার্কের অষ্টমীরল ভিড়ের বহর দেখে স্রেফ পিঠ বাঁচিয়ে সরে পড়া। তবে সন্ধ্যের আগে অষ্টমীতে বাড়ি ফিরলে লোকে কাপুরুষ বলবে।

অতএব ভিড়ের দমবন্ধ করা দাপট বাঁচিয়ে খুঁজেপেতে পৌঁছলাম কাশ্মীরিগেটের পুজোয়। ভিড় রয়েছে, তবে বেসামাল নয়। খালি চেয়ার দিব্যি গড়াগড়ি যাচ্ছে এ'দিক ও'দিক। চায়ের কাপ হাতে বসে জিরিয়ে নেওয়া যায়। মণ্ডপে ততক্ষণে সন্ধিপূজার আবহ।

ধূপ ধুনোর গন্ধ, পুরোহিতের ব্যস্ততা, ভলেন্টিয়ারদের অমায়িক দৌড়ঝাঁপ। গৌতম ভট্টাচার্যের চোখ থাকলে দেখা যেত পঞ্চপ্রদীপের আলোয় দেবীমুখের হাসি যেন আজ সামান্য বেশি চওড়া।

তারপর। ঢাকের কুড়কুড়কুড়কুড় যে মুহূর্তে গোটা মণ্ডপের বাতাসে মিশে যেতে শুরু করল, সে মুহূর্তে সেই 'তবু' সামনে ঝপাৎ করে এসে পড়লে।

যতই যা কিছু গোল্লায় যাক।
'তবু'। পুজো তো।

**

মফস্বলে বেড়ে ওঠা। কলকাতার থীম দূরঅস্ত। পাড়ার পুজোর বাইরে এলাকার অন্য পুজোও তেমন ভাবে দেখা হয়ে উঠত না। দেখার প্রয়োজন হত না।

পুজো কনসেন্ট্রেটেড হয়ে থাকত পাড়ার মণ্ডপে।
আর পুজো পুজোতে কনভার্ট হত চব্বিশ ক্যারাটের ইয়ারদোস্তদের সান্নিধ্যে। পুজোর মত সুগভীর বন্ধু-ফিল্টার খুব কম পেয়েছি।

ষষ্ঠী টু দশমী। জলখাবারের পর থেকে দুপুরের মাংস ভাতের আগে পর্যন্ত আস্তানা ছিল পাড়ার মণ্ডপ। দুপুরের আড্ডা কোনও এক বন্ধুর বাড়িতে। বিকেল থেকে ফের মণ্ডপে। সকালের প্রসাদ, বিকেলের ভোগ কোনওটা বাদ যেত না। পাড়ার নাটক, জলসা; সবেতেই রুদ্ধশ্বাস ব্যাপারটা দপদপ করে থাকত।

খান ছয়েক চেয়ার গোল করে পেতে গল্প হত। বই ক্যাসেট হাতবদল হত। কন্ট্র‍্যাব্যান্ড এ'দিক থেকে ও'দিক হত।  আর রইত খাওয়াদাওয়া। তখন সকলের পকেটেই চ্যারিটির টু'পাইস। আলুর দম টু ফুচকা টু ঘুগনি টু রুটি তড়কা; সে'টুকুই। বড়জোর বরাতজোরে একবার স্টেপ আউট করে দি গ্রেট শাহাজাদী রেস্তোরাঁর ফ্রায়েড রাইস ও দু'প্লেট চিলি চিকেনে ছ'জনের ডাইভ। কিন্তু ওই। অমৃত ইজ আ স্টেট অফ মাইন্ড।
খোকাবেলা থেকে কলেজ, পুজোর রুটিন এদিক সেদিক হয়নি একবারও।

তেমনই এক পুজোর দুপুরেই প্রথম বিভূতিভূষণ ধরিয়েছিলে এক বন্ধু। ক্লাস ফোর। চাঁদের পাহাড়।

পুজোর বিকেলে গঙ্গার ঘাটে প্রথম সিগারেট। সম্ভবত অষ্টমীতেই।

প্রথম "মৌ মেয়েটাকে তোর কেমন লাগে?"। আমি বললাম "দিব্যি", সে'দিন সপ্তমী। বন্ধুটি স্নেহের সাথে মাথা নাড়লে। সে বন্ধুই নবমীর দুপুরে বললে "তোর সাথে মৌ দেখা করতে চেয়েছে। ওদের বাড়ির পাশে কলতলায়। এখুনি। সিক্রেট কিন্তু"। বুকে হাতুড়ি, হাতের তালুতে ঘাম। বন্ধুর সাথে হাজির কলতলায়। দুপুর তিনটে। মৌকে দেখিয়ে আমায় এগিয়ে দিলে বন্ধুটি।
আমি কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই মৌয়ের চাবুক "তুমি আমার সাথে একলা দেখা করতে চেয়েছ কেন? মতলবটা কী?"।
গলা শুকিয়ে কাঠ। বলতে চাইলাম "আমি ডাকিনি, মাইরি"। মুখ দিয়ে বেরোল "সরি"। পিছনে তাকিয়ে দেখলাম গুলসম্রাট হাওয়া।

পুজোর কোনও এক বিকেলে শোনা এক ভদ্রলোক স্রেফ একটা গিটার নিয়ে গাইছেন। গাইছেন এমন একজনকে নিয়ে  যে একটা বেঢপ সাইজের ব্যাগ নিয়ে একটা ছুটন্ত বাসের ফুটবোর্ডে ওঠার জন্য মরিয়া। তাকে নিয়ে গান হয়? এ সুর এমন অন্য কেন? এক বন্ধুর বাড়ির ছাতের ঘরে সন্তোষ স্টিরিওতে প্রথম শোনা সেই গান। সেই। পুজোর বিকেলে।

পুজোর দুপুরেই হাতেখড়ি ট্যুয়েন্টি নাইনে। আলসের গ্ল্যাডিয়েটরগিরি। মসৃণ, বাতেলায় মেদুর, রঙের খেলা। আহা।

পুজোয় প্রথম নেশার রঙ চেনা।
আবছায়া রাত। কুচোনো শসা আর বাদাম ভাজার মুচমুচে স্বাদে মিলেমিশে যাওয়া ওল্ড মঙ্ক। মাথা বুকের ভিতরের রিমঝিম।
সিদ্ধি বানানোর দুপুর। বিজয়ার টলে যাওয়া পা মাথার সন্ধ্যে। তারপর পেটে গুজিয়া পড়লে আর রক্ষা নেই। "ভাই তোরা আছিস তাই আছি, ছেড়ে যাস না"। এক পা ফেলতে দুই পা এগোনো। হাসলে হাসি থামে না, অথচ মাঝেমাঝে কান্না ভসভসিয়ে বুক বেয়ে উঠে আসে।

কত গল্প, কত গল্প, কত গল্প। কত জমে থাকা গল্প ঝুলি থেকে বের করে আনার পুজো। পুজো। পুজোর সন্ধ্যে। জ্বলজ্বলে পাড়ার মণ্ডপ। সন্ধ্যারতির শেষে শালপাতার দোনায় খিচুড়ি লাবড়া। সকলের মুখ আলো আলো। ঢাকে কাঁসরঘণ্টায় মেহফিল গুলজার। কত ভালোবাসার সে'সব সন্ধ্যে।

**

সমস্ত আলসেমি ও তিতিবিরক্তিকে ছয় গোল দিয়ে নাকে পুজোর সে গন্ধ ফিরে এলো।
এই আধচেনা শহরের বেপাড়ার পুজোয়। আজ সন্ধ্যায়।

এই কাশ্মীরি গেটে কত মুখকে পরিচত মনে হল। ইয়ারদোস্তের দল। শশব্যস্ত পাড়াকাকুদের দল। ভোগ বিতরণ সুপারভাইজ করার দাপুটে কমিটিদাদা। হাতে হাত রেখে ঘুরঘুরের ছেলেমেয়েরা।

সমস্ত দুদ্দাড় করে ফিরে এলো। আমার পাড়া। আমার বন্ধুরা। আমার পুজো।

জলে যাক পুজোবার্ষিকী। সেভিংস গোল্লায় যাক। পানমশলার হোর্ডিঙে শহর ছেয়ে যাক। বাঙালির ফাঁপা কালচার বাতিকে প্রাণ ওষ্ঠাগত হোক।

তবু। আমার পুজো আমার থাক। আমার পুজো আমার পাড়ায় থাক। আমার পুজো আমার বন্ধুদের ছুঁয়ে থাক।

আমি পুজো ভালোবাসি, এন্ড অফ দ্য স্টোরি।

বত্রিশের সিঁড়ি

পাক্কা বত্রিশখানা সিঁড়ি পেরিয়ে ছাদ।

আঠেরো নম্বর থেকে একুশ নম্বর সিঁড়িগুলো বাঁকের, এখানে সন্ধ্যের অন্ধকার অতিরিক্ত গাঢ়। ছাতের দরজার মুখে লাগানো ষাট পাওয়ারের বাল্বের আলো এ'দিকটায় বিশেষ এসে পৌঁছয় না।

এ'খানে সহজে ধাক্কা লাগে। এখানে নূপুরের রিনিক কানে এসে সুড়সুড় করে। এখানে অসাবধানে ফতুয়ার বোতাম ছিঁড়ে যায়। এখানে আঙুল টেনে ধরা সহজ।

- শোনো!
- ছাড়ো!
- ধরে রাখার কিছু আছে কি?
- আমার এই কড়ে আঙুল বড্ড পাপ করেছে কি?
- আমার সাথে কথা বলতে নেই?
- চিঠির উত্তর দিতে নেই?
- আলিস্যি।
- কিন্তু আমার অনেক কাজ। ছাড়লে বাঁচি। নীচে কত কাজ।
- আঙুল ছেড়েছি পাঁচ সেকেন্ড হয়েছে।
- যাক। বাবু সময়ের মূল্য চিনেছেন।
- খুব রোয়াব! তাই না?
- আহ্! মাই রিস্ট! জানোয়ার!

**

দিব্যি দোতলা বাড়ির কবজি মুচড়ে তাকে খতম করে দেওয়া হয়।

প্রমোটার আসে।
বুলডোজার আসে।
দু'টো ফ্ল্যাট আর নগদ টু পাইসের লোভ আসে।
গঙ্গা ঘেঁষা স্যাঁতলা দেওয়ালের বাড়ি মুছে রিভারভিউ অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি হয়।

বত্রিশটা সিঁড়ি ধুয়ে পড়ে থাকে রুফটপ স্যুইমিং পুল। এলিভেটরে অন্ধকার থাকে না। মোচড়ানো কবজির যন্ত্রণা থাকে না।

শুধু বত্রিশ বছর পর টিং করে ভেসে আসে সিঁড়ি ভেজানো অন্ধকার, মোবাইল স্ক্রীন জুড়ে। ইন্টারনেটে আর একটা মেসেজ বই তো নয়।

"সে'দিন বাড়াবাড়ি হয়ে গেছিল। সরি। তবে ওই। আমি কেই বা। কেউ না"।

"তবে"?

"কবজি কদ্দিনে ঠিক হয়েছিল"?

"এখনও ভারি কিছু তুলতে পারি না"।

**

বত্রিশটা সিঁড়ির ওপারে ছাদ। গোল্ডফ্লেক। মোড়া। নয়নতারার চারটে টব। রাগ। গনগনে। তামাটে।
লাইটারের ফসরফস। কানের ইয়ারফোনে জগজিৎবাবু;
"...দেশ মে নিকলা হোগা চাঁদ" অকারণ বয়ে চলা সুর।
সে'খানে 'মরুক গে যাক'।

বত্রিশটা সিঁড়ির অন্যদিকে রান্নাঘর লাগোয়া বারান্দা। সেখানে হুঁশহাঁশ পায়চারী। সে'খানে অভিমান। সে'খানে দুপদাপ। সেখানে কথোপকথনের এক খণ্ডে হাতপাখা।
সে'খানে 'দেখে নেব। যেমন থাকার থাক।'।

অভিমান আর রাগ আঠেরো থেকে একুশ নম্বর সিঁড়ির অন্ধকারে দাঁড়ায়নি আর কখনও।

**

"উ মকান আমার চাই। উকে বুলডোজ না করিয়ে আমার মাল্টিস্টোরি রিভারভ্যিউ কন্সট্রাক্ট হোবে কেয়সে? মালিককে পারসুয়েড কোরেন উ মকান বেচে দিতে। এগ্রী না কোরলে, আর্ম ট্যুইস্ট কোরেন! অ্যাট এনি কস্ট, আই ওয়ান্ট দ্যাট হাউস"।

Saturday, October 8, 2016

পরশুরাম

- খোকা! মন দিয়ে দেখো। আমার হাতে এ'টা কী?
- কয়েন।
- গুড। কত টাকার?
- এক টাকা।
- ভেরি গুড। এবারে হিং টিং ছট। এ'টা কী?
- আইব্বাস! দু'টাকার কয়েন। এ'টা কী করে হল?
- ম্যাজিক। 
- আবার দেখাও।
- হিং টিং ছট। এবারে কী দেখছ?
- দারুণ! পাঁচ টাকা! আবার দেখাও!
- হিং টিং ছট!
- ও কী! কয়েন গেল কই?
- তোমার পায়ের কাছে দেখো খোকা!
- আরিব্বাস! আমরা একটা কয়েনের ওপর দাঁড়িয়ে!  আরিব্বাস রে! ইয়াব্বড় কয়েন! দশ টাকার!
- আরও দেখবে? ম্যাজিক?
- হিং টিং ছট।
- এত অন্ধকার কেন কাকু?
- ম্যাজিক।
- এ'টা কি পাহাড়? কাকু?
- খুচরোর পাহাড়। কত কয়েন স্তুপ হয়ে পড়ে খোকা। আর তার ওপর তুমি!
- আমার ভয় করছে। এত অন্ধকার কেন? পাশে ওগুলো কী কাকু? ক...কঙ্কাল?
- আরও দেখবে? ম্যাজিক?
- না, আমি ফিরব।
- ম্যাজিক দেখা শেষ? বেশ। কিন্তু আমি ম্যাজিশিয়ান, ম্যাজিক শেষ হলে যে আমার কাজও শেষ।
- কাকু! কাকু! কই তুমি?

**

খুচরোর ঘটের ঝনঝনে তৃপ্তি পান সোমেনবাবু! তেমন টাকা আর জমানো হল কই! খুচরোপাতি ছাড়া সঞ্চয় বলতে আর কিছুই রইল না। জন্মদিন মুখেভাতে ম্যাজিক দেখিয়ে ক'পয়সাই বা আসে।

তবে ওই ঘটটাকে আঁকড়ে রাখেন সোমেনবাবু। পিসি সরকারই যে শেষ কথা নয়, সে কথা বাঙালি বুঝবে না। অখাদ্য অসভ্য জাত।

পরশুরাম ক্ষত্রিয়দের প্রায় সাফ করে এনেছিলেন।  অযোগ্য জাতির একটা প্রজন্মকে খতম করতে ক'দিন লাগা উচিৎ? সোমেনবাবু ম্যাজিকে তুখোড়,  অঙ্কে নন।

Tuesday, October 4, 2016

ঝুনঝুনওলার আইডিয়া

-   কী? কিছু বলবেন ঝুনঝুনওলাজি?

-   বোর্ড প্রেসিডেন্ট সাহাব! ম্যায় ক্রিকেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বাদ মে। বিজনেসম্যান ফার্স্ট। বিজনেস প্রপোজাল ছাড়া আমাকে আপনি কহি পে দেখতে পারবেন না।

-   বসুন। কফি?

-   শরবত হোবে? স্যুইট লাইম জ্যুস? উইথ সোডা।

-   বেয়ারা! সাব কে লিয়ে স্যুইট লাইম উইথ সোডা লাও। এবার বলুন ঝুনঝুনওলাজী। আপনার প্রপোজালটা কী।

-   বলবো। জরুর বলবো! লেকিন উসসে পেহলে, আমার কনসার্নটা শুনে লিন।

-   কনসার্ন? ইন্ডিয়ান ক্রিকেট নিয়ে?

-   সির্ফ ইন্ডিয়ান কেন? ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কে লিয়ে আমার চিন্তা মিস্টার প্রেসিডেন্ট।

-   রিয়েলি। আমি জানতাম আপনি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ দিকটা সামাল দিতেই বোর্ডে আছেন। রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট আপনার স্ট্রেন্থ। ক্রিকেট নিয়েও আপনার চিন্তা আছে, সে’টা জেনে ভালো লাগল ঝুনঝুনওলাজী।

-   ই এক মুসিব্বত আপলোগোকো লেকে মিস্টার ক্রিকেট প্রেসিডেন্ট।

-   আপলোগ বলতে কাদের দিকে আঙুল তুলছেন মিস্টার ঝুনঝুনওলা?

-   ক্রিকেট এলিট্‌স। ইন্ডিয়ামে কেউ ফুটবল খেলা কোরে না। কিঁউ? কিঁউ কি রেভেনিউ কুছু নেই। হ্যায় কি নহি?

-   মেনে নিলাম। কিন্তু ফুটবল নিয়ে তেমন দুশ্চিন্তা ভারতে বা দেশের বাইরে দেখা যাচ্ছে না মিস্টার ঝুনঝুনওলা।

-   ল্যাক অফ অ্যাম্বিশন! বিজনেস কা সবসে বড়া ক্যান্সার!

-   উই আর টকিং অ্যাবাউট ক্রিকেট। মিস্টার ঝুনঝুনওলা।

-   বিজনেস নিকাল লিজিয়ে অউর আপকা ক্রিকেট অউর কাবাড্ডি মে কোই ফর্ক নহি বঁচেগা।

-   আপনি বলতে কী চাইছেন মিস্টার ঝুনঝুনওলা? আইসিসির রেভিনিউ গত পাঁচ বছরে একটানা বেড়ে চলেছে। বিসিসিআইও পিছিয়ে নেই...।

-   ডেটা দেখেন। গুড হ্যাবিট। লেকিন ফুল পিকচার দেখেন মিস্টার বোর্ড প্রেসিডেন্ট।

-   ফুল পিকচার?

-   নাইন্টিন সেভেন্টিসয়ে ক্রিকেট রেভিনিউ অন অ্যান অ্যাভারেজ গ্রো করল বাই ফিফটিন পারসেন্ট পার ইয়ার। নাইন্টিন এইটিজে বাই টুয়েন্টি ট্যু পারসেন্ট। নাইন্টিন নাইন্টিজে বাই ফর্টি থ্রি পারসেন্ট। ইটা টু থাউস্যান্ড অ্যান্ড ফাইভ। এই ডিকেডের অ্যাভারেজ রেভেনিউ গ্রোথ কিতনা, খবর রাখেন?

-   কত?

-   সেভেন পার্সেন্ট!

-   সেভেন?

-   সেভেন পারসেন্ট অনলি! এগেইন্সট ফরটি থ্রি পার্সেন্ট অফ লাস্ট ডিকেড। আমি লিখিয়ে দিব, দশ সাল কে অন্দর গ্রোথ নেগেটিভ হোবে।

-   ওহ।

-   কী মিস্টার প্রেসিডেন্ট। বোলেন কুছু।

-   আপনার কোনও সাজেশন আছে?

-   ওয়ান ডে ক্রিকেট ইন্ট্রোডিউস হলো কেনো? বোলেন কেনো?

-   অবভিয়াসলি, সাবেক টিট্যুয়েন্টি ক্রিকেটের আকর্ষণ কমতে শুরু করেছিল। মাঠে ভিড় কম হচ্ছিল। রেভিনিউ কমছিল। ইন ফ্যাক্ট দ্য গ্রেটেস্ট হিটার, ওই সুপার রিভার্স স্যুইপ মারনেওয়লা গাভাস্কার নিজে প্রপোজ করেছিলেন যে ফর্মাট কুড়ি ওভারের বদলে পঞ্চাশ করলে খেলার আকর্ষণ বাড়বে,  রেভিনিউর স্কোপ বাড়বে। সে’টা একটা বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত ছিল। বাট অল ইজ হ্যাপি দ্যাট ইট পেড অফ। নয়তো ব্র্যাডম্যানের খেলাটা খোলনলচে পালটে কুড়ি ওভারের ইনিংসের বদলে পঞ্চাশ। ভাবা যায়?

-   সোচেন। রিভোলিউশন থা উয়ো।

-   কিন্তু মিস্টার ঝুনঝুনওলা, আপনার সাজেশন কী? নতুন কোন ফর্ম্যাট সাজেস্ট করছেন? টি ট্যুয়েন্টি বন্ধ করতে বলছেন?

-   ক্রিকেট এলিটদের কী হোবে? টি ট্যুয়েন্টি বন্ধ্‌ হোলে এলিটদের কী হোবে? দু’শো সাল কা খেল। গ্রেসবাবু দেড়শো স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করতেন। অউর উয়ো ব্র্যাডম্যানজী তো ঢাইশো কে স্ট্রাইক মে ব্যাট করতেন। ই’সব বাদ দিলে আপনাদের তো নিঁদ ভেগে যাবে! টি ট্যুয়েন্টি হ্যাস টু স্টে। লেকিন ওয়ান ডে ক্রিকেট বোরিং হচ্ছে মিস্টার প্রেসিডেন্ট। রিসেন্ট রেভেনিউ ডিপ জিয়াদা সে জিয়াদা উধর হি হ্যায়।

-   আপনার সাজেশনটা শুনিই না। নতুন ফর্ম্যাট? একশো ওভারের ইনিংস? তা'তে এক দিনে শেষ হবে খেলা?

-   রিভোলুশন। ইনোভেশন! বুঝেন? পঁচাশ ওভার কো শ’ওভার বনানা ইনোভেশন নহি হ্যায়। থিঙ্ক আউট অফ বক্স। ফর আউট অফ ওয়ার্ল্ড রেজাল্টস।

-   তাহলে?

-   বচপেন মে ম্যায় ভি ক্রিকেট খেলা হু! লেকিন লিমিটেড ওভার নহি। আন লিমিটেড। যব তক আউট নহি, তব তক ব্যাটিং।

-   এখানেও তাই চাইছেন নাকি?

-   আমি কনসাল্ট্যান্টদের সাথে বাত করিয়ে লিয়েছি। সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের আদমিলোগ সে ভি বাতচিত হুয়া হ্যায়। ব্যাকডোর বাতচিত।

-   ফর্মাটটা কী?

-   পাঁচ দিন কা ক্রিকেট!

-   কী?

-   পাঁচ দিন কা ক্রিকেট!

-   আপনি পাগল হলেন নাকি ঝুনঝুনওলাজী? বেয়ারা, সাহাব কে লিয়ে আউর এক গ্লাস নিম্বু পানি লাও।

-   মজাক করিয়ে নিন মিস্টার প্রেসিডেন্ট। ফিফটি ওভার ম্যাচ কো ভি মক কিয়া থা এলিট লোগো নে।

-   মিস্টার ঝুনঝুনওলা, শুনুন! ছোটবেলায় আমাদের গ্রামে শীতকালে সার্কাস এসে তাঁবু ফেলত। টানা পাঁচ দিন থাকত, দিনে তিনটে করে শো। ক্রিকেটকেও তেমন একটা কিছু বানাতে চাইছেন কি?

-   ইধর ভি। পাঁচ দিন। হর দিন তিন শো! মর্নিং সেশন! উসকে বাত লাঞ্চ। আফটারনুন সেশন। উসকে বাদ টী। অউর ফির পোস্ট টি সেশন! দিন মে নব্বই ওভার। জবরদস্ত। পুরা ম্যাচ মে সাড়ে চারশো ওভার। চারশো প্লাস অ্যাড ব্রেক। রেভেনিউ ভাবেন। ই সব ছাড়াও লাঞ্চ ব্রেক, টী ব্রেক! অ্যাড হি অ্যাড!

-   টী? ক্রিকেটে টী ব্রেক? ক্রিকেট কি রাস্তার চায়ের দোকান নাকি?

-   বোর্ড প্রেসিডেন্ট মাফিক বাত কোরেন। রেভেনিউ কা খেল হ্যায় সব কুছ প্রেসিডেন্ট।

-   পাঁচ দিন ধরে দু’টো টীম ব্যাট করবে?

-   টু ইনিংস! টিম এ এক ইনিংস খেলেগা। উসকে বাদ টিম বি। ফির টিম এ ব্যাটিং কে লিয়ে উতরেগা। জিসকা রান জিয়াদা, উয়ো হি সিকন্দর।

-   লোহার ব্যবসা করে আপনার মাথাটা গেছে।

-   আইডিয়া শিওর শট। অস্ট্রেলিয়া বোর্ড কা ম্যাথুজ সাহাব ইজ ইন্ট্রিগড। নেক্সট ডোমেস্টিক সিজনে আইডিয়া পেশ হোবে ওখানে।

-   একটা ম্যাচ চলবে পাঁচ দিন ধরে? যদি একটা টীম কে অন্য টিম পাঁচদিনেও আউট না করতে পারে?

- ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দিবে। নিউ রুল।

- ডিক্লেয়ার না করলে?

-   নো রেজাল্ট। ড্র! চেস্‌ মাফিক।

-   টাই না। ড্র?

-   ড্র!

-   ক্রিকেটে নো রেজাল্ট? তাও পাঁচদিন পরে?

-   পাবলিক চুম্মা লিবে আইসিসির। ফর দিস আইডিয়া। লোগ পীস লাভিং হ্যায় আজকাল। গেম কম্পিটিটিভ ভি হোবে, অউর নো রেজাল্ট ভি হোতে পারে। মস্ত হ্যায়।

-   আমার মাথা ঘুরছে। ম্যাথুজ সাহেব বলেছেন অস্ট্রেলিয়ায় ওরা এই আইডিয়া ফ্লোট করবে?

-   ইমেল আছে। ফরওয়ার্ড কোরে দিবো। গ্ল্যামার সোচেন। ইসকা ট্যাগ লাইন ভি হম লোগ সোচিয়ে লিয়েছি।

-   শুনি!

-   টেস্ট ম্যাচ ক্রিকেট। রিয়েল টেস্ট অফ ক্যারেক্টার, নট চাইল্ড্‌স প্লে।

-   টেস্ট ম্যাচ?

-   জী! জাস্ট ফাইভ ডেজ ক্রিকেট বোলনে সে কান মে খটক্তা হ্যায়। টেস্ট অফ ক্যারেক্টার বোলেন। গ্ল্যাডিয়েটর ফাইট যেয়সা ফীল দিজিয়ে। তব বনেগি বাত।

-   লোকে সে ম্যাচ দেখবে?

-   উ বঙ্গালি লোগ কেয়া বোলতা হ্যায়...দেখবে মানে? গোগ্রাস মে গিলবে। হে হে হে! আর অউর ভি আইডিয়াস আছে।

-   যেমন?

-   জার্সি ওয়ার্সি নহি চলেগা।

-   ন্যুড ক্রিকেট?

-   আরে নহি সাহাব। অল ইন হোয়াইটস!

-   দু’টো দলই?

-   জী! ইকুয়ালিটি ভি হোবে, ডিফারেন্ট ভি হোবে। আর রেড বল। ইয়ে আইডিয়া রেড অ্যান্ড হোয়াইট খৈনি কোম্পানি স্পন্সর করনে কে লিয়ে রেডি হ্যায়। মেরে সে বাত হুয়া হ্যায়। আইডিয়া নয়া লেকিন উয়ো লোগ পয়সা লাগানে কে লিয়ে তইয়ার। লেকিন কন্ডিশন ওই। অল ইন হোয়াইট ড্রেস অ্যান্ড রেড বল।

-   লাল চামড়ার বল?

-   উকে রেড চেরি বোলেন। অউর হা, চিয়ারলীডার লেড়কি লোগ আউট।

-   মানে? ক্রিকেট ম্যাচ হবে কিন্তু চিয়ারলীডার থাকবে না? সে’টাকে ক্রিকেট বলে মনে হবে লোকের?

-   ই সব ইলিটিস্ট ফিলিং নিয়ে ধন্দা কী করে করবেন মিস্টার প্রেসিডেন্ট? কস্ট কাটিং কা জমানা!

-   আমার মাথা ঘুরছে! কত হাজার হাজার রান হবে পাঁচ দিনে!

-   হাজার হাজার হোবে না। রুল কুছু চেঞ্জ করতে হবে, টু ফেভার দ্য বোলার্স। ব্যাটসম্যান লোগো কা স্ট্রাইক রেট ঘট যায়েগা। অ্যাভারেজ দেড়শো সে পঁচাশ তক আ যায়েগা!

-   পঞ্চাশ স্ট্রাইক রেটে ক্রিকেটে ব্যাটিং হবে?

-   মোস্টলি স্ট্রেট ব্যাটে খেলেগা ইয়ে লোগ। নহি তো পাঁচ দিন টিকেগা কেয়েসে? কুছ রুল্‌স চাহিয়ে ফেভারিং দ্য বোলার্স। সেম পিচ ফর ফাইভ ডেস। আনলিমিটেড বাউন্সারস।

-   ব্যাটসম্যানদের খতম করে এ’টাকে ক্রিকেট বলতে চাইছেন ঝুনঝুনওলাজী? স্ট্রেট ব্যাটে ব্যাটিং? বিলো ফিফটি স্ট্রাইক রেট? এ’টা ক্রিকেট কে খুন করা যে। কেউ স্কুপ হেলিকপ্টার মারতে চাইবে? কেউ প্রথম বলে স্টেপ আউট করবে?

-   ফির চালু এলিটবাজি!

-   এমসিসির শুরু হয়েছিল টি ট্যুয়েন্টিতে মিস্টার ঝুনঝুনওলা। ব্যানারম্যান আগুন ঝরিয়ে একুশ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন। সে খেলাকে আপনারা কোন অন্ধকারে ঠেলতে চাইছেন বলুন তো? ব্যবসাটাই সব হতে পারে না।

-   ব্যবসা না করলে আপকা ক্রিকেট খতম হো যায়েগা প্রেসিডেন্ট। অউর ক্রিকেট খতম হলে আমাদের বিজনেস প্রমোশন হবে কী করে? ঝুনঝুনওলা টি এম টি বার, সদা কে লিয়ে। আমরা লাঞ্চ শো স্পন্সর করব ফার্স্ট টেস্ট ম্যাচে।

-   কিন্তু...।

-   লেকিন-ওয়েকিন ছোড়েন! ফিউচার অফ ক্রিকেট ইজ হিয়ার। রিয়েল টেস্ট অফ ক্যারেক্টারস। ব্যাটসম্যানের লেজ কাটিয়ে নিন। ফির দেখেন মস্তি। হে হে হে। ফর ফাইভ ডেস। ইন ফিউ ইয়ার্স রঞ্জি টি ট্যুয়েন্টি লীগ বন্ধ করিয়ে দিবেন আপনি নিজে, হামি লিখিয়ে দিবো।তব আই টি পি এল শুরু হোগা বহুত  জল্দ। ইন্ডিয়ান টেস্ট প্রিমিয়ার ল্যিগ।

-   বেয়ারা! আমার জন্য দু’গ্লাস জল দিয়ে যাও ভাই।