Sunday, December 20, 2015

কনেক্টিং দ্য ডট্‌স

- অমল খাসনবিশ। নস্যি রঙের হাফ শার্ট। কালো প্যান্ট। পায়ে খাদিমের চটি। গোঁফ অযত্নে কাটা; ডাঁয়ে সামান্য বেশি লম্বা। মাথা ভর্তি কোঁকড়া সাদা কালো চুল। বাইফোকাল। বুক পকেটে লাল পকেট ডায়েরি। ডায়েরির ভাঁজে ট্রেনের মান্থলি; ভদ্রেশ্বর টু হাওড়া। বুকপকেটেই রাখা সিগারেটের প্যাকেট - গোল্ডফ্লেক; তিনটে পড়ে। প্যান্টের পকেটে নীল আধ ময়লা রুমাল আর শিপ মার্কা দেশলাই।
- ভেরি গুড। ছুরিটা?
- বুকের বাঁ'দিকের পাঁজর পেনিট্রেট করেছে। আন্দাজ এই ঘণ্টা দুয়েক আগে।
- বডিটা সেন্ট্রাল আভেনিউতে পেয়েছ তো?
- বত্রিশ বাই এ। তা ইয়ে, আপনি কি একবার এদিকে ঢুঁ মারবেন ইন্সপেক্টর সাহেব?
- অবভিয়াস ব্যাপারে মাথা গলানো ছেড়ে দিয়েছে বিজয় দারোগা।
- অবভিয়াস ব্যাপার স্যার?
- তুমি ব্রাইট অফিসার চন্দন। প্যাটার্ন চিনতে শেখ।
- মানে?
- গত সাতদিনে এই নিয়ে পাঁচ নম্বর খুন। ডট্‌স কনেক্ট কর।
- ড...ডট্‌স? নিলয় সমাজপতি, বরুণ সাহা...।
- হিন্ট দিচ্ছি। খুনের ভেন্যুগুলো কনেক্ট কর।
- ভবানীপুর, চেতলা...।
- বি মোর স্পেসিফিক।
- কীরকম স্যার?
- কী করে চলবে গুরু? এই বুদ্ধি নিয়ে পুলিশগিরি করবে কী করে চন্দন?
- সব ক'টা খুনই হয়েছে এলাকার সেরা মিষ্টির দোকানের আশেপাশে। টু বি মোর স্পেসিফিক; খুন হয়েছে এলাকার সেরা নলেন রসগোল্লা মেকারের আশেপাশে।
- কিন্তু খুন যারা হয়েছেন তাদের কারুর হাতেই মিষ্টির বাক্স ছিল না স্যার।
- গুড। তার মানে? মিষ্টির দোকানের পাশে সবাইকে পাওয়া গেল অথচ কারুর হাতে মিষ্টির বাক্স নেই।
- সবাই দোকানে দাঁড়িয়ে মিষ্টি খেয়েছিল?
- এগজ্যাক্টলি। এই তো মাথা খেলাচ্ছ বাবা চন্দন।
- তবু স্যার ডটগুলো...কনেক্ট করতে পারছি না...।
- আগের চারটে খুনের ব্যাপারে আমি তোমার আগেই খবর টবর নিয়ে রেখেছি। যারা খুন হয়েছেন তারা প্রত্যেকেই রসগোল্লা খেয়েছে দোকানে দাঁড়িয়ে। গুড়ের। এই অমলবাবুর ব্যাপারে খবর নাও কাছের দোকানে। বত্রিশ বাই এ তো ? আধুনিক মিষ্টান্ন ভাণ্ডার রয়েছে ওখানে। আড়াই কিলোমিটার রেডিয়াসে সেরা গুড়ের রসগোল্লা। আমি নিশ্চিত সেম প্যাটার্নে মার্ডার।
- আইব্বাস। রসগোল্লা খেয়েছে বলে খুন?
- খুন হওয়া প্রত্যেকের হাতের আঙুলের ডগা ল্যাবে টেস্ট করিয়েছি। সে খবর রাখ?
- রেজাল্ট পেয়েছেন কিছু স্যার?
- হাত ধোয়া সত্ত্বেও ডান হাতের তিন আঙ্গুলে রসগোল্লার রসের ট্রেস পাওয়া গেছে। বুড়ো, তর্জনী ও মধ্যমার ডগায়।
- তো?
- তো? ইট ইজ এভ্রিথিং।
- রসগোল্লার রসের ট্রেস তো আঙুলে থাকবেই।
- কোশ্চেন ইজ। দু'আঙ্গুলে রস লাগছে না তিন আঙুলে। সব খুন হওয়া বান্দারই তিন আঙুলের ডগায় রস। দু'আঙ্গুল হলে চিন্তার ব্যাপার হত; হিসেব গুলিয়ে এত। কিন্তু তিন আঙ্গুলে রস।
- মানে?
- মানে সক্কলে রসগোল্লার রস চিপে খেয়েছে। দু'আঙ্গুলে খেলে কনফিউসন হত; চিপেও খেতে পারে; উইথ রসও খেতে পারে। কিন্তু তিন আঙুল মানে শিওর কেস্‌।
- রসোগোল্লার রস চিপে খাওয়ায় মার্ডার স্যার?
- ভাব। ভাব। কনেক্ট দ্য ডট্‌স।

***

- কিছু বলবেন?
- না।
- না মানে? তখন থেকে পিছুপিছু আসছেন কেন?
- আপনার নামটা জানার ইচ্ছে ছিল।
- জেনে কী করবেন শুনি? আমি অমল। অমল খাসনবিশ। এখন ফলো করা বন্ধ করুন।
- আসলে এমন সুন্দর ভাবে আপনি রসগোল্লা খাচ্ছিলেন। মন্ত্রমুগ্ধের মত তাই দেখছিলাম।
- কী মুশকিল।
- সে জন্যেই ফলো করছিলাম আর কী।
- আপনি কে বলুন তো?
- আমি। সম্পর্কে আপনার বাপ। শাহেনশা বলে ডাকতে পারেন।

**

অমলবাবুর দিকে হালকা একপেশে হাসিটি ভাসিয়ে দিয়েছি বিজয় দারোগা।

কবিতা কী ?

কবিতা কী? -- ১
লালমোহন - মল্লিক। বৈকুণ্ঠ। অফ কোর্স। আর রয়েছে থ্রিলারের থরহরি থ্রিলিং নামে।
ফেলুদা - আমি আধুনিকে, অ্যাবস্ট্রাকশনে। আমার কবিতা লালুবাবুর "বলেন কী মশাই"তে আর শ্রীমান তপেশের "তাই না ফেলুদা"য়।
মগনলাল- কভিতা? উ তো এক নম্বরকা খতরনাক চিজ আছে। টোটাল রেড। পুরা লাল। মোহন অ্যান্ড মগন।

কবিতা কী? -- ২
বম্বে - বড়া পাও।
কলকাতা - বম্বের এই যে বিশ্বাস যে সে কবিতার মানে জানে, সে সরল বিশ্বাসের অপর নামই কবিতা।


কবিতা কী? -- ৩
কফি হাউস - টেবিল চাপড়ানিতে চলকে ওঠা ঠাণ্ডা কফি।
ময়দান - সবুজ হিয়ার, মিনিবাসের সাইলেন্সর দেয়ার।
নন্দন - আননোটিসড ছন্দমিল বিটুউইন ঝোলা অফ চাপদাড়ি অ্যান্ড ছাতা অফ ঠোঁটজোড়া।

কবিতা কী? -- ৪
বাঙালি - *কপালে আঙুল ঠেকিয়ে* রবীন্দ্রনাথ।
রবীন্দ্রনাথ - *মিচকি হেসে* বাঙালি।

হার্ট অ্যাটাক ও মিস্‌ যাসনা

- ঘাড়ে পিঠে চোয়ালে হাতে ব্যথা?
- বেদম। অ্যাকিউট।
- দম আটকে আসছে মনে হচ্ছে রে?
- পুরোপুরি। অক্সিজেন...অক্সিজেন নেই...জাস্ট নেই।
- বুকে চিনচিন? 
- শার্প। খুনে। রক্ত পাক খাচ্ছে।
- ঘামও দিচ্ছে দেখি এই শীতে। মাথার ভিতরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে বাবু তোর?
- লাইক ইণ্ডাস্ট্রি ইন বাংলা। অউফ!
- কোনদিন পাড়ার থিয়াটারে চান্স পেলি না। হার্ট অ্যাটাকের নাটক কী করে পুল অফ্ করবি?
- ঢ্যাপস জিন্সে ধপরধপর করা পাবলিক তুই, কদিনের শাড়ির গিন্নী-গ্রেস কী করে পুল অফ্ করবি?
- হার্ট অ্যাটাক বাবু?
- টোট্যাল।।লিথাল।
- ফেরার চান্স?
- তোর কলকাতা ছাড়ার টিকিট; আমার আর্টারি ব্লক করছে।
- তো উপায়?
- বাইপাস। টিকিট ক্যানসেল। তুরন্ত। ডেস্পারেট টাইমস। ডেস্পারেট মেজার্স।
- এসব পাগলামো।
- ইউ হ্যাভ আ নিউ নেম; যাসনা। যাসনা সেন। মিস যাসনা সেন।
- ইউ হ্যাভ আ নিউ নেম টু বাবু; অমনকরেনা। অমনকরেনা চ্যাটার্জী। শ্রী অমনকরেনা চ্যাটার্জী।

ঘুম আসার ব্যাপার

১।
- এ কী! ঘুমোওনি?
- নাহ। ঘুম আসছে না কিছুতেই।
- একটা টোটকা বলি?
- বল।
- মনে কর বড় রেস্তোরাঁয় ভেজ কাবাব প্ল্যাটারের অর্ডার দিয়েছিস।


২। 
- নাহ। ঘুম আসছে না।
- আসছে না?
- এক টানা চোখ বুজে আছি। নাথিং ডুয়িং।
- উপায় আছে।
- আছে?
- আছে।
- শুনি।
- গাড়ি ছাড়া দিলওয়ালের কথা ভাব।


৩। 
- আরে শালা। কিছুতেই ঘুম আসছে না।
- হোয়াই সো রেস্টলেস্‌?
- জানি না। চাদর গায়ে ঠাণ্ডা লাগছে। কাঁথা গায়ে ঠাণ্ডা লাগছে। 
- খবরের কাগজ গায়ে দে। কাগজের নরম, গুলের গরম। পারফেক্ট ব্যালেন্সে নেচে নেচে ঘুম আসবে।


৪।
- নাহ্‌। তাও জুত হছে না। চোখের পাতা ভারী হচ্ছে না। মাথার ভিতরটা নরম হয়ে আসছে না। বডি ঘুমকে কনসিভ্‌ করার জন্য এখনও প্রিপেয়ার্ড নয়। ক্যাফেইনের এগজ্যাক্ট অপোজিট কিছু আছে কী?
- তাও আছে।
- ক্যাফেইনের এগজ্যাক্ট অপোজিট?
- ইয়েস। 
- কী?
- পান্নালাল। ব্রেনের ভাইব্রেশনে তুলসী পাতা ফ্লেভারের জেন্টল ইস্তিরি। এম্পি থ্রীতে। চালিয়ে দে।

খুনে

পকেট থেকে ব্লেডটা সাবধানে বের করলে তপেন। কাগজের মোড়কটা খুলে নতুন সেভেন'ওক্লকটা সুমিত্রার গলায় আলতো করে চেপে ধরলে সে। থরথর করে কাঁপা ছাড়া কিছুই করার ছিল না সুমিত্রার। কষে বাঁধা সুমিত্রা তখন অসহায়।
একটা মৃদু রক্তের রেখা সুমিত্রার গলা বেয়ে নামতে শুরু করেছিল। তবে গলার নিচে সেটা বয়ে আসার আগেই তা চেটে নিল তপেন।
**

- গতকাল ব্যাটা নীলিমার বুক চিরে খেয়েছে। আজ পড়েছে সুমিত্রাকে নিয়ে।

- নীলিমা? সুমিত্রা? কী বলছেন ডাক্তার?

- তপেনের কেসটা যে সে কেস নয় হে। তোমায় এমনি এমনি অব্জার্ভ করতে বলিনি। প্রেমে লেঙ্গি আর মিষ্টি অবসেশনের অদ্ভুত কনককশন। জলভরাকে সুমিত্রা বলে ডাকা আর ক্ষীরকদমকে নীলিমা বলে চেনা, এই দায়ভার থেকে তপেনকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা মেডিক্যাল সায়েন্সের অন্তত নেই।