Monday, October 26, 2015

বেস্ট

- সোনা।

- সো..? না।

- অ্যাই...ব্যালকনিতে কী বিউটিফুল হাওয়া। চল না গিয়ে একটু গল্প করি। রোম্যান্টিক্যালি। চল না।

- রাত একটায় বেস্ট কী বলো তো স্যুইটি?

- আমি?

- তুমি রোম্যান্টিক? ইয়েস। ডিজায়রেবল? ইয়েস? ইরেসিস্টিবল? ওয়েল, অলমোস্ট।

- ইউ নো হোয়াট আই ফাইন্ড ভেরি সেক্সি? তোমার এই রাতের বেলার দুঃসাহস। এনিওয়ে, তা বেস্ট কী? রাত একটায়?

- পাশে ঘুমন্ত বৌ, হাতে জ্বলন্ত হেমেন্দ্রকুমার, মুখে মন-কেমন্ত কাঁলাকাদ। দ্যাট ইজ দ্য আল্টিমেট ফ্রন্টিয়ার।

নিশির ডাক

ফ্রীজে আধখাওয়া হাঁসের রোস্ট রয়েছে ভেবেই মন আনচান করছিল বিপিনবাবুর। তবে ঘড়িতে রাত বারোটা দেখে নিজেকে নিরস্ত করলেন। ষাটের পর এত লোভ মানায় না। একরকম জোর করেই নোলাকে ভুলিয়েভালিয়ে চাদরমুড়ি দিয়ে ঘুম লাগালেন তিনি।

রাত তখন দু'টো। 

ধড়ফড়িয়ে ঘুম ভেঙে বিছানায় উঠে বসলেন বিপিনবাবু। এয়ারকন্ডিশন্ড ঘরেও তখন তিনি দরদর করে ঘামছেন। আচমকা এমন ভয়ানক ভাবে ঘুম ভাঙার কারণও স্পষ্ট বুঝতে পারলেন তিনি ; নিশির ডাক।


স্বপ্নচালিত রোবটের মত ফ্রীজের দিকে এগোলেন বিপিনবাবু।

দ্যাবা দেবী

দেবী ডিমের ঠিক তালুতে টকাস করে চামচের এক টোকা দিলেন। টুপ করে খোলা আলগা হয়ে বেড়িয়ে এল কুসুম-অন্তর, গড়িয়ে পড়ল স্টিলের গেলাসে।

দ্যাবা দারোগা-দেবীর পিছনে হাবিলদারের মত ফ্যালফ্যাল করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ডিম গেলাস বন্দী হতেই দ্যাবা ড্যাবড্যাব চোখে থুঁতনি রাখলেন দেবীর কাঁধে, দু হাতে জড়ালেন দেবীর কোমর। বুকে চাপা উত্তজেনা, রোজরোজ একই প্রসেস; তবু জলো ডিমের ওমলেটত্ব লাভের স্পাইন চিলিং প্রসেস দ্যাবাকে বেবাক অবাক করে ছাড়ে।

এরপর দেবী ছুপুত করে দেড় চামচে পেঁয়াজ লঙ্কা কুচি, হাফ চামচ নুন আর একচামচ দুধ ডিম ফাটানো গেলাসে ফেলে দেন। দ্যাবার যে কী অপূর্ব লাগে সে দৃশ্য, যেন সৃষ্টিকর্তা মহাকাশের ফোঁদলে একমুঠো তারা ছড়িয়ে দিলেন। 
তারপরে দেবী সমেজাজে ঘটঘট শব্দে গেলাসে চামচ নাড়িয়ে ডিম পেঁয়াজ লঙ্কা নুন দুধের সলিউশন ফেটাতে থাকেন। গোলার তালেতালে দেবীর কাঁধে রাখা দ্যাবার থুঁতনি ভাইব্রেট করতে শুরু করে, ঐশ্বরিক আমেজে চোখ বুজে আসে দ্যাবার।


ওদিকে ওভেনের ওপর নন-স্টিক চাটুতে তখন চিড়বিড় করছে গরম হওয়া সর্ষের তেল দু'চামচ। শিল্পী যেভাবে অতর্কিতে ক্যানভাসে আঁচর হানেন, সেভাবেই গেলাসটাকে এক মনোরম এঙ্গেলে রেখে চাটুময় সার্কুলার প্যাটার্নে ডিম গোলা ছড়িয়ে দেবেন দেবী। চাটুতে ডিমে ভাজার ফটফট শব্দে দ্যাবার প্রাণ ফুর্তির স্প্রীংয়ে পড়ে লাফিয়ে উঠবে; কিন্তু হাত দু'টো দেবীর কোমরে জড়ানো বলে হাততালিটা এক্সেকিউট করা যাবে না।

আধ নরম আধ ভাজা অবস্থায় যখন অমলেটের ফিটাসকে অক্ষত রেখে দেবী একদিক উল্টে অমলেট ভাজ করবেন তখন "আরি শালা কী স্কিল" বলে দেবীর কোমর খামচে ধরবেন দ্যাবা। দেবী আগুন চোখে ঘুরে থাকবেন, দ্যাবা লেতকে গিয়ে "হ্যা হ্যা" হেসে দেবীর কাঁধ ঠোঁট পালিশ করবেন; দেবী ওয়াপিস আসবেন ওমলেটে।

ওমলেট তখন লালচে; ভালোবাসা মেদুর যৌবনা। চাটু থেকে থালায় নামিয়ে দেবী সপাটে হুকুম দেবেন "এবারে ফ্যান গেলে গিলতে আস, জলদি"।

মিইয়ে দ্যাবা বলবেন "তুমি মামলেট বানানোর সময় আমি যেমন কোমর জড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম; আমি ভাতগালার সময় একটু থাকো না প্লীজ। বুকে বল পাব"।

দেবীর ডিসমিস করার ভাষা অতি সহজ ; " ন্যাকা ভূত"।

বটু গোয়েন্দার বিজয়া

রিভলভারের নল মাথায় ঠেকলেই মগজ আপনা থেকেই কুলফির মত ঠাণ্ডা হয়ে যায় বটু গোয়েন্দার। আর গোয়েন্দাদের মাথা ঠাণ্ডা রাখাটা তো জরুরি।

বেশ তম্বি করছিলে খুনে বল্টু; "এবার বটু গোয়েন্দার জারিজুরি শেষ, ছ'টা গুলি গুনে গুনে ব্রেনে পুরে দেব" ইত্যাদি ইত্যাদি সিনেমা ঘেঁষা বাতেলা। মিনিট পনেরো মন দিয়ে শুনলেন বটু। তারপর বাঁকা হাসি ভাসিয়ে দিলেন বল্টুর রক্তচক্ষুর দিকে তাকিয়ে।

সে হাসিতে বল্টুর মাথা গেল আরও বমকে।
- ব্যাটা টিকটিকি বটকে, বল্টুর গুহায় দাঁড়িয়ে রেলা? চামড়া ছাড়িয়ে ডুগডুগি বানাব।

- কচু করবি বল্টে। বাতেলায় কি আর চাল গলে রে? 


- কী বলতে চাইছিস বে বটু?


- আমায় খুন করা তোর দমে কুলোবে না।


- দেব ট্রিগার টেনে? পেট মোটা গোয়েন্দা কোথাকার। কম জ্বালাওনি এদ্দিন চাঁদু। এবার খা বুলেট।

কিন্তু বটু বুলেট খাওয়ার আগেই খুনে বল্টু ভির্মি খেয়ে উলটে পড়লে। তার হাত থেকে ছিটকে পড়ল রিভলবার। দুরন্ত রিফ্লেক্সে সে রিভলভার ছোঁ মেরে তুলে নিলে বটু গোয়েন্দা।

কপাল ঘষতে ঘষতে বল্টু যখন উঠে দাঁড়ালে তখন তার কপালের ঠিক মাঝে একটা আলু।
- কেমন দিলাম বল্টে?

- মুখ দিয়ে গুলি ছুঁড়লি বটু?


- গুলি নয়। তবে এ মাল গুলির চেয়ে কমও নয়।


- কী মাল?


- তোর কাছে আসার আগে গেসলাম কিপটে ঘোষের বাড়ি বিজয়া করতে। গত বছরের নারকোল নাড়ু একবছর ফ্রীজে রেখে এ বছর বিজয়ায় সার্ভ করেছিল। লোহায় পিষেও এ জিনিষের হিল্লে হওয়ার নয়। তাই না খেয়ে কয়েক পিস পকেটে চালান করেছিলাম। তোর ডেরায় ঢোকার মুখে টের পেলাম যে পিস্তলটা আনতে ভুলে গেছি। তাই বলে ফেরত যাওয়ার বান্দা তো আমি নই। এই এক পিস নাড়ু মুখে নিয়ে গালের এক পাশে রেখে দিলাম ফর এমার্জেন্সি। কেরামতি দেখলি তো। এক ফুঁয়েতেই চিত্তির। নে, এবার জেলে যাওয়ার আগে কোলাকুলিটা সেরে নে। বেশি সময় নেই, হলধর দারোগাকে কথা দিয়ে এসেছি যে। চল চল।

দ্য কেস অফ সিঁদুর খেলা

- তোর গালে সিঁদুরের দাগ কেন?



- আমি নিজে লাগয়েছি। দেখতে। সিঁদুর খেললে আমায় ঠিক 
কেমন লাগবে। বিয়ের পর খুব খেলব।

- বেশ লাগছে তোকে।

- ন্যাকামি করিস না। রুমাল দে। মুছতে হবে।

- আমার সাদা রুমাল।

- মর গিয়ে যা সাদা রুমাল নিয়ে। যা ভাগ।

- আরে দিচ্ছি। কিচি....।

- কী?

- একটু পরে মুছিস গাল...।

- ওভাবে দেখছিস কেন রে? দেখতে নেই। তুই না ভালো ছেলে?

- কিচি...।

- এই, তোর চোখ ছলছল করছে কেন দীপু? আমার গালে সিঁদুরের দাগ দেখে এত নরম হয়ে গেলি? রোম্যান্টিক দীপুকুমার?

- ঠিক তা নয়।

- তবে?

- ওই। তোর গালে সিঁদুরের দাগ দেখে...।

- দেখে কী? 

-... হালকা গোলাপি কাগজের রিপোর্ট কার্ডে ফিজিক্স নম্বরের নিচের মোটা লাল কালির দাগটা মনে পড়ে গেল। তাই কেমন আনচান কর উঠল ভেতরটা।

- যা ভাগ। যা ভাগ। যা ভাগ। শয়তানের ডিম কোথাকার। ভাগ।