Thursday, March 24, 2022

শুটিংয়ে ফেলুদা আর আমাদের আকাশকুসুম



ছোটবেলায় পড়া প্রিয় অ্যাডভেঞ্চার বইয়ের ইলাস্ট্রেশন রিক্রিয়েট করার প্রসেসটা নির্ঘাৎ দারুণ জমজমাট৷ ব্যাপারটায় ঠিক কী কী ঘটে? 

সেটে সবার হাতে ফেলুদার বইয়ের সেই ছবি আঁকা পাতাটা ঘোরাঘুরি করে? 

নির্দেশক অভিনেতা অভিনেত্রী এবং সমস্ত কলাকুশলীরা কি নিজেদের কাজ সাইডে রেখে বইয়ের ছবিতে লালমোহনের বসার অ্যাঙ্গেল আর সেটের লালমোহনের বসার ভঙ্গি মিলল কিনা তা নিয়ে মারাত্মক তর্ক জুড়ে বসেন? 

সেটের ফেলুদাকে কি পাইকারি হারে জ্ঞান শুনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়তে হয়? 

অকুস্থলে উপস্থিত প্রতিটা মানুষই কি ভেবে বসেন না যে " আহ্, আমিই যদি ফেলুদার সেই একপেশে ক্যারিস্মাটা নিজে গিয়ে ডেমোন্সট্রেট করে দিতে পারতাম"!

আর সেটের 'এক্সট্রা' বা ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা সংলাপহীন জুনিয়র অভিনেতারাও কি বইয়ে আঁকা ছবিতে নিজের খুঁজে হদ্দ হন? এই যেমন এ'খানে বইয়ের আঁকায় এক দম্পতি (তাদের দাম্পত্য নেহাতই আমার  কল্পনার ফসল) খানিকদূরে হেঁটে যাচ্ছেন। আবার সেটের ছবির আবছা ব্যাকগ্রাউন্ডে সে দম্পতি দূরের সোফায় বসে। সোফায় বসে কি তাদের মনের মধ্যে খতরনাক হ্যাঁচোড়প্যাঁচোড় শুরু হয়েছে "প্রিসাইস রোলে" নিজেদের ফেলতে না পেরে?

দিনের শেষে ফাইনাল আউটপুট দেখে মানুষজন কি নিজেদের হাত কামড়ে ওঠেন খুচখাচ 'তফাৎ স্পট' করে? "এ কী ভাই, নুনের ডিবেগুলো ফ্রেমে নেই কেন? কে সরিয়েছে? কোর্ট মার্শাল, রাইট নাউ"! 

আর, এর ফলে কি একসেট মানুষ নতুন করে ফেলুদা পড়তে শুরু করেন? 

কে জানে!

প্রিয় বইয়ের আঁকা ছবি শুটিং ফ্লোরে রিক্রিয়েট হওয়ার ব্যাপারটা রীতিমত টিকিট কেটে দেখা যায়৷ কিন্তু তা যখন সম্ভব নয়, তখন "আরিব্বাস" বলে বুকের ছ্যাঁত চেপে "দার্জিলিং জমজমাট" বইটা তাক থেকে নামানো ছাড়া আর বিশেষ কোনও উপায় থাকে না।

প্রতিবাদের হিসেব

- খবরটা শুনেছ সৌরভদা?

- শুনেছি৷ 

- গা শিউরে উঠছে।

- ব্যাপারটা বেশ আননার্ভিং তো বটেই।

- ক্লাবের ছেলেমেয়েদের ডাকব? আজ সন্ধ্যের দিকে একটা মিটিং করে যদি..।

- হঠাৎ মিটিং কীসের শুভ?

- আজকের এই পলিটিকাল নৃশংসতার বিরুদ্ধে একটা প্রটেস্ট তো হওয়া দরকার৷ এতবড় একটা ঘটনা ঘটে গেল অথচ সবাই নিশ্চুপ৷ রাস্তাঘাটে তেমন কাউকে সোচ্চার হতেও দেখা যাচ্ছে না৷ কিন্তু তুমি যদি সবাইকে গাইড করো, ইন্সপায়্যার করো; তা'হলে সবাই বুকে বল পাবে৷ সাহস করে রাস্তায় নামবে৷ তুমিই তো কতবার আমাদের টেনে নিয়ে গেছ সৌরভদা৷  তুমি পাশে ছিলে বলেই আমরা..।

- এই তোদের একটা বিচ্ছিরি রোগ শুভ৷ সব কিছুতেই পলিটিকাল লাফালাফি৷ এ'বার থাম দেখি৷ আর মন্টুকে বল একটু চা-মুড়ির ব্যবস্থা করতে৷ বড্ড খিদে পেয়েছে৷ 

- এ'টার রাজনৈতিক প্রটেস্ট হওয়া উচিৎ নয়?

- না৷ উচিৎ নয়৷

- কী বলছ সৌরভদা, ইউক্রেনের ব্যাপারেও আমরা পথে নেমেছি৷ আর নিজেদের পাড়ার ব্যাপারটাকে পাত্তা দেব না? অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকব?

- সে'টাই করা দরকার৷ পুটিন আমাদের ক্লাবের ফান্ডে টাকা ঢালেনা৷ পুটিন আমাদের ক্লাবের জিম বানানোর জন্য টাকা দেবে না৷ নতুন টিটিবোর্ডগুলো রাশিয়া থেকে আসবে না। কিন্তু এমএলএ শ্যামল দত্ত ক্লাবকে রসেবশে রাখবে৷ এই  ছুটকোছাটকা ব্যাপার নিয়ে আমরা প্রটেস্ট-ট্রটেস্ট করলে শ্যামলদা একটু এমব্যারেসড হতে পারে৷ 

- ছুটকোছাটকা? তুমি এ'ভাবে বলবে সৌরভদা? এত বড় একটা পলিটিকাল ক্রাইম! এর কোনও প্রতিবাদ হবে না?

- শুভ, নিজের ভালো বুঝতে পারাটাও পলিটিক্স৷ আর সে জন্যেই, সব ব্যাপারে ছিঁচকাঁদুনে হয়ে রাজনীতি টেনে আনিস না৷ এখন এ'সব বাজে কথা ছেড়ে মন্টুকে বল চট করে চা-মুড়ি-চপ দিয়ে যাবে৷  সে'সব খেয়েদেয়ে ক্যারম পেটানো যাবে'খন৷ 

Saturday, March 12, 2022

অপড়ুয়ার বইমেলা



আরে! কাল বইমেলা শেষ৷ ফেসবুক ট্যুইটারের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই, অজস্র 'বইমেলার সেল্ফি'র বদান্যতায় এদ্দূরে বসেও সে মেলার গমগম দিব্যি উপভোগ করলাম৷ 

চেনামানুষের হাতে অচেনা বই৷
অচেনা মানুষের হাতে চেনা বই৷
খাবারের স্টলে হুমড়ি খেয়ে পড়া বইপ্রেমি৷
আড়ালে থাকা ছোট স্টলের কাউন্টারে বসা দোকানির দমে না যাওয়া হাসি৷
বড় প্রকাশনার সামনে উৎসাহী লাইন।
নতুন প্রকাশকদের ঘিরে আশাবাদী মানুষের উচ্ছ্বাস।
আর সমস্ত কিছুর ওপর রয়েছে বড়দের হাত ধরে ঘুরঘুর করা ছোট্ট ছেলেমেয়েরা৷
আসলে, বইয়ের জমায়েত মানেই লাইব্রেরির নিঝুম নয়, চশমা ডাঁটি চেবানো গম্ভীর আলোচনা নয়; বই উৎসবও বটে। 


মেলা আলো করা এত মানুষের মধ্যে সবাই কি বইয়ের পোকা? নিশ্চয়ই নয়৷ কিন্তু কী এসে যায় তা'তে৷ স্রেফ বই পড়ে কে কবে নিখুঁত মানুষ হয়েছে, বই পড়ার নেশা না থাকাতেই বা কার ভালোমানুষি নষ্ট হয়েছে৷ আর বইয়ের পড়ার সময় বা সুযোগ; সবার সমান নয় মোটেও৷ কাজেই, বইহুল্লোড় পাঠক-পাঠিকাদের মনোপলি নয় মোটেও৷ 

এই ধরুন, বই-নিরেট কোনও মানুষ বইমেলার কোনও স্টলে ঢুকে টুক করে একটা বই হাতে নিয়ে দু'প্যারাগ্রাফ পড়লেন৷ সে পড়া জলে গেল ভেবেছেন? আদৌ না৷

অপাঠক-প্রেমিক তার একনিষ্ঠ-পাঠিকা-প্রেমিকার কেনা অজস্র বইয়ের অর্ধেকভার কাঁধে নিয়ে বইমেলার  সাতপাক ঘুরলে আর ধুলো খেয়ে হদ্দ হলে। তা কি সাহিত্যের বাইরে? নেভার!

খবরের কাগজের বাইরে একটা শব্দও না পড়া কোনও বাবা পাশের অচেনা মানুষটার কাছে সাজেশন চাইছেন নিজের স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়ের জন্য কোন গল্পের বইগুলো কিনলে তারা সাগ্রহে পড়বে৷ সেই গায়ে পড়া বইপ্রশ্নের গুরুত্ব কোনও গুরুগম্ভীর লিটফেস্ট প্যানেল ডিসকাশনের তুলনায় খেলো? হতেই পারেনা।

কিছুতেই দু'পাতার বেশি পড়ার ধৈর্য কুলিয়ে উঠতে না পারা কেউ 'এ'বারে ঠিক পড়বই' মার্কা দুঃসাহস নিয়ে মাইনের অনেকটা ঘ্যাচাং করে উড়িয়ে দিলেন  বইমেলার হুজুগে গা ভাসিয়ে৷ হয়ত সেই বইগুলোও পড়া হবে না৷ তা বলে সে দুঃসাহসটুকু কি এক্কেবারেই ফেলনা? অবশ্যই না৷ 

গপগপিয়ে বইগেলা মানুষরাই বই নিয়ে শেষ কথা বলবেন না৷ বইমেলার আনন্দোৎসব সে ভরসাটুকু জোগায় বটে।

**

ইয়ে। বিজ্ঞাপনটা ঠেকিয়ে রাখা গেল না৷ এ'বার বইমেলায় আমার যাওয়াটাওয়া হল না৷ তবে ওই মেলারই এক কোণে, পত্রভারতীর স্টলে আমার লেখা খানদুই বই রয়েছে৷ 'বংপেন-৭৫' আর 'বংপেন-আরও ৭৫'। নেড়েচেড়ে দেখতে পারেন, বেশ মজবুত; ডেঁপো ভাইবোন বা হাড়জ্বালানো ইয়ারদোস্তকে শায়েস্তা করতে হলে ও বইয়ের একটা গুঁতোই যথেষ্ট৷

Thursday, March 10, 2022

দারোগা আর টিকিট-চেকার



- টিকিট দেখি৷

- হুম?

- টিকিট৷ টিকিট দেখি৷

- আপনি আমায় দেখতে পারছেন?

- মানে?

- আপনি আমায় দেখতে পারছেন?

- ইয়ার্কি হচ্ছে? টিকিট দেখি৷

- খোলসা করে বলুন তো মশাই, আপনি টিকিট চেকার না তান্ত্রিক?

- রাতের ট্রেনে ফাঁকা কামরা দেখে উঠে ভেবেছেন টিকিট ফাঁকি দেবেন? বিজন চট্টরাজকে ফাঁকি দেবেন? টিকিট না থাকলে সোজা ফাইন বের করুন৷ 

- বিজনবাবু, মড়ার আবার টিকিট লাগে নাকি৷

- বটে? বেশ! সামনেই সাঁতরাগাছি৷ রেলপুলিশের থানায় ডিনার সারবেন৷ চলুন।

- আরে৷ আমি তো ভূত৷ অশরীরী৷ ভেসে বেড়াই৷ এই এখন এই ট্রেনে, পরক্ষণেই হয়ত আমাজনের জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছি৷

- অমন সুবিধেবাদি পাগল কম দেখিনি৷ চলুন, স্টেশনে ঢুকছে ট্রেন৷ থানায় ঢুকিয়ে তারপর আমি এগোব৷

**

- আরে ধুর মশাই৷ আর একবার "আমি ভূত আমি ভূত" ডায়লগ শুনলেই থার্ড ডিগ্রী দেব৷

- আরে দারোগাদাদা! নাহ্৷ আপনি সত্যিই বড় আলাভোলা মানুষ৷ আরে ভূতকে থার্ড ডিগ্রী দিলে লোক হাসবে যে৷ 

- উফ! রাতবিরেতে এই চট্টরাজ কী খ্যাপা মাল গছিয়ে দিয়ে গেল মাইরি। এই আপনি বেরোন দেখি৷ খবরদার যেন আপনাকে এই পুলিশ চৌকির আশেপাশে আর আপনাকে না দেখি৷

- আমায় তো দেখতে পাওয়ার কথাই নয়৷ তবে হ্যাঁ, ট্রেনে কাটা পড়েছি হপ্তাখানেকের বেশি হয়নি তো৷ তাই বোধহয় এখনও কম্পলিটলি ফর্মলেস হইনি৷ সে যাকগে, দিন কয়েক যাক৷ এখন তো আর অফিস যাওয়ার তাড়াও নেই, বাড়ি ফেরার ব্যস্ততাও নেই৷ ধীরসুস্থে যা হয় হবে, অখণ্ড অবসর বলে কথা।

- ধন্যি মশাই আপনি৷ বেশ৷ তাই হোক৷ তা ভূতদাদা, আপনার বাড়ি কোথায়? আই মীন, জ্যান্ত থাকতে কোথায় নিবাস ছিল আপনার?

- এই এ'এলাকাতেই। স্টেশনরোড থেকে রিক্সা করে বড়জোর দশ মিনিট লাগত৷ সতেরো বাই তিন, মধু দত্ত লেন৷ 

- চলুন৷ আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দিই৷ 

- এই বুদ্ধি নিয়ে আপনি চোরছ্যাঁচড়দের ম্যানেজ কী'ভাবে করেন দারোগাবাবু? আরে আমি মারা গেছি৷ ডেড৷ গন৷ ইহজাগতিক মায়া ত্যাগ করেছি৷ আমি কী করব বাড়ি ফিরে? শেষে বাড়ির লোকজনদের হন্ট করে শশব্যস্ত করে তুলি আর কী৷

- চোপ! অনেক হয়েছে! আর একটাও কথা নয়৷ হাবিলদার৷ এ যন্তরটিকে জিপে নিয়ে তোলো, এখুনি! 

- আহা, বেশ তো৷ তা হাবিলদারদাদা, পকেটে লোহাটোহার টুকরো রাখবেন কিছু, কেমন? নয়ত ভূতের ইনফ্লুয়েন্সে ক্ষতিটতি হয়ে যেতে পারে৷ 

**

- খোকা, তুই নির্ঘাৎ প্ল্যানচেট শিখেছিস, তাই না? সে জন্যেই বাড়িতে ঢুকতে পারলাম৷ 

- বাবা, মাইরি৷ এই পাগলামিটা এ'বার ছাড়ো। তুমি দিব্যি জলজ্যান্ত মানুষ। খামোখাই লোকজনের হাড় জ্বালিয়ে বেড়াচ্ছ৷ পাড়াপ্রতিবেশি এখন আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করছে৷ এ'বার ভিতরে যাও৷ মা চিন্তা করে পাগল হয়ে গেছে৷

- এই দ্যাখো৷ তুইও বোকা বনে গেলি নাকি৷ আরে শোন, গত হপ্তাতেই কাটা পড়েছি, মাইরি৷ এই, জিজ্ঞেস কর দারোগাবাবুকে.. কী দারোগাবাবু, তাই না? আমি টোট্যালি ইনট্যাঞ্জিবল এখন৷ তোদের জগত থেকে অনেক দূরে চলে গেছি৷ এ তো শুধু মাঝেমধ্যে ঘুরে যাওয়া। মায়ার টান, এট সেটেরা এট সেটেরা।

- উফফ! অসহ্য৷ 

- এই দেখো! আরে দারোগাবাবু, আপনিই একবার বুঝিয়ে বলুন না খোকাকে৷ আরে ও দারোগাবাবু, এ কী! চললেন কোথায়? ও মা, দাঁড়ান! এই দ্যাখো, চলে গেলো। 

**

- ভাই চট্টরাজ, কাল তুমি যে কোন পাগলকে গছিয়ে দিয়ে গেলে..উফ!

- আসলে কী জানো দারোগা, সে ব্যাটা পাগল কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ হচ্ছিল৷ মনে হচ্ছিল স্রেফ টিকিট ফাঁকি দেওয়ার জন্যই..।

- ওরে বাবা, না না৷ প্রথমে আমিও তাই ভেবেছিলাম৷ তারপর সে যা নাকানিচোবানি খাওয়ালে..বাপ রে বাপ। শেষে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে গিয়ে আর এক বিপত্তি। 

- তুমি ওকে বাড়ি ছাড়তে গেছিলে?

- হিউম্যানিট্যারিয়ান ইয়ে আর কী৷ কিন্তু গিয়ে আর এক সমস্যা৷ 

- কী'রকম?

- থানায় বসে একটানা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিল৷ তাই একরকম বাধ্য হয়েই আমি ভাবলাম, যাই, বাড়ির ভিতর লোকজনের কাছে ভদ্রলোককে পৌঁছে দিয়ে আসি৷ ও মা, গিয়ে দেখি সে বাড়ি ফাঁকা। ঘরের সদর দরজাও খোলা ছিল৷ ঢোকার পর ভদ্রলোক দেওয়ালে ঝোলানো এক অল্প বয়েসী ছেলের ছবির দিকে তাকিয়ে দিব্যি গল্পগুজব আরম্ভ করলে৷ সেই একই প্রলাপ, সে নিজে নাকি ভূত৷ আর হাবভাব এমন যেন ছবির ছেলেটা তার সঙ্গে দিব্যি গল্প জুড়েছে৷

- বলো কী হে দারোগা৷

- তবে আর বলছি কী! আমি অবশ্য হসপিটালে খবর দিয়েছি৷ ভদ্রলোককে বাইরে ফেলে রাখাটা সেফ হচ্ছে না৷ তা ইয়ে চট্টরাজ, কাল ঘটনাচক্রে গুগল ঘেঁটে একটা অদ্ভুত রোগের নাম জানলাম৷ আসলে ভদ্রলোকের খ্যাপাটেপনা নিয়ে খোঁজখবর করতে গেছিলাম আর কী৷ ব্যামোটার নাম হল কটার্ড ডিলিউসন।

- কটার্ড..?

- ডিলিউসন৷ এ রোগে মানুষ ভাবে..ইয়ে..তারা আর বেঁচে নেই। এ ভদ্রলোকের রোগ সে'টাই কিনা জানা নেই..।

- ভাগ্যিস কাল ওই ফাঁকা ট্রেন টিকিট চেক করতে উঠেছিলাম। ভদ্রলোকের এ'বার একটা হিল্লে হবে আশা করি। আহা রে...ইশ!

নাচ মেড ইজি

নাচতে নামলেই উঠোনটাকে বিশ্রীভাবে বাঁকা মনে হয়? হাঁটু ভাইব্রেট করে? গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়? দুশ্চিন্তা ত্যাগ করুন, গোপন ফর্মুলায় ভরসা রেখে নেমে পড়ুন ডান্স ফ্লোরে।

শুধু স্পীকারের গানবাজনাকে পাত্তা না দিয়ে মনে মনে গুনগুন চালিয়ে যানঃ
"ঢ্যাংকুরাকুরন্যাকুরন্যাকুরঢ্যাংঢ্যাঢ্যাঢ্যাংনাককুনাকুর"।

ব্যাস! দেখবেন হাত-পা নিজেদের মত এলোপাথাড়ি দুলছে৷ 

আর আপনি ভাসছেন৷ 

ভাসছেন৷ 
ভাসছেন৷ 
ভাসছেন।