- “তুমি কি
ভয় পেয়েছো মধু?”, বাবার স্পষ্ট কণ্ঠস্বর
Friday, November 2, 2012
দু:স্বপ্ন
করওয়া চৌথ’য়ের কবলে
(ঘটনাটি অথবা দুর্ঘটনাটি ঠিক এক বছর পুরনো)
সকাল সকাল বোমা। ব্রেকফাস্ট নেই। হোয়াট? এনার্কি নাকি? বউ’য়ের কাছে এনকোয়েরী করতেই মালুম হলো কেস : করওয়া চৌথ! আধা-কম্যুনিষ্ট বউ বলে কী! এসব তো উত্তর ভারতীয় ব্যাপার-স্যাপার!তায় উপোস করে থাকার নিয়ম হলো স্ত্রী’দের’; স্বামী’দের আয়ু-বৃদ্ধির অভিপ্রায়ে। এসবের মধ্যে গোদা-বাঙালি পুরুষ-সিংহ আমি ফাঁসলাম কেমন করে? ভাত-ডাল-চচ্চড়ি-ঝোল গিলে অফিসে বেরোনো অভ্যেস; এদিকে এক আনফোরসিন দুর্যোগ এসে হাজির।
বউ বুঝিয়ে বলায় কেস খোলসা হলো। রীতি-রেওয়াজের
মুখে কেরোসিন; এই বঙ্গ-করোয়া চৌথটা হলো নব্য সামাজিক ফ্যাশন-বিশেষ।
বাঙালির দেশি-কসমোপলিটিয়ানা
অর্জনের দিকে আর একটি পদক্ষেপ; বউয়ের বান্ধবী-মহলে
সবাই নাকি ব্যাপারটা জাতি নির্বিশেষে গ্রহণ করেছে। গতবার বউয়ের খপ্পড়ে পরে ধানতেরাসে পকেট-ত্রাস উত্সব
পালন করতে বাধ্য হয়েছিলাম। এবারে করওয়া চৌথ’য়ের পাল্লায় পড়লাম। আমার উপোসের কারণ হচ্ছে স্ত্রী-মুখী সমব্যথা। যেহেতু বউ উপোস যাবে; সেহেতু বর’ও উপোস যাবে; রোম্যান্সের
হিসেব তাই বলে; বউ’এর বান্ধবীদের বরেরা
নাকি স্বেচ্ছায় উপোস যাচ্ছে। লে হালুয়া। কখন সন্ধ্যেবেলা বউ চালুনি দিয়ে চাঁদ দেখবে, তারপর সে খাবে; এবং বলি-নায়কের
মত আমারও Chivalry’র কেতা মেনে তার পরেই জল-স্পর্শ করা উচিত।
আমি আপ্রাণ বোঝাবার চেষ্টা করলাম যে এই উপোস কী ভাবে বাঙালি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে
দিতে পারে; কিন্তু কে শোনে কার কথা। অবশেষে নির্জলা অবস্থায় অফিস-মুখো হলাম
Wednesday, October 31, 2012
যেহেতু
যেহেতু এখন রাত এবং যেহেতু এখন অল্প শীত, এবং যেহেতু আমার
গায়ে নরম কাঁথা, এবং যেহেতু আমার ঘুম আসছে না, এবং যেহেতু এক জাগতে কেমন লাগে, এবং যেহেতু আমার মন
কেমন করে আসছে, এবং যেহেতু বাইরের অন্ধকার ঘরের ভিতর ছড়িয়ে পড়ে
আমায় জাপটে ধরছে, এবং যেহেতু ভয়ের কোনও নিয়ম-কানুন হিসেব-কীতেব
মেনে চলার রীতি নেই; সেহেতু আমি মা’য়ের
কথাই ভাববো।
যেহেতু অফিসে বেদম চাপ এবং যেহেতু বসের মেজাজ নিপাট আগুন, এবং যেহেতু সহকর্মীরা নিশ্চিন্তে খোঁচা মারছে, এবং যেহেতু ভীষণ একা হয়ে পড়েছি, এবং যেহেতু কপালের ঘাম
ঘন ঘন মুছতে হচ্ছে, এবং যেহেতু গলাটা থেকে থেকেই শুকিয়ে আসছে; সেহেতু আমি মা’য়ের কথাই ভাববো।
নয়তো, ফুর্তি-চিন্তায় আরামসে কেটে যায়
দিন-দুপুর, সকাল-সন্ধ্যে-রাত। প্যাভলভ ব্যাটা শুধু গলা বেয়ে উঠে
আসা কান্নার সাথে মা’য়ের হাসি-মুখ জুড়ে রেখে গ্যাছে।
Tuesday, October 30, 2012
মিউট বোতাম
মিউট বোতাম যে কী গভীর, কী উত্তাপ-ময়। কানে শুধু মিঠে শব্দই মধু ঢালে না, নিস্তব্ধতাও হিমসাগরের
মত মখমলে হতে পারে। মিউজিক সিস্টেম, রেডিও, টিভির বেয়াড়া-পনা
কী স্বচ্ছন্দে স্তব্ধ করে দেওয়া যায়; বুড়ো আঙ্গুলের আলতো চাপে
রেডিমেড স্তব্ধতা। এ জিন্দেগিতে মিউট বোতামের যদি আরও
ব্যাপ্তি থাকতো, তবে মাখনে ছুরির মত চলতো লাইফ।
নাগরিক হৃদয়ের কোলেস্টেরল মাখা খাঁজ থেকে উঠে আসা বিবিধ মিউট বোতামের চাহিদাগুলো
সাজিয়ে দেওয়া হলো:
১। স্ত্রীর বালুচরী-মুখী ঘ্যানর-ঘ্যানর মিউট করে দেওয়ার
বোতাম।
২। বস’য়ের অমুক হয়নি-তমুক
হয়নি-কিস্যু হয়নি’র ফিরিস্তি বন্ধ করে দেওয়ার মিউট বোতাম।
৩। গড়িয়াহাটের মোরের বেদম ট্র্যাফিকি হই-হল্লা ঘ্যাচাং করার জন্যে বোতাম।
৪। শাশুড়ির উপদেশের রেশন-দোকান মিউট করে ফেলার মিউট-অস্ত্র।
৫। রবিবার সকল নটা পর্যন্ত কলিং বেল মিউট করার বোতাম।
৬। বাথরুমে আয়েস করে দু-দন্ড নিজের রেওয়াজ সারার সময় বাথরুমের দরজার দুম-দুম ধাক্কাকে
মিউট করে দেওয়া অতি জরুরি।
৭। কোলেস্টেরল বিরোধী , আনন্দ-ধর্ষণকারি
ডাক্তারদের বিজ্ঞ টিপ্পনী মিউট করে দেওয়ার বোতাম।
৮। সর্বোপরি, নিজের
মাথার ভেতর যে আওয়াজটা মাঝে মাঝেই হুমকি দেয় “এত বদ কাজ করিসনে পচা, করিস নে, বাপ-মা’য়ের শিক্ষা কে
অবহেলা করে স্বার্থ সর্বস্ব জানোয়ার বনে যাসনি”, তাকে মিউট করে
কোতল করে দেওয়া; ফুর্তি-ময় জীবনের জন্যে অতি জরুরি।
Thursday, October 11, 2012
পুজোর ছক
পুজো ইজ হিয়ার।
মেদু-বৌদি হিল স্টেশন ও বালুচরীর প্ল্যানে মশগুল।
মেদু-পুত্র বিল্টা লজিষ্টিকাল ছক কষছে রকমারি রকমারি
রেস্তের রেষ্টুরেন্ট গমনের।
মেদু-কন্যা গোপন দশমী ডেট ও মিনিতর মিনি-স্কার্টের
প্রতি নিবেদিত প্রাণ।
তামাম বুদ্ধি একজোট হয়ে পুজো ব্লু-প্রিন্ট
কনক্রিট:
চতুর্থী শপিং।
পঞ্চমী তো অষ্টমি দার্জিলিং এন্ড ব্যাক টু
ক্যালক্যাটা।
অষ্টমী ডিনার টু দশমী লাঞ্চ তক আরসালান-মোকাম্বো-ট্যাঙ্গরা
থেকে পিটার ক্যাট।
দশমী রাত্রে কন্যার অভিসার।
গিন্নী ঝকমক। পুত্র-কন্যা ডগমগ। ম্যাডক্স স্কোয়ারে গ্রুপ ফটো; মেদুদা এন্ড ফ্যামিলি- সহাস্য, ইস্টম্যান কালার মাখা পুজো মস্তি।
শুধু মেদুদার প্ল্যানটুকু আর খোলসা করা হলো না কারুর
কাছে। মেদুদার ভারী ইচ্ছে ছিলো ভদ্রেশ্বরে পৈত্রিক ভিটেতে গিয়ে গোটা পুজোটা গ্যাট
হয়ে বসে থাকা।
বাবার স্মৃতি, মায়ের নরম আঙ্গুলে চুলে বিলি কেটে যাওয়া, মায়ের হাতের ঝিঙ্গে পোস্ত, লাউ
চিংড়ি।
ছেলেবেলার পুজোর গন্ধ।পাড়ার আদুরে মণ্ডপ, চেনা
মুখ চারিদিকে; তুমি-তুই-আপনিতে জমজমাট।
মণ্ডপ চত্তরে স্টেজ বেঁধে নাটক, খিচুড়ি
ভোগ, অঞ্জলি, সন্ধি-পুজো, প্ংক্তি ভোজন, ধুনুচি নাচ, আড্ডা, বারোয়ারী বেগার খাটা, ভোগ পরিবেশন, সিদ্ধি, হাড়ি ভাঙ্গা প্রতিযোগিতা, বিসর্জনের
নাচ: শৈশব, কৈশোর এবং ফেলে আসা সহজ সরল
ভালোবাসাগুলো।
প্রতি বছরের বুক মুচড়ে ওঠা পুজোর প্ল্যান মেদুদার, কোনও বারই খোলতাই করে ছেলে-মেয়ে-বউ কে বলে ওঠা হয় না। বাকি সবার কত রকমারি প্ল্যান। কত প্রস্তুতি।
প্রতি বছর পুজোর ফ্যামিলি-ফটোতে; নিজের
শহীদ-শারদ-ইচ্ছেগুলোকে ছয় সেন্টিমিটারের ক্যামেরা-অনুগত হাসিতে ঢেকে, বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মেদুদা।
বয়েস “মা আমি
তোমার কাছে যাবো” বলার অধিকার, বহু আগেই লোপাট করে দিয়েছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)

