Sunday, January 9, 2022

লুকিং আপ



- এই যে, সাঁতরা...কোন চুলোয় ছিলে বাপ! 

- আসলে লাইটারটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না তাই এ'দিক ও'দিক..।

- উফফ, এ'দিকে আগুন যে আমাদের গায়ে এসে পড়েছে।

- আগুন?

- এ কী...তুমি কি খবরটা পাওনি?

- কোন খবর!

- হরিহরপুরের নাম শুনেছ?

- শহর থেকে আড়াই ঘণ্টার পথ। হাইক্লাস আখের গুড় পাওয়া যায়।

- খাইখাইটা থামাও। সে গাঁয়ের নীচের গোটা ওয়াটার টেবিল আচমকা বিষিয়ে গেছে৷ একশো সতেরোজন ডেড৷ তিনশোর ওপর মানুষ ক্রিটিকাল৷ 

- মাইগড!

- তবে আর বলছি কী। 

- স্যার, এখুনি টীম পাঠাতে হবে তো। সুমন্তরা রেডি আছে কিনা দেখি..। ইয়ে, একটা কথা। এতগুলো মানুষ মারা গেল, এতজন হাসপাতালে..মিডিয়ায় তবু কেউ..।

- কেউ কী?

- কেউ ফলাও করে খবর করল না কেন?

- যে কারণে তুমি এখনই খবর তৈরি করবে না। রয়সয়ে সুতো ছাড়বে।

- কী'রকম?

- মিনিস্টার পাঁকড়াশি আমায় আজ সকালেই সমস্ত জানিয়েছেন।  টপ মিডিয়াহাউজগুলো সবাই জানে৷ 

- ইন্সট্রাকশনটা কী?

- ওয়েটিং ফর দ্য রাইট মোমেন্ট৷ 

- মানে যে'টা স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল তো। অন্তত হাজারখানেক না মরলে পাত্তাটাত্তা দেওয়া চলবে না৷ 

- এ'বার কেসটা একটু আলাদা৷ সে জন্যই তোমায় খুঁজছিলাম।

- কী'রকম?

- আজ রাত্রের মধ্যে সমস্ত চ্যানেল এই খবর কভার করা শুরু করবে। কয়েক ঘণ্টা সময় আরও দরকার কারণ সরকারবাহাদুর কেস সাজাচ্ছে।

- কেস? কী কেস?

- ও মা। ওয়াটার টেবিল পয়জনড৷ ক্রিমিনালদের ধরতে হবে না?

- হিউমান ইন্টারভেনশন রয়েছে? বলেন কী! মানুষের শয়তানি? 

- তা কেউ জানে না৷ কিন্তু সরকার যদি বলে আমরা জানি না, পাবলিক তা পছন্দ করবে কেন? কতবার তোমায় বলব ভাই সাঁতরা, লোকে কী চায়?

- অ্যাকশন! 

- করেক্ট! 

- অ্যাকশন দিতে হবে লোককে৷ কাজেই সরকার কেস সাজিয়ে দু'চারজনকে গ্রেপ্তার করবে৷ সেই অ্যাকশনটাই হেডলাইন৷ মৃত্যুটৃত্যু ফুটনোটে৷ ওকে?

- ওকে। কিন্তু গ্রেপ্তার কাদের করবে?

- ও কোন রামশ্যামযদুমদুকে ধরে সুট করে ঢুকিয়ে নিলেই হল। তাতে তোমার আমার কী। 

- কিন্তু আদত কারণটা..।

- পাঁকড়াশি জানালে যে গত ছ'মাস ধরে দু'জন প্রফেসর উঠেপড়ে লেগেছিল প্রমাণ করতে যে সুপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির  বিষাক্ত কেমিক্যাল নাকি হরিহরপুরের পানীর জলকে বিষিয়ে দিচ্ছে এবং ব্যাপারটা কয়েকদিনের মধ্যেই এক্সপ্লোড করবে৷ 

- রাইট৷ প্রফেসর গুপ্ত আর তার সহকারী প্রফেসর গুহ। আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল। পাত্তা দিইনি৷ 

- অমন বোরিং গপ্প পাত্তা না দেওয়াটাই আমাদের কর্তব্য সাঁতরা। নয়ত প্রাইমটাইমে ভজন শোনাতে হবে। 

- তা ঠিক। কিন্তু এমন বিশ্রী ব্যাপার যে ঘটে গেল..।

- টেররিস্ট অ্যাক্ট। বললাম তো। 

- ওহ রাইট৷ কিন্তু ওই দুই প্রফেসর যদি ট্যাঁফোঁ করে..।

- প্রফেসর গুহ সচেতন ও বুদ্ধিমান। তিনি বেশ মোটা ইন্সেন্টিভ নিয়ে একটা সরকারি কমিটির মাথা হতে স্বীকার করেছেন।

- আর গুপ্ত?

- নিখোঁজ।  

- আই সী। 

- যাকগে৷ সাঁতরা। আজ প্রাইম টাইমে এ'টা থাকছে।

- বেশ।

- ইয়ে। একটা জিনিস মাথায় রেখো৷ হরিহরপুরে আমাদের যে টীম যাবে, তারা যেন এমন সব লোকেশন বেছে নেয় যাতে ক্যামেরায় হাইপিওর মিনারেল ওয়াটারের হোর্ডিংটা ব্যাকগ্রাউন্ডে স্পষ্ট দেখা যায়৷ কনেকশনটা বুঝতেই পারছ৷ বিশুদ্ধ পানীয় জলের ক্রিটিকালিটিটা হাইলাইট করার এটাই ভালো সময়। 

- হাইপিওর মিনারেল ওয়াটার৷ ও'টা ওই সুপারটেক গ্রুপেরই তো৷ আর তাছড়া এ'টা শহুরে ব্র‍্যান্ড৷ হরিহরপুরে ওদের হোর্ডিং আছে?

- আর একঘণ্টার মধ্যে হোর্ডিং দাঁড়িয়ে যাবে। ওদের সিইও নিজে ফোন করেছিল। এই সাবলিমিনাল মেসজিংয়ের অপরচুনিটি ওরা কিছুতেই ছাড়তে চাইছে না৷ আমাদের প্রাইমটাইমের মূল স্পনসরও আজ ওরা৷ 

- বাহ্, বেশ বড় ডীল হাঁকিয়েছেন দেখছি।

- হ্যাঁ৷ টোটাল উইন-উইন৷ ইলেকশনের আগে টেররিস্ট কাত করে গ্রেট পিআর বুস্ট ফর সরকারবাহাদুর। সুপারটেক গ্রুপের সোনায় সোহাগা৷ আর আমাদের টিআরপি আর টু পাইস৷ কিন্তু তোমায় জোরকদমে সবকিছু এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সাঁতরা৷ 

- ওউক্কে স্যার। হয়ে যাবে৷ আচ্ছা, হরিহরপুরের মানুষদের বাইটটাইট নিতে হবে কি?

- বাইট নিও৷ তবে ওরা কী বলবে, সে স্ক্রিপ্টটা একবার নিজেই ঝালিয়ে নিও। 

- পার্ফেক্ট৷ 

- আর শোনো, তোমার লাইটারটা আমিই নিয়েছিলাম। আমারটা যে কোন শালা মেরে দিল৷ এই নাও।

Wednesday, January 5, 2022

গেরস্থালীর মামলেট



ইয়ারদোস্তিঃ ওহ তুই এসেছিস!বাঁচালি মাইরি! অমলেট খাবি না স্ক্র‍্যাম্বলড? অমলেট? গুড চয়েস।  যা দেখি, ক্যুইকলি এক জোড়া অমলেট ভেজে আন৷ দেখিস, আবার আগের দিনের মত পুড়িয়ে ফেলিস না। আর রান্নাঘর নোংরা করে আসিস না। 

প্রেমঃ আরে, তোর অপেক্ষায় গোটাদুপুর সুডোকুতে উড়ে গেল। যাক। পাঁচ মিনিট বস। চট করে একটা হাইক্লাস অমলেট ভেজে আনি৷ স্পেশাল মাশরুম আনিয়ে রেখেছি৷ কুচিয়ে দিই একটু? 

মায়াঃ ও কী রে ইডিয়ট! বনেবাদাড়ে ঘুরেঘুরে শ্রীবদনটার কী অবস্থা করেছিস! চট করে হাতমুখ ধুয়ে আয়, আমি কড়া করে মামলেট ভেজে আনছি৷ তারপর গপ্পগুজব হবে'খন। 

স্নেহঃ সময় হল ফেরার? যাক! *রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা ডিম ফাটানোর আর ফেটানোর শব্দ*

স্নাইপার



- বিধু৷ মন দিয়ে শোনো৷ আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি৷
- হুঁ।
- ওই যে সতেরো তলা..। 
- সতেরো৷
- এ'বার ডান দিক থেকে সাত নম্বর জানালায় এসো৷ সাত নম্বর।
- এক..তিন..পাঁচ..সাত।
- কী দেখছ?
- বসবার ঘর৷ 
- ঠিক৷ আর?
- ইজিচেয়ার। লাল চামড়ায় মোড়া। 
- গুড। ফোকাস ও'খানেই রাখো৷ আশা করি তোমার স্নাইপিং রেঞ্জের মধ্যেই আছে৷ 
- নিশ্চিন্তে৷ 
- এ'বার অপেক্ষা৷ অমিয় দত্ত যে'কোনও মুহূর্তে এসে বসবে৷ 
- পর্দা টেনে নিলে? জানালা বন্ধ করলে?
- ভদ্রলোক ক্লস্ট্রোফোবিক। জানালার পাল্লা বা পর্দা তার পরম শত্রু। তাছাড়া, এদ্দিন ধরে ফলো করছি৷ এ তো মাপা হিসেব। 
-  একটা কথা জিজ্ঞেস করব কালীদা?
- তুমি কাজের মানুষ বিধু৷ প্রশ্নে তোমার কাজ কী৷ তবু, ইচ্ছে যখন হয়েছে, করো৷ 
-আমরা গুণ্ডাবদমাস৷ ডনমাস্তানদের সরিয়ে নেওয়ার কন্ট্র‍্যাক্ট নিয়ে থাকি৷ অন্তত বড় স্মাগ্লার বা তেমন কেউকেটা কেউ৷ কিন্তু হঠাৎ এই সাদামাটা ব্যাঙ্কম্যানেজারকে সরাতে এলাম কেন?
- স্নাইপার। স্নাইপ করবে৷ কুটকুট প্রশ্ন বেশি করলে ঝামেলা বাড়বে বই কমবে না৷ 

**

খানিকট দূরে দাঁড়িয়ে লাল চেয়ারটার দিকে বড় মায়া নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন অমিয় দত্ত। কালী নিশ্চয়ই কথা মত উল্টোদিকের পেল্লায় অফিসবাড়িটার ছাতে নিজের স্যাঙাৎসহ দাঁড়িয়ে৷ নিশানা বাগিয়েই নিশ্চয়ই বসে আছে তারা৷ চেয়ারে গা এলিয়ে বসলেই টুক করে একগুলিতে হাওয়া। 

সব ঠিকঠাক ছকেই রাখা আছে৷ গলায় দড়ি দেওয়া বা সত্তরখানা ঘুমের বড়ি খাওয়ার থেকে এই পদ্ধতি অনেক বেশি গ্ল্যামারাস। এক্কেবারে হলিউড মার্কা৷ শুধু চেয়ারে গিয়ে বসার আগে নিজের বসার ঘরটা আরও একটু দেখে নিতে ইচ্ছে করছিল৷ তাকে নিজের প্রিয় বইগুলো, দেওয়ালে মিনুর ছবি৷ কী অপূর্ব মায়াজড়ানো হাসি মিনুর৷ ও যাওয়ার পর থেকেই ছটফটানিটা বড্ড বেড়ে গেল। 

**

- রুমের মধ্যে নড়াচড়া হচ্ছে৷ ভদ্রলোক নিশ্চয়ই ঘরের মধ্যে ঢুকেছে৷ বুঝলি বিধু..।
- বলো কালীদা।
- বসা মাত্রই চালিয়ে দিসনি৷ 
- কেন?
- দু'মিনিট জিরিয়ে নিতে দে৷ অমন হুড়মুড়িয়ে মরতে নেই৷ বাইনোকুলার দিয়ে দেখে যা বুঝলাম, লাল চামড়ার ইজিচেয়ারটা বড্ড আরামের৷ 
- কালীদা, ভদ্দরলোক বসেছেন৷ এ'বারে?
- আমি গুনছি৷ একশো কুড়িতে পৌঁছলেই ট্রিগার টেনে দিবি। 
- বেশ।
- এক, দুই, তিন..।

**

বাহাত্তর পর্যন্ত গুণে থামতে হলো কালীদাকে। কেউ  ঘাড়ে ফু দিয়েছে৷ পিছন ঘুরেই মৃদু একটা বিষম খেল কালী৷ সেই শব্দে বিধু ঘুরে তাকালে, তার হাত থেকে বন্দুক ধুপ করে খসে পড়ল।

মুখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে অমিয় দত্ত দাঁড়িয়ে।

- তুমি শালা একটা ইউজলেস মাইরি কালী। এই সিম্পল কাজটাও ঝুলিয়ে দিলে! 
- আ..আ..।
- আরে চেয়ারে বসা মাত্রই ছাই হার্টটা বিট্রে করল।
- অ্যাটাক?
- মারাত্মক৷ কয়েক সেকেন্ডেই হুশ।
- যাচ্চলে৷ কিন্তু তাই বলে আপনি ভূ..ভূত হয়ে..।
- স্নাইপিংয়ে অক্কা পাওয়ার কথা আমার। অথচ ভেতো হার্ট অ্যাটাকে উঠে গেলাম৷ 
-  এহ হে।
- এ'বার আমার টাকা ফেরত দে।
- ফেরত দেব?
- বাহ্৷ স্নাইপি করে সাফ করার জন্য মোটা টাকা নিলি৷ এ'দিকে আমি হার্ট অ্যাটাকে হাপিশ৷ টাকা কি গাছে ফলে নাকি রে?
- তা বলে..আপনিই বা ও'টাকা নিয়ে করবেনটা কী?
- গঙ্গায় ভাসিয়ে আসব৷ তা'তে তোর কী রে। ফেরত দে।
- একটা আইডিয়া ছিল অমিয়বাবু।
- পাতি বুলেট চালাতে প্যান্ট হলুদ তার আবার আইডিয়া৷ থাম থাম।
- শুনুন না৷ মাইরি। স্নাইপারের গুলিতে মরা হল না৷ কিন্তু আপনাকে যদি আমি অন্য একট দারুণ অফার দিই? ইকুয়ালি গ্ল্যামারাস?
- স্নাইপে মরার লেভেলে গ্ল্যামারাস?  ধুস।
- মাইরি৷ আসলে আপনার টাকাটা দিয়ে একটা ট্যাক্সি কিনে ফেলেছি৷ সৎমানুষের টাকা দিয়ে সৎপথে আয়ের যদি একটা সোর্স দাঁড় করানো যায় তা ভেবে৷ কাজেই..।
- মহা নেকুচন্দর তো হে তুমি কালী৷ যাক গে৷ দারুণ অফারটা কী বলছিলে?
- আপনি স্নাইপিং করবেন?
- জ্যান্ত অবস্থায় কলম ছাড়া অন্য কিছু তোলার ধক ছিল না৷ শেষে ভূত হয়ে স্নাইপার ধরব?
- ও মা! না পারার কী আছে! আমি শিখিয়ে পড়িয়ে নিলেই পারবেন।
- তুমি পারবে শেখাতে? আবার গুল দিচ্ছ?
- গোস্তাখি মাফ অমিয়বাবু৷ খুনোখুনির কাজটাই বুঝি আমার শেষ পরিচয়?  হ্যাঁ? রীতিমত ভূত চড়িয়েই প্রাইমারি ইনকাম।
- ভূত হয়ে বন্দুক ধরতে পারব?
- বিধু পারলে আপনি পারবেন না কেন? তাছাড়া একা বিধুকে দিয়ে হচ্ছিল না৷ এত অর্ডার যে আরও ভূত দলে না টানলে বিজনেস গ্রো করবে না৷  আজ দিনক্ষণ লগ্ন ভালো ছিল৷ আমার কাছে খবরও ছিল আপনার হার্ট উইক৷ তাই বিধুকে বললাম গুলি করার আগে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে৷ ব্যাস, খাপেখাপ মিলে গেল। 
- আমি ভূত-স্নাইপার হয়ে মার্ডার করে বেড়াব রে কালী? মাইরি? 

অমিয়বাবু বিহ্বলতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ও'দিকে বিধু ততক্ষণে মহানন্দে কলকাতার ধোঁয়া-ময়লা মাখানো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।  সে'দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে কালী। মনে পড়ে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার অমিয়বাবুর মতই একদিন স্কুলমাস্টার বিধুশেখরের আত্মাকে হাতিয়ে এ ব্যবসায় নেমেছিল সে৷ 

কতশত ছাপোষা মধ্যবিত্ত মানুষ যে কী বিশ্রী রাগ চেপে রেখে 'মিউমিউ' সুরে অফিস-সংসার সামাল দিয়ে ফতুর হয়ে যায়৷ রাগ জমে জমে তাদের প্রত্যেকের মধ্যে একটা খুনে দিক তৈরি হয়। মরার পরও সে মধ্যবিত্ত আত্মারা গোটা জীবনের সে'সব জমানো রাগ ত্যাগ করতে পারে না৷ আর সেই মধ্যবিত্ত ভূতের পড়ে পাওয়া খুনে মেজাজ কালটিভেট করতে পারাটা যে একটা বড় ব্যবসা, সে'টা আর পাঁচটা বাঙালি তান্ত্রিক যে কেন বুঝতে চায়না তা কালী তান্ত্রিক অন্তত জানে না৷

Monday, January 3, 2022

নিমিকিজম



নিমকি বেশ ফোনেটিক খাদ্য৷ তার অর্ধেক স্বাদ মুখের ভিতরে তৈরি হওয়া কুচুরমুচুর শব্দে৷ সেই শব্দ-সিরিজ সঠিক আবহ তৈরী করে বলেই জিভের টেস্টবাডরা স্টেপআউট করে গ্যালারি কাঁপাতে পারে৷

আর মদের সঙ্গে যেমন চাখনা, তেমনই; সুরসিকদের জন্য কুচো নিমকির পাশে চা বা কফি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য নিমকিই হচ্ছে সুরা, চা-কফি স্রেফ সঙ্গত। যাদের আদত টান চায়ে বা কফিতে, তারা নিমকির সম্পূর্ণ সমাদর করতে পারবেন বলে মনে হয়না৷ তাদের অবস্থা ঠিক ওই ফ্রি পাস নষ্ট করতে না চেয়ে; ডোভারলেনে  শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শুনতে যাওয়া অসহায় মানুষটার মত। নিমকি-কন্যোসাররা কাচের বা চিনামাটির বাটিতে একমুঠো নিমকি নিয়ে মৌজ করে বসবেন৷ রিফিল করার জন্য পেল্লায় নিমকি-বয়ামটা থাকবে হাতের কাছেই। চায়ের কাপ এসে পড়ার আগেই চোয়াল বাবাজী মুচুরমুচ কুচকাওয়াজ করে উষ্ণতা তৈরি করবে। আর চা এলে মাঝেমধ্যে নিমকি চেবানোর ফাঁকে দু'একটা চুমুক পড়বে; ঠিক যেমন ওই দু'টো ইনিংসের মধ্যিখানে পিচের ওপর রোলার চালানো হয়৷ 

আর মদের মতই, নিমকির স্বাদ সম্পূর্ণ বিকশিত হয় মনোগ্রাহী আড্ডায়। সুরসিকদের সঙ্গ ছাড়া সিঙ্গল মল্ট আর ফাঁকা গ্যালারির ইডেনে রুদ্ধশ্বাস শেষ ওভারের মতই, রুখাশুখা আলাপ-আলোচনার মধ্যে হাই-কোয়ালিটি নিমকি খরচ করার কোনও মানেই হয়না। যেমন ধরুন অফিসের নিরেট রিভিউ মিটিংয়ে ওই সল্টেড কাজু বা চকোচিপ কুকিজই ভালো৷ কারণ সে'সব মিটিং সাঁতরে পেরোনোর জন্য চা-কফিকেই সেন্টারস্টেজে রাখা দরকার। কাঠখোট্টা মগজ-সামিট থেকে যে'সব প্রাণখোলা আড্ডায় ভর দিয়ে হৃদয়ের সবুজ সমতলে নেমে আসা যায়, সে'সব আড্ডাতেই উজ্জ্বল হয়ে উঠবে নিমকির বাটি৷

পুরী শ্রেষ্ঠ



শ্রেষ্ঠ মর্নিংওয়াকঃ
পুরী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কাকভোরে নেমে; হেলতেদুলতে রিক্সা স্ট্যান্ডের দিকে হেঁটে যাওয়া৷ 

শ্রেষ্ঠ জিমঃ
সমুদ্রস্নান৷ 

শ্রেষ্ঠ সুরঃ
ফেরিওলার 'মদনমোহন' ডাকে।

শ্রেষ্ঠ নেশাঃ
ভাড়া করা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে, "বে অফ বেঙ্গল কী ম্যাসিভ রে ভাই" ভাবতে ভাবতে, শালপাতার দোনা থেকে তুলে; রসগোল্লার রসে মাখামাখি শিঙাড়া চেবানো৷ 

শ্রেষ্ঠ আসরঃ
ইয়ারফোনে কিশোরকুমার, কাগজে ঠোঙায় মাছ ভাজা, ঢেউয়ে ডোবানো গোড়ালি।  

শ্রেষ্ঠ বিছানাঃ
সৈকতে মাদুর৷ 

শ্রেষ্ঠ মুখশুদ্ধিঃ
ডিনার সেরে হাঁটতে বেরিয়ে..সমুদ্রের হাওয়া।

শ্রেষ্ঠ গুলঃ
কাল সানরাইজ দেখবই।