Saturday, July 1, 2023

বম্বেতুতো ব্যালকনি



বম্বে শহরে একটা ব্যালকনি ভাড়া খুঁজছি।

সী-ফেসিং হতে হবে, সমুদ্র থেকে বড়জোড় দু'শো মিটার।
মোজায়েক মেঝে, হালকা সবুজ রঙের গ্রিল (রঙের ব্যাপারটায় একটু ফ্লেক্সিবল থাকব)৷
দেওয়ালে একটা বাড়তি পেরেক ঠোকার ব্যাপারে বাড়িওলা/বাড়িওয়ালির অনুমতি চাই। বুড়োরাজ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের একটা ক্যালেন্ডার না ঝোলাতে পারলে গোটা ব্যাপারটা সামান্য ফিকে থেকে যাবে৷
একটা ইজিচেয়ার, দু'টো মোড়া আর ছোট টেবিল পাতার জায়গা থাকতে হবে৷ আর যদি একটা মিডিয়াম সাইজের ক্যারমবোর্ড পাতার জায়গা থাকে, তবে তো তোফা (এ'টা হলে ভালো, না হলে দুনিয়া রসাতলে যাবে না)।
সামনের ফুটপাথে কোনও চা-ডিমভাজার দোকান থাকলে সবিশেষ আপত্তি নেই। ও ব্যাপারটা অনেকটা গেরস্তের উঠোনে তুলসীমঞ্চের মত৷ সন্ধের দিকে ও'দিকে ঢুঁ মারলে সামান্য পুণ্য সঞ্চয়ের সম্ভাবনা৷
ইয়ে।
মাসেমাসে নগদ লেনদেনের ব্যাপারটা বাদ রাখব ভাবছি। ব্যালকনির মালিক বা মালকিনের ছেলেমেয়েদের টিউশনি পড়িয়ে, গায়ে-গতরে খেটে; ভাড়ার ব্যাপারটা মিটিয়ে দেব৷
খোঁজ থাকলে জানাবেন৷
ধন্যবাদ।

লুচি-লিটমাস



- বুঝলি, একটা মারাত্মক প্রেম-প্রেম ভাব তৈরি হচ্ছে!

- প্রেম?

- টোটাল প্রেম৷ গভীর, এবং হাইক্লাস।

- সুতপা?

- না।

- বীথি?

- না।

- তবে?

- আরে! কেউ না থাকলে কি মনের মধ্যে প্রেমে জেনারেট হতে নেই?

- সিম্পটম ভালো বুঝছি না ব্রাদার।

- তুই বড় স্কেপটিক। বিরক্তিকর।

- বেশ। তা, এই গদগদ প্রেম-প্রেম ইয়েটা টের পেলি কী করে?

- আজ পর পর লুচি ভাজলাম৷ সবকটা ফুলেছে। সবকটা৷ কাজেই, নির্ঘাৎ প্রেমে পড়েছি। খিটখিটে অপ্রেম পার্সোনালিটি নিয়ে এই কনসিস্টেন্সিতে লুচি ফুলিয়ে যাওয়া জাস্ট পসিবল নয়৷

নববর্ষের আহ্বান

হে বঙ্গ-সন্তান।
নিজের শিক্ষা-সংস্কৃতি জলাঞ্জলি দেবেন না, কেমন?
মনে রাখবেন:
মিথ্যে বলা পাপ। গুল দিন।
বড় বড় কথা বলা অন্যায়৷ বাতেলা ঝাড়ুন।
লোক ঠকানো ঘৃণ্য কাজ৷ গাছে তুলে মই কেড়ে নিন।
মানুষকে বোকা বানালে সে'টা ধর্মে সইবে না৷ লোকের মাথায় কাঁঠাল ভাঙুন।

শুভ নববর্ষ।

(১৫ই এপ্রিল ২০২৩-য়ে লেখা। পয়লা বৈশাখে)

রাসেল ও নীতিশ

আমার ধারণা প্রতি ম্যাচের আগে ব্যাপারটা ঠিক এইরকম দাঁড়ায়।
নীতিশ রানা: রাসেলদাদা, বলছিলাম যে, পরের ম্যাচে..।
রাসেল (আচমকা গম্ভীর, চোয়াল শক্ত ইত্যাদি): কী..।
নীতিশ রানা: না মানে, বলছিলাম যে..।
রাসেল: কী..?
নীতিশ রানা: আমি? না৷ আমি কিচ্ছু বলিনি৷ ভেঙ্কি স্যার বলছিলেন আর কী।
রাসেল: কী!
নীতিশ রানা: এই তোমার বড্ড খাটাখাটনি যাচ্ছে৷ এই প্রতি ম্যাচ দু'চার বল অমন ঘাম ঝরিয়ে খেলা..।
রাসেল (এ'বার নীতিশের কাঁধে হাত রেখে, সুর নরম করে) : কী?
নীতিশ রানা: ভ..ভেঙ্কি পিসেমশাই বলছিলেন পরের রাসেলে ম্যাচকে বিশ্রাম দিতে। না..মানে..পরের ভেঙ্কিতে বিশ্রামকে রাসেল দিতে। সরি..। মানে..বিশ্রাম বলছিলেন...।
রাসেল (নীতিশকে আলতো করে কাছে টেনে): বিশ্রাম?
নীতিশ: কার বিশ্রাম?
রাসেল: তুমি বলো।
নীতিশ: আমার বিশ্রাম দরকার। খুব দরকার।
রাসেল: তোমার বিশ্রাম দরকার?
নীতিশ: হ্যাঁ। কাঁ..কাঁধটা কেমন টনটন করছে..।
রাসেল: তুমি কী বলতে এসেছিলে?
নীতিশ: আমি? আমি বলতে এসেছিলাম৷ আমার বিশ্রাম দরকার।
রাসেল: আচ্ছা৷

***
(আইপিএল ২০২৩ আর কেকেআর ফ্যানের ব্যথা)

বাপ্পাদা ও রাসেল

আজ হঠাৎ বাপ্পাদার কথা মনে পড়ল৷ বারবার বলত যে রান্নাটা ওর প্যাশন৷ খাসির মাংসের অন্তত বাহাত্তর রকম ঝোলের রেসিপি প্রায় আবৃত্তি করার স্টাইলে আউড়ে যেতে পারত৷ আমরা মুগ্ধ হয়ে শুনতাম। পিকনিক বা ফিস্টির প্ল্যানে বাপ্পাদা থাকা মানেই বুকে বল পাওয়া যেত; "বাপ্পাদা আছে৷ মাংস রান্নার চিন্তাটা অন্তত করতে হবে না"৷ সব প্ল্যানই সাজানো হত বাপ্পাদার সুবিধে-অসুবিধে ভেবে; আর যাই হোক; মেনুর স্টার আইটেমটার দায়িত্বে আছে৷ আমরা কাঁচা-হুজুগে ছেলেছোকরার দল ভাত পুড়িয়ে ফেলি, চাটনি জোলো করে ফেলি, ডিমভাজায় নুন দিতে ভুলে যাই৷ কিন্তু মাংসের ঝোল হাইক্লাস হলে পিকনিকের জৌলুস নিয়ে ভাবতে হয় না৷ আর মাংসের ঝোল উতরে দেওয়ার জন্য রয়েছে বাপ্পাদা৷
কিন্তু৷ কিন্তু৷ প্রতি পিকনিকেই সেই বাপ্পাদার মাংস রান্নার রোম্যান্সটা কী'ভাবে যেন হোঁচট খেয়ে যেত।
"এহ্৷ কোন ইডিয়ট মাংস আনতে গেছিলিস রে? আরে ছাগল নিয়ে এসেছিস! রামোহ্। এ জিনিস আবার মানুষে খায়৷ এ'সব আমায় রাঁধতে বলে আমার ইনসাল্ট করিসনা৷ তোর যা করতে হয় কর৷ আর শোন, ও জিনিস আমি দু'চার পিসের বেশি খেতে পারব না"।
" না রে৷ এই কড়াইটার শেপে প্রবলেম আছে৷ কার থেকে ভাড়া করে এনেছিস? খবরদার পুরো টাকা দিবি না৷ তোদের ছেলেমানুষ পেয়ে ডিফেক্টিভ মাল গছিয়ে দিয়েছে৷ তোরাই একটা ঝোলটোল করে নে। এ কড়াইয়ে তো আমার সেই উজবেকি মাটন দিলকশ রাঁধতে পারব না"।
"এ'বারটা থাক। বুঝলি৷ শরীরটা কেমন ম্যাজম্যাজ করছে৷ আমি বরং একটু মাদুর পেতে জিরিয়ে নিই"।
আজ আন্দ্রে রাসেল আউট হওয়ার পর আচমকা বাপ্পাদার কথা মনে পড়ল। কেন কে জানে৷

**

( ১৪ই এপ্রিল ২০২৩-য়ে লেখা। যথারীতি আইপিএল চলাকালীন। কেকেআর-কে সাপোর্ট করা চাট্টিখানি কথা নয়)