Monday, January 10, 2022

আতরঙ্গি



("আতরঙ্গি রে" সিনেমাটা প্রসঙ্গে এ'টা লেখা৷ স্পয়লার হয়ত আছে। 'হয়ত' বললাম কারণ আমি সে অর্থে ঠিক নিশ্চিত নই)


- বাবা।

- বল্।

- আবার কবে আসবে? 

- সামনের মাসে। যেমন আসি।

- ফের ওই দিন'দুয়েকের জন্য?

- সে'টা নিয়ে এখন থেকেই চিন্তা করবি না শিঙাড়াটা ঠাণ্ডা হওয়ার আগে জাস্টিফাই করবি।

- সামনের মাসের চোদ্দ তারিখ নতুন চাকরীটায় জয়েন করছি। 

- নতুন প্রফাইল।  সামলে খেলিস বুড়ি৷ কোনও ফচকেমো নয়। ইট ইজ আ হিউজ অপরচুনিটি।

- তুমি তার আগের হপ্তায় আসবে তো? প্রফাইলটা গোটাটাই টেকনিকাল। তোমার সঙ্গে একটু আলোচনা করে নিলে সুবিধে হত৷ 

- আমার জন্য আবার ওই টেকনিকাল আলোচনা কেন রে বাবা। আমি বরং তোকে কলকাতার ইতিহাসে কাঠিরোলের সিগনিফিক্যান্স বোঝাতে একটা ওয়াকে নিয়ে যাব পরের বার৷ ট্যুরটার নাম দেব রোলের উত্তর দক্ষিণ। 

-  বাবা, আমার নার্ভাসনেসকে পাত্তা না দেওয়ার বদঅভ্যাসটা এ'বার ছাড়ো দেখি। মা থাকলে এমন কথায় কথায় আমার চিন্তাগুলো উড়িয়ে দিতে পারতে?

- তোর মায়ের তো আবার সব কিছুতেই বাড়াবাড়ি ছিল। উফ, তুই একা রাস্তা পেরোলেও সুমির হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে পড়ত। অমন নার্ভাসনেস নিয়ে কি প্যারেন্টিং হয় নাকি! যাক গে, বুড়ি! মায়ের কথা ভেবে মনকেমন হয় খুব, তাই না?

- খুব৷ খুউব।

- আমারও। মাঝেমধ্যে এতটাই মনখারাপ হয় যে মনে হয় দূরের চাকরীটা ছেড়ে তোর সঙ্গে গিয়েই থাকি। তুইই না হয় বাপকে খাওয়াবি।

- আমি তো চাই তুমি আমার সঙ্গেই থাকো৷ কিন্তু, চাকরীটা ছেড়ে দিলে কলকাতায় তোমার মন টিকবে?

- টিকবে না, তাই না রে?

- আদৌ নয়৷ যাক গে, সামনের মাসে এগরোল পরিক্রমার জন্য মুখিয়ে রইলাম।

- নামটাকে ডায়লুট করিসনা প্লীজ। রোলের উত্তর দক্ষিণ। রিমেম্বার দ্য ট্যুর নেম। 

**

- সুমি৷ কেমন দেখলে মৃণালকে?

- একইরকম। প্রতিবার যেমন দেখি।

- জানি৷ 

- ডাক্তার, মৃণাল কি কোনওদিনও আমায় চিনতে পারবে না?

- আমরা চেষ্টা তো করছি সুমি। নিজের সন্তানের মৃত্যু৷ শকটা বড্ড ইন্টেন্স।

- মিলির মৃত্যু তো আমাকেও সহ্য করতে হয়েছে ডাক্তার৷ আমিও তো মা। কই আমি তো এমন..।

- সবার ডিফেন্স মেকানিজম একই রকম হয়না যে সুমি। আর মৃণালের কেসটা বড্ড কিউরিয়াস। তোমার মধ্যে সে মিলিকে খুঁজে নিয়ে সে স্বস্তি খুঁজে পেয়েছে৷ ওই ইমোশনাল কমফর্ট জোন থেকে ওকে টেনে বের করা সহজ হবে না।

- বারবার ইচ্ছে হয় ওকে ঝাঁকিয়ে বলি আমি সুমি। আমাদের মিলি আর নেই। ওর বুড়ি আর নেই।

- ইট উইল নট হেল্প।

- কিন্তু আমার যে ওকে দরকার৷ আমি যে আর পারছি না৷ আমাকে মুছে ফেলতে ওর আদৌ কষ্ট হলনা ডাক্তার?

Sunday, January 9, 2022

কোয়ারেন্টিন



কোয়ারেন্টিন।

আশাঃ বিছানায় ফ্ল্যাট হয়ে অজস্র বই পড়ব।

হিসেবটা যা দাঁড়ালোঃ সাদা সিলিংয়ের গায়ের প্রতিটি দাগ মুখস্ত, সিলিং ফ্যান নিয়ে মনের মধ্যে খানসাতেক বেয়াল্লিশ থেকে তিপ্পান্ন হাজার শব্দের রচনা লেখা হয়ে গিয়েছে৷ 

আশাঃ গান শুনব৷ যত্ন করে বেছে নেওয়া, হাইক্লাস সব গান। মিউজিক ইজ নিউট্রিশাস ফর সোল৷ শরীর জিরিয়ে নেবে, কিন্তু ভালো গানটান শুনে মনের কসরৎ চলবে৷ 

হিসেবটা যা দাঁড়ালোঃ ঝাড়া তিনদিন একটানা 'হামারা বাজাজ' বিজ্ঞাপন ল্যুপে শুনে গেলাম৷ মাঝেমধ্যে ইন্টারলুড হিসেবে- বি আর চোপড়ার মহাভারতের টাইটেল সং।

আশাঃ মেডিটেট করতে হবে৷ এই সুযোগে মনকে লেভিটেট করিয়ে অন্য স্তরে নিয়ে যেতে হবে৷

হিসেবটা যা দাঁড়ালোঃ ঘণ্টায় অন্তত বত্রিশ দান কাটাকুটির ডুয়েল খেলছি- নিজের সঙ্গে৷ সাতানব্বই শতাংশ দানে ফলাফল হয়নি৷ ডাইং ফর্ম্যাট একেই বলে। (বাকি তিন শতাংশ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি)

আশাঃ হেলদি ঈটিং জরুরী৷ দিনে দু'বার কমপ্ল্যান খেতে হবে৷ প্রচুর শাকসবজি৷ বাটি বাটি স্যুপ৷ থালাভরা স্যালাড৷ ইত্যাদি।

হিসেবটা যা দাঁড়ালোঃ প্যাকেট প্যাকেট মুরুক্কু, বাট বাটি চানাচুর, মুঠোমুঠো মশলা বাদাম; খাটে বসেই উড়ে গেল। স্ন্যাকের প্যাকেট খোলার খসখসে শব্দে হেলথ রেজোলিউশন গেল ভেসে৷

আশাঃ একটা রোজনামচা লিখে রাখতে হবে৷ একা বসে কী কী আকাশকুসুম কল্পনা করছি, জরুরী ফ্লো অফ থটস, সুচিন্তিত সব মতামত; তবেই না কোয়ারেন্টিন ডায়েরি জ্বলজ্বল করবে৷ 

হিসেবটা যা দাঁড়ালোঃ গোবিন্দার ডায়লগ লিখে লিখে হাতের লেখা প্র‍্যাক্টিস করা হয়েছে৷ বলাই বাহুল্য, গোবিন্দা ম্যাজিক সত্ত্বেও হাতের লেখার কোয়ালিটি আরও ভয়াবহ হয়েছে৷

মিস্টার নগ্যুয়েনের নিভৃতবাস



- মিস্টার নগ্যুয়েন। কন্ট্রোল রুম থেকে বলছি৷ আপনি আমাদের কথা শুনতে পারছেন?

- পা..পারছি।

- কেমন বোধ করছেন?

- বাহান্ন বছর একা থাকা৷ বোধবুদ্ধি আর কিছু কি অবশিষ্ট আছে। ওই আছি একরকম। 

- আপনার শরীর?

- জ্বালাযন্ত্রণা নেই। 

- আপনার একাকিত্ব আমাদেরও যন্ত্রণা দেয় মিস্টার নগ্যুয়েন৷ কিন্তু আমরা নিরূপায়। 

- রাবিশ৷ যতসব বাজে কথা। একজন মানুষকে বিনাদোষে বন্দী করে রাখা হয়েছে এতগুলো বছর৷ এতবড় হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশন..উফ!

- আপনি এই গ্রহের সম্পদ মিস্টার নগ্যুয়েন৷ সময় মত আপনাকে নিভৃতবাসে পাঠানো গেছে বলেই না সে'টা সম্ভব হয়েছে৷

- ভারী আমি সম্পদ রে৷  এই পেল্লায় একটা বাড়িতে বন্দী করে রেখেছে বাহান্ন বছর ধরে। সামনাসামনি একটা মানুষেরও মুখ দেখিনি এদ্দিনে৷ আরে বাবা রাজভোগ আর রাজ-ঐশ্বর্য একা একা কহাতক ভোগ করে ফুর্তি করা যায়৷ অমন সম্পদ হয়ে থাকতে আমার বয়েই গেছে৷ 

- মিস্টার নগ্যুয়েন৷ একটা দারুণ খবর আপনার জানা দরকার৷

- আমার বয়ে গেছে।

- আপনাকে শুনতেই হবে।

- কান চেপে তো বসে থাকতে পারব না৷ আপনারা তো ব্রেনওয়েভে কমিউনিকেট করেন৷ কাজেই শুনতেই হবে। বলুন।

- টিভি নিউজে আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন যে বছর তিনেক আগে, অর্থাৎ দু'হাজার একাত্তর সালে, ইতিহাসে প্রথমবার মানুষের সঙ্গে কোনও এলিয়েন প্রজাতী যোগাযোগ স্থাপন করেছে৷ 

- ওই সেই স্কেব্বক্সুওনা গ্রহ থেকে তো? হ্যাঁ, সে খবর আমি শুনেছি৷ তা ব্যাটাদের মতলবটা কী?

- সে'টা খোলসা করতেই বছর তিনেক লেগে গেল। ইন্টার গ্যালাকটিক ল্যাঙ্গুয়েজ বেরিয়ার সামাল দেওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়। অবশ্য, তারা প্রায় হোমো স্যাপিয়েন গোত্রেরই হওয়াতে ব্যাপারটায় খানিকটা সুবিধে হয়েছে।

- কী চায় তারা?

- আপনাকে দেখতে চায়৷ ব্যাস, সে'টুকুই৷ আমাদের এই কন্ট্রোলরুম থেকেই আপনাকে পর্যবেক্ষণ করে তারা ফিরে যাবে৷ আগামী হপ্তাতেই তাদের ডেলিগেটরা এসে পৌঁছচ্ছে৷ 

- স্রেফ আমায় দেখতে?

- তবে আর বলছি কি মিস্টার নগ্যুয়েন৷ তাদের গ্রহতেও নাকি এমন কেউ আর নেই যার করোনা হয়নি৷ পৃথিবীর লোকজন যে বুদ্ধি করে এক করোনা-স্পর্শহীন কোনও মানুষকে এদ্দিন বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে, এ'টা জেনে তাঁরা চমৎকৃত।  এবং তাদের গ্রহের তাবড় সব কেউকেটারা ছুটে আসছে দূর থেকে একবার আপনাকে একটিবার দেখতে৷ খানিকটা তাদের তীর্থযাত্রা বলতে পারেন।

- যাচ্চলে। সেই গ্যালাক্সি পারের গ্রহতেও করোনা? এ ভাইরাস ও'দিকে পৌঁছল কি করে?

- ব্যাটারা নাকি চোরাগোপ্তা পৃথিবীতে আসছে শ'দেড়েক বছর ধরে৷ এর আগে ধরা দেয়নি। নেহাত আপনাকে দেখার লোভ সামলাতে পারলে না বলে সামনে এলে তারা৷ 

- সে কী! শ'দেড়েক ধরে আসছে এ'খানে?

- জেনে আমরাও তো থ মিস্টার নগ্যুয়েন। সে এলিয়েনরা প্রতি ডিসেম্বরে চুপিসারে নামে পৃথিবীতে। টু বি প্রিসাইস, বাংলায়। নলেন গুড় স্মাগল করে নিজেদের গ্রহে নিয়ে যেতে। আর সেই নলেনের লোভেই কোভিডের গুঁতো মুখবুজে সহ্য করেছে তারা৷

বিস্বাদ কাটাতে হলে

- নাহ্ বড়দা, জিভ সত্যিই গোল্লায় গেছে।

- সবকিছুই বিস্বাদ?

- বিরিয়ানিও ছাতুমাখার মত ঠেকছে যে।

- তা'হলে তো সত্যিই ক্রাইসিস ভাই।

- রীতিমতো৷ আর তার ওপর ঝমেলা হল খিদে বেড়ে গেছে৷

- পেট চাইছে, জিভ পাত্তা দিচ্ছে না৷ যাচ্চলে৷ 

- পাটা ব্যাটিং পিচ অথচ এগারোটা কোর্টনি ওয়ালশের ব্যাটিং লাইনআপ। বড়দা, কী করব বলো দেখি?

- বিরিয়ানির স্বাদ যখন ছাতুমাখার মত মনে হচ্ছে, তখন বিরিয়ানির কথা ভেবেভেবে ডাইরেক্ট ছাতুমাখা খাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ৷ অন্তত কস্ট আর এফর্ট অপ্টিমাইজ করা যাবে।

- রিভার্সগেম খেলব বলছ?

- ক্ষতি নেই তা'তে৷ 

- হুম। আর প্ল্যান বি?

- আলাদা আলাদা ঝোলভাতের দলা পাকিয়ে নিজেকেই নিজে ছেলেভুলিয়ে গেলানোর মত খাওয়া। কাকের ডিম। বকের ডিম৷ টিরেক্সের ডিম৷ কোরাপশনের ডিম৷ ভীতুর ডিম৷ ঘোড়ার ডিম। 

- প্ল্যান সি?

- হাইডোজ৷ কড়া ওষুধ৷ অব্যর্থ। 

- সে'টা কী?

- হেমন্তর প্লেলিস্ট৷ দুরন্ত ঘুর্ণি বা পালকির গান লেভেলের দুলকিওলা সুর চাই৷ ঢিমেতালের গানে যাস না৷ সে সুরে দুলে দুলে চিবিয়ে যা৷ সুর কান থেকে বুকে না গিয়ে ডাইরেক্ট জিভে আসবে৷ দিব্যি একট ইনঅর্গানিক স্বাদ পেয়ে যাবি। অমন সুর কানে নিয়ে মুখ ভেটকে খাবার চেবানো অসম্ভব। 

- একটা চেম্বার খুলে বসো বড়দা৷ তোমার হবে৷

লুকিং আপ



- এই যে, সাঁতরা...কোন চুলোয় ছিলে বাপ! 

- আসলে লাইটারটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না তাই এ'দিক ও'দিক..।

- উফফ, এ'দিকে আগুন যে আমাদের গায়ে এসে পড়েছে।

- আগুন?

- এ কী...তুমি কি খবরটা পাওনি?

- কোন খবর!

- হরিহরপুরের নাম শুনেছ?

- শহর থেকে আড়াই ঘণ্টার পথ। হাইক্লাস আখের গুড় পাওয়া যায়।

- খাইখাইটা থামাও। সে গাঁয়ের নীচের গোটা ওয়াটার টেবিল আচমকা বিষিয়ে গেছে৷ একশো সতেরোজন ডেড৷ তিনশোর ওপর মানুষ ক্রিটিকাল৷ 

- মাইগড!

- তবে আর বলছি কী। 

- স্যার, এখুনি টীম পাঠাতে হবে তো। সুমন্তরা রেডি আছে কিনা দেখি..। ইয়ে, একটা কথা। এতগুলো মানুষ মারা গেল, এতজন হাসপাতালে..মিডিয়ায় তবু কেউ..।

- কেউ কী?

- কেউ ফলাও করে খবর করল না কেন?

- যে কারণে তুমি এখনই খবর তৈরি করবে না। রয়সয়ে সুতো ছাড়বে।

- কী'রকম?

- মিনিস্টার পাঁকড়াশি আমায় আজ সকালেই সমস্ত জানিয়েছেন।  টপ মিডিয়াহাউজগুলো সবাই জানে৷ 

- ইন্সট্রাকশনটা কী?

- ওয়েটিং ফর দ্য রাইট মোমেন্ট৷ 

- মানে যে'টা স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল তো। অন্তত হাজারখানেক না মরলে পাত্তাটাত্তা দেওয়া চলবে না৷ 

- এ'বার কেসটা একটু আলাদা৷ সে জন্যই তোমায় খুঁজছিলাম।

- কী'রকম?

- আজ রাত্রের মধ্যে সমস্ত চ্যানেল এই খবর কভার করা শুরু করবে। কয়েক ঘণ্টা সময় আরও দরকার কারণ সরকারবাহাদুর কেস সাজাচ্ছে।

- কেস? কী কেস?

- ও মা। ওয়াটার টেবিল পয়জনড৷ ক্রিমিনালদের ধরতে হবে না?

- হিউমান ইন্টারভেনশন রয়েছে? বলেন কী! মানুষের শয়তানি? 

- তা কেউ জানে না৷ কিন্তু সরকার যদি বলে আমরা জানি না, পাবলিক তা পছন্দ করবে কেন? কতবার তোমায় বলব ভাই সাঁতরা, লোকে কী চায়?

- অ্যাকশন! 

- করেক্ট! 

- অ্যাকশন দিতে হবে লোককে৷ কাজেই সরকার কেস সাজিয়ে দু'চারজনকে গ্রেপ্তার করবে৷ সেই অ্যাকশনটাই হেডলাইন৷ মৃত্যুটৃত্যু ফুটনোটে৷ ওকে?

- ওকে। কিন্তু গ্রেপ্তার কাদের করবে?

- ও কোন রামশ্যামযদুমদুকে ধরে সুট করে ঢুকিয়ে নিলেই হল। তাতে তোমার আমার কী। 

- কিন্তু আদত কারণটা..।

- পাঁকড়াশি জানালে যে গত ছ'মাস ধরে দু'জন প্রফেসর উঠেপড়ে লেগেছিল প্রমাণ করতে যে সুপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির  বিষাক্ত কেমিক্যাল নাকি হরিহরপুরের পানীর জলকে বিষিয়ে দিচ্ছে এবং ব্যাপারটা কয়েকদিনের মধ্যেই এক্সপ্লোড করবে৷ 

- রাইট৷ প্রফেসর গুপ্ত আর তার সহকারী প্রফেসর গুহ। আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল। পাত্তা দিইনি৷ 

- অমন বোরিং গপ্প পাত্তা না দেওয়াটাই আমাদের কর্তব্য সাঁতরা। নয়ত প্রাইমটাইমে ভজন শোনাতে হবে। 

- তা ঠিক। কিন্তু এমন বিশ্রী ব্যাপার যে ঘটে গেল..।

- টেররিস্ট অ্যাক্ট। বললাম তো। 

- ওহ রাইট৷ কিন্তু ওই দুই প্রফেসর যদি ট্যাঁফোঁ করে..।

- প্রফেসর গুহ সচেতন ও বুদ্ধিমান। তিনি বেশ মোটা ইন্সেন্টিভ নিয়ে একটা সরকারি কমিটির মাথা হতে স্বীকার করেছেন।

- আর গুপ্ত?

- নিখোঁজ।  

- আই সী। 

- যাকগে৷ সাঁতরা। আজ প্রাইম টাইমে এ'টা থাকছে।

- বেশ।

- ইয়ে। একটা জিনিস মাথায় রেখো৷ হরিহরপুরে আমাদের যে টীম যাবে, তারা যেন এমন সব লোকেশন বেছে নেয় যাতে ক্যামেরায় হাইপিওর মিনারেল ওয়াটারের হোর্ডিংটা ব্যাকগ্রাউন্ডে স্পষ্ট দেখা যায়৷ কনেকশনটা বুঝতেই পারছ৷ বিশুদ্ধ পানীয় জলের ক্রিটিকালিটিটা হাইলাইট করার এটাই ভালো সময়। 

- হাইপিওর মিনারেল ওয়াটার৷ ও'টা ওই সুপারটেক গ্রুপেরই তো৷ আর তাছড়া এ'টা শহুরে ব্র‍্যান্ড৷ হরিহরপুরে ওদের হোর্ডিং আছে?

- আর একঘণ্টার মধ্যে হোর্ডিং দাঁড়িয়ে যাবে। ওদের সিইও নিজে ফোন করেছিল। এই সাবলিমিনাল মেসজিংয়ের অপরচুনিটি ওরা কিছুতেই ছাড়তে চাইছে না৷ আমাদের প্রাইমটাইমের মূল স্পনসরও আজ ওরা৷ 

- বাহ্, বেশ বড় ডীল হাঁকিয়েছেন দেখছি।

- হ্যাঁ৷ টোটাল উইন-উইন৷ ইলেকশনের আগে টেররিস্ট কাত করে গ্রেট পিআর বুস্ট ফর সরকারবাহাদুর। সুপারটেক গ্রুপের সোনায় সোহাগা৷ আর আমাদের টিআরপি আর টু পাইস৷ কিন্তু তোমায় জোরকদমে সবকিছু এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সাঁতরা৷ 

- ওউক্কে স্যার। হয়ে যাবে৷ আচ্ছা, হরিহরপুরের মানুষদের বাইটটাইট নিতে হবে কি?

- বাইট নিও৷ তবে ওরা কী বলবে, সে স্ক্রিপ্টটা একবার নিজেই ঝালিয়ে নিও। 

- পার্ফেক্ট৷ 

- আর শোনো, তোমার লাইটারটা আমিই নিয়েছিলাম। আমারটা যে কোন শালা মেরে দিল৷ এই নাও।