Sunday, February 6, 2022

দাওয়াই



অফিস ফেরত ক্লান্তি উড়িয়ে দেওয়ার ওষুধ - গলা ছেড়ে গান আর জোরদার স্নান। 

'কদ্দিন বাড়ি যাওয়া হয়না' মার্কা মনখারাপের দাওয়াই - সঞ্জীবের পাতা উলটে চোখ ছলছলে হে-হে আর দেবনাথে সেঁধিয়ে আইকস।

'কিস্যু ভালো লাগছে না' কাটানোর টোটকা - ইয়ারদোস্তকে পাঠানো 'কী রে শালা' টেক্সট আর মামলেট ভাজার তোড়জোড়।

সব গোলমাল হয়ে যাওয়ার ভয় সামাল দেওয়ার মন্ত্র - ইলিশ আসছে, তারপর পুজোর ছুটি, তারপর নলেন। 

হাতের হারিকেন ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা চেপে দেওয়ার ফর্মুলা - মায়ের কানের কাছে অদরকারী ঘ্যানঘ্যান, বাবার পিছনপিছন ভিজে বেড়াল মার্কা ঘুরঘুর।



Tuesday, February 1, 2022

দেবু দত্তর মানিব্যাগ



শ্রদ্ধানন্দ পার্কের কাছাকাছি পরেশের রুটি-ঘুগনির স্টলে মৌজ করে পেটাই পরোটা পেটাবার তাল করে দোকানের বেঞ্চিতে এসে বসেছিলাম৷ এমন সময় সিরিয়াল কিলার দেবু দত্ত পাশে এসে বসে দু'স্লাইস পাউরুটি, চারটে ডিমসেদ্ধ আর দেড় বাটি ঘুগনির অর্ডার দিলে। আমার চোয়াল গেল ঝুলে, আরিব্বাস। আজ কার মুখ দেখে বেরিয়েছিলাম! 

যে' দেবু দত্তকে লালবাজার ইন্টারপোল সবাই হন্যে হয়ে খুঁজছে, সে কিনা আমার পাশে বসে ঘুগনিতে পাউরুটি ডুবিয়ে খাবে? অবিশ্বাস্য যে। সোজাসুজি তাকানোর আদেখলামোটা আমার না-পসন্দ, কিন্তু উত্তেজনা সামাল দেওয়া দায়৷ দেবু দত্তকে চিনতে পারা মামুলি ব্যাপার নয়। এই যেমন আজ খয়েরি প্যান্ট আর গোলাপি চেক হাফশার্ট পরে বসে আছে, থুতনিতে কাটা দাগ, কাঁচাপাকা পেল্লায় গোঁফ, নাদুস-নুদুস চেহারা, মাথা আলো করা টাক, গালে অমায়িক হাসি; হয়ত পরিচয়  জিজ্ঞেস করলেই জানান দেবে যে সে নাকি বঙ্কুবিহারি বয়েজ হাইস্কুলের ভূগোল শিক্ষক হরেন মল্লিক। অথচ আগামীকালই হয়ত ভদ্রলোককে দেখা যাবে হাইকোর্ট চত্ত্বরে; তালপাতার সেপাইয়ের মত হাড়গিলে চেহারা। স্যান্ডো গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরে ডাব বিক্রি করছেন; শশব্যস্ত উকিল আর উদ্ভ্রান্ত মক্কেলরা তার খদ্দের৷ 

কিন্তু আমি তো আর পুলিশ বা গোয়েন্দা নই, দেবু দত্তের ফাঁকিতে নিয়মিত পা দিয়ে আমার মাইনে জোটেনা৷ আমি কলকাতার সেরা পকেটমার। বিরানব্বুইয়ে বারুইপুরে দ্য গ্রেট ভোলা সান্যাল ট্রেনে কাটা যাওয়ার পর পকেটকাটার শিল্পে সেরা আমিই৷ এখন বয়স হয়েছে বটে, তা'বলে চোখের ধার কমেনি। দেবু দত্তের ডান কবজির কাছে আড়াই ইঞ্চির কাটা ঘাটা আমি বিলক্ষণ চিনি, ভেক ধরে এ'শর্মাকে টুপি পরানো সম্ভব নয়।

এসো চাঁদু দেবু, এ'বার শখ পূর্ণ করি। কোন শখ? বলি৷ জীবনে কম পকেট কাটিনি বুঝলেন৷ পলিটিকাল নেতা, ফিল্মস্টার, ক্রিকেটার...সেরা মানুষজনের পকেট চিরেছি ব্লেডের পালক বুলিয়ে।  বলাই বাহুল্য, কখনও ধরা পড়িনি। আর বহুদিন এ লাইনে হল, আখের গুছিয়ে নেওয়া গেছে দিব্যি৷ এখন আর টাকাপয়সার জন্য পকেট কাটিনা৷ স্রেফ শিল্পের জন্যই শিল্পী শুধু। তা এই গোটা শহরে আর মাত্র একজনই শিল্পী আছে যে শুধু শিল্পের জন্য নিজের জীবন উজাড় করে দিয়েছেন; ওই সিরিয়াল কিলার দেবু দত্ত। বেয়াল্লিশটা হাড়হিম করা মার্ডার অথচ সমস্ত ফেলু-ব্যোমকেশ মিলে তার তল পেলো না৷ আমি ঠিক করেছি যে দেবু দত্তের পকেট মেরেই আমি পকেটমারির ব্র‍্যাডম্যানত্ব স্পর্শ করব।  

আজ হাতের কাছেই দেবু দত্তকে পেয়ে মন চলকে উঠেছে৷ চুলোয় যাক পেটাই পরোটা, দেবু দত্তের পকেট আজ ফাঁক না করলেই নয়৷ 

***

দেবুর পকেটস্থ মানিব্যাগ ছোট্ট একটুকরো মেঘের মত তুলে নিয়ে পরেশের দোকান থেকে নিঃশব্দে সরে পড়লাম৷ হাঁফ ছেড়েছিলাম এক্কেবারে শেয়ালদার কাছে এসে। স্টেশনের কাছে একটু ছায়া খুঁজে দাঁড়িয়ে নিজের পকেট থেকে বের করলাম দেবু দত্তর সেই মানিব্যাগ৷ কালো চামড়ার অতি সাদামাটা মানিব্যাগ৷ টাকাপয়সার দরকার আমার নেই, তবু ডিসিপ্লিনের খাতিরে সে মানিব্যাগ ঘেঁটে দেখা দরকার৷ 

কী আশ্চর্য৷ মানিব্যাগের ভিতরে একটাও টাকা নেই। কোনও প্রসাদী ফুল, পাসপোর্ট সাইজ ফটো, পুরনো বাসের টিকিট, বা কোনও ডেবিট কার্ডও নেই৷ আছে শুধু একটা চিরকুট৷ আর সে চিরকুট পড়া শুরু করার পর চারপাশে দুনিয়াটা কেমন বিশ্রী ঘোলাটে আর অস্পষ্ট হয়ে পড়ল।

**

ভাই রবি,

ঘাট হয়েছে তোমায় খুন করে। দু'একপিস আমার হাতে খুন হওয়া আত্মা যে আমায় আওয়াজ দিয়ে চমকায়নি তা নয়। কিন্তু তোমার মত এমন ঠ্যাঁটা পিস আর একটিও দেখিনি৷ আরে বাবা, তোমায় খুন করেছি স্রেফ শিল্পের খাতিরে৷ সেলিব্রেটি খুন করে করে হেঁদিয়ে গেছিলাম।  তাঁরা স্রেফ তারকা, টাকা আর চটকের টানে শিল্পকে ত্যাগ করেছেন বহুদিন৷ বড় নিষ্প্রাণ তাঁর৷ মড়াদের কুপিয়ে কী হবে৷ অথচ গোটা শহরে মনের মত শিল্পী পাচ্ছিলাম না আমার সিরিয়াল লিস্টে জুড়ে দেওয়ার জন্য৷ 

অবশেষে খোঁজ পেলাম তোমার৷ মুগ্ধও হলাম তোমার শিল্পীসত্তার পরিচয় পেয়ে৷ আর কী আশ্চর্য,  তুমিও চাইছিলে আমার পকেট মেরে আর্টিস্টিক কেল্লা ফতে করতে৷ ব্যাস, শুরু হল  সিরিয়াল কিলার দেবু দত্ত বনাম পকেটমার রবি মাইতির লড়াই৷ বছরের পর বছর দু'জনে দু'জনকে খুঁজে কাটিয়ে দিলাম। 

কিন্তু ভায়া, যখন দেখা পেলাম; তখন কিন্তু তোমাকেই হার মানতে হয়েছিল। এক চাক্কুতে এস্পারওস্পার; রবি পকেটমার৷ ইয়ে, তুমিও বাঘের বাচ্চা বটে, চুপচাপ খতম করা যায়নি তোমায়৷  আমার ডান হাতের কবজির ওপরে ওই যে লম্বা কাটা দাগটা, ও'টা যে তোমার ব্লেডেরই দান ভাই৷ মরার আগে তোমার শেষ কামড়।

কিন্তু তারপর ভূত হয়ে আমার পিছুপিছু ঘুরে এমন হয়রান করবে, সে'টা তো আগে ভেবে দেখিনি ভাই৷ যে'খানেই যাই তুমি ঠিক পাশে এসে দাঁড়িয়ে যাও৷ মহাঝ্যামেলা৷ 

শোনো, এই আমি তোমায় আমার মানিব্যাগ তোলার সুযোগ দিলাম। আর এ চিঠি পড়ছ মানে এ'বার তো তোমার শেষ ইচ্ছেটা পূর্ণ হয়েছে৷ আর কেন ভাই৷ এ'বার এসো৷ 

ভালো থেকো।

ইতি,

দেবু দত্ত৷

Monday, January 31, 2022

বাজে পান

এই এক রোগ। পান। এই করে করে ট্যুইটার অ্যাকাউন্টটাই উজাড় হয়ে গেল। ফেসবুকটাকেই বা ছাড় দেওয়া কেন। মাঝেমধ্যে টুইটার থেকে কয়েক পিস্‌ করে তুলে এনে এখানে রেখে যাওয়া দরকার।

**
সে'বার পিকনিকে গিয়ে কিশোরকুমার বড়ই বিপদে পড়েছিলেন৷ খেতে বসে দেখলেন মাংসের ঝোলে বিশ্রী গন্ধ, অতিরিক্ত মশলাপাতি দেওয়ায় গোলমাল হয়েছে আর কী। তখনই তিনি গেয়ে উঠেছিলেনঃ
শুঁকেও কেঁদে ওঠে মন,
শুঁকেও কেঁদে ওঠে মন,
এমনও খাসি আছে বেদনা মনে হয়;
জলে ভরে দু'নয়ন,
শুঁকেও কেঁদে ওঠে মন।

**
তাঁবুতে হুট করে ঢুকেই আলভারেজ হতবাক! শঙ্কর মদ্যপান করছে যে।
আলভারেজ শুধোলে, "কোন ব্র্যান্ড ভাই"?
স্মিত হেসে শঙ্কর জানালে, " দেবদারু"।

**
পাটনা শহরে কোনও জুটমিল নেই৷ স্বাভাবিক৷

**
সাপটা তেমন বিষাক্ত ছিল না৷ Patisapta.
**
ইনসমনিয়ার ওষুধঃ
টর্চ জ্বেলে ভেড়া গুনতে গুনতে ঘুমিয়ে পড়ুন৷
অর্থাৎ,
Aloe vera কাজে দেবে।

পিকনিকের প্রাণ



পাড়ার পিকনিক উজ্জ্বল হয় যাদের গুণে।

১।

।।"হারি আপ" জ্যেঠু।।
আলো ফোটার আগে থেকেই তাঁরা মন্ত্রপাঠ শুরু করবেনঃ
"পাংচুয়াল না হলে পিকনিক কেন, কোনও বড় কাজই কোনওদিনও করতে পারবি না"!
"ফিরতে রাত হলে বিস্তর ঝ্যামেলা হবে, তখন যেন আমায় বলতে এসো না"!
(ভোর ছ'টার সময়) "আরে দুপুর গড়ালে বেরোবি নাকি রে তোরা"!
মোট কথা অনবরত ঘ্যানঘ্যান করে সবার প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলবেন৷ রাত থাকতে উঠে, স্নান সেরে ফিটফাট জামাকাপড় পড়ে বারান্দায় পায়চারি করবেন আর চিৎকার করে পাড়া মাথায় তুলবেন৷

২।

।।"প্ল্যানার" বড়দা৷।
টারজানের কলজে নিয়ে এরা পিকনিকের পরিকল্পনা সাজান। এদের মতে অন্তত তিন রাত্রি বাইরে ক্যাম্প করে না থাকলে নাকি পিকনিকই হয় না৷ শিকার করা জিরাফের ঠ্যাঙ ঝলসে না খেলে নাকি পিকনিকের মেজাজটাই মাটি৷ ঝর্নার জলে চুমুক দিয়ে তেষ্টা মেটানোর পক্ষে এরা৷ দশহাত দূরে লম্ফঝম্প করে চলা সিংহের গর্জন শুনতে শুনতে এরা শালপাতার গায়ে লেগে থাকা চাটনি চেটে খেতে চান।
এইসব মোহময় চাওয়া-পাওয়া নিয়েই তাঁরা প্ল্যান ছকেন; লেপের তলে শুয়ে, মশলা জোয়ান চিবুতে চিবুতে৷ অত্যাধিক দৌড়াদৌড়িতে তাদের বিশ্বাস নেই৷ তাদের কাজ শুধু পিকনিক স্পটে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা, "আরে ধুর, এ'সব ট্যুরিস্ট স্পট আমার পোষায় না৷ পিকনিক করেছিলাম বটে নাইনটি ট্যুর জ্যানুয়্যারিতে৷ সে'এক অ্যাডভেঞ্চার বুঝলি..কফি আর এক প্লেট পকোড়া আন দেখি..গুছিয়ে সে গল্পটা বলি"৷

৩।

।।শেফ-মামা।।
তারা রান্নাবান্নায় বৃহস্পতি৷ কিন্তু টীকা-টিপ্পনিতে গর্ডন র্যামসের পিসেমশাই।
পেঁয়াজ কুচোতে খাবি খান কিন্তু বারো মিনিটে ভিন্ডালুর রেসিপি বলে জনতাকে তাক লাগিয়ে দেবেন৷
কালো জিরে আর চা-পাতার তফাৎ ধরতে পারেন না কিন্তু উনুনের ওপর কোন অ্যাঙ্গেলে কড়াই রাখলে মুর্গি নিখুঁতভাবে কষবে, সে'সম্বন্ধে এরা নিশ্চিত৷
এই বিশারদরা পিকনিকের বাসন মাজার সময় ব্যাডমিন্টন খেলবেন কিন্তু খেতে বসে প্রতিটা পদের ইতিহাস নিয়ে লেকচার নামাবেন অবলীলায়।
~~
আর এদের ছাড়া পিকনিক?
ক্যান্টিনবিহীন কলেজ৷
কেষ্টাবিহীন অর্জুন।
টেনিলেস পটলডাঙা৷

পল্টু-সুমির বইমেলা



- হ্যাঁ রে পল্টু, এ'টা আনন্দেরই লাইন তো?

- ভেরিফাই করে নিয়েছি সুমি৷ এই দাদা কনফার্ম করেছেন৷

- লাইনের যা বহর, সন্ধ্যে নামার আগে স্টলের গেট দেখতে পাব বলে মনে হচ্ছে না৷ যা ভীড়৷ উফ্! এত মানুষ বই পড়ে?

- দেখ, আমি অত পড়িনা৷ তবে ঘাটাঘাটি করি৷ হেবি লাগে৷

- অবশ্য আনন্দর বইটইগুলোর যা দাম৷ ইএমআই ফেসিলিটি না থাকলে উল্টেপাল্টে দেখেশুনে বেরিয়ে আসা ছাড়া উপায় থাকেনা৷

- তোদের মত পাবলিকের জন্যই যত সমস্যা৷ বাপের বাড়ির দলিল বন্ধক রেখে সিনেমাহলের পপকর্ন কিনবি কিন্তু বইয়ের দাম দেখলেই গলা শুকোনো৷

- বাজে না বকে লাইনে ফোকাস কর পল্টু৷ সুট করে কেউ ঢুকে না পড়ে৷

**

লাইন মন্থর গতিতে এগোতে থাকে৷ সুমি আর পল্টুর খোশগল্প জমে ওঠে৷ পড়ন্ত বিকেলের আকাশ লালচে, মেলার মাঠ সরগরম। গল্পের আগুনের ঘি হয়ে ওঠে সুমির হাতে ধরা বাদামের ঠোঙা আর পল্টুর হাতের নুনের প্যাকেট৷

**

- সুমি! বেগুনি খাবি?

- লাইনের কী হবে?

- আগেও লম্বা লাইন৷ তুই দাঁড়া! আমি চট করে নিয়ে আসি!

- ক্যুইক কমরেড! ক্যুইক!

- লাইন সামলে।

- জান কবুল। তুই আয় বেগুনি নিয়ে৷

**

বেগুনির গুনেই বোধ হয়, লাইন সামান্য গতি পেয়েছে।

বেগুনি সাবাড় করে কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ হাতড়ে এক ডিবে মিঠেমৌরি বের করে আনলো সুমি। পল্টু নিজের ব্যাকপ্যাক থেকে বের করে আনলো নন্টেফন্টে। আনন্দর লাইনে একটানা দাঁড়িয়ে হদ্দ হওয়ার পর মোক্ষম অ্যান্টিডোট; দেবসাহিত্য কুটীরের স্টল থেকে সংগ্রহ করা কমিক্স সুর করে পড়া৷

পল্টুর পড়া শুনে গজল ভালোবাসার মেজাজে "ওয়াহ ওয়াহ" বা "নাজুক" বলে সেলাম ছুঁড়ে দেবে সুমি৷

**

- পল্টু..! এই পল্টু! থাম৷ পড়া থামা৷ ওই দ্যাখ..।

- কী দেখব?

- স্টলের গেট দেখা গেছে৷ দিল্লী দূর নহি!

- আরে! ওইত্তো আনন্দ! মার দিয়া কেল্লা।

- পল্টু৷ শোন..।

- কী..।

- চ', লাইন ছেড়ে দিই।

- খেপেছিস সুমি?

- আরে বই কেনাটাই কি শেষ কথা? শোন না রে পল্টু, চ' এ'বার দে'জ পাবলিকেশনের লাইনে গিয়ে হত্যে দিই। এ লাইন থেকে ও লাইন..।

- সুমি তুই একটা আস্ত...।

- এই লাইন ছাড়তে রাজি হলে, সামনের শনিবার; টিউশনির পর হাত ধরে রেল ব্রিজ পেরোনো অ্যালাউ করব৷

- শুধু আঙুলের ডগা নয়৷ পুরো হাত৷

- পুরো হাত৷

- চলুন সুমিদেবী৷ এ'বার তা'হলে দে'জ।

**

- পল্টু৷ এ'বার আমায় ফোন রাখতে হবে৷

- এখুনি?

- হ্যাঁ৷ একটা জরুরী কাজ।

- ধুস৷ লংডিস্ট্যান্স প্রেম আর সইছে না রে সুমি৷ কী ছাই দু'জনে দুই মুলুকে চাকরী নিলাম৷ মুখোমুখি প্রেম আর কলকাতা; দুইই জলে৷

- আমাদের বইমেলার টেলিফোনিক রোলপ্লেগুলো খুব ইন্টেন্স হচ্ছে কিন্তু।

- তা ঠিক৷ এক্কেবারে রগরগে৷ কোথায় লাগে সেক্সটিং৷

- তুই একটা যাতা৷ এ'বার আসি?

- ধুস৷ যা ভাগ!

**

কল্পনার বইমেলা, তার গা-কাঁপানো কাল্পনিক ভিড়। আনন্দের স্টলের সামনের মাইলখানেক লম্বা কাল্পনিক লাইনে বহুক্ষণ দাঁড়ানোর পর,
দুম করে সে লাইনের মায়া উড়িয়ে স্টলের পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া;

এ'টাই সুমি আর পল্টুর আনন্দ৷
তাদের গোপন রোলপ্লে৷