Tuesday, July 16, 2024

তমুকবাবুর সুপারপাওয়ার



শত হুড়মুড়ের মধ্যেও, অফিস বেরোনোর আগে ঘুমন্ত খোকার গালে একটা অতিনরম চুমু খাওয়াটা তমুকবাবুর অভ্যেস৷ খোকা তখন ঘুমিয়ে কাদা, কিন্তু বেশিরভাগ দিনই তার ঠোঁটে একদানা হাসির আভাস ফুটেই মিলিয়ে যায়৷

খোকার ক্ষণিকের সেই হাসি শুধু তমুকবাবুর চোখেই ধরা পড়ে; সে'টাই ভদ্রলোকের সুপারপাওয়ার।

ডেক্সটার



- মিঠু!

- নবাদা তুমি...! তুমি? তুমি তুমি তুমি! এ'খানে...?

- বিব্রত করলাম না তো রে?

- ধুর। তা কেন!

- আসলে এই ভরদুপুরে রাস্তার মাঝখানে ঝুপ করে উদয় হলাম কিনা!

- বেশ করেছ। আমার বুকের ভিতরটা যে কী ধড়ফড়িয়ে উঠলো।

- শোন না। তোর সঙ্গে কিছু কথা ছিল...।

- আমার বাড়ি এসো না। এ'খান থেকে হেঁটে বড় জোর মিনিট দশেক। পথে মেয়ের স্কুল পড়বে। ওকে তুলে নিয়ে চলে যাবো। যাবে আমার বাড়ি নবাদা? অবশ্য না বললে শুনছেই বা কে!

- পুরনো প্রেমিককে নিজের সংসারে ঢোকাবি? ওই সব গৃহদাহ টাইপ ক্যালামিটি না শুরু হয়ে যায়৷

- কী'সব যে তুমি যাতা বলো। ও তো সবই জানে। লুকোচুরির কিছুই নেই। তুমি এসো না। আর আজ ডিনার করে যেও। ও অফিস সেরে ফিরলে ভালো গল্প জমবে...। না খাইয়ে ছাড়বই না, বাব্বা! প্রায় বছর সাতেক পর দেখা!

- তুই এখনও সেই পাগলাটে রয়ে গেলি মিঠু।

- সে জন্যেই তুমি পালিয়ে বেঁচেছিলে, তাই না নবাদা?

- মিঠু! একটা খুব জরুরী কথা বলতে তোর কাছে ছুটে এসেছি। এদ্দিন পর এ'ভাবে কেন এলাম কে জানে। তবে আজ মনে হলো কথাটা তোর জানা দরকার!

- বেশ তো, বাড়ি গিয়ে না হয়...।

- আমার হাতে অত সময় নেই যে মিঠু। আর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আমায় শহর ছাড়তে হবে।

- ও মা। সে কী কথা। আর নবাদা, তুমি এমন ফিসফিসিয়ে কথা বলছ কেন?

- ব্যাপারটা একটু জটিল৷ এই নিরিবিলি গলিটায় তোকে কেন ধরলাম জানিস? কারণ কোনো কফিশপও আমার জন্য ঠিক নিরাপদ নয়।

- তুমি কেমন ভাবে কী'সব বলছ আমি কিছুই বুঝতে পারছি না নবাদা! আমার কেমন গা ছমছম করছ। তোমার কি কিছু হয়েছে?

- কিছুই হয়নি। বরং বলতে পারিস, নিজের কেরিয়ারে অনেকটা এগিয়ে এসেছি। আর আজকের দিনটা বড্ড স্পেশ্যাল। একটু মনকেমনেরও। দেশটা ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। তবে ডিউটি অবহেলা করলে চলবে কেন।

- কী যে বলছ! তুমি তো কোন একটা সফটয়্যার কোম্পানিতে চাকরী করতে।

- এই দ্যাখ। সেই আইটি কোম্পানির আইকার্ড এখনও গলায় ঝোলানো থাকে। তবে এ'টা দেখনাই।

- আমি বোকাসোকা মানুষ৷ আমার মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে। তুমি এ'ভাবে হঠাৎ আমার সঙ্গে দেখা করতে এলে কেন নবাদা! কী চাও তুমি!

- শুধু স্বীকার করতে এসেছি মিঠু।

- কী?

- আমি তোকে ঠকাইনি। বড় চাকরী পেয়ে মফস্বলের মেয়েকে প্রেমে ফাঁকি দিইনি। আমি শুধু নিরুপায় হয়ে...।

- ঠকাওনি? দুম করে ভ্যানিশ হয়ে গেলে। ফোন করলে ফোন ধরতে না। এতগুলো চিঠি, ইমেল কিছুরই জবাব দাওনি। এ'তেও বলবে ঠকাওনি?

- আমার হাতে সময় বড্ড কম। এ'খান থেকে খানিকটা দূরেই একটা হেলিপকপ্টার আমার জন্য ওয়েট করছে। সে'টা চড়ে একটা গোপন আস্তানা। সে'খান থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে...তা সে বাদ দে। মিঠু, আমার সফওয়্যারের চাকরীটা সাজানো ব্যাপার। বলতে পারিস, আমার ছদ্মবেশের একটা প্রপ। কলেজের সেকেন্ড ইয়ার থেকেই আমি স্পাই হিসেবে...।

- তুমি কী ? কী সব আবোলতাবোল বকে চলেছ নবাদা! পথ ছাড়ো, মেয়ের স্কুল ছুটি হওয়ার সময় হয়ে গেল, আমি এগোব।

- মিঠু প্লীজ। পাঁচটা মিনিট ঠাণ্ডা মাথায় আমার কথা শোন। আমি একজন স্পাই। সেই সেকেন্ড ইয়ার থেকেই। তবে মানুষটা খারাপ নই; আমাদের এজেন্সি দেশের হয়ে লড়ছে।

- এ'সব পাগলের প্রলাপ গায়ে পড়ে কেন শোনাতে এলে তুমিই জানো নবাদা! তুমি কলেজের সেকেন্ড ইয়ার থেকে স্পাইয়ের কাজ করছ এ'টা জানাতে এলে? এতবছর পর? আমাদের আলাপ আর প্রেম তো তোমার থার্ড ইয়ারে নবাদা। তখন আমি সবে কলেজে ঢুকেছি। এ'সব স্পাই-ছাই ব্যাপারস্যাপার থাকতে আমার সঙ্গে ঘুরঘুর করেছিলে কেন? এ'টা ঠকানো নয়? আমি সরল, বোকা, তাই আমায় বেছে নিলে? আমি তো ঠকিয়ে প্রেম করতে চাইনি?

- সে অপরাধ স্বীকার করতেই ছুটে এসেছি মিঠু। তোর কাছে আমি সত্যিই অপরাধী রে। আসলে, খুব দরকার ছিল আর পাঁচটা ছেলেমেয়ের মত সাধারণভাবে থাকা। কলেজ, টিউশনি, প্রেম; ও'গুলো সমস্তই ছদ্মবেশের অংশ। কিন্তু একটা সময়ের পর সম্পর্কে ইতি টানা ছাড়া আর আমার কাছে কোনো উপায় ছিল না! বিশ্বাস কর!

- ছিঃ! নবাদা, ছিঃ!

- যাস না মিঠু। শোন!

- হাত ছাড়ো নবাদা। এ'টা রাস্তা।

- কেউ নেই এই গলিতে। মিঠু, আর দু'মিনিট আমার কথা শোন। তোর পায়ে পড়ি। শোন। হয়ত শুরুর দিকে প্রেমটা ছদ্মবেশের অংশ ছিল। কিন্তু তোর থেকে দূরে সরে গিয়ে আমি টের পেয়েছিলাম মিঠু যে তোকে আমি সত্যিই ভালোবেসেছি। আজ আমার এই উদ্ভ্রান্তের মত তোর সঙ্গে এ'ভাবে দেখা করতে আসার কোনো মানে হয় না। প্রোটকলের মধ্যেও পড়ে না এ'ভাবে নিজের পরিচয় ফলাও করে জানানো। কিন্তু বিশ্বাস কর, দেশ ছাড়ার আগে তোকে কথাগুলো না বললে আমার দমবন্ধ হয়ে আসত।

- কী বলতে এসেছো? ঠকাতে চেয়েছিল কিন্তু তবুও একটু স্নেহ তৈরি হয়ে গেছিল? এ'টা বলতে এসেছো? বেশ। জেনে ধন্য হলাম। এ'বার এসো।

- জানিস মিঠু, প্রাণ হাতে করে ঘুরে বেরিয়েছি কতগুলো বছর। তুই আমার পাশে থাকলে তোর ক্ষতিই হত, বিশ্বাস কর্। এই যে এখন একটা সাজানো সংসার সামলাচ্ছিস, সে'টা পেতিস না। একটানা লাইফ রিস্কের মধ্যে দিয়ে...।

- কী এমন কাজ তোমার নবাদা? তুমি খালি লাইফ রিস্কের কথা কেন বলছ?

- গত বছর সাতেক ধরে আমি আর আমার টীম একটা গ্যাংকে ডিসম্যান্টেল করে গেছি। ওরা ডেটা মাফিয়া, ওদের রোখা না গেলে দেশের ইকনমি শেষ হয়ে যেত। আমাদের দলের অনেকগুলো ছেলের প্রাণ অকালে গেছে বটে তবে ওদের দলটাকে মোটামুটি সমূলে বিনাশ করা ফেলেছি, অলমোস্ট৷ বড্ড ডেঞ্জারাস ওরা, শুধু আমাদের দেশের জন্য নয়, গোটা পৃথিবীর জন্য। ওদের রিংমাস্টারের নাম ডেক্সটার। সে'টা যে কেউ হতে পারে। কলকাতার কোনও ট্যাক্সি চালক অথবা ইথিওপিয়ার কোনো চাষি বা অস্ট্রেলিয়ার কোনো বিয়ারের হোলসেল ব্যাবসা সামলানো বৃদ্ধ। এমন কি ডেস্কটার আদতে কোনো সফটওয়্যার প্রোগ্রাম না অনেকজনের একটা দল হলেও আশ্চর্য হব না। তবে ওদের অন্যান্য মেম্বাররা বেশিরভাগই মারা গেছে। আমার ওপরও যে কতবার অ্যাটাক হয়েছে মিঠু...।

- ও মা নবাদা! তুমি আমার বাড়িতে চলো। প্লীজ। কী'সব বলে যাচ্ছ তখন থেকে...তুমি সুস্থ নও।

- উপায় নেই রে। আমি শুধু একটা কথাই বলতে এসেছিলাম, পারলে আমায় ক্ষমা করিস। গত দু'হপ্তা ধরে তোর আশাপাশে ঘুরঘুর করেছি, যদি একটু আলাদা করে পাওয়া যায়। এদ্দিনে, যাওয়ার মুখে সুযোগ পেলাম। তোর বরকেও দেখেছি। ভারি হ্যান্ডসাম, দিলদরিয়া ভালো মানুষ। আর তোর মেয়েটা কী মিষ্টি। কী নাম যেন ওর?

- পিঙ্কি।

- বাহ্‌। তোরা ভালো থাকিস। আমি ইউরোপ চললাম।

- ইউরোপ?

- ডেক্সটার ব্যাটাচ্ছেলে এখন কোণোঠাসা হয়ে পড়েছে, একটা টিপ পেয়েছি ওর কারেন্ট লোকেশনের ব্যাপারে৷ তাই আর কী। এ'দেশে ওর দলের সবাইকেই প্রায় জবাই করেছি। তবু ওদের এজেন্টরা তো এ'দিক ও'দিক ছড়িয়ে আছেই। আর আমি ওদের টার্গেটে রয়েছি কারণ আমার শরীরের মধ্যেই ওদের দলের ব্যাপারে বহু জরুরী ডেটা সমেত কিছু চিপ লোকানো আছে; ডেক্সটার সাফ হলে এই চিপ গুলো দিয়েই ওদের...। বাদ দে এ'সব ছেঁদো কথা। মোদ্দা কথা হলো, আমি ওদের কারুর হাতে পড়লে কুকুরের মত খুন হব৷

- আমি তোমায় কিছুতেই একা ছাড়ব না নবাদা। কিছুতেই না৷

- তোকে অনেক গড়গড়িয়ে কিছু বলে গেলাম। কেন জানিস মিঠু? এই স্পাই হয়ে সব কথা চেপেচুপে রাখতে হয়। আমাদের বন্ধু নেই, পরিবার নেই। আর আমার তো বাপ-মাও সত্যিই নেই। হঠাৎ মনে হলো গোটা দুনিয়ায় একজন আছে অন্তত যে আমার গোপন কথাগুলো বুকে আঁকড়ে রাখবে। মাই সিক্রেটস আর সেফ উইথ ইউ মিঠু। অনলি ইউ। তাই ছুটে এলাম৷ কেউ তো জানুক আমার পরিচয়৷ তাই এত বাড়তি কথা বলা।

- আমার হাত ছেড়ো না এখনই নবাদা। আর একটু দাঁড়াও। আর একটু৷ প্লীজ।

- আমি তোকে ভালোবেসেছিলাম কিন্তু।

- আমিও।

- ধুর পাগলি। এই শোন, তোর মেয়ের স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। এ'বার আয়। আমাকেও কেটে পড়তে হবে। কখন কে দেখে ফেলবে। ওই যে বললাম। লাইফ রিস্ক।

- নবাদা! ভালো থেকো, কেমন?

- থাকবই তো। তুইও ভালোভাবে থাকিস।

- নবাদা।

- মি...মিঠু!!

নবা মিত্তিরের মাথাটা ফাঁকা হয়ে এলো। শুকিয়ে এলো গলা। পায়ের নীচের মাটি দপদপ করে কাঁপতে শুরু করলা। নবার অবিন্যস্ত চুল বেয়ে নামা ঘামের বিন্দু এসে মিশল কপালে ঠেকানো পিস্তলের হিমশীতল নলে।

ট্রিগারে রাখা মিঠুর আঙুলে সামান্য কাঁপুনিও নেই তখন।

"ভালো আমিও বেসে ফেলেছিলাম নবাদা। তোমারই মত, কিছুদিন পরে। তবে ছদ্মবেশের দরকার আমারও ছিল। ইউ আর আ গুড স্পাই, এ'টা স্বীকার করতেই হবে৷ তোমায় এতদিন সন্দেহ করেও কোনো অকাট্য প্রমাণ পাইনি৷ কিন্তু আমি যে তোমার চেয়ে একটু হলেও এগিয়ে। কেন জানো? তোমার ওই পুরুষের মন এত বছরেও মানতে চাইল না যে ডেক্সটার একজন খুনে পুরুষ বা মারাত্মক কোনো সফটওয়্যার না হয়ে গেরস্ত সামলানো, বর-মেয়ে ফাইফরমাশ খাটা একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত বাঙালি বউও হতে পারে। এত বড়মাপের তোমাদের অপারেশন; আমাদের দলটাকে তো তছনছ করেই দিলে। শুধু ডেক্সটারকে চিনতে পারলে না এতদিনেও। আর আজ, এ'ভাবে এসে ধরা দিলে। সন্দেহ নিরসন করেকনফেশনও দিলে। মিঠু নরম৷ মিঠু পাগলি৷ সবচেয়ে বড় কথা, মিঠু একজন সংসার ঠেলা মেয়ে। এই ছদ্মবেশ তোমার পুরুষচক্ষু দিয়ে ভেদ করা অসম্ভবই বটে৷ সরি নবাদা। ট্রিগার টানলেও, তোমায় দেখলেই যে বুকের মধ্যে ধড়ফড়; সে'টা কিন্তু মিথ্যে নয়। সত্যিই ভালোবেসেছি। তবে এখন এসো। আমার মেয়ে নিশ্চয়ই স্কুলের গেটের বাইরে অপেক্ষা করছে। এ'বার আমায় ছুটতে হবে"।

বাপের ব্লেড

যৌবনের উচ্ছ্বাসে এক সময় মনে হত, দাড়ি কামানোর ব্লেডের ব্যাপারে মেজাজটা চরম শৌখিন পর্যায়ে রাখা উচিৎ। চরম ধারালো ব্লেড, এক তাল মাখনের মত গাল বেয়ে ওঠা নামা করবে। দাড়ি কাটার পর গালে হাত বোলালে নিজের খসখসে আঙুলের ডগার প্রতি মৃদু তিরস্কার বেরিয়ে আসবে আপনা থেকেই। আজকের তাজা ব্লেড, কাল হবে ব্রাত্য; তবেই না ঘ্যাম। সেই রঙিন বয়সে দাঁড়িয়ে বাবার পুরনো ব্লেড আঁকড়ে থাকার স্বভাবটাকে কী বিরক্তি নিয়েই না দেখতাম৷

অথচ নিজে মাঝবয়সে এসে দেখলাম নিজের চরিত্রে জমে থাকা যত কিপটেমো আর গড়িমসি- সব এসে জমা হয়েছে নতুন ব্লেড ব্যবহারে৷ কতবার গালে রেজার ছুঁইয়ে মনে হয়ে, "এহ্, ব্লেডটা এ'বারের পরেই রিজেক্ট করতে হবে"। অথচ পরের দিন নতুন ব্লেডের প্যাকেট হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে সরিয়ে রাখা; "এই তো সে'দিনই ব্লেডটা নামালাম, আর একদিন চলুন না হয়"৷ এইভাবে আরও দিন কতক সেই পুরনো ব্লেডে মাটি কোপানো৷ ঘর্ঘর, ঘসঘস।

কিন্তু৷

সমস্ত গড়িমসি পেরিয়ে যেতিন নতুন ব্লেডখানা প্যাকেট ঝেড়ে ফেলে সত্যিই রেজারে এসে বসবে; সে'দিনের দাড়ি কামানকোর যে সুপার-মসৃণ নবাবী, আহা। নতুন ব্লেডে দাড়ি কামানোর দিনটা রেজার হাতে একটু বাড়তি সময় কাটে আয়নার সামনে৷ বার বার মনে হয়, "মধ্যবিত্তের বেতনটার এমন মখমলে ব্যবহার আর দু'টি নেই"। অন্যান্য দিনে দাড়ি কামানোর পর ওই আফটার শেভ লোশন লাগানোর কথা তেমন মনে পড়ে না৷ নতুন ব্লেডে দাড়ি কামানোর শুভদিনে তাকের কোণ থেকে ওল্ড স্পাইসের শিশিটা শিস দিয়ে ডাকে "এইয্যে, এ'দিকে দ্যাখো একবার ভাইটি"।

নতুন ব্লেড নামানোর দিনটায় মনের মধ্যে বেশ একটা ফুরফুর থাকে৷ আর থাকে epiphany; এইভাবেই খোকা থেকে বাবা হয়ে বাবা-er হতে হতে বাবা-est হয়ে যাওয়ার রুটখানাকে ফাঁকি দেওয়ার উপায় নেই।

আপদবাজি ভূতের গল্প



আপদবাজি ভূতের নাম শুনেছ তোমরা? নির্ঘাত শোনোনি। কিন্তু মনে রেখো, তোমরা শোনোনি বলেই যে সে জিনিস সত্যি নয়, এমন হামবড়াই মনের মধ্যে পুষে না রাখাই ভালো। যখনই তেমন অহংকার মনের মধ্যে উঁকি দেবে, একটা মন্ত্র বত্রিশবার জপ করবে, তা'তেই সেই হামবড়া ভাব কেটে যাবে: "পৃথিবীটা বিপুলা, আমি জানি কাঁচকলা"। তুমি ফের বলবে "এ'টা কোনও মন্ত্র হলো? তা'ছাড়া ছন্দেও ভুল রয়েছে"। আমি বলব "পৃথিবীটা বিপুলা, তুমি জানো কাঁচকলা"।

যা হোক। আপদবাজি ভূতের কথা হচ্ছিল। আপদবাজি ভূতদের বাস গুড়বালি ডোবার ধারের বোঁদেপচা জঙ্গলে। গুড়বালি ডোবা আর বোঁদেপচা জঙ্গলের নাম শোনোনি? কী আর বলবো বলো। ইশকুলের বই আর কাঠ-কাঠ অ্যাটলাসের মধ্যে আটকে থেকে এই দশা হয়েছে আর কী। তা, বোঁদেপচা মানুষের কাছে জঙ্গল হতে পারে, ভূতের চোখ দিয়ে সে জঙ্গল যদি দেখতে পারতে তবে বুঝতে সে জঙ্গল আদতে সাজানো-গোছানো ছিমছাম একটা টাউনশিপ। বসতবাড়ি, ক্লাবঘর, বাজারঘাট, স্কুল; সবই রয়েছে। ওই যে বললাম, ভূতের চোখ থাকলে বুঝতে বোঁদেপচার কী রোয়াব।

তা এই আপদবাজিরা বড় মামুলি ভূত নয়; ভূতের জগতে তাদের স্থান প্রায় গন্ধর্ব-কিন্নরদের মত। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ মরে আপদবাজি ভূত তৈরি হয় না। কী, কেমন দিলাম! চমকে গেলে তো? যাও, গিয়ে এক গেলাস জল খেয়ে এসো। তোমাদের তো সেই বস্তাপচা সব ধারণা; ভূত তৈরি হবে মানুষ মরে। আর ধুর ধুর, মানুষ-ভরা ভূতেরা অতি নিকৃষ্ট, মানুষের মতই। বড় ছিঁচকে তাদের চিন্তাভাবনা, নিতান্তই পাতি তাদের কাজকারবার।

আপদবাজিদের ব্যাপারই আলাদা। মানুষ নয়, মানুষের বিপদ মরে গিয়ে আপদবাজি ভূতের তৈরি। যে সে মোটাদাগের বিপদ হলে চলবে না, একদম হাইক্লাস বিপদের মেঘ যখন কেটে যায়, তখন বোঁদেপচা আলো করে নতুন কোনও সদস্য ঢুকে পড়ে। এই যেমন ধরুন, ঘুপচি নামের আপদবাজি মেয়েটা জন্মেছিল অমল সাহার ঘুম ভাঙার পর। তোমাদের নিয়ে এই এক সমস্যা, সোজা কথা সোজাসাপটাভাবে শুনলেও হাজারটা প্রশ্ন তোমার মনে ঘুরপাক খায়। ঘুম আবার কী ধরণের বিপদ আর ঘুম-ভাঙাটাই বা বিপদের কেটে যাওয়া কী করে। আরে বাবা, অমলবাবু যে মেল ট্রেনের ড্রাইভার। টিকিয়াপাড়ার পর দিব্যি ট্রেনের ড্রাইভারের কেবিনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন, ঘুম ভাঙল বর্ধমান ঢোকার দু'টো স্টেশন আগে। আর দু'মিনিট এ'দিক ও'দিক হলেই একটা বিশ্রী কিছু হয়ে যেত। কিন্তু হলো না। তার বদলে আমরা পেলাম ঘুপচিকে। আর পাঁচটা আপদবাজির মতই ঘুপচির দিন কাটে কবিতা আউড়ে। ওহ হো। তোমাদের বলা হয়নি, আপদবাজিদের ওই এক গুণ, কথায় কথায় ছড়া কাটা। সমস্যা হলো, মানুষের কান দিয়ে শুনলে ছড়াগুলো শুনলে তোমার গা গুলিয়ে উঠতে পারে। কী আর করবে বলো, চাইলেই তো আর মানুষের কান ফেলে দিয়ে ভূতের কান লাগিয়ে নেওয়া যায় না। এই যেমন আজ মনের সুখে ছড়া আউড়াতে আউড়াতে ঘুপচি এ'গাছ থেকে ও'গাছ নেচে বেড়াচ্ছিল।

"যত ব্যাটা আছিস যে'খানে সব মর্‌,
হোক নিউমোনিয়া, হোক ডিসেন্ট্রি, হোক জ্বর
যত ব্যাটা আছিস যে'খানে সব মর্‌,
হোক অম্বল, হোক মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়
যত ব্যাটা আছিস যে'খানে সব মর্‌"।

তোমরা শুনেই ভাবলে কী বিশ্রী ছড়া এ'টা। ঠ্যাং নেই, মাথা নেই, ছাঁদ নেই, ছিরি নেই, ছন্দে লবডঙ্কা। ঘুপচির তা'তে বয়ে গেছে। হোঁচটবাবুর খুব ভালো লাগে ঘুপচির ছড়া কাটা। নিজের ঝোপের এক কোণে হেলান দিয়ে বসে তিনি মুগ্ধ হয়ে শোনেন ছোট্ট ঘুপচির ছড়া। মাঝেমধ্যেই বলে ওঠেন,

"আহা আমার ঘুপচি মামনির মনটা বড্ড নরম,
বোঁদেপচায় চির-পৌষ আর মানুষ-পাড়ায় বোশেখ গরম।
আহা আমার ঘুপচি মামনির মনটা বড্ড নরম"।

হোঁচটবাবুর বয়সের গাছ পাথর নেই। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে কোনও জমিদার গিন্নীর ওপর গোঁসা করে মিছরির সরবতসহ গেলাস ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন, জানতেও পারেননি সেই গেলাসে দুষ্ট নায়েব বিষ মিশিয়ে রেখেছিলেন। সে গেলাস ছুঁড়ে ফেলা মাত্র হোঁচটবাবু এই বোঁদেপচায় উদয় হন। বড়ই সাদামাটা ভূত হোঁচটবাবু। অবশ্য আপদবাজি মাত্রই সাদামাটা। এখানে গোলমেলে ভূত বলতে একজনই; বাবু বুকভার। বাবু বুকভারের আস্তানা হোঁচটবাবুর ঝোপের পাশেই। দুপুর-নাগাদ, যখন গোটা বোঁদেপচা ঝিমিয়ে পড়ে, বাবু বুকভার এসে হোঁচটবাবুর পাশে বসে। সবিশেষ গপ্প হয়না। বাবু বুকভার মোটেও গপ্পের মানুষই নয়। তবে বদ নন, তাই হোঁচটবাবু অপছন্দ করেন না তাঁকে। তবে গোলমেলে একটাই কারণে, ঠিক কী'রকম বিপদ কেটে যাওয়ার তিনি এ পাড়ায় এসেছেন, তা কেউ জানে না। একসময় হোঁচটবাবু খবর বের করার অনেক চেষ্টা করেছেন, এখন হাল ছেড়ে দিয়েছেন। গোটা বোঁদেপচায় বাবু বুকভারের সঙ্গে সখ্যতা শুধু ওই হোঁচটবাবুরই ।

দুপুরবেলাটা বিড়বিড় করে কতরকমের গল্প করে যান হোঁচটবাবু, বাবু বুকভার শুধু তার হিলহিলে স্প্রিংয়ের মত লম্বাটে গলার মাথায় বেঢপ সাইজের ডিমের মত মাথাটা নেড়ে সঙ্গত দিয়েই খালাস। বুকভারকে সবাই বোবা আপদবাজি বলেই ধরে নিত। যদি না সে মাঝেমধ্যে বিড়বিড়িয়ে বলে উঠত;
"ভোট দিন ভোট দিন,
ভোট দিন ভোট দিন"।

এই হাবিজাবি কথাগুলোর মানে ঠাহর করতে পারতেন না হোঁচটবাবু।
**
গল্পের পেটে গল্প লুকিয়ে থাকে, সে'টা শুনেছ তো? নাকি সে'টাও আমাকেই বলে দিতে হবে। আচ্ছা জ্বালা তো। যা হোক। শোনো।

খানিকক্ষণের জন্য বোঁদেপচা থেকে বেরিয়ে এসো। পিছিয়ে যাও কিছু বছর। চলে যাও মানুষের মধ্যে। কান পাতো, সাবধানে।
শুনতে পাবে একটা বুক ঠাণ্ডা করে দেওয়া কণ্ঠস্বর।
"একটা ভোটও যদি ও'পাশে যায়, জানবি, তোদের গাঁয়ের একটা বাড়িও আস্ত থাকবে না"।

ভোটের বেহাত হওয়া তবুও আটকানো যায়নি। কোনো এক ছোট্ট অদরকারী গ্রাম জ্বলে ছাই হয়ে গেছিল কোনো এক রাত্রে। চারদিকে লাশ, হাহাকার, আগুন, রক্ত, চিৎকার। সমস্ত বিপদ কি নির্বিবাদে কাটে? কিছু বিপদ কাটাতে বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হয়, পুড়ে যেতে হয়। একটা গ্রামভর্তি মানুষ এককাট্টা হয়ে আশপাশের কুড়ি-বাইশটা গ্রামকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন দস্যুদের কবল থেকে, ঘুচিয়ে দিয়েছিলেন আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের বিপদ; স্রেফ ভোট দিয়ে।

বাবু বুকভার যে'দিন বোঁদেপচায় উদয় হয়েছিলেন, তার কানে তখন বিশ্রী চিৎকার; "ভোট দিন ভোট দিন, ভোট দিন ভোট দিন"।

ঘুড়ি আর নাড়ু



সন্ধেনাগাদ, সরোজদার অঙ্ক কোচিং সেরে বাড়ি ফেরার সময় একটা নীল-সাদা ঘুড়ি কুড়িয়ে পেলো নাড়ু৷ স্কুলবাড়ির দক্ষিণ দিকের পাঁচিল লাগোয়া একটা জামরুল গাছের নীচে পড়েছিল।

ক্লাস এইটে পড়া নাড়ু ঘুড়ি ওড়াতে পারে না, সে বিষয়ে কোনও আগ্রহও নেই৷ ঘুড়িকে রীতিমতো অদরকারী বলে মনে করে সে৷ লাটাই, মাঞ্জা ইত্যাদি ব্যাপার তার ধাতে সয় না৷ এ'সবের চেয়ে ক্যাম্বিসবল, ভিডিওগেম, বা কমিক্সের ব্যাপারে তার আগ্রহ অনেক বেশি৷ কিন্তু তবু আজ কী মনে করে যেন ঘুড়িটা তুলে সে'টার ল্যাজের সুতো দিয়ে সাইকেলের কেরিয়ারে বেঁধে নিলো৷

তারপর ধীরেসুস্থে প্যাডেল করতে করতে এগোল মদনদার চপের দোকানের দিকে৷ বাবা অফিসের কাজে বাইরে কোথাও একটা গেছে, আজ সন্ধ্যেয় বাড়ি ফিরতে দু'দশ মিনিট দেরী হলে ক্ষতি নেই৷
**

- এ'টা কী হচ্ছে?

- ইয়ে..।

- তুমি চোর?

- না ভাই। মাইরি বলছি৷ আমি চোর না।

- চোর নয় তো রাত দু'টোর সময় আমার ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র হাতড়াচ্ছ কেন? খবরদার, আমায় মার্ডার করার চেষ্টা করবে না৷ আমার বালিশের নীচে পিস্তল রাখা আছস৷ এ'দিক ও'দিক করলেই ঢিঁশকাউ!

- ছি ছি৷ ভাই। ও কী কথা! মার্ডার? ও'সব কথা মুখে এনো না প্লীজ। বুকের মধ্যে কেমন ধড়ফড়িয়ে ওঠে।

- মাকে ডাকব? মা জানলে তোমার কপালে যা উত্তমমধ্যম পড়বে না..।

- প্লীজ। প্লীজ ভাইটি।

- ভাইটি আবার কী? আমার নাম নাড়ু৷

- নাড়ু?

- পছন্দ হলো না বুঝি? চার্লস নাম হলে চুরি করে আনন্দ পেতে?

- এই নাড়ু। অনেক হয়েছে। আর একবার আমায় চোর বললে কিন্তু..।

- ডাকব মাকে? মেজপিসিকে? মেজপিসি হালিশহর থেকে ঘুরতে এসেছে। পিসে আবার থানায় কী'সব সাপ্লাই দেয়, দারোগা-কন্সটেবলদের সঙ্গে মারাত্মক দহরমমহরম।

- উফ৷ কী ছেলের পাল্লায় যে পড়লাম৷ শোনো নাড়ু, আমার নাম বল্টু৷ আর আমি চোর নই?

- বল্টু? ও'টা কোনো নাম হলো?

- নাড়ুর থেকে ঢেরগুন ভালো।

- কী চাই? সত্যি করে বলো..। নয়তো মেজপিসের কাছে খবর গেলে।

- আমি একটা দরকারে এসেছি।

- আমার ঘরে তোমার কী দরকার?

- নাড়ু৷ এই ঘুড়িটা তুলে আনার জন্য থ্যাঙ্কিউ।

- ওই ঘুড়িটা তোমার?

- হ্যাঁ।

- এ'টা ফেরত নেওয়ার জন্য তুমি রাত্রিবেলা চোরের মত এই বাড়িতে ঢুকেছ?

- ঠিক ঢুকিনি৷ বেরিয়ে এসেছি বলতে পারো।

- যাচ্চলে। এর মানে কী!

- আমি এই ঘুড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছি৷

- মেজপিসেকে ডাকব? আর আমাদের পাশের বাড়ি হুলোদা নিয়মিত জিম করে।

- নাড়ু৷ আমার কথা একটু মন দিয়ে শুনবে?

- বলো।

- আমি এই ঘুড়িতে সেঁধিয়ে নেমে এসেছি। এই ঘরটা কদ্দিন দেখিনা৷ ক'দিন ধরেই মনটা কেমন করছিল। তাই তক্কে তক্কে ছিলাম। তবে আমাদের ডাইরেক্ট নেমে আসা ব্যাপারটা তোমাদের গপ্প-সিনেমায় হয়৷ আমরা মাটির কাছে ডাইরেক্ট নামতে পারিনা৷ তাই ঘুড়ি জিনিসটা আমাদের জন্য বড় দরকারি।

- যাতা বলে যাচ্ছ বল্টুদা। আরে আমি পুলিশে খবর দেব না৷ মাকেও ডাকব না৷ আর বালিশের তলায় চ্যুইংগামের প্যাকেট আছে৷ রিল্যাক্স করো। তুমি কি কলেজে পড়ো?

- তুমি আমায় দাদা বললে, বুক জুড়িয়ে গেলো। তোমরা এই বাড়িতে কদ্দিন আছ?

- গতবছর বাবা এই বাড়িটা কিনেছে৷

- হুঁ। তোমার এই ঘরটা, এ'টা একসময় আমার ছিল।

- এই বাড়িটা আগে তোমাদের ছিল?

- আমার বাবা-মা-জ্যেঠু-জেঠি; সবার৷ তিন দিনের জ্বরে আমায় চলে যেতে হলো৷ ওরাও এ বাড়ি বিক্রি করে চলে গেল৷ অনেকদিন ধরে সাধ হচ্ছিল আমার এ ঘরটা আর একবার দেখার।

- বল্টুদা। তুমি ভূত?

- ভূত শব্দটা শুনলেই মনে হয় আনন্দমেলা শুকতারা কিশোরভারতী পড়ছি। তবে আমি ঠিক তোমার মত করে ঠিক বেঁচেবর্তে নেই৷

- ঘুড়ি ব্যাপারটা তা'হলে..।

- ও'টা মানুষ ওড়ায় শখে৷ কিন্তু জিনিসটা আমাদের ট্রেন, বাস, ট্যাক্সি, এরোপ্লেন, স্পেসশিপ; সব৷ দিব্যি ব্যবস্থা৷

- এ'বার ফিরবে কী ভাবে?

- এগেইন্সট গ্র্যাভিটি যেতে অসুবিধে হয় না৷ কাজেই নিজেই ফিরে যেতে পারব৷ কিন্তু নীচের দিকে নেমে আসতে হলে আমাদের ওই ভোঁকাট্টা ঘুড়ির দরকার পড়ে। যা হোক। বড় ভালো লাগলো এ'খানে এসে। আজ আসি।

- আবার আসবে তো? তুমি ওই ঘুড়ি নিয়ে স্কুলবাড়ির আশেপাশেই নেমো। আমি ঠিক চিনে নেবো৷ উঠিয়ে নিয়ে চলে আসবো।

- আসতে তো চাই ভাই৷ কিন্তু এক-একটা ঘুড়ির জন্য যে কত লম্বা ওয়েটলিস্ট আমাদের ও'দিকে, তা যদি জানতে ভাই নাড়ু৷ তা, তুমি ঘুড়ি ওড়াও না কেন? যত বেশি ছেলেমেয়ে ঘুড়ি ওড়াবে, তত আমাদের সুযোগ বাড়বে।

- কাল থেকেই লেগে পড়বো৷ সামনের বিশ্বকর্মা পুজোর আগেই এক্সপার্ট কাইট ফ্লায়্যার হয়ে সবাইকে চমকে দেব।

- বেশ৷ এই ঘুড়িটা দিয়েই শুরু কোরো। আজ আসি। টাটা নাড়ু।