Saturday, November 25, 2023

ঝাল



- আড়াইশো গ্রাম পকোড়া দিন।

- আসুন৷ এই যে।

- আর ওই...ফাউ লঙ্কাটা?

- ওই যে, ঠোঙার মধ্যে দিয়ে দিয়েছি।

- *ঠোঙার ভিতরে উঁকি মেরে* থ্যাঙ্কিউ। কিন্তু। ইয়ে। আর সামান্য যদি..মানে এক্সট্রা..।

- নিশ্চয়ই৷ নিশ্চয়ই। এই যে।

- থ্যাঙ্কিউ থ্যাঙ্কিউ থ্যাঙ্কিউ।

- হে হে হে।

- হে হে হে।

- উম...আরও একটু দেব নাকি? লঙ্কা?

- হে হে হে৷ মানে, দিলে ভালো হয় আর কী৷

- এই যে৷ আর দু'টো।

- কী বলে যে আপনাকে..।

- আরে, এ আর এমন কী।

- হে হে হে।

- হে হে হে।

- হে হে হে।

- আর ফাউ লঙ্কা দেওয়া সম্ভব নয় কিন্তু।

- সত্যিই সম্ভব নয়৷ তাই না?

- ব্যাপারটা হয়েছে কী, এ'দোকানে পকোড়ার সঙ্গে ভাজা লঙ্কা ফাউ৷ লঙ্কার সঙ্গে পকোড়া ফাউ হলে না হয়..।

- সত্যি তো। ইয়ে, এক কাজ করুন। আরও আড়াইশো লঙ্কা, থুড়ি, আরও আড়াইশো গ্রাম পকোড়া দিন দেখি।

- হে হে হে।

- হে হে হে।

- দিই কেমন?

- দিন।

- সঙ্গে চাটনি-টাটনি কিছু দেব?

- চাটনি?

- লাল টক মিষ্টি চাটনি। অথবা ঝাল আর চটপটে সবুজ চাটনি।

- অ। না, চাটনি থাক৷ তার বদলে এক্সট্রা দু'পিস লঙ্কা যদি পাওয়া যায়...।

- হে হে হে।

- হে হে হে।

বেলজুঁই



- সিগারেট আছে রে?

- নেই।

- নেই?

- আমার কাছে থাকবেই বা কেন?

- ওহ্।

- এক মিনিট, তুই আজকাল সিগারেট ধরেছিস?

- তা ধরিনি। তবে কিনা আচমকা মনে হচ্ছে যে আঙুলের ফাঁকে সে জিনিস থাকলে একটা মজবুত ইয়ে তৈরি হত।

- ইয়ে?

- মেজাজ।

- অ। মেজাজ।

- মেজাজটাই তো আসল রাজা।

- তা ঠিক৷ তবে, হঠাৎ এই সিগারেটিস্ট মেজাজের দরকার পড়ল কেন?

- আজ তার চিঠি পেয়েছি। হাতে হাত চালান করেছে৷ তা'তে হুহু নেই, হাউহাউ আছে৷ ঢলে পড়া নেই, কানমলা আছে৷ সে ভারি বুকভাঙা চিঠি। এই গোলমেলে সময়ে একটা শাঁসালো নেশা না বাগানোটা বেআইনি বোধ হয়৷

- ব্যাপারটা সিরিয়াস।

- ব্লাডশেড।

- এই সিচুয়েশন তো তা'লে সিগারেট দিয়ে ম্যানেজ হবে না ব্রাদার। ইউ-বোটের দলকে নিরস্ত করতে জলবেলুন দাগলে চলবে কেন ভায়া চার্চিল?

- তবে? উপায়?

- বিড়ি বাদ দে। বেলজুঁইয়ের নেশা ধর।

ঘ্যানঘ্যানিস্টস



ঘ্যানঘ্যান করতে পারার মত হাইকোয়ালিটি তৃপ্তি খুব কম ব্যাপারেই আছে৷

পুজো আসছে মনে হলেই ঘ্যানঘ্যান করব "আহা! ছেলেবেলার পুজোর সে ফ্যান্টাস্টিক আমেজ আর কি আছে? নেই নেই নেই। সবই ডকে, সবই গোল্লায়"।

ও'দিকে পুজো কেটে গেলেই ঘ্যানঘ্যান করব, "ধেচ্ছাইছাতারমাথাভাল্লাগেনাকাঁচকলা৷ টুক করে এসে ফুস্ করে হাওয়া! সামনের বছর মহালয়াটা কত তারিখে পড়েছে"?

আমি শরতের আকাশ দেখে ঘ্যানঘ্যান করব "বাড়ি যাব বাড়ি যাব বাড়ি যাব বাড়ি যাব"৷

কিন্তু অন্য কেউ শরতের নীল আকাশ সাদা মেঘ দেখে সামান্য উদাসটুদাস হলেই তাকে নেকুপাহাড় বলে রামঘ্যানঘ্যান করে তার গুষ্টির পিণ্ডি চটকাবো।

ঘ্যানঘ্যানানি না থাকলে সাহিত্য-সিনেমা-আলুকাবলি কিছুই থাকত না বোধ হয়৷

প্রতিদ্বন্দ্বী

- আরে! অরিন্দমবাবু যে। আসুন আসুন। কী সৌভাগ্য৷ কদ্দিন পর এ'পাড়ায় এলেন বলুন দেখি?

- আসলে সমরেশবাবু..।

- কথা পরে৷ কথা পরে৷ আগে চা বলি? চাও খাবেন না বললে শুনছি না কিন্তু।

- বেশ তো।

- সঙ্গে একটা ফিশফ্রাই? প্লীজ না বলবেন না৷

- না না৷ দুপুরে ভরপেট ভাত খেয়ে বেরিয়েছি..।

- ওউক্কে। বিশে, চট করে দু'কাপ চা দিয়ে যা৷ দেখিস, স্পেশ্যালটা আনিস। আর ইয়ে, চারটে ওই জিরে দেওয়া বিস্কুট আনিস তো৷
- সমরেশবাবু..।

- আপনার নতুন ফিল্মের পোস্টারটা দেখেছেন তো? গোটা শহরজুড়ে এক্কেবারে হইহইরইরই লেগে গেছে..। এখনও রিলীজ হল না অথচ ইতিমধ্যেই বম্বে থেকে রাইট চেয়ে কতগুলো চিঠি পেয়েছি জানেন? প্রডিউসার হিসেবে এ যে কী গর্বের ব্যাপার..।

- আমার ফিল্ম? এ'সব শুনলে আজকাল হাসি পায়।

- পোস্টারে তো আপনার হাসির জেল্লাই কামাল করেছে৷ ফিমেল পপুলেশন তো শুনেছি হলে উপচে পড়ার জন্য হাপিত্যেশ করে বসে আছে মশাই৷ আসুন, চা।

- ওই হাসি আমার নয়৷ ও'টাও আমি নই।

- আহ্৷ মানছি আপনার এআই অবতার নিয়েই ফিল্মের কাজ হয়েছে৷ কিন্তু ইন্সপিরেশন তো আপনিই৷ রয়্যালটিও আপনারই প্রাপ্য৷ পায়ের ওপর পা তুলে বসে যে টাকাটা আয় করছেন, সে'টাও তো নেহাৎ কম নয়৷ কী বলেন?

- সমরেশবাবু! আমি অভিনেতা! অভিনয় করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, একের পর এক নতুন চরিত্রে নিজেকে ডুবিয়ে দিয়ে, দর্শকের হাততালি কুড়িয়ে; তবে আমার রোজগার করার কথা৷ অথচ গত আড়াই বছরে একদিনও আমি শুটিং ফ্লোরে যাইনি। আমায় বাঁচান আপনি..।

- স্ট্রেইঞ্জ৷ ফ্লোরে না গিয়ে টাকা গুনছেন, ইউ শুড বি মাইটি প্লীজড।
- আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে যে৷ রঞ্জনবাবু, বা দীপক সামন্তদের মত ক্যারেক্টার আর্টিস্ট তো বেশ করে খাচ্ছেন।

- ওদের এআই অবতারগুলো বাজার খেলো না। তাই তাদের এখনও গায়েগতরে খাটতে হচ্ছে। কিন্তু আপনি কামাল করে দিলেন৷

- গোড়ার দিকে আমি ঠিক ভাবতে পারিনি যে এই এআই ব্যাপারটা এমন হাতের বাইরে চলে যাবে..।

- মিথ্যে বলব না, ভালোবেসে ফকির সিনেমায় যখন প্রথমবার আপনার এআই অবতার ব্যবহার করলাম, নিন্দের যা ঝড় উঠেছিল তা'তে ঘাবড়েই গেছিলাম৷ অমন মায়াবী হাসি নাকি এআই দিয়ে রিক্রিয়েট করা যাবে না। সে কী'সব ওপিনিওন। বাঙালির হার্টথ্রব অরিন্দমের ক্যারিস্মা নাকি এআই-য়ের মাধ্যমে তুলে ধরা অসম্ভব৷ আমরা নাকি অভিনয়ের আর্টটাকে খুন করছি৷ উফ! মিডিয়া, দর্শক, ক্রিটিক; সক্কলে মিলে কয়েক হপ্তা আমাদের কী ধোলাইটাই না দিলে৷ অথচ দেখুন, স্রেফ কয়েক হপ্তার মধ্যেই সবাই আপনার এআই অবতারে কেমন মজলে।

- সমরেশবাবু। প্লীজ, আমায় একটা সুযোগ দিন। একবার আমায় ফ্লোরে নেমে নিজেকে প্রমাণ করতে দিন..।

- অরিন্দমবাবু৷ কেন আমাদের লজ্জায় ফেলছেন।

- প্লীজ৷ আমি শিওর আমি আবার স্ক্রিন মাতিয়ে ফেলতে পারব..।

- আমার বলতে খারাপ লাগছে অরিন্দমবাবু৷ কিন্তু ইউ আর ডিলিউডিং ইওরসেল্ফ। আপনি নিজেকে ঠকাচ্ছেন৷ আজকালকার দর্শক মহানায়কের মধ্যে যে ফ্লেক্সিবিলিটি দেখতে চায় সেই ব্যাপ্তি অফার করা আপনার পক্ষে পসিবল না৷ শুনুন, আমার পরের ফিল্ম- কলকাতায় গডজিলা; সে'খানে জ্যাপানিজ টুরিস্টের ভূমিকায় অভিনয় করছে আপনার নতুন এআই অবতার। নিখুঁত জাপানি চেহারা, নির্ভুল উচ্চারণ, শানানো হাবভাব; অথচ আপনার লেডিকিলার স্পেশ্যাল স্টাইলটা বাদ যাচ্ছে না৷ অন টপ অফ ইট; আপনি বাড়ি বসে পাচ্ছেন রয়্যালটির মোটা টাকা। উইন উইন।

- বেশ। শুনুন সমরেশবাবু৷ আমি ঠিক করেছি আমার এআই অবতার ব্যবহার করার পারমিশন আর দেব না।

- এক্সকিউজ মি?

- ঠিকই শুনেছেন৷ অভিনয়ের সুযোগ না পেলে আমার চেহারা বা নাম আমি কোনও সিনেমায় ব্যবহার করতে দেব না।

- কিছু মনে করবেন না মিস্টার অরিন্দম৷ ইন্ডাস্ট্রি আপনাকে রয়্যালটি অফার করে আউট অফ রেস্পেক্ট৷ বাধ্য হয়ে নয়। এককালে আপনি ইন্ডাস্ট্রিকে টেনেছেন৷ তাই সামান্য প্রণামী আপনার পকেটে গুঁজে দেওয়া হয়৷ আপনি যদি নিজের অবতার ব্যবহারের অনুমতি না দেন, সে অবতারের হাসি নাক চোখ সামান্য পালটে আমরা তাকে অরিন্দম থেকে অরুণকুমার করে নেব। আইনি মারপ্যাঁচ পাশ কাটানো গেল, আর পাবলিকেরও তা'তে কিছু এসেযাবে না। আপনি ত্যাঁদড়ামো করলে আমরা চুপ করে বসে থাকব কেন বলুন..।

- কী বলছেন আপনি সমরেশবাবু..।

- ঠিকই শুনেছেন৷ চায়ের কাপটা অনেকক্ষণ পড়ে আছে৷ এক চুমুকে শেষ করে এ'বার আসুন৷ আমার বিস্তর কাজ জমে আছে।

Sunday, September 10, 2023

মিরাকেল ড্রাগ

- নির্মলদা।

- আরে, অর্ণব।  হসপিটাল থেকে রিলীজ কখন পেলি? 

- আজই দুপুরে৷

- নতুন ড্রাগটা যে মিরাকুলাস সে'টা শুনেছিলাম..তবে এত ক্যুইক যে ব্যাপারটা ঘটে যাবে..আমরা ভেবেছিলাম আরও অন্তত মাসখানেক তোকে হাসপাতালেই থাকতে হবে৷ কাজেই..। যাক গে! ব্রাভো! ব্রাভো অর্ণব! 

- বাকিরা কই?

- সবে তো বিকেল। আটটার আগে কেউ..। আমি নেহাৎ বেকার আর ব্যাচেলর। তা...তুই বস না৷ সবাই আসার আগে আমরা এক রাউন্ড ক্যারম পিটিয়ে নিই..।

- তাই হোক। 

- ছেলেপিলেরা তোকে পেয়ে মারাত্মক খুশি হবে৷ আজ একটা ছোটোখাটো ফিস্টি করে নেওয়া যেতে পারে..পরেশদার দোকান থেকে মুর্গির ঝোল আর রুটি আনিয়ে। কী বলিস? অবশ্য তোর হয়ত খাওয়াদাওয়ায় নানারকমের রেস্ট্রিকশন থাকবে..।

- না না। জিরো রেস্ট্রিকশন। ইন ফ্যাক্ট যা খুশি যত খুশি খাওয়াটাই এখন আমার মূল পথ্য।

- সিরিয়াসলি?

- সিরিয়াসলি। আমি হিট করে বোর্ড শুরু করি?

- কর।

- ইয়ে নির্মলদা, তা'হলে ফিস্টিটা হচ্ছে তো?

- আলবাত৷ সবচেয়ে বড় কথা অর্ণব, তুই চলে আসায় পুজোর কালচারাল ব্যাপারগুলো নিয়ে আমার দুশ্চিন্তা কম হল৷ সময় খুব কম, কিন্তু তুই মাঠে নেমে পড়লে একটা নাটক নামিয়ে দিতে পারবি না? নতুন করে লিখতে না পারিস..। পুরনো একটাই হোক। তোর ডিরেকশন আর অভিনয়ে কেল্লাফতে হবেই!

- নতুন অন্তত চারটে নাটক লেখা আছে৷ ছেলেমেয়েগুলোকে কালকের মধ্যেই জড়ো করে একটা নাটক বেছে নিয়ে রোলটোলগুলোর ভাগবাটোয়ারা করে দেব৷ পরশু থেকে রিহার্সাল৷ তবে..।

- তবে?

- তবে আমি ভাবছি এ'বারে শুধু ডিরেকশনে ফোকাস করব। অভিনয়টা এ'যাত্রা বাদ থাক।

- সেই ভালো৷ এদ্দিন পর হাসপাতাল থেকে ফিরলি৷ বাড়তি স্ট্রেন না নেওয়াই ভালো। যাক, নবমীর সন্ধ্যেটা মনে হচ্ছে জমে যাবে।

- নির্মলদা। ভাবছিলাম..এ'বারে যদি নাটকটা মহালয়ায় স্টেজ করি?

- সে কী রে..। হঠাৎ পুজোর অত আগে?

- অত আগে আর কই৷ আর মহালয়ায় হিট হলে, নবমীতে রিপীট শো৷ 

- তুই ডিরেক্টর। তুইই বস্। লেগে পড়৷ ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

- আচ্ছা, আজ মুর্গির ঝোলের বদলে পরেশদার সে পাঁঠার কষাটা আনালে হয় না? মানে যদি হঠাৎ-ফিস্টি যদি করতেই হয়..।

- এখনও তো দুর্বল তুই..এত ধকল গেল..এর মধ্যে রেডমিট সইবে? তাও অত মশলাপাতি দেওয়া..।

- সঙ্গে টেস্টি কর্নারের বাটারফিশ ফ্রাইটাও থাক নির্মলদা৷ প্লীজ৷ তুমি আবার জ্যাঠামো করে না কোরো না৷ ও'টা কিন্তু আমি স্পনসর করব!

- অর্ণব। মিরাকল ড্রাগটা..।

- মিরাকুলাসলি মুখ থুবড়ে পড়েছে৷ আজ ডাক্তারবাবু মেজদাকে ডেকে বললেন খামোখা নার্সিংহোমের বিল বাড়িয়ে লাভ নেই।

- মহালয়া?

- চান্স কম৷ তবে মনের জোর প্লাস বিপুলা এ পৃথিবীর..ইত্যাদি ইত্যাদি।

- তোর ক্যারমের শটগুলো গাজোয়ারিই রয়ে গেল অর্ণব!

- তুমি শিল্পীর তুলি চালিয়ে যাও, আমি বরং বোর্ডটা জেতায় ফোকাস করি।