Sunday, November 6, 2022

বাটপার

- স্যার, সরি। ভেরি সরি। আর করব না এমনটা! মাইরি বলছি। ভদ্রকালীর দিব্যি...।
- মন্টু, শোনো...শোনো...।
- গড প্রমিস করছি স্যার। এ'বার ছেড়ে দিন। দিব্যি দিয়ে বলছি আমি আর জীবনে পকেট মারব না। আমি এ'পাড়াতেই আর আসব না। এক্কেবারে খোদার কসম স্যার। এইবারটি ছেড়ে দিন মাইরি। আমি বুঝতে পারিনি জাস্ট...। শুধু এ পাড়া কেন, এই ডিসট্রিক্টে যদি ফের আমায় দেখেন তা'হলে সোজা চাক্কু চালিয়ে দেবেন। কিচ্ছুটি বলব না...।
- আহ মন্টু...।
- প্লীজ ছেড়ে দিন স্যার...।
- আমার পা ছাড়ো আগে...।
- কিছুতেই না, মরে গেলেও আপনার পা ছাড়ব না। আমি ভগবান স্যার, আমি ছুঁচো। খামোখা একজন পকেটমারকে সাইড করে নিজের হাত গন্ধ করবেন কেন বলুন। প্লীজ দাদা...থুড়ি...স্যার...। ছেড়ে দিন না...আমি ছাই কী করে বুঝব বলুন, যে সাত জেলা কাঁপানো গুণ্ডা-শ্রেষ্ঠ বিধু হালদার অমনভাবে লোকাল ট্রেনে বসে সল্টেড বাদাম চিবুবে। আর সব দোষ আমার আঙুলের, আপনার ফতুয়ার আলগা পকেট পেয়ে সুট করে আঙুল এগিয়ে গেল মাইরি। তা তখনই আমায় দু'টো থাপ্পড় মেরে দিতে পারতেন তো।
- তোমার ভুল হচ্ছে মন্টু...।
- আচ্ছা বেশ, না হয় একটা ঠ্যাং ভেঙ্গে ছেড়ে দিতেন। আড়াই মাস লেংচে চলতাম। বেশ হত। আমার মত গবেটের লেংচেই চলা উচিৎ। একটা কান কেটে নিলেও আপত্তি করতাম না। কিন্তু স্যার, এই অধমকে তাই বলে এমনভাবে তুলে আনবেন? নিজের ডেরায় এনে লাশ ফেলবেন? জানি ব্যাপারটা আপনার কাছে জলভাত...তবু...বাড়িতে সে আমার এক বিধবা পিসি, দু'টো আধ-পোষা বেড়াল, তিনটে জবা গাছ; সব জলে যাবে।
- আরে ধুরছাই। তোমায় আমি খুন করব বলে তুলে আনিনি। পকেটমারিতে তোমার সত্যিই এলেম আছে। আমি তোমায় তুলে এনেছি একটা বিশেষ কাজে। তা আমার লোকজন তোমায় মারধোর করেনি তো?
- একদমই না। শুধু হাত-পা-মুখ বেঁধে, চ্যাংদোলা করে একটা অ্যাম্বাসাডার গাড়ির ডিকিতে দিন দেড়েক বন্ধ করে রাখলে, তারপর এই আপনার চোরকুঠুরিতে এনে তিন দিন বন্ধ করে রাখলে। সামান্য মানিব্যাগ সরিয়েছিলাম স্যার। ও'তে সাতশো বাহান্নটাকা ছিল। ছেড়ে দিননা স্যার, আমি পিসির গয়না বিক্রি করে সাতহাজার টাকা আপনার অফিসে জমা করে যাব। রসিদও চাইব না; পিসির দিব্যি। বিধবা বুড়ির ও'সবে গয়নাটয়নায় কাজ কী বলুন।
- উফ, তুমি বড় বাড়তি কথা বলো মন্টু।
- বিধুস্যার...। মেরে ফেলবেন না। শুনেছি মরে যাওয়ায় বড় কষ্ট। ব্যথাট্যাথা লাগে, দুঃখটুঃখ হয়। তার চেয়ে না হয় আরও দু'দিন না খাইয়ে রাখুন।
- চোপ!
- সরি। আমি চুপ।
- এ'বার যা বলছি, সে'টা মন দিয়ে শোন। তোমায় আমার একটা কাজ করতে হবে।
- রেশন তুলে দেব? সর্ষের তেল দিয়ে কষে গা মালিশ করে দেব? ভাতে-ভাত রান্না করে দেব?
- ফের বাজে কথা বলে। আগে শোনো...।
- বলুন স্যার।
- তোমায় আমার হয়ে পকেট মারতে হবে।
- আপনার হয়ে?
- আমার হয়ে।
- আপনি এ লাইনেও তবে...। মানে, আমি তো জানতাম বিধু মাস্তান মানেই উঁচু দরের কাজ। তোলা আদায়। ভাঙচুর। ইয়ে, কিডন্যাপিং।
- লাইন আমি চেঞ্জ করিনি। তবে একটা সূক্ষ্ম কাজ আছে। সে'জন্য আমার তোমায় প্রয়োজন।
- হুকুম করুন না। কার পকেট মারতে হবে বলুন। দারোগার? প্রাইম মিনিস্টারের?
- মনোজ সামন্ত। সে তো তোমার পাড়ারই লোক, তাই না?


- মনোজ মাস্টার? হাইস্কুলে এককালে অঙ্ক পড়াতেন? ও মা, ও বুড়োর পকেট কেটে পাবেনটা কী। তার নিজেরই খাওয়াপরার ঠিক নেই।
- আমি যা বলব, তাই করবে। তার বাইরে কিস্যুটি নয়।
- আচ্ছা বেশ, এ'বার ছেড়ে দিন। আজ বিকেলের মধ্যেই মনোজ মাস্টারের পকেট ফাঁক।
- ফাঁক করলে হবে না মন্টু।
- এই সেরেছে। পকেট মারতে বললেন তো।
- মনোজ মাস্টারের পকেট থেকে ওর মানিব্যাগ সরাবে। সে মানিব্যাগে একটা দু'হাজার টাকার নোট রাখবে। তারপর সে মানিব্যাগ মাস্টারমশাইয়ের পকেটে রেখে সরে পড়তে হবে।
- এই আপনার মতলবটা কী বলুন তো...।
- এ কাজের জন্য তুমিও পাঁচশো টাকা পাবে। প্রতি হপ্তায় এ কাজ একবার করে করতে হবে। প্রতি হপ্তায় তোমার পকেটে পাঁচশো।
- ঠাট্টা করছেন স্যার?
- এই যে, কড়কড় আড়াই হাজার টাকা। রাখো।
- মাস্টারকে সোজা গিয়ে টাকা দিলেই তো হয়।
- মাস্টারমশাই তো আমার থেকে টাকা নেবেন না।
- আপনার অত পিতলে পীরিতের দরকারটাই বা কি?
- ভদ্রলোক আমায় বিনে পয়সার পড়িয়েছেন বহুবছর। অনেক চেষ্টা করেছিলেন একসময় আমায় মানুষ করতে। তবে আমার বখে যাওয়াটা রুখতে পারেননি। ইদানীং শুনলাম বড় অভাবে পড়েছেন। ওর ছেলেটা মারা গেছে। স্ত্রী অসুস্থ। এ বয়সে বাড়ি বাড়ি ছাত্র পড়িয়ে তেমন ম্যানেজ দিতে পারছেন না। তাই ভাবছিলাম আমার ঋণ খানিকটা শোধ করব।
- কিন্তু স্যার...।
- কোনও কিন্তু নয়...।
**
বুকটা ছ্যাঁত করে উঠলো মন্টুর। এ কী! তাঁর নিজের পকেট থেকে মানিব্যাগ হাওয়া? সর্বনাশ! কিন্তু মন্টু বিশেষ কিছু ঠাহর করার আগেই টের পেল পকেটে আবার ওজন ফেরত এসেছে; ও মা! এইত্তো ফিরে এসেছে মানিব্যাগ! ভোজবাজি নাকি মনের ভুল? ভরদুপুরবেলা হাটেবাজারে এমনটা হল? আচমকা পিঠে একটা নরম টোকা পেয়ে স্যাট করে ঘুরে তাকাল সে।
- কে? এ কী! মনোজ মাস্টার যে!
- নিজেকে খুব লায়েক ভাবিস তুই, তাই না মন্টু?
- না মানে...মাস্টারমশাই...শুনুন...এই কান ছাড়ুন না...এ কী।
- আমি গোড়াতেই বুঝেছিলাম যে প্রতি রোববার বাজার থেকে ফেরার পথে আমার মানিব্যাগে একটা দু'হাজার টাকার নোট উড়ে এসে জুড়ে বসে কী করে। শোন ব্যাটা! অঙ্কমাস্টার আমি, ঘাসে মুখ রেখে চলিনা। ওই লেভেলে পকেট থেকে মানিব্যাগ তুলে ফেরত রাখার এফিশিয়েন্সি যে শুধু তোর আছে সে'টাও আমি আঁচ করেছিলাম গোড়াতেই।
- ও মাস্টারমশাই, মাস্টারমশাই গো! পুলিশে দেবেন না প্লীজ...আমি কিন্তু ঠিক চুরি করিনি...বরং উলটোটা...।
- শাটাপ। আমায় চ্যারিটি করতে এসেছিস? তাও ওই গুণ্ডামাস্তানের টাকায়? তক্কে তক্কে ছিলাম শায়েস্তা করার। দিনের পর দিন প্র্যাক্টিস করেছি, যাতে খেল আমিও দেখাতে পারি।
- প্র্যাক্টিস?
- গত দেড় মাসে আমায় বারো হাজার টাকা দিয়েছিস, মানে ওই বিধুমাস্তানের দান আর কী। তোর পকেট থেকে মানিব্যাগ তুলে, তা'তে ছ'টা দু'হাজার টাকার নোট ফেরত রেখে ফের তোর পকেটে চালান করেছি। কী, কাজটা স্মুদলি করেছি তো? মন্টু পকেটমারের স্কিল ম্যাচ করতে পেরেছি তো?
- আজ্ঞে মাস্টারমশাই, লজ্জা দেবেন না...।
- শোন মন্টে, প্র্যাক্টিসে অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। ঠিক সময়ে অঙ্কটা সাফিশিয়েন্টলি প্র্যাক্টিস করলে আজ বিধুর এ'অবস্থা হত না। ছি ছি, মাস্তানির টাকায় নিজের মাস্টারের উপকার করবে? কী দুঃসাহস।
- আমার কোনও দোষ নেই, আমায় ছেড়ে দিন প্লীজ।
- তোকে ছেড়ে না দিলে তুই বিধুর মুখে ওই বারো হাজার টাকা ছুঁড়ে মারবি কী করে! আর শোন, বিধুকে বলে দিস যে বুড়ো শিক্ষকের প্রতি অত দরদ থাকলে যেন একদিন বাড়ি গিয়ে প্রণাম করে আসে। ও গুণ্ডা হলেও আমার ছাত্র। সে রাইট ওর আছে।
- বলে দেব। বলে দেব মাস্টারমশাই।
- আর এও বলে দিস, যে সে নিজে না এলে আমি তাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে এসে কান মুলবো। প্র্যাক্টিসে যে কী সম্ভব তা তো নিজের চোখেই দেখলি। এক মাসের প্র্যাক্টিসে তোর মত পকেটমারের পকেট যদি মারতে পারি, তা'হলে চেষ্টাচরিত্র করে কিডন্যাপিংয়েও বিধুর ওপর বাটপারি করাটা ইম্পসিবল নয়।
- আপনি যা যা বললেন,মুখস্থ করে নিয়েছি। বিধু স্যারের কাছে গিয়ে এক্কেরে উগরে দেব। এ'বার আসি?
- যাবি? দাঁড়া। এই ভরদুপুরে তোকে ধরে-বেঁধে এত জ্ঞান দিলাম। যাওয়ার আগে অন্তত দুটো রসগোল্লা খাওয়াই। চ'সমরের মিষ্টির দোকানে গিয়ে বসি খানিকক্ষণ। বিধু কেমন আছে সে খোঁজখবর একটু নেওয়া দরকার।

কলেজস্ট্রিট ও চলে যাওয়া



"দাদা, একটা ডিমরুটি৷ ডবল ডিম৷ একটু বাড়তি পেঁয়াজকুচি দেবেন প্লীজ?রুটির মাথাটা একটু বেশি বাদ দেবেন৷ হ্যাঁ, অতটাই৷ আর খুব কড়া ভাজবেন না, কেমন"?

দু'পাশ দিয়ে তরতরিয়ে বয়ে চলছে শশব্যস্ত কলেজ স্ট্রীট৷ হাতে সদ্য কেনা সাতপুরনো বই খানতিনেক, সেই হলদ ঝুরঝুরে কাগজের গন্ধ আর দরদামের ক্লান্তি মিলেমিশে বিকেলটা বড় মায়ার৷ স্টিলের ছোট গেলাসে চামচ দিয়ে ডিম ফেটানোর শব্দ হুট করে বুকে এসে ঠেকে৷
যাহ্, এইবার চলে যাওয়া৷

অবশ্য খানিকটা গড়িমসি করাই যায়৷ ইউনিভার্সিটির দিক থেকে হাঁটা শুরু করে কফিহাউসের সামনে পৌঁছোলে একটা পছন্দসই লেবু সরবতওলা পাওয়া যাবে৷ সে সরবতের গেলাস হাতে আরও মিনিট দশেক আদায় করে নেওয়াই যায়।

পুরনো পাড়ার গন্ধ, চেনা হইহট্টগোল, আর সে'সব ছাপিয়ে মনের মধ্যে "আমার আর কোথাও যাওয়ার নেই" মার্কা বিহ্বলতা; মাথা ঝিমঝিম করে ওঠে৷ লেবুর সরবতের গেলাসটা অত শক্ত করে না ধরলেও চলত বটে; কিন্তু ওই৷ ও'ভাবেই যদি অন্তত শেষের দশটি মিনিটকে টেনেহিঁচড়ে নিলডাউন করিয়ে রাখা যায়৷

দুই খোকা



মফস্বলি ওই কোণাটা নেহাতই জলাজঙ্গল। সাপখোপ, পোকামাকড়, ঝোপঝাড়, কাদাজল; কোনও কিছুরই অভাব নেই৷ তবে নরম রোদ্দুরের দুপুরে ও'দিকটায় গেলে আরামদায়ক ছায়া আর নদী ছুঁয়ে আসা তুরীয় ঠাণ্ডা হাওয়া জুটতে পারে। সে লোভেই ও'দিকটায় গেছিলাম। বসেছিলাম একটা গজিয়ে ওঠা ছোট্ট শিবমন্দিরের চাতাল ঘেঁষে।

আচমকা, চার্চের পাঁচিল টপকে দুই স্কুল-টেক্কা দেওয়া ছোকরা এ'পাশে নেমে এলো৷ আমাকে খানিকক্ষণ সন্দিগ্ধ চোখে জরীপ করার পর বুঝল আমি স্পাই নই, বরং আমার চোখে বোধ হয় সামান্য প্রশ্রয়ই ছিল। এরপর ঝাড়া আধঘণ্টা সে দু'জন স্রেফ রকমারী বাঁদরামি করে কাটিয়ে দিলে। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখে গেলাম৷

ব্যাটারা গাছ বেয়ে ওঠা নামা করলে৷
টারজানের মত হাঁক পাড়লে অকারণ৷
চেল্লামেল্লি করলে, হেসে গড়াগড়ি খেলে৷
শ্যাডো বোলিং করলে।
একে অপরকে গাঁট্টাও কষালে বোধ হয়।
আবার ঠিক আধঘণ্টার মাথায় আবার পাঁচিল টপকে সরেও পড়লে।

ও'টুকু সময়ের মধ্যেই মনপ্রাণ আলো করে দিয়ে গেল নাম-না-জানা দু'টো ছেলে। বেঁচেবর্তে থাক বাপেরা, আনন্দে থাক। আরও বহুবছর যেন ওরা ও'ভাবেই অপ্রয়োজনে পাঁচিল টপকে এই নিরিবিলিতে এসে হুলস্থুল পাকাতে পারে৷ দু'দিন বইতো নয়৷

পুনশ্চঃ ওদের স্কুল ইউনিফর্ম সত্যিই সার্থক।

বাইজুবাওরা

বাইজুর দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা জানিয়েছেন তাঁরা মর্মাহত এতগুলো মানুষকে ছাঁটাই করতে হল বলে। আড়াই-হাজার মানুষকে বাদ দিতে হল নিতান্ত নিরুপায় হয়েই, "প্রফিটেবিলিটি টার্গেট" বাগে আনতে। ব্যাপারটা এই যুগে দাঁড়িয়ে খুব একটা অদ্ভুত নয়, এমনটা তো আকছারই হচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা কিন্তু বাইজুপ্রধান যে মনভার করা "ওপেন লেটার"টি বাজারে ছেড়েছেন, সে'টিকে আলাদা করে স্যালুট না করে উপায় নেই। মুনাফা ম্যাক্সিমাইজ করতেই যুগেযুগে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে, ব্যাপারটার এথিকাল দিকে যাওয়ার কোনও মানে হয়না। কিন্তু এমন বুক বাজিয়ে আহা-উঁহু দুঃখ প্রকাশ করে পি-আর পয়েন্ট আদায় করতে বুকের পাটা লাগে। বাইজুপ্রধান সত্যিই এর জন্যে প্রশংসার দাবী রাখেন।

আড়াই হাজার মানুষের চাকরী গেল। আড়াই হাজার। ইংরেজিতে বলি, কানে তা'তে 'সুইটলি' বাজবে হয়ত; ট্যু অ্যান্ড আ হাফ থাউজ্যান্ড চাকরীজ; জাস্ট ফুড়ুৎ। সেই ঘ্যাচাং খবরটা মোলায়েমভাবে পেশ করে বাইজুপ্রধান চোখের জল মুছতে মুছতে বলেছেন, "কাজটা সহজ ছিল না মোটেও। আই অ্যাম সরি। কিন্তু কী করব বলুন, আমাদের এমন স্যাটাস্যাট গ্রোথ হবে সে'টা আগে থেকে ঠিক আঁচ করতে পারিনি। (যেহেতু আমারা আশাতীত ভাবে উন্নতি করেছি) কাজেই অতিরিক্ত 'ইনএফিশিয়েন্সি' আর 'রিডানডেন্সি' (লিঙ্কডইনকে আদরবাসা) আর নেওয়া যাচ্ছে না"।

এ'সব নিয়ে আলোচনার মানে হয়না। কিন্তু যেহেতু একটা মন-কেমনকরা "আহা, আমরা চাইনি, তবুও নিরুপায় হয়ে...সরি"-মার্কা চিঠি বাজারে (কাগজে-কাগজে) ছেড়েছেন, কাজেই দু'টো প্রশ্ন করাই যায়।

প্রথমত। ইনএফিশিয়েন্সি সম্বন্ধে। আড়াই হাজার ইনএফিশিয়েন্ট মানুষকে রিক্রুট করেছিলেন বাইজুবাবু? ট্যু অ্যান্ড আ হাফ থাউজ্যান্ড রিক্রুটমেন্ট ফেলিওরস? ভাবা যায়? এই যে তবে টেড-টকে শুনি, ভুল করা খারাপ। কিন্তু বারবার ভুল করাটা সাংঘাতিক লেভেলের পাপ। আড়াইহাজার ভুলভাল রিক্রুটমেন্ট? দলনেতার নাকের নীচ দিয়ে সে'টা এদ্দিন ঘটেছে? সে'টা কি এক ধরণের...ইয়ে...ইনএফিশিয়েন্সি? সে' ইনেফিশিয়েন্সির কোনও প্রতিকার আছে কি? কে জানে।

দ্বিতীয়ত। রিডানডেন্সি সম্বন্ধে। নিজের ব্যবসা কোনদিকে যাবে সে'টা ঠাহর করতে পারেননি? তাই এখন টুক করে সামান্য অ্যাডজাস্ট করে নেওয়া "প্রফিটেবিলিটি টার্গেট" মিট করতে? অথচ দেখুন, লীঙ্কডইন বলছে লীডারদের দূরদর্শী হতে হবে। কাজেই এই যে ব্যবসার ভবিষ্যৎ সঠিক ভাবে আঁচ করতে না পারা; সে'টা কি...ওই...রিডানডেন্সি?

যাক গে, এই খোলা চিঠিটার ডাকনাম দেওয়া হোক "শেষের কবিতা"।

মামার রিভেঞ্জ ফর্মুলা



- মামা, লোকে বলছে সাকসেস ইজ দ্য বেস্ট রিভেঞ্জ। এমন সাকসেসফুল হতে হবে যাতে হাড়বজ্জাত লোকজন হিংসেয় জাস্ট জ্বলে-পুড়ে খতম হয়ে যায়।

- বাহ্‌, তা'হলে আর চিন্তা কীসের। বদলার চিন্তা না করে, সাকসেসফুল হওয়ায় মন দে।

- খাটাখাটনি করছি বটে, তবে সাকসেস-টাকসেস ঠিক গ্রিপে আসছে না।

- তবে আর মরাল থিওরি কপচে হবেটা কী। যা গিয়ে দু'টো গাঁট্টা মেরে আয়। পারলে আড়াল থেকে ঢিল ছোঁড়।

- মারধোর করলে বড় লাগে। গাঁট্টার বদলে চিমটির সিচুয়েশন এলেই আমি ক্র্যাশ করে যাবো। নার্ভ ধরে রাখতে পারব না।

- গুণ্ডা লাগা।

- গুণ্ডা? তুমি শকুনি না কংস?

- সাকসেসফুল হয়ে লোকজনকে জেলাস করতে পারবি না। লাথি-ঘুষি চালাতে পারবি না। গসিপ ছড়াতে পারবি?

- গসিপ? আড়ালে-আবডালে নিন্দে করতে হবে?

- শুধু নিন্দে নয়। সে নিন্দে ডাহা মিথ্যে হতে হবে। স্ক্যান্ডাল তৈরি করতে হবে। ওটাই হচ্ছে কোল্ডেস্ট রিভেঞ্জ।

- মামা, আইডিয়াটা ভালো। কিন্তু...

- আবার কিন্তু?

- মিথ্যে বলতে খারাপ লাগে না। কিন্তু আমি ঠিক গুছিয়ে বলতে পারিনা। ছড়িয়ে ফেলি। খেই রাখতে পারিনা। গুলগুলো ইনকসিস্টেন্ট হয়ে যায়।

- নাহ, ওই নার্ভ নিয়ে গসিপ ছড়াতে যাসনা।

- মামা, আমার আর রিভেঞ্জ নেওয়া হবে না? এত অন্যায় অপবাদ স্রেফ ডাইজেস্ট করে নেব?

- সব অপমান যদি চিরকাল হজম করে যাস, তা'হলে এই দুনিয়া তোকে সার্ভাইভ করতে দেবেনা। গুরুদেব বলে গেছেন; জন্মিলে রিভেঞ্জিতে হবে, সন্ন্যাসী কে কোথা কবে।

- তবে উপায়?

- যখনই কেউ ইনসাল্ট করবে, সোজা নিজের প্রিয় কাটলেট আনিয়ে হেমন্ত শুনতে শুনতে খেতে আরম্ভ কর।

- তা'তে কী হবে?

- ম্যাজিক!

- ম্যাজিক?

- ম্যাজিক। যেই দেখবি কেউ বিট্রে করছে, অমনি কাটলেট-হেমন্ত ফায়্যার করবি। যত বিট্রেয়াল; তত কাটলেট, তত হেমন্ত। ক'দিন পর দেখবি তোর বডি বিট্রেয়ালের রেস্পন্সে নিজে থেকেই বাড়তি ডোপামিন জেনারেট করছে। শরীরের রেস্পন্স অ্যালগরিদমটাই পালটে দে। ল্যাঠা চুকে যাবে।

- থ্যাঙ্কিউ মামা। তা'হলে আপাতত জোড়া কাটলেট অর্ডার দেওয়া যাক..।