Saturday, November 25, 2023

খেতে বসে



খাবার এলো আর হামলে পড়লাম; অমন অনাচার আমার ধাতে সয় না।

সবার আগে ছবি তুলতে হবে। মিনিমাম তিনটে অ্যাঙ্গেল। জুম ইন জুম আউট৷ এই ফিল্টার সেই ফিল্টার৷ অমুক মোড তমুক মোড৷ ইত্যাদি ইত্যাদি৷ এ'সব জরুরী ব্যাপারস্যাপারের মধ্যেই মাঝেমধ্যে বেটার-হাফের Bitter-হাত এগিয়ে যায় খাবারের দিকে; অগত্যা মৃদু চাপড় দিয়ে তাকে নিরস্ত করতে হয়৷ ছবি তোলার ব্যাপারটাই যে অর্ধেক ভোজনম, সে'টা এদ্দিনেও ওকে এখনও বুঝিয়ে উঠতে পারলাম না৷ আরে দুম করে খাওয়াদাওয়া শুরু করলেই তো সব শেষ; একটু রয়েসয়ে খেল্ শুরু না করলে সমস্তটাই জলে৷

ছবিটবি তোলা হয়ে গেলে, খানিকক্ষণ সে'সব ছবির দিকে তাকিয়ে তৃপ্ত হতে হবে৷ মনে মনে নিজের পিঠ চাপড়ে বলতে হবে, "ভায়া তন্ময়, তুমি সত্যিই সুখী"। স্বীকার করতে বাধা নেই, মাঝেমধ্যে আসল খাবারের চেয়ে ছবির খাবারের মায়াই টানে বেশি৷

যা হোক, এ'সব জরুরী ব্যায়াম পেরিয়ে; তবে গিয়ে খাবার উঠে আসবে মুখে৷ আমি অমনি সামান্য বিরক্তি নিয়ে বলব, "এরা খাবারটা সামান্য ঠাণ্ডা সার্ভ করেছে, তাই না গো"? বেটার-হাফ্ সোজাসুজি উত্তর না দিয়ে একটা ঘোঁৎ শব্দ করবে। রোম্যান্স বলতে তো এ'টুকুই।

তপস্বী



- তপস্বী..।

- মহেশ্বর! আপনি এসেছেন! আমি ধন্য..আমি ধন্য..।

- অত কথায় কাজ নেই৷ মোদ্দা কথাটা হল এই যে তোমার তপস্যায় আমি খুশি৷ এ'বার লেনদেনের ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলো৷ বলো কী বর চাই।

- আজ্ঞে, নিজের মুখে আর কী বলব দেবাদিদেব। আপনি অন্তর্যামী..।

- না না৷ ও'সব বললে হবে না। এ'টাই সিস্টেম। তোমায় চাইতে হবে। নাও, বর চাও৷ ক্যুইক। আমার আবার হাতে অত সময় নেই৷ তপস্যায় কেল্লা ফতে তো তুমি একা করোনি..। ক্যুইক!

- ইয়ে, প্রভু..আমায় অমরত্বের বর দিন প্রভু।

- ফোট্।

- আহ্, এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে..মন যেতে নাহি চায়..নাহি চায়।

- এই রে, সুরবোধ গোল্লা সে আবার শ্যামল মিত্র কচলাচ্ছে৷ আরে নিজের গলা শুনেছ? যেন জার্মান ফাইটার জেট৷ থামো থামো।

- সরি৷ সরি। আসলে মেজাজ চলে এসেছিল কিনা..।

- অমরত্বফত্ব হবেনা৷ অন্য বর চাও দেখি।

- অমরত্ব হবে না। এ তো ভারী মুশকিল হল মহেশ্বর৷ উম..উম..।

- ক্যুইক ক্যুইক।

- ইউরেকা!

- মাথায় এসেছে কিছু? চেয়ে ফেলো।

- আমার পাতে পড়া প্রতিটাই লুচিই যেন নিখুঁত ভাবে ফোলা হয়৷

- ব্রাভো বৎস, ব্রাভো! তোমার এলেম আছে বটে! সত্যিই, এর চেয়ে উত্তম স্তরের অমরত্ব আর হয়না৷ তথাস্তু।

মানুষের পাল্লায়

- হালুম!

- কী চাই?

- ও কী৷ ভয় পেলেন না যে।

- কী ব্যাপার? আপনি কে? অমন সাদা কাপড়ে নিজেকে মুড়ে নাচনকোঁদন করছেন কেন?

- আঁমিঁ ভুঁত! আঁপঁনাঁর স্বঁপ্নে এঁসেছিঁ, এঁ'বাঁর আঁপঁনাঁর পিঁলে চঁমকেঁ দেঁব...।

- যাচ্চলে। ভূতে আবার হালুম করে নাকি?

- ও৷ করে না, তাই না?

- করা উচিৎ না।

- এ তো মুশকিল হল৷ আর এই যে নাকে নাকে কথা বললাম, তা'তেও সামান্য হাড় হিম হয়ে হয়ে যায়নি কি?

- আরে ধুর৷ এ'টা কি ছেলেবেলার ট্রেনে বাবার কিনে দেওয়া ভূতের গল্পের বই নাকি৷ তা'তে মনে পড়ল, আরে আমি তো ফ্লাইটে বসে ঝিমোচ্ছিলাম। স্বপ্নটা এলো কী করে!

- এই ন্যাকামি করবেন না৷ ঝিমোচ্ছিলেন, নাকি? আরে আপনি নাক ডাকছেন মশাই। আশেপাশের প্যাসেঞ্জাররা খাপ্পা হয়ে গেছে।

- এহ্ হে৷ যাক গে। তা', উড়ন্ত প্লেনেও ভূতটূত হানা দেয়?

- প্লেন ব্যাপারটা আমাদের জন্য খুবই কমফর্টেবল।

- আর আপনারা ডাইরেক্ট ভয় না দেখিয়ে স্বপ্নে হানা দেন?

- ডাইরেক্ট ভয় দেখাতে খুব কম ভূতই পারে৷ তার জন্য গভীর সাধনার প্রয়োজন। আমার মত বেশিরভাগ ভূতই এ'রকম স্বপ্নে স্বপ্নে ঘুরে বেড়ায়। তবে স্বপ্নে উদয় হওয়াটাও চাট্টিখানি কথা নয়। বেশ পরিশ্রম লাগে।

- তা, ভয়ের ব্যাপারটা যখন কেঁচেই গেলো, একটা কথা বলুন৷ জ্যান্ত অবস্থায় আপনার পরিচয়টা কী ছিল?

- এক্সকিউজ মী৷ জ্যান্ত অবস্থায় মানেটা কী! এখন দিব্যি জ্যান্ত আছি৷ ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছি৷ আপনাদের স্বপ্নে এসে ফোঁপরদালালি করছি৷ অল ইজ ওয়েল।

- না মানে আমি ইনসাল্ট করতে চাইনি..জন্মিলে মরিতে হবে..।

- অমর কে কোথা কবে! তাই তো৷ তা আমরা ভূতরা মরি তো৷ ইন ফ্যাক্ট মরে যাওয়ার পরেই আমরা মানুষ হয়ে ছটফট করে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াই, সে'টা কে না জানে।

- আরে৷ ধুর৷ মানুষ মরে ভূত হয়৷ উল্টোটা নয়। আপনি তো আচ্ছা গাম্বাট।

- কী আজগুবি ব্যাপার৷ এ তো মহামাকাল মানুষ৷ আরে মৃত্যু মানে কী৷ সুপিরিয়র ফর্ম থেকে ইনফিরিয়র ফর্মে যাওয়া; সে'টাই তো? ভূতেরা জন্মের পর থেকেই হেসে-খেলে বেড়ায়৷ আজ এ'খানে কাল সে'খানে, শখের প্রাণ গড়ের মাঠ। এক্কেবারে হাইভোল্টেজ ফুর্তি অনবরত। তারপর মারা গিয়ে আমরা মানুষের দেহে বাঁধা পড়ি৷ তারপর বিস্তর হয়রানি৷ আর বজ্জাতি৷

- এই শুনুন! ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব কিন্তু আমার স্বপ্ন থেকে৷

- নিজের স্বপ্নের ওপর যদি অতই কন্ট্রোল থাকত, তা'হলে তো সহজেই এই এলেবেলে মানুষ ফর্ম ছেড়ে হাইক্লাস ভৌতিক জগতে চলে আসতে পারতেন। সে ক্ষমতা তো নেই।

- আপনি বলছেন ভূতজন্ম মানবজন্মের থেকে সুপিরিয়র?

- আলবাত!

- আপনাদের ইলিশ পাতুরি আছে? শীর্ষেন্দুর অদ্ভুতুড়ে সিরিজ আছে? থাক। অহেতুক এ'সব প্রশ্ন করে আপনাকে বিব্রত করতে চাই না। এ'বার মানেমানে আমার স্বপ্ন থেকে কেটে পড়ুন দেখি৷ ঘুমটা সবে জমে উঠেছে। লেট মি ফোকাস।

- মানুষবাবু। আপনার প্রশ্নগুলো অহেতুক কিনা জানি না৷ তবে এ'বার আমি একটা কথা বলি। আপনার কথাই বলি৷ আপনি নিজের মেয়েকে দেখতে উড়ে যাচ্ছেন৷ আপনার খুকির সদ্য বিয়ে হয়েছে, শিক্ষিত পরিবারের সুপ্রতিষ্ঠিত পাত্রের সঙ্গে। সে ভদ্রপরিবারে আপনার সেই ফুলের মত মেয়েটিকে রোজ খোঁটা শুনতে হয় কারণ তার বাবা নাকি বিয়েতে যথেষ্ট খরচ করেনি। সেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে আর মেয়ের সম্মান বাঁচাতে আপনি ছুটেছেন দু'বাক্স উপঢৌকনসহ। যদিও তা'তেও শেষরক্ষা হবে বলে মনে হয়না। আপনার কি সতিই ধারণা যে মানুষের মরে ভূত হওয়ার প্রসেসটা আসলে সুপরিয়র থেকে ইনফিরিয়র প্লেনে নেমে যাওয়া?

- আমার..আমার কেমন ভয় করছে ভূতবাবু৷ গলাটা শুকিয়ে আসছে, বুকের ভিতর কেমন একটা..কেমন একটা আনচান। আমার ঘুমটা ভাঙিয়ে দেবেন প্লীজ?

- ভয় পাওয়াতেই এসেছিলাম বটে। তবে, এ'ভাবে নয়। আপনি ঘামছেন মানুষবাবু; আমার মত ভূতের ভয়ে নয়, মানুষের ভয়ে৷ যাক। নো হার্ড ফিলিংস প্লীজ। এই মাত্র একটা টার্বুলেন্সে ফেলে দিচ্ছি এই প্লেনটাকে৷ স্বপ্ন ভেঙে যাবে। আর, খুকিকে ভালো রাখবেন, কেমন? আমি আসি।

বম্বের বাবু



- এই যে, ভাইটি৷ এ'দিকে এসো দেখি।

- কী ব্যাপার বলুন তো..।

- কী, আজ নাকি গাড়ি আনা হয়নি৷ আর অফিস বাসও হাতছাড়া হয়েছে?

- হেহ্। ওই আর কী।

- তা ফেরা হবে কী করে?

- ওই। উবার। বা অটো ধরে..।

- বলো কী হে!

- আগেও গেছি তো।

- আগে বহুবার ভুল করেছ বলে কি সে'টাকেই হ্যাবিটে কনভার্ট করতে হবে? এ কী ভোট দেওয়া নাকি?

- আমি বুঝলাম না।

- ট্রেন থাকতে আবার ও'সব ছাইপাঁশের দিকে যাওয়া কেন।

- ট্রেন..আসলে..হয়েছে কী..।

- কিছু হয়নি। আমি বলছি কী হবে। আজ ট্রেন।

- কিন্তু..।

- ট্রেন।

- না শুনুন..।

- কী দরকার নিজেকে অযথা চাবকানোর? ট্রেন৷

- বেশ। আজ তবে ট্রেন। রুটটা তা'হলে একটু...।

- এই হচ্ছে কথার মত কথা৷ এ'বারে শোনো.. এ'খান থেকে শেয়র অটো..।

- অটো।

- মিটারে না। শেয়র অটো। বান্দ্রা স্টেশন পর্যন্ত।

- শেয়র অটোয় বান্দ্রা।

- টার্মিনাস নয় কিন্ত।

- এই সেরেছে। বান্দ্রার ক'টা স্টেশন?

- ডোবাবে দেখছি৷ শেয়র অটো বান্দ্রা স্টেশন বলে যে'খানে নামাবে নামবে৷ কেমন?

- ওউক্কে।

- অটোয় বসেই অনলাইন টিকিট কেটে নেবে৷ ইউটিএস অ্যাপ।

- যো হুকুম।

- কোন টিকিট কাটবে?

- এই রে। ওই। বান্দ্রা টু যোগেশ্বরী।

- কোন ক্যাটেগরি?

- এই রে..সেরেছে..ভালো দেখে একটা..।

- এসি টিকিট কাটবে?

- এসি আছে?

- আলবাত। বম্বের ব্যাপারই আলাদা।

- বাহ্। তা'হলে এসির টিকিটই কাটব।

- তোমার মুণ্ডু।

- যাচ্চলে।

- এসি ট্রেনের অপেক্ষায় বসে রইলে ঝুলে যাবে। ডেলিপ্যাসেঞ্জারিরে স্পীড ইস অফ দ্য এসেন্স। এসি উইল স্লো ইউ ডাউন।

- তা'হলে এসি বাদ?

- আলবাত। সোজা এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে গিয়ে স্লো ট্রেন ধরবে।

- স্লো ট্রেন ধরব?

- টু রীচ ফাস্টার৷ সবই খেল অফ ফ্রিকুয়েন্সি। পরপর স্লো ঢুকবে..।

- বেশ৷ স্লোয়ের টিকিট কেটে সোজা প্ল্যাটফর্ম নম্বর এক।

- বাহ্। এইত্তো৷ ইয়ে, তোমার নরম শরীর। ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট কেটো৷

- আচ্ছা। বেশ৷ শেয়র অটো৷ বান্দ্রা স্টেশন। এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম। স্লোয়ের ফার্স্ট ক্লাস টিকিট৷

- বাহ্। দশে দশ৷ তবে ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট সঙ্গে রেখে যে'খানে চান্স পাবে উঠে যেও৷ মিনিট পনেরোর তো ব্যাপার।

- আচ্ছা।

- নার্ভাস?

- না মানে..।

- ফোকাস। তুমি প্ল্যাটফর্মে। তুমি দেখলে ভিরার লোকাল ঢুকলো। দিব্যি সে'টা যোগেশ্বরী যাবে।

- তা'হলে আর কী৷ সুট করে উঠে যাব।

- না। উঠবে না৷ তোমার সইবে না।

- সইবে না?

- সে ট্রেন তোমায় চিবিয়ে ছিবিড়ে করে জাস্ট ফেলে দেবে৷ আর ক'দিন যাক৷ বম্বের হাওয়ায় শরীর-মন তৈরি হোক। তারপর ভিরারে ঝুলে পড়বে'খন৷ আপাতত বোরিভলির লোকাল এলে তবে উঠবে। কেমন?

- (চোয়াল শক্ত) বেশ। তাই হোক৷ আজ তবে ট্রেন৷ কী বলেন?

- সাবাশ ব্রাদার! সাবাশ! ও হ্যাঁ। মাস পাঁচেক হল তুমি মুম্বইতে এসেছো। এদ্দিন মন থেকে যে কথাটা তোমায় বলা হয়নি ব্রাদার, আজ বলি৷ ওয়েলকাম টু আওয়ার সিটি। ওয়েলকাম!

হবু গোয়েন্দা

- কিছু মনে করবেন না..আপনি গোয়েন্দা?

- আজ্ঞে?

- আপনি গোয়েন্দা?

- কই না তো। আমি বার্ন্স অ্যান্ড বার্টিতে অ্যাকাউন্টান্ট। অবশ্য..একটা প্রমোশনের সম্ভাবনা আছে সামনের মাসে..তা'হলে হব গিয়ে সিনিয়র অ্যাকাউন্টান্ট।

- সে রামায়ণ শুনে আমি কী করব বলুন তো?

- তা ঠিক৷ আমার চাকরীটা এত আলুনি৷ কিন্তু আপনি মানুষটা কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং৷ কেমন দুম করে ছুটির দুপুরে নিরিবিলি বাসস্টপে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে জিজ্ঞেস করে বসলেন সে গোয়েন্দা কিনা৷ মারাত্মক ব্যাপার।

- আপনার চাউনিতে একটা তীক্ষ্ণ ব্যাপার ছিল মনে হল৷ তার ওপর ইয়া লম্বা হাইট। ছিপছিপে চেহারা। ডান হাতে রিস্টওয়াচ। টুক করে মনে হল, আপনি হয়ত গোয়েন্দা।

- ডান হাতে রিস্টওয়াচে গোয়েন্দা?

- ও আপনি বুঝবেন না।

- তা, এ'রকম অদ্ভুত জিনিসপত্র কি মাঝেমধ্যেই আপনার মনের মধ্যে ঘুরপাক খায়?

- আমার প্রফেশনটাই সে'রকম কিনা।

- কী'রকম?

- আমি সিনেমার গল্প লিখি।

- আরিব্বাস। তবে, আমি বলেছিলাম না আপনি মানুষটা ভারি জম্পেশ। যাকগে, আলাপট সেরে নিই৷ আমি অভিষেক দত্ত। আপনি?

- মুকুল রায়৷

- কতগুলো সিনেমা লিখেছেন আজ পর্যন্ত?

- মিনিমাম সত্তরটা।

- বলেন কী! আপনি তো মশাই ইন্ডাস্ট্রি।

- নিজের মুখে নিজের ব্যাপারে বেশি কিছু বলা উচিৎ হবে না।

- কতগুলো হিট হয়েছে? দু'চারটে নাম ছাড়ুন না মশাই। সিউডোনেমে লেখেনটেখেন না তো?

- সিনেমার গল্প লিখেছি খান সত্তর। রোম্যান্টিক, অ্যাকশন, থ্রিলার, পাঁচমেশালি স্বাদের..কিছুই বাদ যায়নি৷ কিন্তু ইয়ে, এখনও একটাও বিক্রি হয়নি।

- ওহ্। কিছু যদি মনে না করেন, একটা কথা বলি।

- কী?

- আমাদের অফিসে একটা ক্লার্কের পোজিশন খালি আছে৷ বড়সাহেবের সঙ্গে আমার একটা ভালো ইয়ে আছে। আমি যদি রেকোমেন্ড করি..।

- থামুন মশাই৷ আমি ক্রিয়েটিভ জগতের মানুষ, ও'সব চাকরিবাকরি থেকে শতহস্ত দূরে।

- তা, আপনি কি কোনও কারণে গোয়েন্দার খোঁজ করছেন মুকুলবাবু?

- একটা গোয়েন্দা গল্প না লিখলেই নয় এ'বার৷ কিন্তু ও'টাই আবার আমার একটু উইকস্পট বুঝলেন৷ দিস্তে দিস্তে ডিটেকটিভ নভেল পড়েও কিছু হচ্ছে না, এগোতে পারছি না৷ তাই একটা হাতেগরম কোনও ডিটেকটিভ পাকড়াও করতে পারলে তার লেজুড় হয়ে না হয়..।

- ওহ, আই সী।

- একটা আসল গোয়েন্দার তোপসে বা অজিত হয়ে ক'দিন ঘুরঘুর করতে পারলে একটা মারকাটারি গোয়েন্দা গল্পের প্লট নামানো যাবে৷ আর মার্কেটের যা অবস্থা, ও জিনিস একটু ওপর-নীচ হলেও চলে যাবে। প্রোডিউসাররা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে, নভেলে গোয়েন্দা শব্দটা বারদশেক থাকলেই সে' গপ্পকে স্যাট করে তুলে নিয়ে সিনেমা বানিয়ে ফেলবেন।

- বটে? মাইরি?

- মার্কেট তো তেমনই বলছে।

- বেশ। অল দ্য বেস্ট৷ ওই আমার বাস আসছে। অল দ্য বেস্ট মুকুলবাবু৷ চোখকান খোলা রাখুন, ডিটেক্টিভ নিশ্চয়ই জুটে যাবে।

- ইয়ে, অভিষেকবাবু। এমন চমৎকার গোয়েন্দাসুলভ চাউনি আপনার৷ একটু ডিটেকটিভগিরির চেষ্টা করে দেখবেন নাকি?

- দেখব?

- আপনি চেষ্টা করলে বড় উপকার হয় আমার। অনেকদিন খুঁজে দেখলাম তো। গোয়েন্দা ব্যাপারটা বেশ সহজলভ্য নয় যা বুঝছি।

- উম..আপনি এমন মাই ডিয়ার ভাবে বলছেন যখন..একটা চেষ্টা করে দেখতে পারি৷ ওই তো, এক হাতে ক্লু, অন্য হাতে ডিডাকশন। তাই না? তবে চাকরিটা ছাড়তে পারব না মশাই। সামনের মাসে প্রমোশনটা হওয়ার হাই চান্স। বারো পার্সেন্ট ইনক্রিমেন্ট।

- ও মা। চাকরি ছাড়বেন কেন? লোকে দিনেরবেলা চাকরি করে সন্ধ্যেবেলা টিউশনি পড়ায় না বুঝি? আপনি গোয়েন্দাগিরি করবেন।

- বেশ। ওই কথাই রইল।

- তা'হলে আপনাদের অফিসের ওই ক্লার্কের পোজিশনটায় ঢুকে যাই? আপনাকে অবজার্ভ করতে সুবিধে হবে।

- আশা করি উচ্চমাধ্যমিকটা পাশ দেওয়া আছে?

- গ্র্যাজুয়েট। বিএ। অনার্স আছে।
- বাহ্। বাসে উঠে আসুন। কথাবার্তা এগিয়ে নেওয়া যাবে।