Saturday, April 9, 2022

বিরিয়ানির টেক-আনবক্সিং

টেক রিভিউয়াদের চ্যানেলে,
তাঁদের মনোগ্রাহী একপেশে স্টাইলে;

বিরিয়ানির আনবক্সিং ও রিভিউ দেখতে চাই৷ 

প্রথমে দেখানো হবে কনফিগারেশনঃ
৮ জিবি মাটন,
অক্টাকোর আলু,
কোয়াড এইচডি চাল,
তেলতেলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর,
ইত্যাদি। 

তারপরে পার্ফমেন্স টেস্টিং৷

দেখনাইয়ের রেজোলিউশন,
ফাস্টচার্জিং সুবাস৷
বোকে মোডে নলিহাড়ের মায়া,
হাইডেফিনিশন মশলার মাপা ম্যাজিক,

সবশেষে ফাইনাল রেটিং;

জিভে ক'লিটার জল বইবে।
ট্যাঁক কতটা ধসবে। 
আর, মনের গোরিলা গ্লাসে সে বিরিয়ানি কতটা দাগ ফেলবে৷

তবেই না রিভিউ৷ 

কবে পাবো আমরা বিরিয়ানির MKBHD বা "'মোস্ট-কাব্যিক-বিরিয়ানি-হাভাতে-ডিউড"কে?

Sunday, April 3, 2022

নাগরদোলা



হুড়মুড়, হইহল্লা, আলো ঝলমল; মেলার সন্ধ্যে যেমনটা হয় আর কী৷ অঙ্ক টিউশনের গুমোট কাটিয়ে একদল ছেলেমেয়ে সেই মফস্বলি মেলা চষে বেড়াচ্ছে৷ ঢাউস খানতিনেক চপের দোকান, সে'খানে সবচেয়ে সস্তা এবং হাই-সেলিং আইটেম হল আলুর চপ৷ ছাত্রসমাজে আলুর চপের ভূমিকা নিয়ে রীতিমত এস্যে লিখতে পারে অনি৷ কিন্তু ক্লাস টুয়েলভের ছাত্রেদের সে'সব জরুরী বিষয়ে ভাবতে শেখায়না সিলেবাস৷
হাওয়াই মিঠাইয়ের চিনিগোলা ব্যাপারটা অনির তেমন পছন্দ নয়, কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে হাওয়াই মিঠাই হাতে খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি না করলে মেলা আলুনি হয়ে পড়ে৷ সে ব্যাপারটা প্রায় ডিসিপ্লিনের পর্যায় পড়ে৷ এ'ছাড়া রয়েছে বন্দুকবাজি, বেলুন ওড়ানোর হুল্লোড়৷ সস্তা মনকাড়া জিনিসপাতির দোকানও অজস্র, সে'গুলো ঘুরে দেখাটাও গুরুদায়িত্ব৷ তবে আলুর চপ আর বন্দুকে উজাড় হয়ে যাওয়ার পর আর টিউশনফেরত ছেলেমেয়েদের তেমন কিছু কেনাকাটির দম থাকে না৷ বড়জোর দু'একটা পোস্টার, সস্তা ম্যাজিকের রসদ৷ আর সামান্য কিছুটাকা বাঁচিয়ে না রাখলেই নয়; মেলার স্লগওভারঃ নাগরদোলা৷
টিউশনির ব্যাচের সকলেই নাগরদোলায় চড়বে৷ ঢাউস একখানা চাকায় খানকয়েক টিনের আলখাল্লা বাক্স ঝোলানো। দোলা ঘুরবে, বাক্সগুলো মচমচ করে দুলবে৷ চলন্ত বাসের জানালায় কনুই রেখে বাপ-মায়ের ধমক খাওয়া ছেলেমেয়েরা এই খতরনাক চাকায় ঘুরপাক খেয়ে ফুর্তি করে৷ তবে অনির ব্যাপারটা আলাদা। ট্রেনের আপার বার্থে উঠতে গেলে তার বুক কাঁপে, রেলিং ছাড়া সিঁড়ি দেখলে গলা শুকিয়ে আসে৷ কাজেই নাগরদোলা অনির ধাতে সয়না৷
কিন্তু সে'দিনকার ব্যাপারটা আলাদা। সস্তা রেক্সিনের মানিব্যাগে রাখা শেষ দশটাকার নোটখানা বের করে টিকিট কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেছিল অনি। কারণ তেমনটাই কথা ছিল।
- অনি! তুই এমন কাঠ হয়ে বসে আছিস কেন?
- কাঠ? ক..কই না তো দিব্যি তো। রি..রিল্যাক্স করছি।
- তোর ভয় করছে।
- ধ..ধুস। আসলে..এ'ভাবে বসলে ইকুলিব্রিয়ামটা নষ্ট হবে না। তাই।
- তোর গলা কাঁপছে।
- ন..না রে ঝুমি। খুব হাওয়া তো। খুব। প্লাস এই মুভমেন্টটা..সব মিলে তোর কানের মধ্যে যে ভাইব্রেশন হচ্ছে..।
- আর এই যে...তোর হাত বরফের মত ঠাণ্ডা..।
- হা..হাত?
- বরফের মত।
- ও। ও আমার বডি টেম্পারেচার একটু..একটু..কমের দিকে। থার্মোমিটারে নিরানব্বুই মানে..মানে আমার ধুম জ্বর।
- তুই ভালো করে চোখ খুলতে পারছিস না অনি।
- ম..মিঠে..মিঠে হাওয়া..আরামে চোখ বুজে আসছে..।
- তোর মুখ শুকিয়ে গেছে। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। ঠিক করে তাকাতে পারছিস না। থামাতে বলব? চিৎকার করলেই হবে।
- ধ..ধুর..আমি তো ভাবছিলাম..আরও বার চারেক ঘুরব।
- এত ভয় যখন নাগরদোলায় উঠতে গেলি কেন?
- ভয়? ছোহ্! আমি..আমি দাবা খেলতে পারি এ'খানে বসে..ই..ইজি।
- তুই এত বড় গাধা কেন রে?
**
"অনি। কেমন আছিস?"
এই ফোনটা ছ'মাসে ন'মাসে একবার আসে অনির মোবাইলে। অফিস মিটিং, ডাক্তারের চেম্বার, বাজারঘাট; যে'খানেই থাক সে ফোন অনি ধরবেই। অবশ্য কথা বেশি দূর এগোয় না৷ কিন্তু বছর কুড়ি আগের সেই পাড়ার মেলার গন্ধ নাকে এসে ঠেকে; হাওয়াই মিঠাই, আলুর চপ মেশানো।
এই ফোনটা এলেই নাগরদোলায় বসা ধুকপুক ফেরত আসে। অনি টের পায় নিজের হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে।
তবে ভয়ের চোটে ঝুমির হাত টেনে ধরা আর নেই।
আছে শুধু অনির গলা-বুক শুকিয়ে যাওয়াটা।
আর আছে অনির তলপেট ফাঁকা হয়ে কথা বন্ধ হয়ে যাওয়াটা।
আরও একটা ব্যাপার উবে যায়নি। ফোন রাখার আগে ও'পাশ থেকে ভেসে আসা চাপা ধমকঃ "তুই এত বড় গাধা কেন রে"?
**
- অনি, আজ টিউশনির পর সবাই মিলে মেলায় যাব। তুই যাবি তো?
- সদাগোপান রমেশের পোস্টার পাওয়া যাচ্ছে মেলায়। রেয়ার। কলেক্ট করতে হচ্ছে।
- আমরা নাগরদোলায় চড়ব, কেমন? ওই ঢাউসটায়। একসঙ্গে। পাশাপাশি।
- নাগরদোলায়?
- হ্যাঁ। সবার সামনে তোকে আলাদা করব বলতে পারব না। চুপচাপ পাশে এসে বসবি।
- নাগরদোলাফাগরদোলা আমার পোষায় না।
- তুই ভয় পাস?
- ভয়? কী যে বলিস তুই ঝুমি। ব্যাপারটা অত্যন্ত জুভেনাইল। হাস্যকর।
- তুই এত বড় গাধা কেন রে?

হুতোমবাবু ও দাদা

- দাদা, হয়ে গেছে।
- হয়ে গেছে হুতোম?
- ঘরদোর সাফসুতরো। বাসনপত্র মেজে রেখেছি৷ বাথরুমের চারটে বালতিতে জল ভরে রাখা আছে৷ তোমার ওষুধের স্টক রিফিলিড৷ ডিনারে আলু পটলের তরকারি আর মাগুরের ঝোল৷ ফ্রিজে রাখা আছে৷
- তুই প্রতিবারই বড্ড বেশি পরিমাণে রেঁধে যাস৷ শেষে দু'বেলা ধরে খেতে হয়৷
- এমন হাইক্লাস রেঁধেছি দাদা, কম পড়লে হাত কামড়াতে।
- তোর তুলনা নেই হুতোম। তুই মার্ভেলাস।
- দাদা, এ'বার আমি আসি?
- বেরোবি?
- বেরোব না? সাতাটা বাজে৷ ট্যাক্সি নিলেও ফিরতে ফিরতে সেই রাত ন'টা৷ টিভি সিরিয়াল মিস হয়ে যাবে দাদা।
- শোন না হুতোম, আজ থেকেই যা না৷
- থেকে যাব? তা হয়না৷
- অদ্ভত গোঁয়ার গোবিন্দ তুই৷
- এ'টা গোঁয়ার্তুমি? যে বাড়ি থেকে বাবা আমায় তাড়িয়ে দিয়েছে, সে বাড়িতে আমি রাত্রিবাস করব? নেভার৷ দ্যাখো দাদা, আমি আসি তোমার টানে৷ একা মানুষ, অসুস্থ৷ মায়ের পেটের ভাই না দেখলে আর দেখবেটা কে৷ কিন্তু তুমি আমায় রাত্রিবাস করতে বলবে না৷ খবরদার।
- বাবা বুড়ো বয়সে অভিমানে কী না কী বলেছে, তার জন্য ভিটেমাটি ছেড়ে দিবি?
- বুড়ো সাংঘাতিক ধান্দাবাজ ছিল৷ সবে হিসেব করে বলেছে৷ আমায় স্ক্যান্ডালকুমার আর গবেটগ্যাম্বলার বলে খোঁটা দেওয়া? না হয় নিজের মাইনের দু'পয়সা জুয়ায় উড়িয়েছি৷ তার জন্য একটা দামড়া লোককে মাঝরাতে বাড়িছাড়া করবে?
- বাবা একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিল বটে৷ কিন্তু যে বেঁচে নেই, তার ওপর রাগ পুষে রাখবি রে?
- দাদা, আসি৷ আর এ'বার আয়া চেঞ্জ করো দেখি৷ এত কামাই করে। রোজ রোজ তো আর এদ্দূর ছুটে আসা সম্ভব হয়না৷
**
হুতোমবাবু সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে সামনের পানদোকান থেকে একটা খয়ের ছাড়া সাদা পান কিনে মুখে দিলেন৷
দাদাকে দেখতে এসে প্রতিবারই রান্নাঘরে ঢোকেন তিনি৷ নিজের হাতে দাদাকে রেঁধে খাওয়ানোর যে আনন্দ৷ আহা৷ বাবার কথা মনে পড়ে৷ হুতোমের হাতের রান্না পেলে বাবা রেস্তোরাঁর খাবারদাবারও পাশে সরিয়ে রাখতেন৷ কতবার মাকে ঠেস দিয়ে বাবা বলেছেন, "তোমার ছোটছেলের থেকে রান্নার টিপস নিলে পারো তো"৷ মা মিচকি হাসতেন; বড় নরম মানুষ ছিল মা৷ বড় মায়ার৷
প্রত্যেকবার বাড়ি ফিরে দাদার জন্য মনপ্রাণ দিয়ে রান্না করেন হুতোম। প্রতিবার দুটো মানুষের জন্য রান্না করেন। কতবার মনে হয় "আজ থেকেই যাব। দুই ভাই মিলে এঁটো হাতে গপ্প জুড়ব"। কোনওবারই থাকা হয়না।
তবে হুতোমবাবু নিশ্চিত, একদিন ঠিক তিনি টিভি সিরিয়ালের টানে হুড়মুড় করে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন না। দু'জনের জন্য করা রান্না দাদাকে দু'বেলা জুড়ে একলা খেতে হবে না।

গোলাপি খাম আর মুদীর ফর্দ



- অনি, এ'দিকে আয়৷
- আ..আমায় ডাকছেন স্যার?
- তুই ছাড়া আশেপাশে আর কে আছে যে ডাকব?
- স্যার, ভালো আছেন? আপনার ব্লাডশুগার কন্ট্রোলে আছে তো? আমার জ্যাঠাইমা কী বলে জানেন? ব্লাডশুগার হল সাইলেন্ট কিলার। আমি অবশ্য..।
- এ'বেলা ও'বেলা রোজ ইস্কুলে পথেঘাটে দেখা হচ্ছে, আজ হঠাৎ তোর আমার খবর নেওয়ার দরকার পড়ল কেন?
- আপনি গুরুজন স্যার৷ আমাদের আইডল..।
- ব্যাপারটা কী বল দেখি? আমার বাড়ির সামনে ঘুরঘুর করছিস কেন? আর ওই দোতলার দক্ষিণের জানালার দিকে এত উঁকিঝুঁকি কীসের?
- দোতলা? না না। আমি আপনার ছাতে মেলা ওই নীল ফতুয়াটা অবজার্ভ করছিলাম। ওটা পরেই আপনি গত মঙ্গলবার আমায় আর বিশুকে আড়ং ধোলাই দিয়েছিলেন না স্যার? ওই ফতুয়াটা দেখছিলাম আর আপনার ক্লাসের কথা মনে পড়ছিল, বিশ্বাস করুন। থ্রিলিং৷
- তোর হাতে ও'টা কী?
- হাতে?
- ডান হাতে৷ ও'টা কী।
- এ'টা?
- হ্যাঁ। ও'টা কী?
- এ'টা কিছুই না স্যার৷ কিস্যু না৷ একেবারেই কিছু না৷ কখনই কিছু ছিল না৷
- অনি৷ ও'টা কীসের খাম।
- চিঠির।
- কী চিঠি?
- মু..মুদীখানার।
- মুদীখানার চিঠি?
- ইয়ে..হ্যাঁ। পিসেমশাই লিখে পাঠিয়েছে। মাঝেমধ্যেই লেখে পিসে৷ তাই তো এই খাম নিয়ে গোকুলকাকার দোকানে যাচ্ছিলাম৷ এই রাস্তা দিয়েই আমি ও'দিকে যাই৷ আপনি ভাবছেন এই ঘুরলি রাস্তা দিয়ে খামোখা কেন যাওয়া৷ আসলে পিটি স্যার অনুকুলবাবু বারবার বলেন, দিনে অন্তত দশ কিলোমিটার না হাঁটলে চলবে না..।
- তোর পিসেমশাই গোকুলের মুদীর দোকানে চিঠি পাঠায়? মাঝেমধ্যেই?
- না মানে, ঠিক চিঠি নয়। ফর্দ। মাসকাবারি জিনিসপত্রের।
- মুদীর ফর্দ পাঠায় গোলাপি খামে?
- পিসে বড় শৌখিন স্যার। বড় শৌখিন৷ সে'বার পিসির বালুচরির আঁচল দিয়ে এঁটো টেবিল পুছে তিনদিনের জন্য গা ঢাকা দিয়েছিল। চীনেবাদামটুকুও দামী চিনেমাটির প্লেট আর কাঁটাচামচ আর ছুরি ছাড়া খেতে পারে না।
- পিটিয়ে তোর চামড়া তুলে নেব রে রাস্কেল।
- আমি..আমি বরং আসি স্যার..।
- ফের যদি ঝুমির ধারেকাছে ঘুরঘুর করতে দেখেছি..।
- ঝুমি কে স্যার? নামটা তো কখনও শুনেছি বলে..।
- থার্ড ডিগ্রী শুনেছিস? ঝুমির জানালার নীচে ফের যদি তোকে তিড়িংবিড়িং করতে দেখেছি..।
- স্যার, আমি আজ আসি৷ দেরী হলে পিসেমশাই চিন্তা করবেন। মাসকাবারির ফর্দের মধ্যে সাদা তেল রয়েছে তো৷ ও'টা সময়মত না পৌঁছলে আবার লুচি ভাজা শুরু করা যাবে না৷ আর সময়মত লুচি না পেলে পিসের মাথাটা কেমন যেন গোলমাল হয়ে যায়। সে এক কেলেংকারি কাণ্ড৷ ও গল্প পরে হবে স্যার৷ আজ আসি৷ আর শুগারটাকে হাল্কাচালে নেবেন না স্যার, প্লীজ৷ আসি, কেমন?

Thursday, March 24, 2022

সুমনবাবুর হুকুম



- কফি চলবে অনিলবাবু?

- না৷ থাক৷

- টাকাটা পেয়ে গেছেন আশা করি।

- হ্যাঁ।

- ভালো কথা৷ কাল গুপ্তাদের চারটে ট্রাক বর্ডার ক্রস করে ওদের করিমগঞ্জের গোডাউনের দিকে যাবে৷ বড় কনসাইনমেন্ট, হাতাতে হবে৷

- বারো পার্সেন্ট।

- দশ থেকে এক্কেবারে বারো? ট্যুয়েন্টি পার্সেন্ট জাম্প? আপনি যে আমাদেরও এক্সটর্ট করতে শুরু করলেন মশাই৷ ও'টা এগারো করুন।

- বারো৷

- আমার কথার অনারে অন্তত কিছুটা..। সাড়ে এগারো, ফাইনাল! সেটল করুন।

- শম্ভু সিংকে বলুন৷ সাড়ে সাতে ট্রাক হাতিয়ে আপনার জিম্মায় ফেলে দেবে৷ তবে ওর পুলিশের ওপর কন্ট্রোল কম৷ সে ঝক্কিটা সামাল দিতে পারবেন নিশ্চয়ই৷

- সামনে বসিয়ে কফি অফার করেছি বলে নিজেকে আমার ইকুয়াল বলে ভেবে বসবেন না অনিল৷ 

- ও মা, না! আপনি পে-মাস্টার৷ আমাদের নমস্য৷ আর শম্ভু একসময় আমারই সাগরেদ ছিল৷ ইদানীং নিজের মত করে লাইনে নেমেছে, উইথ মাই ব্লেসিংস৷ তাই ভাবলাম রেকমেন্ড করি৷ ব্যাপারটা অন্যভাবে নেবেন না সুমনবাবু৷

- আপনার থেকে আমার বয়স অনেক কম হতে পারে৷ কিন্তু আমি গুণ্ডা নই অনিলবাবু, আমি একজন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট। বাজারে আমার একটা সুনাম আছে৷ অবশ্য দোষটা আমার বাবার৷ বেঁচে থাকতে লাই দিয়ে আপনাদের মাথায় তুলে গেছে, আর এখন সাফার করছি আমরা। যাক গে, আপনার সঙ্গে তর্ক করে সময় নষ্ট করতে চাইনা। ওই বারো পার্সেন্টই পাবেন। কিন্তু কাজে যেন ঢিল না দেখি৷আপনার ছেলেদের বলে রাখবেন৷ ট্রাকের ডিটেলস আমি পাঠিয়ে দেব৷ 

- আপনার বাবার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা একটু অন্যরকম ছিল বটে৷ সে যাকগে। সুমনবাবু,আপনি বোধ হয় আমাদের ওপর সামান্য অসন্তুষ্ট৷ তাই কি?

- ন্যাচরেলি। আপনার স্যাঙাৎ, ওই কী যেন নাম..বিমল। গতকাল সে আমার অফিসে এসে কী রুডলি কথা বলে গেল৷ আমার ইচ্ছে ছিল মেরে চামড়া গুটিয়ে নেওয়া। আমি বেশি ঝামেলায় না গিয়ে স্রেফ খানকয়েক চড়চাপড় মেরে ছেড়ে দিয়েছি। তবে অতটা লিনিয়েন্ট আমি না হলেও পারতাম। আপনার দলের ছেলে আমার সঙ্গে ও'ভাবে কথা বলতে সাহস পায় কী করে?

- সে কী! বিমল আপনার সঙ্গে মিসবিহেভ করলে?

- রীতিমত। আরে আমার শালাবাবুর একটা মেডিকাল সিক সার্টিফিকেট চাই, অফিসে জমা দিয়ে আর্জেন্ট ছুটির দরখাস্ত করতে হবে৷ আমি বিমলকে বললাম একটা ডাক্তারকে চমকে মাসতিনেকের সিক সার্টিফিকেট লিখিয়ে আনবে। এ'সব সামান্য ফাইফরমাশ খাটার  সার্ভিস যদি নাই পাই, তা'হলে এত খরচ করে গুণ্ডা পুষছি কেন। তো অথচ আপনার বিমল বলে কিনা পয়সা ছাড়া কোনও কাজ সে করবে না৷ ক্যান ইউ ইম্যাজিন?আমার মুখের ওপর সে বললে যে এমন ছিচকে কাজ সে করে না? রাস্কেলটা কি ভেবেছে কি নিজেকে? 

- নাহ্৷ কাজটা বিমল ঠিক করেনি৷ ও নিয়ে আপনি ভাববেন না। সিক সার্টিফিকেট পরশু দুপুরের মধ্যে পেয়ে যাবেন। আপনার শালার নাম আর বয়সটা লিখে দেবেন, তা'হলেই হবে। আপনার জন্য এ'টুকু আমরা করতেই পারি। 

- যাক৷ ঠিক আছে৷ আর দেখুন অনিলবাবু৷ ও'সব চ্যাংড়া ছেলেকে আমার কাছে পাঠাবেন না৷ 

- নাহ্, সিনসিয়ার এপলজিস। 

**

- হ্যালো। সুমনস্যার, আমি ফ্যাক্টরি থেকে বলছি। তাপস। খানিকক্ষণ আগে হয়েছে কী..। 

- পঞ্জিকা খুলে বসতে হবে না৷ ট্রাক ঢুকেছে?

- আধঘণ্টা আগে। 

- মালপত্র? 

- সব আছে৷ যেমন খবর ছিল।

- গুড৷ নাহ্, অনিল গুণ্ডার এলেম আছে৷ আগাম বারো পার্সেন্ট নেওয়াটা গায়ে লেগেছিল বটে, তবে কাজকর্ম এত স্মুদলি এক্সেকিউট করে যে পুষিয়ে যায়..।

- ইয়ে, স্যার..অন্য একটা জরুরী খবর দিতে আপনাকে ফোন করা..।

- আবার কী? গুপ্তারা আরও ট্রাক আনাচ্ছে?

- না স্যার৷ ব্যাপারটা একটু সিরিয়াস৷ একটা ট্রাকে..একটা ট্রাকে মালের মধ্যে...হয়েছে কী...।

- তাপস৷ ভ্যানতারা ছাড়ো।

- একটা ট্রাকে আপনার শালাকে পাওয়া গেছে...আনকনশাস..পা দু'টো বিচ্ছিরি ভাবে থেঁতলানো৷ মুখেও চোট আছে। আর বড্ড ব্লাডলস হয়েছে। আমরা ইমিডিয়েটলি এম্বুলেন্স ডেকেছি..এখনও এসে পৌঁছয়নি। আশপাশ থেকে একজন ডাক্তারকেও ধরে এনে দেখানো হয়েছে৷ ডাক্তার দেখে বললেন ইমিডিয়েটলি অ্যাডমিট করতে হবে৷ অন্তত মাসতিনেক হাসপাতালের ধাক্কা..।