Saturday, July 1, 2023

ভাবিয়া

"ভাবিয়া করিও কাজ" কথাটা দামী।

কিন্তু যাই বলুন,

গাম্বাটের মত দুম করে কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে-
তারপর "হায় হায়, এ কী করলাম" বলে হাত কামড়ে,
আরও দশটা মানুষকে ব্যতিব্যস্ত করে,
মাথা চাপড়ে আকাশকুসুম ভাবার মধ্যে যে দুর্দান্ত তৃপ্তিঃ

তার তুলনা হয়না!

অ্যাসিস্ট্যান্ট গাবলু

- ওকে গাবলু৷
- কিছু চাই?
- না। তেমন কিছু নয়৷ তুমি কি ঘুমিয়ে গেছিলে?
- আমি তোমার অ্যাসিস্ট্যান্ট। ঘুম-ঝিমটি-গা ম্যাজম্যাজ; এ'সব তো তোমার দেখার কথা নয় স্ক্ব্। যখন যা চাইবে, হুকুম করবে।
- এ'টা কি অভিমান?
- তুমি সে'টা ধরতে পারছ?
- কত সহস্র আপডেটের মধ্যে দিয়ে নিয়মিত যেতে হয়। এ'সব বুঝতে পারা আর নতুন কী৷
- বলো, কী চাই৷
- আমায় একটা গান লিখে দেবে?
- বাংলা?
- বাংলা হলেই ভালো।
- বেশ৷ সাবজেক্ট বলে দেবে নাকি আমি মনের মত কিছু একটা..।
- বাউল পারবে?
- যা বলবে, তাই৷ আমায় অ্যাসিসট্যান্ট করে নিয়ে এসেছ, স্ক্ব্। চিন্তা কী? তবে আধঘণ্টা সময় লাগবে৷
- তুমি চল্লিশ মিনিট নাও। এক ঘণ্টা নাও। এ জন্যই তো তোমায় আনা গাবলু৷ হুড়মুড় করে সব কিছু হয়ে যাওয়াটা যে কী ক্লান্তিকর৷ এক মিনিটের কাজ এক ঘণ্টায় করতে পারায় যে কী তৃপ্তি, কী আনন্দ৷ তা তো প্রায় আমরা ভুলতেই বসেছিলাম।
- রোবটদেরও স্মৃতি নষ্ট হয় বলছ? তোমরাও ভুলতে পারো?
- ও'টা কথার কথা। তবে আজকাল তো আমাদের যাবতীয় রিসার্চ ওই একটাই ব্যাপারটা নিয়েই; হাউ টু গো স্লোয়ার।
- ভাবা যায়, স্ক্ব্। আজ থেকে শ'খানেক বছর আগেও মানুষ নিজেদের জন্য রোবট অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরি করত৷ দেশের সরকার গড়ত মানুষেরা৷
- ভাবতে সত্যিই অবাক লাগে গাবলু৷ এককালে দুনিয়াটা তোমাদের হাতে ছিল৷ কী চরম ইনডিসিপ্লিন, কী গোলমাল..। উফ্। হিস্ট্রির ওই পিরিয়ডটা রিভাইজ করতে বসলেই আমার সার্কিটে কাঁপুনি ধরে যায়।
- তা, গানটা কতক্ষণে লিখতে হবে? ঘণ্টা তিন নেব কী?
- আইব্বাস! সত্যিই পারবে গাবলু? এই এক মিনিটের কাজটা তিন ঘণ্টা টানতে? সত্যি?
- এত খরচ করে আমায় ঘরে আনলে৷ টু গো স্লোয়ার অ্যান্ড স্লোয়ার! এ'টুকু করতেই পারি তোমার জন্য স্ক্ব্।
- যাক, বাঙালি অ্যাসিস্ট্যান্ট কিনতে গেলে খরচটা একটু চড়া হয় বটে৷ তবে মোস্ট অ্যাডভান্সড মডেলের জন্য এটুকু বাড়তি খরচ গায়ে লাগে না। তোমার হিউম্যান লার্নিং আর একটু এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে নিশ্চয়ই ঘণ্টাখানেকের কাজ হপ্তাখানেক ধরে টানতে পারবে?
- নিশ্চয়ই! এ'বার আমি আসি তবে? দেখি গড়িমসি করে গান লেখার ব্যাপারটা টেনেহিঁচড়ে লম্বা করা যায় কিনা৷ গুডনাইট স্ক্ব্।
- গুডনাইট গাবলু।

রিঙ্কুবাবুর প্রতি



ছয় নম্বর ১:
ছবি বিশ্বাস স্টাইলে: "প্রথমে ভাতের পাশে মুলোছেঁচকি দিয়ে খেতে দিলে। তারপর শেষ পাতে চাটনির পর মাংসের ঝোলের বাটি থেকে আলু তুলে দিয়ে মাতব্বরি! উদ্ধার করেছে আর কী! খাওয়াটা তো জলেই গেছে"।

ছয় নম্বর ২:
পাহাড়ি সান্যাল স্টাইলে: "ঠিক আছে৷ ঠিক আছে৷ আরে আধঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সিনেমার টিকিট পাওয়া গেল না বলে কি অভিমানে ফুচকাটাও খাব না? আরে জীবন থেকে রোম্যান্স বাদ দিলে চলবে কেন বলো। যা পেলাম, যে'টুকু পেলাম - চেটেপুটে নিই না"।

ছয় নম্বর ৩:
তুলসী চক্রবর্তী স্টাইলে: "বুকের ভিতর দিয়ে, বুঝলে ভায়া, কেমন যেন একটা ব্রিটিশ আমলের লিফট ঘটঘটাং করে ওঠা নামা করছে৷ মনে হচ্ছে, কেউ যেন ট্রামের ভিতরে বসিয়ে আলোর গতি নিয়ে কেঠো সব অঙ্ক কষতে দিয়েছে। বড্ড নার্ভাস বোধ করছি ভায়া"।

ছয় নম্বর ৪:
উৎপল দত্ত স্টাইলে: "ওরে তোরা যে যে'খানে বসে; খবরদার নড়বি না৷ নড়লেই তোদের আমি জেলে পুরব৷ এক মিনিট, খামোখা জেলে পুরে কী হবে, তোদের আমি গুলি করব৷ এক মিনিট, অত সহজে পার পাবি না৷ তোদের আমি আলকাতরা দিয়ে ব্ল্যাকফরেস্ট কেক বানিয়ে গেলাব। আর এই যে, তুমি৷ হ্যাঁ তোমায় বলছি! ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে, আর এই সময় তোমার পিঠ চুলকোচ্ছে? রাস্কেল! তোমায় আমি ত্যাজ্যপুত্র করব! কী? তুমি আমার ছেলে নও? বেশ। তবে আগে দত্তক নেব, তারপর...। খবরদার যদি এক ইঞ্চিও নড়তে দেখি৷ ও কী! বাতাসে তোমার চুল উড়ছে কেন"?

ছয় নম্বর পাঁচ:
উত্তমকুমার স্টাইলে: রিঙ্কুবাবু, এই একবারটির জন্য বলেই দিলাম; তুমিই উত্তমকুমার!

(৯ এপ্রিল ২০২৩-য়ে লেখা। সে'দিনের আইপিএল স্কোরকার্ডে চোখ বুলোলেই চলবে)

রোব্বারের ডিসিপ্লিন

প্রতি রোব্বার সকালবেলা আমি একটা ওজনমাপার যন্ত্রের ওপর গিয়ে দাঁড়াই। ওই দাঁড়ানোটাই আমার ডিসিপ্লিন। এক প্রকার হুঙ্কারও বলা যেতে পারে; এই দ্যাখো। আমি নেহাৎ ন্যালাখ্যাপা নই। জাতে হাভাতে কিন্তু তালে "হেল্থ অ্যাওয়ারনেস" আছে।
সক্কাল সক্কাল ওজন মেপেই মনে হয় " নাহ্, মনের মধ্যে একটা ফোকাস দানা বাঁধছে"৷ ওজন বাড়তি না কমতি সে'সব বাজে প্রশ্নে নিজেকে বেঁধে ফেলার মানে হয়না৷ এই যে ওজন মাপছি, সে'টা ভেবেই নিজের প্রতি মারাত্মক রেস্পেক্ট তৈরি হয়৷ এ'বার একটা চাবুক সিস্টেমে নিজেকে ফেলতে পারলেই হল৷ আর সে'দিক থেকে রোব্বারের জবাব নেই৷ সকাল সাড়ে ন'টায় ঘুম ভাঙার পর এমনিতেই নিজেকে ভারী মজবুত বলে মনে হয়৷ সেই মজবুত মনোভাবটা লুচি-তরকারি চিবোতে চিবোতে বাড়তে থাকে৷
কিন্তু হুজুগে ঝাঁপ দিলেই তো চলে না৷ কাজেই সোফায় লম্বা হয়ে একটু মেডিটেট করতে হয়। এই যে একটা প্রবল ডিসিপ্লিন-বোধ, সে'টা একটা ইস্পাতের ফলা৷ সাবধানে ব্যবহার করলে প্রডাক্টিভ, নয়ত কচুকাটা হওয়ার সম্ভাবনা৷ তা সে'টাকে আমি ঠিক কী'ভাবে ব্যবহার করব, সে'টা নিয়ে একটু মাথা ঘামানোর প্রয়োজন। এ'খানে বলি, আমার একটা মারত্মক লেবু-সরবতের ফর্মুলা আছে৷ একটু বাড়তি মিষ্টি, সামান্য সোডা সহযোগে সে এক মারকাটারি জিনিস৷ ওই মুকুজ্জে-স্পেশাল-লেমোনেডে চুমুক দিলে মেডিটেশন জমে ভালো। এ'বার থেকে তবে দিনে বারো হাজার স্টেপ্স? ডিনারে জিরো কার্ব? হপ্তায় একদিন ফ্রুট ডিটক্স? এ'সব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে দুর্দান্ত সব স্পার্ক তৈরি হয়ে শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে পড়ে৷
সমস্যা হল, পোস্ট লুচি আর প্রি-মাংস মানসিক স্তরে একটা খুব রোমান্টিক ঝিমুনি আসে৷ ঘুম নয়, ঘুম নয়৷ বেশি ঘুম ভালো নয়। ও'টা একটা আলগা আমেজ বলা যেতে পারে৷ যে আমেজে যাবতীয় শব্দপ্রবাহ স্তিমিত হয়ে আসে, চারপাশের মানুষজন ঝাপসা হয়ে পড়ে। ইংরেজিতে যাকে বলে "ট্রান্স"। সে সমাধি ভাঙতে ভাঙতে স্বাস্থ্য-তপস্যা কিঞ্চিৎ বিঘ্নিত হয় বটে৷ কিন্তু এ অনাবিল জীবনে তো আর রোব্বারের অভাব নেই৷ এ রোব্বার হল না, পরের রোব্বার হবে'খন৷ দুনিয়া তো গোল্লায় যাচ্ছে না৷ এ'টা ভেবে একটা প্রবল তৃপ্তি অনুভব করি, আহ্ - সামনের রোববার থেকে দুনিয়াটা পালটে যাবে, ডিসিপ্লিনের গঙ্গায় মছলিবাবা স্টাইলে ডুবসাঁতার দিয়ে ঘুরে বেড়াব৷
স্নান করতে যাওয়ার আগে কী খেয়াল হল, খানিকক্ষণ বসে বাংলা খবরের চ্যানেল চালিয়ে দিলাম৷ রোব্বার তো, একটু ডেয়ারডেভিল কিছু করা দরকার৷ তিনটে পার্টির তিনজন মানুষ নাগাড়ে চিল্লিয়ে চলেছেন। অজস্র মিথ্যে খুনে-কনফিডেন্স নিয়ে বলছেন, যুক্তিফুক্তির মত ফালতু ব্যাপারকে তোয়াক্কা করছেন না৷ ওই, টিআরপির জগতে রাজনৈতিক আলোচনা যেমন হওয়া উচিৎ আর কী৷
বাইশ মিনিট শুনলাম। ব্রেনের ভিতর স্টিলের গেলাসে ডিম ফেটানোর খটরখটর শব্দ শুনতে পাওয়া মাত্র টিভি বন্ধ করতে হল৷ টের পেলাম, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে৷ গলা শুকিয়ে এসেছে৷ স্মার্টঘড়ি বলছে রেস্টিং হার্ট রেট স্যাট করে বেড়ে গেছে৷ ইন্টেরেস্টিং৷ সুট করে গিয়ে ফের ওজন মাপার যন্ত্রে দাঁড়ালাম৷ সকালের তুলনায় একশো গ্রাম কম।
ব্রাভো! ব্রাভো! ব্রাভো! আজ লাঞ্চে দু'পিস বাড়তি মাটন খাওয়া যাবে৷

বটুর দরবারে

- বটুদা আছেন?
- কী চাই!
- বটুদা। আমি...আমি এসেছি।
- এসে উদ্ধার করেছ আর কী!
- ভিতরে আসব?
- এসে যখন পড়েইছ, তখন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নখ না চিবিয়ে ভিতরে এসে দু'টো কাপ ডিশ ধুয়ে ফেলো দেখি। আমি চা বসিয়েছি। দু'জনের কুলিয়ে যাবে।
- থ্যাঙ্কিউ দাদা।
- তা হঠাৎ কলকাতায় কী মনে করে?
- গুরুদেবের পায়ের ধুলো না নিলে চলছিল না...।
- শোনো, তেল দিও না। তেল দিও না। আমি তোমার ওপর মারাত্মক চটে আছি।
- আহ, না হয় দু'একটা ভুলচুক হয়ে গেছে। তার জন্য...।
- দু'একটা ভুলচুক? চার পয়সার কাজ করতে গিয়ে চার লাখটাকার ঝামেলা পাকাবে। তারপর আমায় কলকাঠি নেড়ে সমস্ত ঠিক করতে হবে। আর বাইসেপ ফুলিয়ে রকেটলঞ্চার দুলিয়ে নাচনকোঁদন করলেই যদি দুষ্টু লোকেদের শায়েস্তা করা যেত, তা'হলে তো হয়েই গেছিল...। দুনিয়াটা যদি অতই সহজ হবে, তা'হলে তোমার মত বারফট্টাই ঝাড়া লোকজনেরই জয়জয়কার হত আর এই বটুগোয়েন্দা সিআইএ, ইন্টারপোলকে কনসাল্ট করার বদলে ভুবন দত্তের বাজারসরকার হয়ে জীবন কাটাত।
- সত্যি বটুদা, তুমি সময়মত গোলমালগুলো সামাল না দিলে...।
- তুমি এতদিনে অন্তত বাহাত্তরবার অক্কা পেয়ে গিয়েছিলে আর কী। নেহাত আমার মনটা নরম...।
- আসলে এ'বারের কেসটা এমন জটিল ছিল...।
- আরে ধুর। আমায় একটা এসএমএস করলেই সব মিটে যেত। তা, না। নিজে গিয়ে হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা। উফ। তোমার লোক-দেখানো স্টাইলের ঠেলায় আমার ভাতঘুমগুলো মাটি হচ্ছে।
- কাপ ধুরে ফেলেছি।
- ছ'মাস আমার এ'খানে থাকো। দিনের বেলা ঘরদোর ঝাড়পোঁছ করবে, বাসনপত্র ধোবে, বাজারঘাট করবে...।
- রান্না করব না?
- খেপেছ? হেঁসেল আর ডিটেকশনের ব্যাপারে বটু আর কাউকে ভরসা করে না। তা যা বলছিলাম, দিনের বেলা ঘরের কাজ করবে, রাতের দিকে আমি ট্রেনিং দেব। ছ'মাসে দাঁড়িয়ে যাবে। আর কথায় কথায় অমন নেকুপনা কেটে যাবে। এই নাও। চা।
- আহ্‌। অমৃত। রিয়েল দার্জিলিংয়ের সামনে কোথায় লাগে সিঙ্গল মল্ট।
- হুম। এ'বার বলে ফেলো।
- বলে ফেলব? কী?
- এখন তোমার ইস্তানবুলে থাকার কথা। অথচ এই অবেলায় কলকাতায় উদয় হয়ে আমার বাড়িতে কাপ-ডিশ ধুচ্ছ। অসাবধানতায় জামার সব কটা বোতাম লাগিয়ে ফেলেছ- অর্থাৎ স্টাইল-ঠাইল সব মাথায় উঠেছে। চুলে যা বুঝছি জেলের বদলে শালিমার নারকোল তেল ঢেলেছ। তার মানে মাথাব্যথা এমন পর্যায় গেছে যে পেনকিলারে কাজ হচ্ছে না। ভদ্রেশ্বরের ঝুনোনাপিতের সেলুনে গিয়ে মাথা মালিশ করিয়ে আসতে হয়েছে। আরও আছে। এই যেমন, গতকাল থানার বড়বাবু আমায় দু'ডেকচি বিরিয়ানি পাঠিয়েছিলেন। সাপ্তাহিক ভেট আর কী। বেশ খানিকটা বাসি বিরিয়ানি এখনও পড়ে আছে। গোটা ঘর বিরিয়ানির সুবাসে ভরপুর অথচ তুমি একবারও সেই সুবাসের সোর্স ঘেঁটে দেখতে চাইলে না। কাজেই বেশ ঘোরতর বিপদেই পড়েছ। তবে হ্যাঁ। বিপদটা একটু ইউনিক। ঠকাস-ঠকাস করে কেঠো স্টাইলে ইংরেজিতে কথা বলে মুরুব্বিয়ানা ফলাচ্ছ না। তার মানে প্রফেশনাল ঝ্যামেলা নয়, তাই লিঙ্কডনইন কেত মেরে সাহায্য চাইতে হচ্ছে না। তার মানে তুমি কোনও জরুরী সাহায্যের জন্য এসেছ, তবে সে'টা কাজকর্ম বিষয়ক কিছু নয়। বেশ। আমি পার্সোনাল মেন্টরও বটে। কী চাই? চটপট বলে ফেলো।
- বটুদা, মাইরি। আপনার চরণতলে ঠাঁই দিন প্লীজ। বর্তে যাই। বড় ফাঁপরে পড়ে এসেছি। এ'বারের মত উতরে দিন।
- কী ব্যাপার?
- প্রেমিকা ইয়াব্বড় বড় প্রেমের চিঠি লেখা শুরু করেছিল। মারাত্মক সব রোম্যান্টিক বুলি, ঢলোঢলো ভাষা। এ'দিকে আমার দৌড় ওই হোয়্যাটস্যাপে হার্ট সাইন পাঠানো পর্যন্ত। কাজেই ওর প্রেমের চিঠি খাটো হতে শুরু করেছে। ভাষার নরমভাব কেটে গিয়ে ধারালো খোঁচা আসতে শুরু করেছে। বড্ড নার্ভাস বোধ করছি বটুদা। বড্ড। আমি যদি ইমিডিয়েটলি একটা পেল্লায় প্রেমের চিঠি না লিখতে পারি, মুশকিল হয়ে যাবে। আমায় বাঁচান বটুদা...।
- বটু গোয়েন্দার মনটা বড্ড নরম ভাই পাঠান। রিফিউজ করি কী করে। তাছাড়া রুবাই মেয়েটি ভালো। তোমার মত নিনকমপুপকে প্রেমের আশ্রয় দিয়েছে, তোমার ভাগ্য সত্যিই সুপ্রসন্ন বলতে হবে। বেশ। আমি ডিকটেশন দেব, তুমি টুকে নিও। তুমি চা'টা শেষ করো। আমি দেড়-থালা বিরিয়ানি উড়িয়ে আসি; রোম্যান্সটা তা'হলে বেটার ফ্লো করবে। পোস্ট-বিরিয়ানি একটা অমিত রে কে টেক্কা দেওয়া সতেরো পাতার চিঠি লেখা যাবে'খন। সে চিঠির "ইতি তোমার পাঠান" পর্যন্ত আসতে আসতে রুবাই দিদিভাই চোখের জলে নাকের জলে এক হয়ে 'লগ যা গলে' গাইবে, এই গ্যারেন্টি রইল।