Wednesday, January 5, 2022

গেরস্থালীর মামলেট



ইয়ারদোস্তিঃ ওহ তুই এসেছিস!বাঁচালি মাইরি! অমলেট খাবি না স্ক্র‍্যাম্বলড? অমলেট? গুড চয়েস।  যা দেখি, ক্যুইকলি এক জোড়া অমলেট ভেজে আন৷ দেখিস, আবার আগের দিনের মত পুড়িয়ে ফেলিস না। আর রান্নাঘর নোংরা করে আসিস না। 

প্রেমঃ আরে, তোর অপেক্ষায় গোটাদুপুর সুডোকুতে উড়ে গেল। যাক। পাঁচ মিনিট বস। চট করে একটা হাইক্লাস অমলেট ভেজে আনি৷ স্পেশাল মাশরুম আনিয়ে রেখেছি৷ কুচিয়ে দিই একটু? 

মায়াঃ ও কী রে ইডিয়ট! বনেবাদাড়ে ঘুরেঘুরে শ্রীবদনটার কী অবস্থা করেছিস! চট করে হাতমুখ ধুয়ে আয়, আমি কড়া করে মামলেট ভেজে আনছি৷ তারপর গপ্পগুজব হবে'খন। 

স্নেহঃ সময় হল ফেরার? যাক! *রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা ডিম ফাটানোর আর ফেটানোর শব্দ*

স্নাইপার



- বিধু৷ মন দিয়ে শোনো৷ আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি৷
- হুঁ।
- ওই যে সতেরো তলা..। 
- সতেরো৷
- এ'বার ডান দিক থেকে সাত নম্বর জানালায় এসো৷ সাত নম্বর।
- এক..তিন..পাঁচ..সাত।
- কী দেখছ?
- বসবার ঘর৷ 
- ঠিক৷ আর?
- ইজিচেয়ার। লাল চামড়ায় মোড়া। 
- গুড। ফোকাস ও'খানেই রাখো৷ আশা করি তোমার স্নাইপিং রেঞ্জের মধ্যেই আছে৷ 
- নিশ্চিন্তে৷ 
- এ'বার অপেক্ষা৷ অমিয় দত্ত যে'কোনও মুহূর্তে এসে বসবে৷ 
- পর্দা টেনে নিলে? জানালা বন্ধ করলে?
- ভদ্রলোক ক্লস্ট্রোফোবিক। জানালার পাল্লা বা পর্দা তার পরম শত্রু। তাছাড়া, এদ্দিন ধরে ফলো করছি৷ এ তো মাপা হিসেব। 
-  একটা কথা জিজ্ঞেস করব কালীদা?
- তুমি কাজের মানুষ বিধু৷ প্রশ্নে তোমার কাজ কী৷ তবু, ইচ্ছে যখন হয়েছে, করো৷ 
-আমরা গুণ্ডাবদমাস৷ ডনমাস্তানদের সরিয়ে নেওয়ার কন্ট্র‍্যাক্ট নিয়ে থাকি৷ অন্তত বড় স্মাগ্লার বা তেমন কেউকেটা কেউ৷ কিন্তু হঠাৎ এই সাদামাটা ব্যাঙ্কম্যানেজারকে সরাতে এলাম কেন?
- স্নাইপার। স্নাইপ করবে৷ কুটকুট প্রশ্ন বেশি করলে ঝামেলা বাড়বে বই কমবে না৷ 

**

খানিকট দূরে দাঁড়িয়ে লাল চেয়ারটার দিকে বড় মায়া নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন অমিয় দত্ত। কালী নিশ্চয়ই কথা মত উল্টোদিকের পেল্লায় অফিসবাড়িটার ছাতে নিজের স্যাঙাৎসহ দাঁড়িয়ে৷ নিশানা বাগিয়েই নিশ্চয়ই বসে আছে তারা৷ চেয়ারে গা এলিয়ে বসলেই টুক করে একগুলিতে হাওয়া। 

সব ঠিকঠাক ছকেই রাখা আছে৷ গলায় দড়ি দেওয়া বা সত্তরখানা ঘুমের বড়ি খাওয়ার থেকে এই পদ্ধতি অনেক বেশি গ্ল্যামারাস। এক্কেবারে হলিউড মার্কা৷ শুধু চেয়ারে গিয়ে বসার আগে নিজের বসার ঘরটা আরও একটু দেখে নিতে ইচ্ছে করছিল৷ তাকে নিজের প্রিয় বইগুলো, দেওয়ালে মিনুর ছবি৷ কী অপূর্ব মায়াজড়ানো হাসি মিনুর৷ ও যাওয়ার পর থেকেই ছটফটানিটা বড্ড বেড়ে গেল। 

**

- রুমের মধ্যে নড়াচড়া হচ্ছে৷ ভদ্রলোক নিশ্চয়ই ঘরের মধ্যে ঢুকেছে৷ বুঝলি বিধু..।
- বলো কালীদা।
- বসা মাত্রই চালিয়ে দিসনি৷ 
- কেন?
- দু'মিনিট জিরিয়ে নিতে দে৷ অমন হুড়মুড়িয়ে মরতে নেই৷ বাইনোকুলার দিয়ে দেখে যা বুঝলাম, লাল চামড়ার ইজিচেয়ারটা বড্ড আরামের৷ 
- কালীদা, ভদ্দরলোক বসেছেন৷ এ'বারে?
- আমি গুনছি৷ একশো কুড়িতে পৌঁছলেই ট্রিগার টেনে দিবি। 
- বেশ।
- এক, দুই, তিন..।

**

বাহাত্তর পর্যন্ত গুণে থামতে হলো কালীদাকে। কেউ  ঘাড়ে ফু দিয়েছে৷ পিছন ঘুরেই মৃদু একটা বিষম খেল কালী৷ সেই শব্দে বিধু ঘুরে তাকালে, তার হাত থেকে বন্দুক ধুপ করে খসে পড়ল।

মুখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে অমিয় দত্ত দাঁড়িয়ে।

- তুমি শালা একটা ইউজলেস মাইরি কালী। এই সিম্পল কাজটাও ঝুলিয়ে দিলে! 
- আ..আ..।
- আরে চেয়ারে বসা মাত্রই ছাই হার্টটা বিট্রে করল।
- অ্যাটাক?
- মারাত্মক৷ কয়েক সেকেন্ডেই হুশ।
- যাচ্চলে৷ কিন্তু তাই বলে আপনি ভূ..ভূত হয়ে..।
- স্নাইপিংয়ে অক্কা পাওয়ার কথা আমার। অথচ ভেতো হার্ট অ্যাটাকে উঠে গেলাম৷ 
-  এহ হে।
- এ'বার আমার টাকা ফেরত দে।
- ফেরত দেব?
- বাহ্৷ স্নাইপি করে সাফ করার জন্য মোটা টাকা নিলি৷ এ'দিকে আমি হার্ট অ্যাটাকে হাপিশ৷ টাকা কি গাছে ফলে নাকি রে?
- তা বলে..আপনিই বা ও'টাকা নিয়ে করবেনটা কী?
- গঙ্গায় ভাসিয়ে আসব৷ তা'তে তোর কী রে। ফেরত দে।
- একটা আইডিয়া ছিল অমিয়বাবু।
- পাতি বুলেট চালাতে প্যান্ট হলুদ তার আবার আইডিয়া৷ থাম থাম।
- শুনুন না৷ মাইরি। স্নাইপারের গুলিতে মরা হল না৷ কিন্তু আপনাকে যদি আমি অন্য একট দারুণ অফার দিই? ইকুয়ালি গ্ল্যামারাস?
- স্নাইপে মরার লেভেলে গ্ল্যামারাস?  ধুস।
- মাইরি৷ আসলে আপনার টাকাটা দিয়ে একটা ট্যাক্সি কিনে ফেলেছি৷ সৎমানুষের টাকা দিয়ে সৎপথে আয়ের যদি একটা সোর্স দাঁড় করানো যায় তা ভেবে৷ কাজেই..।
- মহা নেকুচন্দর তো হে তুমি কালী৷ যাক গে৷ দারুণ অফারটা কী বলছিলে?
- আপনি স্নাইপিং করবেন?
- জ্যান্ত অবস্থায় কলম ছাড়া অন্য কিছু তোলার ধক ছিল না৷ শেষে ভূত হয়ে স্নাইপার ধরব?
- ও মা! না পারার কী আছে! আমি শিখিয়ে পড়িয়ে নিলেই পারবেন।
- তুমি পারবে শেখাতে? আবার গুল দিচ্ছ?
- গোস্তাখি মাফ অমিয়বাবু৷ খুনোখুনির কাজটাই বুঝি আমার শেষ পরিচয়?  হ্যাঁ? রীতিমত ভূত চড়িয়েই প্রাইমারি ইনকাম।
- ভূত হয়ে বন্দুক ধরতে পারব?
- বিধু পারলে আপনি পারবেন না কেন? তাছাড়া একা বিধুকে দিয়ে হচ্ছিল না৷ এত অর্ডার যে আরও ভূত দলে না টানলে বিজনেস গ্রো করবে না৷  আজ দিনক্ষণ লগ্ন ভালো ছিল৷ আমার কাছে খবরও ছিল আপনার হার্ট উইক৷ তাই বিধুকে বললাম গুলি করার আগে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে৷ ব্যাস, খাপেখাপ মিলে গেল। 
- আমি ভূত-স্নাইপার হয়ে মার্ডার করে বেড়াব রে কালী? মাইরি? 

অমিয়বাবু বিহ্বলতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ও'দিকে বিধু ততক্ষণে মহানন্দে কলকাতার ধোঁয়া-ময়লা মাখানো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।  সে'দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে কালী। মনে পড়ে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার অমিয়বাবুর মতই একদিন স্কুলমাস্টার বিধুশেখরের আত্মাকে হাতিয়ে এ ব্যবসায় নেমেছিল সে৷ 

কতশত ছাপোষা মধ্যবিত্ত মানুষ যে কী বিশ্রী রাগ চেপে রেখে 'মিউমিউ' সুরে অফিস-সংসার সামাল দিয়ে ফতুর হয়ে যায়৷ রাগ জমে জমে তাদের প্রত্যেকের মধ্যে একটা খুনে দিক তৈরি হয়। মরার পরও সে মধ্যবিত্ত আত্মারা গোটা জীবনের সে'সব জমানো রাগ ত্যাগ করতে পারে না৷ আর সেই মধ্যবিত্ত ভূতের পড়ে পাওয়া খুনে মেজাজ কালটিভেট করতে পারাটা যে একটা বড় ব্যবসা, সে'টা আর পাঁচটা বাঙালি তান্ত্রিক যে কেন বুঝতে চায়না তা কালী তান্ত্রিক অন্তত জানে না৷

Monday, January 3, 2022

নিমিকিজম



নিমকি বেশ ফোনেটিক খাদ্য৷ তার অর্ধেক স্বাদ মুখের ভিতরে তৈরি হওয়া কুচুরমুচুর শব্দে৷ সেই শব্দ-সিরিজ সঠিক আবহ তৈরী করে বলেই জিভের টেস্টবাডরা স্টেপআউট করে গ্যালারি কাঁপাতে পারে৷

আর মদের সঙ্গে যেমন চাখনা, তেমনই; সুরসিকদের জন্য কুচো নিমকির পাশে চা বা কফি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য নিমকিই হচ্ছে সুরা, চা-কফি স্রেফ সঙ্গত। যাদের আদত টান চায়ে বা কফিতে, তারা নিমকির সম্পূর্ণ সমাদর করতে পারবেন বলে মনে হয়না৷ তাদের অবস্থা ঠিক ওই ফ্রি পাস নষ্ট করতে না চেয়ে; ডোভারলেনে  শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শুনতে যাওয়া অসহায় মানুষটার মত। নিমকি-কন্যোসাররা কাচের বা চিনামাটির বাটিতে একমুঠো নিমকি নিয়ে মৌজ করে বসবেন৷ রিফিল করার জন্য পেল্লায় নিমকি-বয়ামটা থাকবে হাতের কাছেই। চায়ের কাপ এসে পড়ার আগেই চোয়াল বাবাজী মুচুরমুচ কুচকাওয়াজ করে উষ্ণতা তৈরি করবে। আর চা এলে মাঝেমধ্যে নিমকি চেবানোর ফাঁকে দু'একটা চুমুক পড়বে; ঠিক যেমন ওই দু'টো ইনিংসের মধ্যিখানে পিচের ওপর রোলার চালানো হয়৷ 

আর মদের মতই, নিমকির স্বাদ সম্পূর্ণ বিকশিত হয় মনোগ্রাহী আড্ডায়। সুরসিকদের সঙ্গ ছাড়া সিঙ্গল মল্ট আর ফাঁকা গ্যালারির ইডেনে রুদ্ধশ্বাস শেষ ওভারের মতই, রুখাশুখা আলাপ-আলোচনার মধ্যে হাই-কোয়ালিটি নিমকি খরচ করার কোনও মানেই হয়না। যেমন ধরুন অফিসের নিরেট রিভিউ মিটিংয়ে ওই সল্টেড কাজু বা চকোচিপ কুকিজই ভালো৷ কারণ সে'সব মিটিং সাঁতরে পেরোনোর জন্য চা-কফিকেই সেন্টারস্টেজে রাখা দরকার। কাঠখোট্টা মগজ-সামিট থেকে যে'সব প্রাণখোলা আড্ডায় ভর দিয়ে হৃদয়ের সবুজ সমতলে নেমে আসা যায়, সে'সব আড্ডাতেই উজ্জ্বল হয়ে উঠবে নিমকির বাটি৷

পুরী শ্রেষ্ঠ



শ্রেষ্ঠ মর্নিংওয়াকঃ
পুরী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কাকভোরে নেমে; হেলতেদুলতে রিক্সা স্ট্যান্ডের দিকে হেঁটে যাওয়া৷ 

শ্রেষ্ঠ জিমঃ
সমুদ্রস্নান৷ 

শ্রেষ্ঠ সুরঃ
ফেরিওলার 'মদনমোহন' ডাকে।

শ্রেষ্ঠ নেশাঃ
ভাড়া করা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে, "বে অফ বেঙ্গল কী ম্যাসিভ রে ভাই" ভাবতে ভাবতে, শালপাতার দোনা থেকে তুলে; রসগোল্লার রসে মাখামাখি শিঙাড়া চেবানো৷ 

শ্রেষ্ঠ আসরঃ
ইয়ারফোনে কিশোরকুমার, কাগজে ঠোঙায় মাছ ভাজা, ঢেউয়ে ডোবানো গোড়ালি।  

শ্রেষ্ঠ বিছানাঃ
সৈকতে মাদুর৷ 

শ্রেষ্ঠ মুখশুদ্ধিঃ
ডিনার সেরে হাঁটতে বেরিয়ে..সমুদ্রের হাওয়া।

শ্রেষ্ঠ গুলঃ
কাল সানরাইজ দেখবই।

যুধিষ্ঠির আর পয়লা জানুয়ারি

দু'হাজার বাইশ৷ পয়লা জানুয়ারি৷ রাত একটা। 

নিউ ইয়ার পার্টিতে নেচে-কুঁদে, রিমঝিমে নেশায় বুঁদ হয়ে, যুধিষ্ঠির বাড়ি ফিরছিলেন। কেলোর কীর্তিটা টের পেলেন বাসস্ট্যান্ডে এসে৷ কোন শালা পকেট কেটে মানিব্যাগ নিয়ে হাওয়া৷ 

নেশা গেল চটকে। ধেচ্ছাই৷ মানিব্যাগে তিনশো বাইশটাকা ছিল, পুরোটাই গচ্চা। এ'দিকে মানিব্যাগ ছাড়া শেষ ইন্দ্রপ্রস্থ মিনিটায় ওঠা যাবে না। এখন উপায়? 

কপাল একেই বলে, এত রাত্তিরেও বাসস্ট্যান্ড এক্কেবারে ফাঁকা নয়৷ বেঞ্চিতে আধশোয়া হয়ে যে মাতালটা শুয়ে সে ব্যাটা যুধিষ্ঠিরের রীতিমতো চেনা; যক্ষ৷ 

পিঠে চাপড় খেতেই ধড়মড়িয়ে উঠে বসলে যক্ষ৷ 

- আরে! যুধিদা যে।

- হ্যাপি নিউ ইয়ার ভাইটি।

- হ্যাপ্পি হ্যাপ্পি ন্যু ইয়ার ধম্মরাজ৷ তা লাস্ট ইন্দ্রপ্রস্থ মিনি ধরবে তো? পাঁচ মিনিটে আসছে।

- যক্ষ৷ ভাইটি। কুড়ি টাকা ধার দে দেখি৷ পরশুই দিয়ে দেব।

- তুমি শালা মহাফেরেব্বাজ৷ বড় গলায় বলছ দিয়ে দেব৷ অথচ কে জানে, ফিসফিস করে হয়ত বলবে 'ইতি গজঃ'৷ আমি কি দ্রোণের মত বুড়োহাবড়া নাকি৷ 

-  অমন বলিস না ভাই৷ কে যেন মানিব্যাগটা মেরে দিয়েছে৷ কুড়িটাকা না হলেই নয়৷ লাস্ট বাস কিছুতেই মিস করা চলবে না। এই শীতের রাতে বেশিক্ষণ বাইরে থাকলে আমার সাইনাস মাইনাস হয়ে যাবে।

- টাকা দিতে পারি৷ তবে সেই পুরনো শর্ত যুধিদা।

- সেই কফি উইথ যক্ষ খেলতে হবে?

- করেক্ট। ছ'টা প্রশ্ন। সবকটার সঠিক উত্তর দিতে পারলেই জ্যাকপট। তা'হলে শুধোই?

- দেরী করে লাভ নেই৷ শীত বাড়ছে। জিজ্ঞেস কর৷ 

- ইয়ে, বিড়ি আছে?

- আছে।

- আহ, সে'টা প্রশ্ন নয়৷ দাও দেখি একটা।

- ওহ হো৷ এই যে৷

- থ্যাঙ্কিউ৷ এ'বার। শুধোই৷ কেমন?

- হোক। 

- এ দুনিয়ায় সবচেয়ে আশ্চর্যের কী যুধিদা?

- জীবনে কেউ ফেসবুক ট্যুইটারে তর্কে জেতেনি৷ অথচ তবু মানুষের টাইমলাইন কাঁপানো তর্কের শখ আর আগ্রহ কিছুতেই কমে না৷ 

- ঠিক৷ সবচেয়ে সুখী কে?

- যে মানুষ খবরের কাগজ রাখে স্রেফ অরিগ্যামি প্র‍্যাক্টিস করতে৷ আর যে নিউজ চ্যানেল ব্যবহার করে স্রেফ বারান্দায় বসা কাকচিল তাড়ানোর জন্য। 

- বাতাসের চেয়েও দ্রুতগামী কে?

- মিম। 

- স্বর্গের চেয়েও উঁচু কী?

- ল্যাদ।

- পৃথিবীর চেয়েও ভারী কী?

- নিউইয়ার রিজোলিশনের বোঝা।

- গুড৷ গুড৷ তুমি গুরু হাইক্লাস মানুষ৷ ফাইনাল প্রশ্ন৷ করি?

- নিশ্চয়ই।

- ভালোবাসা কী গুরু?

- ভালোবাসা?

- কী হল গুরু৷ আউট অফ সিলেবাস? ভেবড়ে গেলে দেখছি৷ 

- ভালোবাসা..। হুঁ..। ভা..লো..বা..সা..।

- তোমার বাড়ি ফেরা আটকে গেল যে গুরু৷ কুড়ি টাকা তো পেলে না।

- ভালোবাসা কী..এ'টাই তোর প্রশ্ন?

- একদম৷ হোয়াট ইজ লাভ যুধিদা? টেল মি!

- শীতের রাত৷ এখন রাত সোয়া একটা৷ নিউ ইয়ার। শহর জোড়া হুল্লোড়৷ অথচ তুই একা এই বাসস্টপের বেঞ্চিতে নেতিপেতি হয়ে পড়ে রয়েছিস৷ মনখারাপ ভাই দক্ষ?

- এ কী! প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এ'সব কী যুধিদা!

- তোর প্রশ্ন ভুলিনি৷ উত্তরও দেব৷ তুই জিজ্ঞেস করেছিস ভালোবাসা কী। ভালোবাসা কী জানিস? তোর কুড়িটাকার দরকার আপাতত আমার নেই৷ ভোরের দিকে দিলেই হবে। 

- ও মা৷ সে কী!

- লাস্ট বাসে ফিরে আর কাজ নেই৷ 

- কেন? ফিরবে না?

- তোর সঙ্গে গেঁজিয়ে কাটাবো ভাবছি রাতটা৷ নতুন বছরের প্রথম রাত, এমন একাবোকা হয়ে পড়ে থাকবি কেন রে রাস্কেল? তার চেয়ে দু'ভাই গপ্পটপ্প করে কাটিয়ে দেব'খন৷ কী বলিস?

- পার্ফেক্ট। ছ'টা প্রশ্নের উত্তরই তুমি ঠিকঠাক দিয়েছ৷ আর ভোরের দিকে কুড়িটাকা নয়৷ তোমায় আমি রীতিমতো ট্যাক্সিতে বসিয়ে দেব। 

- হেহ্। 

- থ্যাঙ্কিউ যুধিদা। হ্যাপি নিউ ইয়ার। 

- হ্যাপি। হ্যাপি।